বিদ্যুৎ চমক দেখুন বিলে – কি ভাবে জালিয়াতির নতুন স্কিম প্রয়োগ CESC বিলে ? – দেখুন কিভাবে আনুমানিক ৯০০ লক্ষ থেকে ৩০০০ লক্ষ টাকা চুরি বিদ্যুৎ বিলে?

0
502
Electricity Distribution - West Bengal
Electricity Distribution - West Bengal

বিদ্যুৎ চমক দেখুন বিলে – কি ভাবে জালিয়াতির নতুন স্কিম প্রয়োগ CESC বিলে ?
পুরোটা পড়ুন আর দেখুন কিভাবে ৯০০ লক্ষ থেকে ৩০০০ লক্ষ টাকা চুরি হলো বিদ্যুৎ বিলে ।

যারা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আপত্তি করছেন তাদের খুব সুললিত ভাষায় ভদ্র ভাবে CESC বুঝিয়ে দিচ্ছে গত তিন মাস বিল দেয়া হয়েছে আনুমানিক হিসাবে ,তাই এই বর্ধিত বিল এসেছে । একে বারে সত্যি কথা , কোনো মিথ্যা চার নেই । আমরাও অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভাগ্য মেনে নিয়ে বিল দিতে বা ইনস্টলমেন্ট করতে লেগে পড়ছি । পরিষেবা যখন নিয়েছি টাকা দিতেই হবে , এটা ভদ্রতা ।

কোম্পানি কত দয়ালু ইনস্টলমেন্ট করে দিচ্ছেন ?

কিন্তু কিছু দুর্জন প্রশ্ন তুলছেন ভাই দাঁড়ান আমার কিছু বলার ছিল ।

ডোমেস্টিক কানেক্শনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট এনার্জি চার্জ :

০-২৫ ইউনিট ৩.৭৮ টাকা প্রতি ইউনিট
২৬-৬০ ইউনিট ৪.৮৯ টাকা প্রতি ইউনিট
৬১-১০০ ইউনিট ৬.৪১ টাকা প্রতি ইউনিট
১০১-১৫০ ইউনিট ৭.১৬ টাকা প্রতি ইউনিট
১৫১-২০০ ইউনিট ৭.৩৩ টাকা প্রতি ইউনিট
২০১-৩০০ ইউনিট ৭.৩৩ টাকা প্রতি ইউনিট
৩০১ এর বেশি ইউনিট ৮.৯২ টাকা প্রতি ইউনিট

এবার ধরা যাক আপনার প্রতি মাসে ইউনিট লাগে ৮০-১০০ ইউনিট, গত তিন মাসে আপনার বিল করেছে ৮০ ইউনিট করে| কিন্তু আপনি খরচ করেছেন ৯৫ ইউনিট করে সুতরাং আপনার বাকি ১৫X ৩=৪৫ ইউনিট । কোনো ভুল নেই , কোনো অপরাধ নেই ।

এবার মজা দেখুন এ মাসে আপনি আবার খরচ করেছন ৯৫ ইউনিট (ধরে নেয়া যায় লকডাউন এ নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র কেনেন নি ।)

তাহলে আপনি মোট খরচ করেছেন ৯৫+বাকি ৪৫ = ১৪০ ইউনিট । কোম্পানি এই টাকা তো চাইবেই । কোথায় চুরি হলো বলুন ?

এই পর্যন্ত পড়ে যারা কপাল চাপড়ে বিল দিতে চললেন তাঁরা এক বার শেষটা দেখুন ।

আপনি ছিলেন ৯৫ ইউনিট গ্রুপের লোক , এ মাসে পড়ে গেলেন ১০১-১৫০ গ্রুপে অর্থাৎ ৭.১৬-৬.৪১=.৭৫ টাকা বা ৭৫ পয়সা বেশি প্রতি ইউনিট গ্রুপে । অর্থাৎ যদি প্রতি মাসে রিডিং নিয়ে বিল দিতো ,তার থেকে আপনি বেশি দিচ্ছেন ৪৫X .৭৫= ৩৩.৭৫ টাকা বেশি শুধু মাত্র রেট স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে । আর এর জন্য আপনি কখনই দায়ী নয় ।

তাহলে একজনের বিল এ ৩৩.৭৫ টাকা বেশি নিলে, নিশ্চয়ই বলা যায় আনুমানিক গড়পড়তা ৩০-১০০ টাকা প্রতি বিলে বেশি নিলো ।

যদি কলকাতার জনমানুষের ইলেকট্রিক কানেকশন ৩২ লক্ষ (CESC ওয়েবসাইট )হয়ে থাকে, এবং ৩০লক্ষ ডোমেস্টিক হয় ,তবে ৯০০ লক্ষ থেকে ৩০০০ লক্ষ টাকা বেশি হলো একই পরিষেবা দিয়ে ।

এর পর কিন্তু বাণিজ্যিক মিটার যাঁদের তাঁদের হিসাব কি হবে ভেবে দেখুন ।

মাননীয় সঞ্জীব গোয়েঙ্কা মহাশয় আমাদের হিসাবে যদি ভুল হয় বা বোঝার ভুল হয়, দয়া করে আমাদের বোঝান কেন ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি এন্ড পাবলিক ফ্রড এর দায় আসবে না ।

এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় দেশের অন্যান্য স্থানের থেকে কলকাতায় বিদ্যুৎ মূল্য বেশি অথচ কয়লা আমাদের রাজ্যেই পাওয়া যায় তাপবিদ্যুৎ এর জন্য ।

করোনার কারণে মানুষ এমনি অসহায় আর মরার ওপর খাড়ার ঘা দিচ্ছেন । মানুষ কিন্তু সব দেখছে আর যাদের নিরাপত্তায় মানুষ কে ঠকানোর কাজ চলছে তা কিন্তু মানুষই উল্টে দেবে ।

ভুল করে ভুল হতে পারে , ক্ষমা চেয়ে শুধরে যান , না হলে মনোপলি ব্যবসা মানুষ চলতে দেবে না, আন্দোলন অনিবার্য ।

পাঠকদের অনুরোধ বিশৃঙ্খলা নয় , দরকার হলে আইন অনুসারে আবেদন ও প্রশাসনিক প্রতিকারের জন্য লিখিত অভিযোগ করুন ।

সামাজিক দূরত্ব ও সরকারি বিধি নিষেধ কে মেনে ,সর্ব স্তরে নিজের অধিকার কে প্রতিষ্ঠিত করুন । গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা হোক ।

আমাদের অনুরোধ আমাদের অনুমান ভুল প্রমান করুন আর নিজেদের নিস্কলঙ্ক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরুন।