বাংলার এক অন্য হেলেন কেলারের কথা – সরকারি সাহায্যের আর্জি ত্রিমোহিনীর মূক ও বধির ছাত্রের

0
1893
Hiralal Mahato
Hiralal Mahato
ShyamSundarCoJwellers

সরকারি সাহায্যের আর্জি ত্রিমোহিনীর মূক ও বধির ছাত্রের

পল মৈত্র, দক্ষিন দিনাজপুরঃ

লড়াই যত কঠিন জয়ের আনন্দ তত গভীর এ কথা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনই এ কথাও সত্যি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে মানুষ দাড়াবে এ আশা প্রত্যেক মানুষই করে |

সামাজিক বিভিন্ন বাধা কাটিয়ে দৈন দুর্দশার মধ্যেও দীর্ঘদিন থেকে নিজস্ব পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা এবং উদ্দ্যম প্রচেষ্টায়  লড়াই  চালিয়ে যাচ্ছে হীরালাল মাহাতো (১৫) নামে এক মুখ-বধির ছাত্র ।  আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চালিয়ে যাচ্ছে সে পড়াশোনা । দিন আনা দিন খাওয়া ছাত্রটির আর্জি সরকারি সাহায্যের । 

জানা গেছে,  হিলি ব্লকের ৫ নম্বর জামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জামালপুর গ্রামে কমল চন্দ্র মাহাত ও সঞ্জনী মাহাতোর দুই ছেলে হীরালাল মাহাত ও চঞ্চল মাহাত । বড় ছেলে হীরালাল মাহাতো স্থানীয় ত্রিমোহিনী প্রতাপ চন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র । হীরালাল মাহাতোর বাবা কৃষিকাজ এবং মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে দিন অতিবাহিত করে ।

অন্যের বাড়িতে কাজে যেতে পারলে অন্নের যোগান ঘটে আর কাজে না যেতে পারলে একবার এক বেলা খেয়ে আর একবেলা না খেয়ে দিন কাটাতে হয় । অভাব অনটনের মধ্যে  ছেলের চিকিৎসা তো দূরের কথা একমুঠো খাবার যোগানো মুশকিল হয়ে পড়ে পরিবারের । ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরালাল মাহাতোর সহপাঠী সোমেন মালী ও জয়ন্ত নুনিয়া জানায়, দীর্ঘদিন থেকে হীরালাল বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে ছোটবেলা থেকেই হীরালাল কানে শুনতে পায় না, কথা বলতে পারেনা শুধু ইশারায় বোঝায়, সেগুলি তাদের বুঝে নিতে হয় । হীরালাল পড়াশুনায় ভালো তাকে যদি আরেকটু  লক্ষ্য রেখে তত্ত্বাবধান করা যায় তাহলে আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে খুব ভাল রেজাল্ট করতে পারে করতে পারবে । 

ত্রিমোহিনী প্রতাপ চন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষিকা চৈতালি চাকি জানান, যতটা সম্ভব  হীরালালের ইশারা বুঝে তাকে সাহায্য করা হয় । পড়াশুনার প্রতি তার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে । বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হলেও তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি সরকার সাহায্য করত তাহলে ছেলেটি আরো উপকৃত হতো । 

মূক ও বধির হীরালাল মাহাত ইশারায় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, করুন আকুতি সহকারে একটি সাদা খাতায় লিখে জানায় আর্থিক সংগতি না থাকার জন্য তার কানে শুনতে না পাওয়া ও কথা না বলতে পারার জন্য  এখনো পর্যন্ত কোন বড় কোনো চিকিৎসকের কাছে দেখাতে যেতে পারেনি । যদি সরকার কিংবা কোন সহৃদয় ব্যাক্তি তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো তাহলে সে খুবই উপকৃত হতো বলে জানায় । 

আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন রাখছি এ যুগের “হেলেন কেলার” কে যথা যত সাহায্য করা হোক |

Advertisements