রাজ্যসরকার মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলক স্বতন্ত্র জায়গায় এই আওয়াজ তুললেন নবচেতনার সদস্যরা

0
1164
Dr. Humayun Kabir and Faruque Ahamed for Murshidabad University
Dr. Humayun Kabir and Faruque Ahamed for Murshidabad University

রাজ্যসরকার মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলক স্বতন্ত্র জায়গায় এই আওয়াজ তুললেন নবচেতনার সদস্যরা

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজ্যসরকার মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলক স্বতন্ত্র জায়গায় মুর্শিদাবাদ জেলাবাসী এই আওয়াজ তুললেন “নবচেতনা”র আহ্বানে প্রথম জেলা মিটিং-এ। নবচেতনার সকল সদ্যদের একান্ত দাবী ‘কে এন কলেজ’ নয় মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হবে লালবাগ বা রেজিনগরে। “নবচেতনা”র সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছেন জেলাবাসীর আবেগকে মর্যাদা দিয়ে জেলার স্বতন্ত্র জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আপনি এগিয়ে আসুন।

নবচেতনার সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাক্তন পুলিশসুপার বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিআইজি ড. হুমায়ুন কবীরও তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরললেন “জেলার কল্যাণে ও আধুনিক শিক্ষা প্রসারে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা উচিত লালবাগে। মুর্শিদাবাদ জেলার সেন্ট্রাল জায়গা হল লালবাগ।”

“নবচেতনা” মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির গঠনের আগে সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ড. হুমায়ুন কবীর সবিস্তার বললেন, “নবচেতনা” একটি প্লাটফর্ম যা সৃষ্টির উদ্দেশ্যগুলি হল।

১. মুসলিম যুব সম্প্রদায় ও সার্বিকভাবে মুসলিম সমাজের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানো। আমরা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, বরং যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এর অপরিহার্যতা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু মুসলিমদের সামাজিক ক্ষেত্রে ও ব্যক্তিজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এই প্লাটফর্মের উদ্দেশ্য হল মুসলিম ছাত্র/যুব সম্প্রদায়কে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা।

২. লক্ষ্য করা গেছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের একাংশ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক অপরাধ, বিভিন্ন বে-আইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের এই সব মন্দ ক্ষেত্র থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করা।

৩. আরো দেখা যাচ্ছে যে, মুসলিমরা ভবিষ্যত বিষময় ফলাফলের কথা চিন্তা না করেই ব্যাপকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, রাজনৈতিক হানাহানি এবং অন্য অনেক অবৈধ কাজে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। মুসলিম সমাজে এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। অনেক মুসলিম এতে প্রাণ হারাচ্ছে, অনেকে আহত হচ্ছে, আবার অনেকেই মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ কুফল সেই মুসলিম পরিবারগুলিকে এবং সার্বিকভাবে মুসলিম সমাজকে ভুগতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করবো তাদের এই খারাপ পথ ও পন্থাগুলির কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনতে।

৪. আমরা আন্তরিকভাবে মুসলিম যুবসমাজের জীবনের মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাবো।

৫.আমরা কঠোরভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে এবং অন্য সমস্ত জাতি,ধর্ম, বর্ণের সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে সহনশীলতার মহান আদর্শ বজায় রাখবো।

৬. আমরা কখনো কারো প্রতি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক একদেশদর্শীতা দেখাবো না।

৭. এককথায়, আমরা কখনোই সমাজের কারো প্রতি খারাপ মনোভাব পোষণ করবো না।

৮. আমাদের লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় সমাজে টিকে থাকার পথ অনুসন্ধান,অনুসরণ এবং সরকারি ক্ষেত্রে যে সব সুযোগ সুবিধা আছে সেগুলি সম্বন্ধে কওমের সকলকে সচেতন করা।

৯. আমরা চেষ্টা করবো ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার।

১০. আমাদের এই প্লাটফর্ম আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষকে সময় সময় দেশের উন্নয়নের ও অগ্রগতির হালহকিকত সম্পর্কে অবগত করে এবং এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের এগিয়ে যাবার পন্থা অনুসন্ধান করবে।

১১. সমস্ত ধরণের মুসলিম সংগঠন, সে শিক্ষা, সমাজ, ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ যে কোনো ধরণের-ই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে যোগসুত্র গড়ে তোলা।

আমাদের লক্ষ্য হবে বেশি সংখ্যক মুসলিম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।

যদি আমরা সকলে ঐক্যমত হই এবং কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজের এই দুর্বল শ্রেণির কাছে পৌঁছে তাদের তুলে আনতে পারবো।
মুসলিমদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য আমরা এমন একটি প্লাটফর্মের প্রয়োজনীতা অনুভব করেছি যাতে আমরা এই সমাজের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবী-দাওয়া সমন্বিত জোরালো আওয়াজ তুলতে পারি। কিন্তু আমাদের সদস্যদের সদা সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে যে আমরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি যেন কোনোরূপ ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ না করে ফেলি। সকলের প্রতি আমাদের বিনম্র ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর অন্য যে বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে তা হল, আমরা দেশের আইন কে মর্যাদা ও সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলবো।
আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে আমরা বিনীত ও বিনম্রভাবে এগিয়ে যাবো। এই বিনীত-বিনম্র কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপই আমাদের সাফল্য লাভের পথ হয়ে উঠবে।
সকলকে ধন্যবাদ সহ ড.হুমায়ুন কবীর। “নবচেতনা” মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির মিটিং সার্থক করতে মূল্যবান বক্তব্য রাখলেন সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ড. হুমায়ুন কবীর।

“নবচেতনা”র সেন্ট্রাল কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ সংযোজন করলেন।

এই মুহূর্তে বাংলার ২৩ টি জেলায় “নবচেতনা” মানুষের কল্যাণে যে সব বিষয় নিয়ে কাজ করবে।

১. ল সেল (আইনি সহায়তা দান)।

২. মেডিক্যাল সেল (চিকিৎসা সহায়তা দান)।

৩. শিক্ষা সেল (আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সহায়তা)।

৪. কেরিয়ার কাউনসেলিং সেল (চাকরি পাওয়ার জন্য বা জীবিকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সুপরামর্শ দিয়ে সহায়তা)।

৫. সোশাল জাস্টিস সেল (সামাজিক ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা)।

৬. প্রোপাগান্ডা সেল (মত ও নীতি প্রচার সেল) ইত্যাদি।
সদস্যদের কাছে আমাদের উদ্দেশ্য  চুড়ান্ত করার আগে মতামত আহ্বান করা হচ্ছে।

ফারুক আহমেদ আরও বলেন, আপনারা সকলেই অবগত আছেন ‘নবচেতনা’ একটি অরাজনৈতিক, অসম্প্রদায়িক ও সমাজকল্যাণকারী সংস্থা।

১৯ আগস্ট ২০১৮ মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘নবচেতনা’ সদস্যদের নিয়ে প্রথম মিটিং ডেকেছি “বহরমপুর মোহনা বাসস্টান্ডের সেমিনার হলে” দুপুর ২ টোর সময় নবচেতনা মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি গড়তে।

মুর্শিদাবাদ জেলার সকল ‘নবচেতনা’র সদস্যদের মধ্যে অনেকেই এসেছিলেন এবং সফল ভাবেই মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি গঠন করা হল।

মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি এবার ‘নবচেতনা’র ব্লক ও মহাকুমা কমিটি গড়তে মিটিং ডাকবে এবং সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।

বহরমপুরে মিটিং সফল করতে ‘নবচেতনা’র প্রেসিডেন্ট ড. হুমায়ুন কবীর, আইপিএস, ডিআইজি সাহেব উপস্থিত ছিলেন এবং মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। সবাই প্রাণিত হলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপকতর উৎসাহ দেখা দিল। আজ থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় “নবচেতনা”র অফিস শুরু হল।

আলোচ্য বিষয় গুলি সবার মনে দাগ কাটল আশা রাখি।

আইনি সহায়তা, শিক্ষা প্রসার ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে মুর্শিদাবাদ জেলায় “নবচেতনা”র কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করুন জেলার মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত।

সারা জেলা ব্যাপী ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে ‘নবচেতনা’র প্রসার ঘটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা জেলা কমিটি মিটিং করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক।

মুর্শিদাবাদ জেলায় স্বতন্ত্র জায়গায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার প্রয়াস সার্থক করতে জেলাবাসীর কল্যাণে (একান্ত ও মূল দাবীকে মূল্য দিতে) সবাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখুন প্রস্তাব দিয়ে যে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হোক স্বতন্ত্র জায়গায়। এই প্রস্তাব নবচেতনার সদস্যরা আনন্দিত হয়ে রাখবেন আশা রাখি। বলছিলেন ফারুক আহমেদ।

