মহা মিলন উৎসবে অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্মানিত কবি ফারুক আহমেদ

0
697
Faruque Ahamed
Faruque Ahamed

মহা মিলন উৎসবে অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্মানিত কবি ফারুক আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদক

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্তনিগম আয়োজিত মিলন উৎসব এবছর যেন মহা মিলন উৎসবের রূপ নিলো। রবিবারের সন্ধ্যা ছিল বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিন মঞ্চে সম্মানিত হলেন কবি ও উদার আকাশ পত্রপত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন পুবের কলম পত্রিকার ডিরেক্টর নুসরাত হাসান। এদিন মূল মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করলেন ফারুক আহমেদ, দীপ কাজী ও শফিকুল ইসলাম।

পশ্চিম বাংলার ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে উঠেছে মিলন উৎসব ২০১৯। পার্কসার্কাস ময়দানে এই উৎসবে প্রতিদিন হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান, মুসলিম, জৈন,উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত হাজার হাজার মানুষের পা পড়ছে। বাউল-ফকিরি- কাওয়লি, সুফি গানের আসর আছে, তেমনি আছে রবীন্দ্র সংগিত, নজরুল গীতি, হিন্দি,ভাওয়াইয়া গানের আসর এক জমজমাট সাংস্কৃতিক আয়োজন যা প্রতিদিন সকলের মন জয় করে নিচ্ছে।

পাহাড় থেকে সাগর, কলকাতা থেকে পুরুলিয়া, প্রতিটি জেলার মানুষ তাঁদের হাতের তৈরি নানান পণ্য সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছেন এই মিলন উৎসবের স্টল গুলোতে।

মেলার তৃতীয় দিনে বিত্তনিগম আয়োজিত শিশুদের বসে আঁক প্রতিযোগিতায় রবিবার ১০০০ শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে।

কী পাবেন না এখানে?
আসলা চামড়ার ব্যগ, ওয়ালেট, চামড়ার তৈরি নানা সামগ্রী। শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ি, কাপড়, সুতি, সিল্কের মেয়েদের নানা পোশাক, পাহাড়ি নানা ফুলের গাছ, তাদের তৈরি আচার-সহ নানা সামগ্রী। আছে প্রতিটি জেলার স্বকীয় বৈশিষ্টে ভরপুর সামগ্রীর বিপণন কেন্দ্র।

আর বিত্তনিগমের স্টল থেকে জানতে পারবেন, শিক্ষাবৃত্তির খবর, শিক্ষা ঋণ, নানা পেশার প্রশিক্ষণ বিষয়ে সুলুক সন্ধান। আছে জীবন সন্ধানের জন্য কাউন্সিলিং। আগামী ৫ তারিখে আবার বসছে জব ফেয়ার। যেখানে চাকরির সুযোগ মিলতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম এর উদ্যোগে ১ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০১৯ পর্যন্ত পার্ক সার্কাস ময়দানে আয়োজিত হচ্ছে “মিলন উৎসব ২০১৯”।

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব কুটির শিল্প, খাবারদাবার এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটছে এই মিলন উৎসবে। এছাড়াও এই উৎসবে থাকছে কেরিয়ার কাউন্সেলিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। প্রতিদিন থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রতি বছরের মতোই এবছরও পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের উদ্যোগে বিদেশে চাকরি পেতে কোথায় কী করতে হবে তা জানার জন্য চলে আসুন পার্ক সার্কাসে আয়োজিত মিলন উৎসবে।

৩ তারিখ রবিবার ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “একটি কুসুম” এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করলেন নুপূর কাজী, মহঃ রামিজ কামরান লস্কর, দশম শ্রেণী, শিশু বিকাশ একাডেমী, আফরীন কাজী, আমির আলি, নাজমুল হক, পলাশ চৌধুরী, কবিতা পড়লেন “উদার আকাশ” পত্রিকার সম্পাদক ও কবি ফারুক আহমেদ।

মিলন উৎসব ২০১৯ এর সম্পুর্ণ ডিজিটাল সম্প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন De Orient কোম্পানির পক্ষ থেকে শবনম হোসেন। এছাড়াও পুবের কলম পত্রিকার অনুষ্ঠান একটি কুসুম এর সম্পুর্ণ ডিজিটাল মারকেটিং এর পরিচলনা করেন শবনম হোসেন। সমস্ত অনুষ্ঠানটি পুবের কলম এর ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি লাইভ সম্প্রচারের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

মিলন উৎসবে “একটি কুসুম” অনুষ্ঠানে তানভীর খানকে সংবর্ধনা প্রদান করে সম্মানিত করলেন, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক তথা বিখ্যাত সাহ্যিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজিবী ফারুক আহমেদ।

উপস্থিত “পুবের কলম” পত্রিকার সম্পাদক ও রাজ্যসভার সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান, সংখ্যালঘু দফতরের প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, বিত্তনিগমের চেয়ারম্যান ডা. পি বি সেলিম,ড. আবদুল মুজিদ, এ কে এম ফারহাদ, মহিউদ্দিন সরকার প্রমুখ।

মিলন উৎসব সার্থক করতে সকলকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, ডা. পি. বি. সেলিম, আই.এ.এস., সচিব, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম। মৃগাঙ্ক বিশ্বাস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম।

পার্ক সার্কাস ময়দানে বৈচিত্রের মাঝে মহামিলনের এই মিলন উৎসবেকে সার্বিক সফল করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন ডা. পি. বি. সালিম সাহেব।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মচারীবৃন্দ।

মিলন উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ফ্রি কেরিয়ার কাউন্সেলিং এবং
বেকারদের চাকরি দেওয়ার সুপরামর্শ।

মিলন উৎসব উদ্বোধনের পর স্বাগত ভাষণের মঞ্চে স্কলারশিপ, ঋণ, প্রভৃতি প্রদান করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম আয়োজিত মিলন উৎসবে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনে ১০৬ নম্বর স্টল দিয়েছে সর্বভারতীয় নবচেতনা নামক সামাজিক সংগঠন।

১ ফেব্রুয়ারি পার্ক সার্কাস ময়দানে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম আয়োজিত মিলন উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল। এই মহা মিলনের সম্প্রীতির উৎসব চলবে ১ ফেব্রিুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রিুয়ারি ২০১৯ পার্ক সার্কাস ময়দানে।
এবারের মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যে “হার্ট চেক আপ” এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির সর্বভারতীয় নবচেতনার উদ্যোগে।

হৃদ রুগীদেরকে সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি উপস্থিত হলেন এবং মিলন উৎসবে আগত বহু মানুষকে চিকিৎসা করলেন লিটল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জেন ড. আমানুল হক এবং তাঁর টিম। প্রায় ১০ জনের এই টিমে ডা. হক ছাড়াও ছিলেন ডা. হাসিমুদ্দিন মোল্লা, ডা. প্রদীপ, এবং ইমরান হোসেন সহ আরও অনেকেই।

পার্ক সার্কাস ময়দানে বৈচিত্রের মহামিলনের মাঝে এই স্বাস্থ্য শিবির ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

সর্বভারতীয় নবচেতনার উদ্যোগেই প্রথমবার “লিটল হার্ট ফাউন্ডেশন” এই সংগঠনের পথ চলার শুভ সূচনা হোল এদিন।

উৎসবের মাঝেই বিনামূল্যে রুগি দেখা ছাড়াও ইসিজি এবং সুগার পরীক্ষা করে কলকাতার বুকে নাজির সৃষ্টি করল এই সংগঠন।

এদিনে লিটল হার্ট ফাউন্ডেশন নামক এই সমাজসেবী সংস্থাটির আত্মপ্রকাশ হয় সর্বভারতীয় নবচেতনার হাত ধরে।
শুভ উদবোধনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান ড. হুমায়ুন কবীর, প্রাক্তন আইপিএস মোহাম্মদ নিজাম শামিম ও সর্বভারতীয় নবচেতনার সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, ড. আবুল হোসেন বিশ্বাস সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রায় ১৫২ জন রুগির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও ১০৩ জানের ইসিজি এবং ৫৩ জনের ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনের উচ্চ রক্তচাপ এবং ৯ জনের হাই ব্লাড সুগার ধরা পড়ে।
লিট্ল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তথা শহরের সুনাম ধন্য কার্ডিয়াক সার্জেন ডা. আমানুল হক যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কলকাতার মধ্যে বাস করেও ঐ লোকগুলোর কেউই জানত না তাদের এই অসুখের কথা। এই প্রথম বার তাঁরা জানতে পেরেছেন তাদের উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হাই ব্লাড সুগারের কথা। পরে তিনি বলেন এই অজ্ঞাত রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির আরো বেশি করে করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সরকারী হাসপাতালের সাথে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

দ্বিতীয় দিন ২ ফেব্রুয়ারি জেনারেল ফিজিসিয়ান ডা. ডি সাহা বসেছিলেন।

৩ ফেব্রুয়ারি ছিলেন শিশুদের সনামধন্য ডাক্তার এস এন রায়, ডাক্তার জামাল খান, জেনারেল ফিজিসিয়ান ডাক্তার ইমরান খান সহ আরও বেশ কয়েকজন ডাক্তার বাবু উপস্থিত হয়েছিলেন।

ফ্রিতে ওষুধ দেওয়াও হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান ডা. পি বি সেলিম সাহেবের উদ্যোগে।

৪ ফেব্রুয়ারি থাকছেন প্রখ্যাত স্পাইনাল কর্ডের সার্জেন ডাক্তার আরবার হোসেন, গাইনী সার্জেন ডাক্তার হুমা ফারহীন ও শিশুদের বিশিষ্ট ডাক্তার এস এন রায়।

সর্বভারতীয় নবচেতনার উদ্যোগ সকলের মনে দাগ কাটে এবং বহু মানুষ সুচিকিৎসা করিয়ে উপকৃত হলেন।