সহজ পথ – সহজ পাঠ

0
192
Adolescent Time
Adolescent Time

সহজ পথ – সহজ পাঠ

ড:পলাশ বন্দোপাধ্যায় ,কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর

সহজ কথা সহজ ভাবে বলার অভ্যাস এখন আমাদের দেশ থেকে উঠে গেছে। আধুনিক একটা কথ্য ভাষা আছে,তা হলো, ‘পাতি বাংলায় বলা’।সে সব কনসেপ্ট এখন তামাদি এবং যারা এখনো সাহসী বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে তেমন ধারা বলতে যান,নাকে চশমা আঁটা সবজান্তা পন্ডিতেরা তাদের বলদ অথবা নির্বোধ বলে থাকেন। আপনি আপনার কাজে ও আচরণে যত রং চড়াতে পারবেন,যত নাটুকে হতে পারবেন আপনার পরিবেশনায়,যত মশলাদার চানাচুর থাকবে, আপনি তত সফল প্রফেশনাল বা কর্পোরেট।এখন মানুষ নেই কেউ।সবাই পেশাদার।সবাই কর্পোরেট।

আজকাল ধূর্ত এবং বুদ্ধিমান এই বিপরীতধর্মী কথা দুটো সমার্থক হয়ে গেছে।ডিকশনারি যতই আপত্তি করুক না কেন। এই লাগামছাড়া মিথ্যাচার এখন জাঁকিয়ে বসেছে বিশেষ করে মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে, এবং এই দুটি জায়গাতেই পরিবেশনার নীতিনির্ধারণ ও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন উপরতলার ঠান্ডা ঘরে বসে থাকা কিছু ভূঁইফোঁড় মানুষ যাদের মাটি ও লড়াইয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।সাধারণ মানুষের আবেগ,চাহিদা এবং সহজিয়া সততার প্ৰতি অনুভত্যে এদের না আছে কোনো ধারণা,না আছে কোনো শ্রদ্ধা।

এদের নাম হলো কোর কমিটি অথবা থিংক ট্যাংক।এই দুই ক্ষেত্রেই গ্রাসরুট স্তরের কর্মীরা, যত দিন যাচ্ছে তত আরো আরো বেশি অভিমন্যু অথবা কথ্য ভাষায় মুরগি হয়ে উঠছেন।সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের আঁচটা তাঁদের উপর এসে পড়ছে।সেই সব পুরাণের যুদ্ধের নারায়ণী বা পদাতিক সেনা অথবা দাবার বোড়ে’দের উপর।

আপনি শখ করে একটু খবরের কাগজ খুলুন অথবা টিভি চালান! বিরক্তিতে পুরো বাপের নাম ভুলে যাবেন।সবকিছুতে রামধনুর রং লাগানো।সবকিছু অতি নাটকীয়তায় ভরা।মিথ্যাচার অথবা বিকৃতির পাহাড়।আপনি যে একজন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ,আপনারও যে সময়ের কিঞ্চিৎ দাম আছে,আপনিও যে অফিস বা কাজে বেরুনোর আগে দেশের হাল হকিকতটা জাস্ট ক্যাজুয়ালি জানতে বসেছেন এ সম্বন্ধে তাদের কোনো বোধই নেই।এঙ্কর চাকরি বাঁচাতে তোতাপাখি হয়ে স্ক্রিপ্ট আউরে চলেছেন।তারা নামাবলী খুলে ফেললেই বিপন্ন সাধারণ মানুষ।কোনো মহামানবের পুজো চলছে। অন্য কোন মহামানবকে নর্দমায় নামানো।সবই প্রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।এবং দুটো চ্যানেলে একই খবরের পরস্পরবিরোধী রূপ।কবির লড়াই।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও তথৈবচ।সেখানে দুটো ডিস্টিংক্ট ক্লাস।উপরমহলের উচ্চমার্গীয় দর্শন আউড়ানো ফেক ভেগ ও টপ ক্লাস নেতাদের টিকির নাগাল আপনি পাবেন না ভোটের আগে পর্যন্ত।ভোটের সময় তারা সব পরিযায়ী পাখি হয়ে ভালো ভালো গান গাওয়ার জন্য আপনার কাঁধে এসে বসবে।তারপর সে বৈতরণী পেরিয়ে গেলেই আপনাকে একটা স্নেহের লাথি মেরে কেটে পড়বে পাঁচ বছরের জন্য।আপনি ভাঙা রাস্তা,ভাঙা মন,মশা ও মাছির আদরের নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে জীবন কাটাবেন।

আমরা সবাই মুখোশের আড়ালে বাঁচি।বাইরে বেরোলে বা পথে নামলে আমরা সবাই, ‘তোমাদেরই লোক’।যখন যিনি আসেন, আমরা তাঁর অনুগত।আর মনে মনে আমরা সকলেই এক একজন অসহায় বিপন্ন চে গুয়ে ভারা।খেয়ে পরে মাথা গুঁজে টিকে থাকার জন্য আমাদের মধ্যপন্থী মধ্যবিত্ত মুর্গীদের এ ছাড়া কোনো পথও নেই।উপায়ও নেই।’সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে’।শান্তির পোশাকে সততার গঙ্গাজলে যতদিন চলে!
●●●●●●●●●●●●●●●

পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়

১৪.০৯.২০২০