“নবচেতনা” মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির প্রথম মিটিং নিয়ে নব নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক মহবুব আলমের ডিটেল প্রতিবেদন।

ভারতে সর্বত্র আজ রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রে একটি অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো আজ অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। তার মধ্যে যে সম্প্রদায় সবদিক থেকে সমাজের যূপকাষ্ঠে বলি প্রদত্ত তা হল সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়। এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অস্থির দশা থেকে উত্তরণের জন্য সঠিক দিশা দেবার মতো সংগঠনের বড্ড অভাব আজ। আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলায় ৬৮ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস হলেও সরকারি বা বেসরকারি সবক্ষেত্রেই এই সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি হাতেগোনা মাত্র। এর কারণ কি? কারণটা সবার জানা। জেলায় মুসলমান সংখ্যাগুরু হলেও একাধিক অদৃশ্য, অশুভ শক্তি তাদের মায়াবী জাদুর স্পর্শে এই জনগোষ্ঠীকে অবদমিত করে রেখেছে। এমন নয় যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর কোনও মেধা নেই! মেধা আছে, মেধা বিকাশের সুযোগ নেই। দায়ী কে? আপনি, আমি, সকলে কারণ আমরা যাঁরা কাজ করতে পারি, কাজ করিয়ে নিতে পারি তাদের সদিচ্ছার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। রয়েছে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। যোগ্য নেতা তিনি, যিনি স্বার্থের কথা ভাবেন না, আত্মপ্রচারের কথা ভাবেন না, ভাবেন সমষ্টির কথা, সবার মঙ্গলের কথা। যেমন মুর্শিদাবাদ জেলার কথাই যদি ধরা যায়, তাহলে দেখা যাবে মুসলিম সম্প্রদায়েই কাজের মানুষ, কাজ করার মানুষ অনেকেই আছেন, কিন্তু কাজ করিয়ে নেওয়ার মানুষের বড্ড অভাব। তাই সেই অভাব পূরণ করার জন্য ভিন জেলার মানুষ হলেও এই জেলার পরম আপনজন যাঁরা, তাঁরা অবশ্য কেবলমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলার কথাই ভাবেন না, সমগ্র রাজ্য-দেশের কথা ভাবেন, নিজের কওমের কথা ভাবেন, তাঁদের একজন হলেন ড. হুমায়ুন কবীর, আই পি এস, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের মাননীয় ডিআইজি, ট্রাফিক। যিনি দীর্ঘদিন জেলার পুলিশসুপার থাকার সুবাদে সমগ্র জেলাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তিনি এগিয়ে এসেছেন জেলার পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় কে মুক্তির পথ দেখাতে। ব্যস্ততা, নাম-যশ- খ্যাতি-প্রতিপত্তির মাঝেও পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর কথা বিস্মৃত হ’ননি। তাই ‘নবচেতনা’র মত একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন।

‘নবচেতনা’র রং চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে,’নবচেতনা’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব ড. কবীর যাঁর কাঁধে অর্পণ করেছেন তিনিও জেলার অধিবাসী না হলেও মুর্শিদাবাদের অবহেলিত মানুষের পরমাত্মীয়, ‘উদার আকাশ’ পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, স্বনামধন্য প্রাবন্ধিক ও কবি, বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর শিক্ষা বিভাগের সহ-অধিকর্তা ফারুক আহমেদ সাহেব। মূলত তাঁরই আহ্বানে মুর্শিদাবাদ জেলার অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিতে আজ ১৯.০৮.২০১৮ বেলা দু’টোর সময় মোহনা বাসস্ট্যান্ড,বহরমপুর সভাগৃহে আসন অলংকৃত করেছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন মহকুমা থেকে আগত দুই শতাধিক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ। যাঁরা প্রকৃতপক্ষেই পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান। সমগ্র অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন ফারুক আহমেদ স্বয়ং।

অনুষ্ঠানের সূচনায় ‘নবচেতনা’র রাজ্য কমিটির সভাপতি মাননীয় ড. হুমায়ুন কবীর সাহেব, রাজ্য কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ সাহেব, নদীয়া জেলা কমিটির সভাপতি ড. আবুল হোসেন বিশ্বাস, সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য মোফিকুল ইসলাম ‘নবচেতনা’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

