বিহারের দ্বারভাঙায় নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ্ মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস) প্রতিষ্ঠার অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

0
130
AIIMS - New Delhi
AIIMS - New Delhi

বিহারের দ্বারভাঙায় নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ্ মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস) প্রতিষ্ঠার অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

By PIB Kolkata

নতুন দিল্লি,  ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আজ বিহারের দ্বারভাঙায় একটি নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ্ মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস) প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার আওতায় এটি তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এদিন এআইআইএমএস-এর জন্য পরিচালক পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। এই পদের জন্য মূল বেতন হবে ২,২৫,০০০ টাকা (স্থির) এবং এর সঙ্গে নন প্র্যাকটিজিং অ্যালায়েন্স যুক্ত করা হবে। (যদিও বেতন ও এনপিএ যুক্ত করে মোট অর্থ ২,৩৭,৫০০-র বেশি হবে না)।

এর জন্য ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ১,২৬৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের দিন থেকে ৪৮ মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্য:

ক) এই নতুন এআইআইএমএস-এ ১০০টি আন্ডার গ্র্যাজুয়েট (এমবিবিএস) এবং ৬০টি বি.এসসি (নার্সিং) আসন যুক্ত হবে।
খ) নতুন এই এআইআইএমএস-এ ১৫ থেকে ২০টি সুপার স্পেশালিটি দপ্তর থাকবে।
গ) নতুন এআইআইএমএস-এ ৭৫০টি বেড যুক্ত করা হবে।
ঘ) বর্তমান পরিচালিত এআইআইএমএস-এর তথ্য অনুযায়ী আশা করা যাচ্ছে যে এবার প্রত্যেকটি নতুন এআইআইএমএস-এ প্রতিদিন ২,০০০টি ওপিডি রোগি এবং প্রত্যেক মাসে ১,০০০টি আইপিডি রোগী দেখার সুবিধা থাকবে।
ঙ) স্নাতকোত্তর এবং ডিএম/এম.সিএইচ সুপার স্পেশালিটি পাঠক্রমও শুরু করা হবে।

প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ :

এই নতুন এআইআইএমএস হাসপাতালটি নতুন দিল্লির এআইআইএমএস এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার প্রথম পর্যায়ের আওতায় গড়ে ওঠা অন্যান্য ৬টি নতুন এআইআইএমএস হাসপাতালের আদলে গড়ে তোলা হবে। এখানে হাসপাতাল, মেডিকল এবং নার্সিং পাঠক্রম শেখার জন্য শিক্ষামূলক  ব্লক, আবাসিক প্রাঙ্গণ এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ও পরিষেবার ব্যবস্থাও থাকবে। এই নতুন এআইআইএমএস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ মানুষের কাছে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং শিক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন এআইআইএমএস-কে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।


এই প্রতিষ্ঠানে এমার্জেন্সি/ট্রমা বেড, আইসিইউ বেড, আয়ুষ বেড, প্রাইভেট বেড, স্পেশালিটি ও সুপার স্পেশালিটি বেড সহ ৭৫০টি বেডের একটি হাসপাতালও থাকবে। এছাড়াও মেডিকেল কলেজ, আয়ুষ ব্লক, অডিটোরিয়াম, নাইট সেল্টার, গেস্ট হাউজ, হোস্টেল এবং আবাসিকদের থাকার সুবিধাও থাকবে। নতুন ৬টি এআইআইএমএস যেভাবে পরিচালনা ও রক্ষাণাবেক্ষণ হয়ে থাকে সেই একইভাবে দ্বারভাঙায় এই নতুন এআইআইএমএস-এর কাজ সম্পন্ন হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আওতাধীন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার পরিকল্পনা বাজেট খাত থেকে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

প্রভাব :

নতুন এআইআইএমএস প্রতিষ্ঠার ফলে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটবে না, স্বাস্থ্য সেবা পেশাদারিত্বেও পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং এই পরিষেবা ক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে বিশেষ সাহায্য করবে। নতুন এআইআইএমএস প্রতিষ্ঠা হলে সাধারণ মানুষকে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী পাওয়াও যাবে। এই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় প্রাথমিক ও তার পরবর্তী স্তরের প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। এই নতুন এআইআইএমএস নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকার পুরোপুরি অর্থ সাহায্য করবে। তাই এই এআইআইএমএস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও কেন্দ্রীয় সরকার পুরোপুরি বহন করবে।

কর্ম সংস্থান সৃষ্টি :

বিহারে নতুন এই এআইআইএমএস প্রতিষ্ঠার ফলে বিভিন্ন পদে প্রায় ৩০০০ ব্যক্তির কর্ম সংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এই নতুন এআইআইএমএস-এর আশপাশে দোকান, বাজার, ক্যান্টিন ইত্যাদি গড়ে উঠবে। এতেও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।


এমনকি এআইআইএমএস-এর পরিকাঠামো তৈরিতেও নির্মাণ কাজের ফলে কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় উন্নতিসাধনে ওই রাজ্য এবং আশপাশ অঞ্চলের চিকিৎসা ক্ষেত্রের মান বৃদ্ধি পাবে এবং একাধিক সমস্যার সমাধান করবে। এই এআইআইএমএস-এ গরিব ও দরিদ্র শ্রেণীর নীচে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের ন্যায্য খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকল্পনা/স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অন্যান্য স্বাস্থ্য মূলক কর্মসূচী বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচীতে লোকবলও পাওয়া যাবে। এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা সম্পদ এবং প্রশিক্ষিত ফ্যাকাল্টি তৈরিতে যোগসূত্রের কাজ করবে এবং চিকিৎসা শিক্ষার গুণমান ক্ষেত্রে মানোন্নয়নে সাহায্য করবে।