নগ্ন সাংবাদিকতার বোবা কান্না – প্রতিবাদের ভাষা, মিছিলের ভাষা, আজ মৌন মুখর

0
1227
Journalist Michil
Journalist Michil

সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে ঘুরে দাঁড়ানোর মিছিল

প্রতিবাদ যদি নিরব হয় তবে তা মর্ম ভেদি হয়, কিন্তু যদি মর্ম বিবেক এসব থাকে রাজনৈতিক কারবারীদের | নাহলে আবার গর্জে ওঠ, প্রতিবাদ গড়ে তোলো|

“মানুষ মানুষের জন্য ,জীবন জীবনের জন্য , একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা “

না আর মার খাওয়া নয়, সময় এখন ঘুরে দাঁড়ানোর। মার খেতে খেতে ক্লান্ত সাংবাদিকরা,এমন  কি দ্রৌপদির মত বস্ত্রহরণ এর নির্মম প্রচেষ্টারও শিকার | ছি : ছি:|

আজ বুধবার বিকেলে নামল কলকাতার রাজপথে একদল বোকা মানুষ যারা ভাবলেন তাদের হাতে ভয়ানক অস্ত্র , কলম আর ক্যামেরা সাথে জাগ্রত বিবেক সমাজ কে নাড়িয়ে দেবেন |

তারা (তাঁরা নয়) টেররিস্ট বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মী নয়,বুদ্ধিজীবী বা বিদ্দজন নয় ,হয়ত দালালও নয়, অতি সাধারণ সাংবাদিক বা চিত্র সাংবাদিক | অপরাধ গুরুতর সংবাদ সংগ্রহ এবং সমাজের চোখ হয়ে ওঠা | কি স্পর্ধা ,কী দুসাহস| যা দেখতে শেখানো হবে তাই দেখো ,সমাজের বিবেক হতে যেওনা| পেনশন ফসকে যাবে,বিদেশ সফর ফসকে যাবে ,এক্রিদিয়েসন কার্ড বিশ্ বাও জলে যাবে ।

এমন কি হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কিছু রাজনৈতিক গুণ্ডার দল সাংবাদিকদের নানা ভাবে শুধু হেনস্থা করেই ক্ষান্ত নয়, কোথাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে ক্যামেরা কোথাও বা পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।

মারধর তো ভালো বিষয় গুরুজনরা এই ভাবেই শাসন করে থাকেন | প্রতিবাদ করছেন গার্জেন বলাতে? করবেন না, যদি রেসন কার্ড বা অন্য সুপারিশের জন্য স্থানীয় নেতার বাড়িতে লাইন দিয়ে থাকেন, সে দিন চুমু যেমন পেয়েছেন, আজ ঝামাটাও পাওনা ভাই|

কিন্তু প্রতিবাদ একটা করতে হবে না হলে যে আমরা সাংবাদিক বিশেষ শ্রেনীর সংরক্ষণ প্রাপ্ত জন্তু বিশেষ, যাদের চিড়িয়াখানার খাঁচায় ভরে দাও গর্জাবে কিন্তু কামড়াতে পারবে না | ” খবর করতে গিয়ে নিজে খবর হয়ে যেওনা”| বিধুষকরা এমন পরামর্শই দেবে| মিছিল করলে রং মশালটা পছন্দের হতে হবে, না হলে বিপদ| 

এক দল অশিক্ষিত লোক, এত স্পর্ধা কলম হাতে সমাজের মলম বার করবে | একটা দুটো কে চমকে দাও , হাত পা ভাঙলে, ওদের ই দেয়া টাক্সের টাকায়, ওদের ই চিকিত্সা করে নাম কামাও, যেন কত দরদী | এত চেনা চকে লেখা, চেনা ছক|

