Modi Vs Didi – Mamata Banerjee calls on opposition parties to fight over demonetisation issue

0
1071
Black Money
Black Money

Mamata Banerjee calls on opposition parties to fight over demonetisation issue

Mamata Banerjee calls on opposition parties to fight over demonetisation issue

Raising her pitch against Centre on demonetisation of Rs 500, Rs 1,000 notes, Trinamool Congress Chairperson Mamata Banerjee called upon all opposition parties to unite and fight against the ‘political and financial anarchy’.

“May I appeal to all political parties in the Opposition to work together boldly against the anti-poor government at the Centre. Let us fight this political and financial anarchy together. We will be with you all,” Mamata Banerjee said in a statement on Twitter.

Meanwhile, Trinamool has given a notice in Rajya Sabha to discuss the issue on November 16.

Earlier, Didi tweeted: “I enquired from all sections of society about present financial chaos. The feeling is that black money was to be brought back from outside as per the electoral assurance. But now the government has made the common people feel helpless and penniless. Is it right?”

She also shared an example of how the demonitisation is affecting the marginalised section: “There are millions of real stories across cities, towns,villages about #NoteBan affecting the marginalised. Here is only one example. Tea garden owners have expressed difficulty to pay wages on time. This could lead to frustration among poor workers, most of whom are tribals. Desperation? Starvation?”

 

আর্থিক অরাজকতার প্রতিবাদে বিরোধী ঐক্যের ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কালো টাকার বিরুদ্ধে অভিযানের নামে পাঁচশো, হাজারের নোট বাতিল করে রাজনৈতিক, আর্থিক অরাজকতার সৃষ্টি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিপুল সমস্যায় পড়েছেন গরিব মানুষ। কেন্দ্রের এই গরিব বিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে সব বিরোধীদলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার এই নিয়ে একাধিক টুইট করলেন তিনি। সব রাজনৈতিক দলকে সাহস করে আন্দোলনে যোগ দিতে বললেন। এই অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার জন্য কে কীভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে তা জানানোর কথাও লেখেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে বি জে পির প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে টুইট করেন, কথা ছিল বিদেশে জমা করা কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে দেশের সাধারণ, গরিব মানুষকেই অসহায়, কপর্দকশূণ্য বোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই নোট বাতিলের জন্য শহরে, নগরে, গ্রামে কীভাবে সাধারণ মানুষ অসুবিধার মুখে পড়েছেন, তার একাধিক উদাহরণ পাওয়া যাচ্ছে। যেমন হাতে নগদ টাকা না থাকার জন্য চা বাগানের মালিকরা সময়ে মজুরি দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এতে তো নিরাশা নেমে আসবে গরিব শ্রমিকদের মধ্যে। এর মধ্যে অনেকেই আদিবাসী। তাঁরা হয় অনাহারে কাটাতে বাধ্য হবেন, নয়ত মরিয়া হয়ে উঠবেন।

এর আগে নবান্ন থেকে একদফা বি জে পির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে ব্ল্যাক মানি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, উল্টে লক্ষ্মীর ঝাঁপি কেড়ে নিলেন। একদিনে ক্ষতি হয়ে গেল ২৫ হাজার কোটি টাকা।” বি জে পি–র নাম না করে তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে ওরা হারবেই। তার জন্য নির্বাচনে কোনও টাকা খরচ করতে হবে না। মানুষ এটা ভালভাবে নেয়নি। ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে”।

তিনি আরও বলেন, “খুচরো না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন মানুষ। আমার বাড়ির বাজার করা যায়নি। বললাম মুড়ি, আলুভাজা করো। চা–শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন না। মালিকেরা রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই চিঠি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শ্রমিকও যদি অনাহারে থাকেন, বা কারও কিছু হয়, কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। মুখ্য সচিব বাসুদেব ব্যানার্জিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেইমতো মুখ্য সচিব এদিনই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রককে চিঠি লিখে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে চা–শ্রমিকের সংখ্যা আড়াই লক্ষ। প্রতিবেশী রাজ্য অসমে চা–শ্রমিকের সংখ্যা ৫ লক্ষ। মালিকেরা ব্যাঙ্ক থেকে দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি তুলতে না পারায় তাঁদের মজুরি দিতে পারছেন না।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিনে ২৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে। দেশে অর্থনৈতিক অরাজকতা তৈরি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “সবাইকে ভিখিরি বানিয়ে দিয়েছেন। নিজে জাপান চলে গেছেন।”

তাঁর কথায়, “ব্ল্যাক মানি যত খুশি ধরো। কিন্তু তার জন্য গ্রামবাংলা, গরিব, মধ্যবিত্ত মানুষ কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?‌ ব্যাঙ্কে তো কর্মী নেই। কোনও কোনও ব্যাঙ্কে তো একজন কর্মী রয়েছেন। এতবড় প্রক্রিয়া সামলানো যায়?‌ পোস্ট অফিস তো সাইন বোর্ড হয়ে গেছে। এ রাজ্যে ৭০০–৮০০ গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যাঙ্কের শাখা নেই। মুষ্টিমেয় ধনী ছাড়া সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ খুশি নন। যদি এটা সত্যিই হত, আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?‌ ব্যাঙ্কে কেন ১০০ টাকার নোট রাখা হয়নি?‌ কেন এ টি এম থেকে টাকা পাওয়া যাবে না?‌ সংসার খরচ চালাতে যাঁরা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলেছেন তাঁদের কাছে ৫০০, ১০০০ টাকার নোট রয়েছে। এখন কী করা যাবে?‌ মানুষের কাছে শুধু ৫০০, ১০০০ টাকার নোট রয়েছে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যেতে পারবে না। এ সব কি বোঝা উচিত ছিল না?‌ কেন ১০০ টাকা নোটের ব্যবস্থা করা হয়নি?‌ আমার বাড়িতে বাজার করা যায়নি। দলের তহবিলের যে অর্থ রয়েছে তার জন্য নিয়মিত কর দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কী হবে?‌ ক্রমশ মানুষকে ভিখিরি করে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছুদিন আগে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড নিয়ে তো কেলেঙ্কারি হল। তার কী হল?‌ কেউ জানে কি?‌ সংসদের অধিবেশনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নতুন নোট ছাপতে তো কয়েক কোটি টাকা খরচ হবে। এ ব্যাপারে আমি প্রথম সরব হয়েছিলাম। এখন একে একে সবাই সরব হচ্ছেন।”