ড. কবীর তাঁর বক্তৃতায় কেবলমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলার নয় সমগ্র রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলমানদের হতশ্রী চেহারা সুচারুরূপে তুলে ধরেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ, সামাজিক মর্যাদা সব ক্ষেত্রেই আজ মুসলিম জনগোষ্ঠী পশ্চাদমুখী সে কথা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি তুলে ধরেন। তাঁর কথায় “অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সকলকে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। অধিকার অনুগ্রহের বিষয় নয়, তা অর্জন করতে হয়।” এই লড়াইয়ে সর্বদা জেলাবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ও ‘নবচেতনা’র সেন্ট্রাল কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ সাহেব তাঁর বক্তৃতায় নবচেতনার কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বিস্তৃত আলোচনা করেন। তিনি বলেন “সচেতনতা,সদিচ্ছা ও শুভবোধই কোনও জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।” তাই তিনি সকলকে সম্প্রদায়ের মঙ্গলার্থে কাজ করতে আহ্বান করেন। সেই সঙ্গে অশুভ শক্তিকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজিত করতে সর্বদা সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।

আজকের সভায় ‘নবচেতনা’ রাজ্য কমিটির সভাপতি ডক্টর হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভিন্ন মহকুমায় ‘মহকুমা কমিটি’ গঠন করে সমগ্র জেলায় ‘নবচেতনা’র নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন।

অদ্যকার সভায় বক্তব্য রাখেন ‘নবচেতনা’র নবগঠিত মুর্শিদাবাদ জেলা সমিতির সভাপতি মাসুদ আলম, প্রধান শিক্ষক, নবাব বাহাদুর ইন্সটিটিউট, সহ-সভাপতি সামশুল আলম, সভাপতি মানিক নগর ল কলেজ, মনোয়াজ বিশ্বাস, সমাজসেবী, নরুন্নবী বিশ্বাস, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, হারুনাল রসিদ, শিক্ষক, আজাদ মাহালদার, পীরসাহেব, আবদুর রসিদ শেখ, শিক্ষক, আলতামাস কবীর, আইনজীবি, রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক, জিনাত রেহেনা ইসলাম, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষিকা, মোস্তফা কামাল, বিশিষ্ট শিক্ষক, হাতিমুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক, নবচেতনার সংগঠোক মো: নিজামউদ্দিন, মো: নূর জামাল শেখ, মো: সানাউল্লা বিশ্বাস, রেজাউল মন্ডল, বেল্লাল মন্ডল, রণি নিশ্বাস, হাসানুজ্জামান,নবচেতনার জেলা কমিটির সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মহঃ সেলিম, প্রধান শিক্ষক, হরেক নগর হাই স্কুল, মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সহ সম্পাদক হাসিবুর রহমান, শিক্ষক, গবেষক ও লেখক, আবদুল হামিদ, শিল্পপতি, আলী মেহবুব হাসান, শিক্ষক, আহাদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার, সুজাউদ্দিন শেখ, গবেষক, মমিনুল হক, মো: বাগবুল ইসলাম, ড. আবুল হাসনাত, মিজানুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, কিবরিয়া আনসারী, সাংবাদিক, রাসেল বিশ্বাস, একরামূল হক, হুমায়ুন কবীর, বজলুর রহমান, দিলরুবা সরকার, আমিনা খাতুন, নুরজাহান বেগম, আঞ্জুমানারা বেগম, আবদুল আজিজ, কোষাধ্যক্ষ ফারহাদ হোসেন, প্রভৃতি সম্মাননীয় ব্যক্তিবর্গ।

প্রত্যেকেই ‘নবচেতনা’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। মোস্তফা কামাল সাহেব তার নিজ বাসভবনে ‘নব চেতনা’র জেলা কার্যালয় স্থাপনের জন্য একটি অফিস গৃহ দান করার অঙ্গীকার করেন। আগামী ২৬ আগস্ট ‘নবচেতনা’র জেলা কার্যালয়ে নবগঠিত জেলা কমিটির এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে আগামী দিনের ‘নবচেতনা’ মুর্শিদাবাদ শাখার কার্যক্রম স্থির হবে।

নবচেতনার সেন্ট্রাল কোর কমিটির কার্যকারি সদস্য মিজানুর রহমান মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির অবজারভারের দায়িত্ব আছেন। বলছিলেন, মহবুব আলম, যুগ্ম সম্পাদক, নবচেতনা, মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি।