জীবনের জন্য জীবিকা না জীবিকার জন্য জীবন

0
164
Follow Netaji Photo by Suman Munshi
Follow Netaji Photo by Suman Munshi

জীবনের জন্য জীবিকা না জীবিকার জন্য জীবন

ড:পলাশ বন্দোপাধ্যায়,কলকাতা,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

আমাদের পেশা অথবা পদ কি মানুষ হিসাবে আমাদের পরিচয়? নাকি আমাদের শিক্ষা,সংস্কার ও রুচি? আগে এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছিলোনা।এখন হয়েছে।হয়েছে তখন থেকে যখন থেকে বুঝতে শিখেছি,অনুভব করতে শিখেছি,পেশা এবং পদের অপব্যবহার করে বেশির ভাগ মানুষ এখন সমাজ বা সমাজবদ্ধ অসহায় জীবেদের থেকে বিভিন্ন রকম অনভিপ্রেত সুবিধে আদায় করতে চেষ্টা করে,এখন দুঃখজনক ভাবে ,পদ ও পেশার কাছে শিক্ষা,সংস্কৃতি ও রুচির গরবীয়ানা গৌণ এবং মূল্যহীন হয়ে গেছে।

আমাদের ছোটবেলা সাতের দশকের কথা এই প্রসঙ্গে খুব মনে পড়ে এবং প্রাসঙ্গিক মনে হয়।মনে পড়ে, অতশত না বুঝে বা তলিয়ে না ভেবেও তখন কিছু কিছু মানুষের প্রতি অব্যাখ্যাত ভাবে অসম্ভব সমীহ আর শ্রদ্ধা হতো।এবং কিছু কিছু মানুষের প্রতি অশ্রদ্ধা আর ঘৃণা।পরে বড় ও পরিণত হওয়ার পর বুঝেছি যাঁরা শ্রদ্ধা ও সমীহের পাত্র পাত্রী ছিলেন তাঁরা তাঁদের আদর্শের সঙ্গে কোনোদিন আপোষ করেন নি।যাঁরা অশ্রদ্ধা ও ঘৃণার পাত্র পাত্রী তাঁরা ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আদর্শ নামক মানুষের পক্ষে অতি প্রয়োজনীয় বস্তুতিকে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন।
ইদানীং পৃথিবী পাল্টে গেছে,পাল্টে গেছে আমাদের ও ভিন্ন দেশের মানুষও।সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে তাঁদের বোধ এবং বিচারধারা।যদিও তার অভিমুখ পরস্পরের বিপরীত।

আমাদের দেশে এখন পেশার সুবিধা নেওয়াই পেশাদারিত্ব,পদের অপচয় করাই স্মার্টনেস।এবং এগুলো না করা নির্বুদ্ধিতা।এখন এদেশে আদর্শ শিক্ষা এবং তার ব্যবহারিক প্রয়োগের মধ্য বিস্তর মিথ্যাচার ও অসততার ফাঁক। আমাদের দেশে এমন কোনো সাধারণ মানুষ এখন বিরল যিনি তাঁর বিপন্নতায় ও প্রয়োজনে সঠিক মানুষটির কাছে গিয়ে নিঃশর্তে সঠিক পরিষেবা পেয়েছেন এবং যার জন্য আদর্শের কাছে তাকে নতি স্বীকার করতে হয়নি।এমন কর্মী এখন বিরলতর যিনি কেবলমাত্র নিজের দায়িত্ববোধ ও অর্জিত সুনাম বজায় রাখার জন্য নিজের দায়িত্ব কর্তব্যের প্ৰতি শতকরা একশোভাগ দায়বদ্ধ থেকেছেন অবিচল থেকেছেন।

আমি একজন ভারতীয় নাগরিক হলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গেছি এবং সেখানকার আম নাগরিকদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি।দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সে সব দেশের সরকারি বা বেসরকারি কর্মচারীদের নিজের কর্তব্যের প্ৰতি যে নিষ্ঠা,দায়বদ্ধতা দেখেছি,তাতে মুগ্ধ হয়েছি।এবং অন্যদিকে হতাশও হয়েছি আমাদের কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে তাঁদের তুলনা করতে গিয়ে।তাঁরা আপোষ করেন না।আপোষকারীকে প্রশ্রয় দেন না।

একটা দেশ বা জাতি এমনি এমনি বড় হয়না অথবা গোল্লায় যায়না।তাঁদের শিক্ষা সংস্কৃতি আচার আচরণের অভিমুখ ঠিক করে দেয় তাঁদের ভবিতব্য ।

অবশ্য বিদেশে গিয়ে সেখানকার কর্ম সংস্কৃতির সঙ্গে সফল ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে আমাদের নবতম প্রজন্ম যেভাবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে,তাঁদের স্বস্তি দিয়েছে,তাতেও আমি, এই দেশের ভবিষ্যৎ যখন তাদের হাতে পড়বে সে দিন প্রসঙ্গেও আশাবাদী।পৃথিবী ছোট হয়ে গেছে আজ।নতুন ভারতীয় প্রজন্মের,তাদের বোধ ও আবেগ দিয়ে সর্বজনীন হওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ার মতো, এবং স্রেফ সময়ের অপেক্ষা এটাও ভাবা যায়।পরিবেশ পরিস্থিতি এদের মতো উজ্জীবিত আর কোন জাতিকে করতে পারে?আর ভরসা তো সেটাও!
●●●●●●●●●●●●●●

পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়

২৫.০৯.২০২০