খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)এর ১৪৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনারে বক্তারা

0
155
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)এর ১৪৭তম জন্ম বার্ষিকী
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)এর ১৪৭তম জন্ম বার্ষিকী

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)এর ১৪৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনারে বক্তারা
বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতা ও অশান্তি প্রশমনের প্রধান তম নিয়ামক হতে পারে ‘খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার শান্তি-দর্শন’।

তরিকুল ইসলাম লাভলু, নলতা থেকে: নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হজরত খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর ১৪৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ ডিসেম্বর, শনিবার তাঁর রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপকডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মদ সেলিমউল্লাহ ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতির অবতারণা করেন। সভাপতি বলেন-অসামান্য মনীষার বিকিরণে, কর্মের ব্যাপ্তিতে, সুচিন্তার উৎকর্ষে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বাঙালি মুসলমানের রেনেসাঁ যুগের অগ্রগণ্য এক উজ্জ্বল মনস্বী। শিক্ষা চেতনায় তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি, ব্যক্তিত্বের অভিনবত্ব, নিরীক্ষা প্রবণতা আর স্বজাতিকে ক্রমশ উত্তরণের প্রয়াসে সময়ের প্রয়োজনে তিনি অনিবার্য হয়ে উঠেছিলেন। এ বছর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শতবর্ষে পদার্পন করেছে। এই বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগণ্য ভ‚মিকার বাইরেও অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসংখ্য-অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর লেখার প্রবর্তন সহ অসংখ্য শিক্ষা সংস্কারে তিনি অগ্রদূতের ভ‚মিকা পালন করেছিলেন।

সেমিনারে’ তোমার অসীমে প্রাণ-মনলয়ে’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট আহ্ছানউল্লা গবেষক, বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক ড. গোলাম মঈনউদ্দীন। প্রবন্ধকার তাঁর প্রবন্ধে হজরত খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর জীবন-কর্ম-দর্শন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত আহ্ছানিয়া মিশনের ‘সত্যতা, পবিত্রতা ও প্রেমিকতা’ আদর্শের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। নলতা পাক রওজা শরীফের সদ্য প্রয়াত খাদেম আলহাজ্জ মৌলবী আনছার উদ্দিন আহমদের সারা জীবনের ত্যাগ-তিতীক্ষা, মহব্বত, সাধনার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর প্রবন্ধে। তিনি বলেন তাঁর আমাদের অভিভাবক মৌলবী আনছার উদ্দিন আহমদেও এ প্রস্থান আহ্ছানিয়া মিশনের জন্য কখনো পূরণ হবার নয়। তার পক্ষে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিউিটের পরিচালক মনিরুল ইসলাম প্রবন্ধটি পাঠ করে শোনান। সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এ এফ এম এনামুলহক। এনামুল হক তার আলোচনায় খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর শিক্ষা ভাবনা, সমাজ ভাবনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন। তিনিও তার আলোচনায় আলহাজ্জ মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদ (র.) এঁর বিভিন্ন স্মৃতি চারণা করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. একরাম হোসেন খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন ও মানব কল্যাণে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, তিনি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর দর্শনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ¯œাতোকোত্তর শ্রেণিতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন পড়ান। সেমিনারে প্রধান আলোচক বরেন্দ্র ভুমির বরেণ্য পুত্র বিশিষ্ট সাহিত্যিক, রাজশাহী কবিকুঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমীন প্রামানিক হজরত খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা এবং তাঁর  শ্রেষ্ঠতম রুহানী সন্তান মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদের জীবনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন বিশ^ব্যাপী যে চলমান অশান্তি- সহিংসতা- হানাহানীতা রোধে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর উদার শান্তির দর্শন, তাঁর অনুকরণীয় আদর্শ এবং প্রতিষ্ঠিত আহ্ছানিয়া মিশনের বার্তা যদি বিশ^-শান্তি আলোচনার মূলপ্রবাহে পৌঁছানো যায় তবে তাতে আবার আশার আলো জ¦লতেপারে।

খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো.মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মো. এনামুলহক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ, দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মুজিবর রহমান, নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্জ আবুসাইদ, পাক রওজা শরীফের বর্তমান খাদেম আলহাজ্জ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

এই মনীষীর জন্ম জয়ন্তি উপলক্ষে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন মাসব্যাপী বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা, দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, দেশ ও দেশের বাইরের অসংখ্য মিশনে সেবাক্যাম্প ও সেমিনারের আয়াজন করে। সকালে পাকর ওজাশরীফে মিলাদ শরীফের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।