এক সংখ্যালঘু পরিবারের করুন কাহিনী – সাইফুর মন্ডলের চিকিত্সা প্রয়োজন

0
688
Saifur Mondal
Saifur Mondal

পল মিত্র, দক্ষিন দিনাজপুর : সদ্য খুশির ঈদ পালিত হলো , জকাত আদায় হলো , রোশনাই চড়িয়ে পড়ল কিন্তু কিছু অভাগার কপালে নূনতম মানবিকতার সাহায্য এলোনা | এক সংখ্যালঘু পরিবারের করুন কাহিনী |

কুমারগঞ্জের 2 নং সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আঙ্গিনা বরইট উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শবর্তী গ্রাম নেওনা তে বাড়ি সাইফুর মন্ডলের (২৬) । দিনমজুর পরিবারের ছেলে সাইফুর। অভাব অনটনের সংসারে অর্থ উপার্জনের জন্য গোয়াতে রাজ মিস্তীর কাজ করতে গিয়েছিল সাইফুর। কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে অসাবধানতার করণে ঘটে বিপত্তি। প্রায় তিন তলার ছাদ থেকে পরে গিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন তিনি। পা ও শরীরের বেশ কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পরে। তারপর গোয়াতে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। পরিবার পরিজন ও পড়া প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোলকাতা, ব্যাঙ্গালোর ও বিহার গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তাতে অবশ্য শারীরিক কিছুটা উন্নতি ঘটে। কিন্তু প্রায় সাত বছর ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় ঘরে পরে রয়েছেন তিনি। সাইফুরের বাবা আজাহার মন্ডল দিনমজুর।

সন্তানের এহেন কষ্ট দেখে তিনিও থাকতে পারেন না। কিন্তু উপায় নেই। স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান, ব্লক প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। মিলেছে একের পর এক আশ্বাস।

কাঁদতে কাঁদতে সাইফুর জানায়, বিহারের চিকিৎসকরা বলেছিল সঠিক ভাবে চিকিৎসা করলে আমি সুস্থ হয়ে উঠবো। কিন্তু আমার পরিবারের আর সাধ্য নেই চিকিৎসা করার। তার চিকিৎসার জন্য তিনি সর্বস্তরের সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান।

রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উন্মীলনের সদস্যরা তাঁকে দেখতে যান। এবিষয়ে ঐ সংগঠনের তরফে দেবাশীষ সরকার জানান, সাইফুরের চিকিৎসার জন্য একটা বিরাট অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে বছর ২৬শের সাইফুর মন্ডল সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে বলে তিনি জানান।