খুব ঝামেলা বা মাল খালাস হয়ে গেলে, একটা লোয়ার ডিভিসন ক্লার্ক বা গ্রীন পুলিশের চাকরি ,দিয়ে দাও মালটার বউ বা ভাই কে TRP বেড়ে যাবে বহু গুন, এই ঘুন ধরা বোকা বাক্সের ধোকা খাওয়া পাঁচ বছরে একবার বোতাম টেপা গণতন্ত্রের দেবতাদের| তার আগে দরকার কিছু গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল টাইপের কিছু জনপ্রিয় মুখ,তাদের দিয়ে বলিয়ে দাও, পরস্পর বিরোধী কথা , ঘন্টা খানেক সঙ্গে থাকুন মজা পাবেন |

সাংবাদিক দের অবস্থা মজাদার এখন জুতোর বারি খেলে, দেখে জুতোটা কোন ব্রান্ডের,উচ্চজাতের হলে অন্যরা পরামর্শ দেবে চেপে যাও ,এখানেই করে খেতে হবে | কিছু রামকানাই নির্বোধ থাকে আদালত নামক অসহায় পিতামহ ভীস্মের কাছে বিচার খোঁজার চেষ্টা করে | ‘It’s a Game, it’s a Game” গানটা আর বাজে না, ওটা নচিদার কেতা ছিল|  

সামান্য একটা ঘটনা, কিছু উচ্চ শিক্ষিত ,বিপিন বাবুর ভক্ত আপনার প্যান্টের তলায় দাদ হাজা বা চুলকানির মলম দিতে হবে কিনা, তার জন্য পরীক্ষা করছিল বিনা ফিজে, আর আপনারা ভাবলেন সম্মানহানি হয়েছে | ভারতবর্ষের সংবিধান যা, যা ক্ষমতা আপনাকে দিয়েছিল , তা নিজেই তো ত্যাগ করেছেন বোতল আর নোটের পরিবর্তে গণতন্তের উত্সবের দিন , আজ কেন বিষাদের সুর মনে হচ্ছে ভাই|

বেশ ভালো লাগলো সেই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকাল ৪টে নাগাদ মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সাংবাদিকরা ফেটে পড়ল বিক্ষোভে। পরে একটু মিছিলও হয়। প্রতিবাদ মিছিল টি গান্ধী মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে মেয়ো রোড, পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা ঘুরে পুনরায় ওখানে শেষ হয়।

বেশ ভালো সেলফি আর ফেইসবুক এ পোস্ট অনাবাসী বন্ধু দের কাছে লাইকের পাহাড়, রাতে একটু এ চ্যানেল সে চ্যানেল করে নিজের ছবিটা এলো কিনা দেখে নেয়া | দাদা,দিদি আর গড ফাদার কে ফোন করে ম্যানেজ করে রাখা , দু পেগের পর ঘুম | এইত জীবন যাক না যে দিকে যায় দেশ ,চালাও ফোয়ারা| 

সংবাদ মাধ্যমকে গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়। সত্য ও নির্ভুল সংবাদ বলিষ্ঠভাবে পরিবেশনের মাধ্যমেই সংবাদপত্র তার স্বাধীন ও স্বকীয় সত্ত্বা বজায় রাখতে পারে। গতানুগতিক সরকার তোষণ মূলক সংবাদ পরিবেশন নয় বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে মরিয়া এক শ্রেণির মানুষ। আর তাতে শাসক বিরোধী সব দলের ঘনিষ্ঠ মদত আছে বলে অভিযোগ। এ পর্যন্ত রাজ্যের বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই, যা দেখে বিস্মিত সাংবাদিকরা (আহা যেন জানতেন না শাসন আর প্রসাশন বহুযুগ কোমায়) । প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়েও, স্যার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কি কলম বন্ধ রাখতে পারবেন কি? না হলে মোমের কলমটাকে তরোয়াল ভাববেন না |

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন গুলিতে রাজনৈতিক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যেভাবে চিত্র-সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের উপরে আক্রমন তথা মারধর করেছে তা শুধু মাত্র একটি নক্কার জনক কাজ নয় বরং গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ কে সমূলে উৎখাত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত। একজন সাংবাদিকের জামা-প্যান্ট খুলে নিয়ে তাকে অর্ধ্যনগ্ন করার মতো ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে।

এর পর ও PM বা CM মন্তব্য করবেন আর বুম হাতে আজকের ব্রেকিং নিউজ প্রাইম টাইম দখল করবে | বুমটা আপনি না ধরলে কিন্তু আমি ধরে নেব দাদা ,বাজারে ছেলের অভাব নেই তাই বুম ছেড়ে বসতে যাবেন না , এমাসে যে ছেলের ভর্তি , নববর্ষের ইলিশ মিস হয়ে যাবে |

এক দুবার প্যান্ট ছোটো বেলায় খুলে গেছে রাস্তায় মা ঠিক করে দিতেন , এখনও সবার মধ্যে এক একটি শিশু থাকে ,মাইন্ড করবেন না প্লিজ, সঠিক দাদা দিদি বেছেনিন , তাঁরা প্যান্ট ঠিক রাখার ব্যবস্থা করে দেবেন| আসে পাশে দেখুন অনেক জন ঠিক মত ও পথ নিয়ে আছেন, রসে বসে আছেন | কিসের এত প্রতিবাদ| ফটো তুলতে গিয়ে ফটো হয়ে যাবেন না প্লিজ, কাল পোস্ত সহ ককটেল আছেনা, এসব ছেড়ে প্রতিবাদ| 

কোচবিহার, বজবজ প্রভৃতি স্থানে বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার খবর হোক বা ডায়মন্ড হারাবারে প্রার্থীকে ব্যাপক মারধর করা হোক, বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের খবর করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার-১, ২ মথুরাপুর, মগরাহাট, নুরপুর, বজবজ, প্রভৃতি স্থানে শুধু বিরোধীদের আটকানো নয় সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়েছে। মগরাহাট ও বারুইপুরে পুলিশকেও গুলিতে জখম হতে হয়েছে। তারপরেও প্রশাসন নিরব কেন? প্রশ্ন উঠছে ।তারই প্রতিবাদের আজ এই মিছিল বলছিলেন, সাংবাদিক প্রদীপ সাঁতরা, সায়ন্তন মুখার্জি প্রমুখ।

সুতরাং নিশ্চিত থাকুন , প্যান্ট খুলে গেলে আমরা তীব্র প্রতিবাদ করবই এক মাইল হেঁটে . মারা গেলে শোক প্রস্তাব সহ ধিক্কার ও মোমবাতির মিছিল , মায়েরা ক্ষমা করবেন, যৌন হেনস্থা হলে আপনার দর টা ঠিক বাড়িয়ে নেব আমরা তুল্যমূল্য তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে | এত তীব্র প্রতিবাদ করব যে রগরগে বটতলার বই ও লজ্জা পাবে | ঘন্টা কয়েক পর নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে ,কেমন ম্যানেজ করলাম বলে সঠিক জায়গায় TRP বাড়িয়ে নেব | কাল কল করে খোঁজও নেব, বিরুদ্ধমত তোমার দখল নিয়ে নিল কিনা বুঝে নিতে|

আজ কা তাজা খবর নতুন দিন, পুরনো কথা বাদ দিন,বলুন জয় হিন্দ| কালকে কার পালা আগাম জেনে নিন| ভাববেন না রং বদলে দিন বদল হয় , বদলটা নিজের ভিতরে আনুন তবেই দেশ বদলাবে না হলে , মতি নন্দী, গৌরকিশোর ঘোষ বা অনন্য প্রবাদ প্রতিমদের উত্তরসুরী বলার লজ্জা নিজে কে আর দেবেন না |

সকলের কাছে কর জোরে ক্ষমা চাই যদি অন্যায় বলে থাকি|

*** আরেস্ট করবেন না প্লিজ, লিখতে ভালোবাসী তাই লিখে ফেলেছি, কিবোর্ডটা অবাধ্য, বেয়াদপি মাপ করবেন যন্ত্র তাই এখনো মানুষের মত বুদ্ধি হয়নি ***