করোনার সংখ্যাতত্ত্ব ও এক চিকিৎসকের চিন্তা

0
206
Rapid Regulatory Frame Work for COVID -19
Rapid Regulatory Frame Work for COVID -19

করোনার সংখ্যাতত্ত্ব ও এক চিকিৎসকের চিন্তা

ড: পলাশ বন্দোপাধ্যায় , কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর

কয়েকদিন যাবৎ দেশের সোশ্যাল মিডিয়া,খবরের কাগজ, এবং বৈদ্যুতিন মিডিয়ায় একটা খবর হৈ হৈ করে প্রচার করা হচ্ছে যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে আমরা এখন ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে এবং অচিরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে এক নম্বর স্থানটি দখল করবো।এই নিয়ে সরকারকে খিস্তিখাস্তা এবং বিদ্রুপের বন্যা।বিভিন্ন ছদ্ম বিশেষজ্ঞের মতামতের ছড়াছড়ি।আমাদের দেশের প্রায় সকলেই আমরা নিজেদের চর্চিত বিষয়টি ছাড়া আর বাকি সবকিছু জানি।
জনগন তো সর্বদা রেডি নাচার জন্য।সুতরাং ভক্তি উৎসব এবং অপযুক্তির দেশে নাচ চলছে চলবে।

মশাই! বলি কি,একটু দাঁড়িয়ে যান! একটু ভেবে চিন্তে নাচুন।এতটা আনন্দ পাওয়ারও এখনো কিছু হয় নি।এসব কিছু ঢাকঢোল বাজিয়ে প্রচারে নামার আগে পরিসংখ্যান এবং জনসংখ্যা নিয়ে দু মিনিট পড়াশোনা করে নিন।এখন বই খুলতে হয় না।গুগল কাকা সব বলে দেয়।

কোনো দেশে কোনো রোগে আক্রান্তের হার এবং বিভিন্ন দেশের আক্রান্তের হারের তুলনামূলক টেবিল কিছু বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে করতে হয়।ব্যাপারটা মুড়ি খাওয়ার মতো অতটা সহজ নয়।

আক্রান্তের হিসেব জনসংখ্যার প্ৰতি একশ অথবা প্ৰতি হাজারে করতে হয়।ধরে নেওয়া যাক ব্রাজিলের জনসংখ্যা একশ এবং আমাদের জনসংখ্যা হাজার।সেক্ষেত্রে ব্রাজিলে কোনো একটা সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা যদি এক হয় এবং সেই একই সময়ে আমাদেরও আক্রান্তের সংখ্যা এক হয় তাহলে আমরা ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেললাম? আমাদের সংখ্যাটি যখন দশ হবে তখনই আমরা ব্রাজিলকে ছুঁতে পারবো,এ বস্তু বোঝার জন্যও কি ঘিলুর দরকার আছে?

পৃথিবীর অন্য কোনো ব্যাপারে না হলেও জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ব্যাপারে আমাদের টপার হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।সুতরাং মন্দের ভালো হিসেবে এটা অন্তত বলা যায় যে আমাদের জনসংখ্যার নিরিখে আক্রান্তের সংখ্যা এই সেলিব্রেট করার মতো কিছু নয়।বরং এত কোটি কোটি মানুষের দেশ হয়েও খেলাধুলার জগতে আমরা এখনো লাস্টের দিক থেকে ফার্স্ট,এই ব্যাপারটা নিয়ে সেলিব্রেট করা যেতে পারে।

আমাদের দেশে পরিসংখ্যানগত ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কমের ব্যাপারে মূলত চারটে গল্প।
উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অস্বচ্ছলতার কারণে আমরা সব সন্দেহজনক আক্রান্তের পরীক্ষাই করতে পারছি না।
কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গহীন আক্রান্তেরা সমাজে ঘোরাফেরা করছে,এবং নিজে নিজেই তাদের রোগমুক্তি ঘটছে।আমাদের দেশের জলবায়ু এবং তাপমাত্রা এই ভাইরাসটির বিস্তারের পক্ষে অনুকূল নয়, ফলত রোগ সৃষ্টির ব্যাপারে তারা বিশেষ কায়দা করতে পারছে না, এবং উন্নত দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস লোড মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই অনেক বেশি এবং সেই সূত্রে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।
সুতরাং মোদ্দা কথা যেটা দাঁড়ালো,আমরা এখনো আক্রান্তের নিরিখে অলিম্পিক পোডিয়ামে দাঁড়ানোর মতো কিছুই করে উঠতে পারিনি।
সরকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের দৌলতে প্রতিটি বাড়ির প্রতিটি বোধ সম্পন্ন নাগরিকের কানে এতদিনে পৌঁছে দিয়েছেন, এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কি কি বিধি নিষেধ বাড়িতে এবং রাস্তায় মানতে হবে।গেঁড়েমো না করে আমরা জ্ঞানী ও পন্ডিতেরা সেগুলো আগে পালন করে দেখাই চলুন।চলুন আমরা রাস্তায় বেরোনোর সময় নাক ও মুখ ঢেকে মাস্ক পরি।শারীরিক দূরত্ব পালন করি।সর্বদা হাত পরিষ্কার করি ও জীবাণুমুক্ত রাখি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অপ্রতুলতা সত্ত্বেও এগুলি মানলেই পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে।যারা নিয়ম মানছেন না তাদের জন্য চলুন লাঠির ব্যবস্থা করি।কিছুই যদি না পারি তাহলে চলুন বেশি কথা না বলে মুখে সেলো টেপ এঁটে বসে থাকি।নতুবা সরকার ভগবান অথবা ডাক্তারের চোদ্দ পুরুষ এসেও কিছু করতে পারবে না।
●●●●●●●●●●●●●●●

পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়

১২.০৯.২০২০