বার্ড ফুলু – পোল্ট্রি ব্যাবসায় কালো ছায়া ও দেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা জনিত পরিস্থিতি

0
307
Poultry Farming India
Poultry Farming India
ShyamSundarCoJwellers

দেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা জনিত পরিস্থিতি

By PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৬ জানুয়ারি, ২০২১ 

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এআই) ভাইরাস গত শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। গত শতাব্দীর চারটি বড় মহামারীর মধ্যে অন্যতম ছিল এটি। ২০০৬ সালে ভারতে প্রথম এই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। দেশে মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণ এখনও ধরা পরেনি। যদিও এই রোগটি জুনোটিক ভিত্তিক। দূষিত পোল্ট্রি জাতীয় খাদ্য পণ্য সামগ্রী গ্রহণের মাধ্যমে এআই ভাইরাস মানব শরীরে সরাসরি প্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিধি, স্যানিটেশন এবং জীবণুনাশক নিয়ম বিধি মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে রান্না ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে এআই ভাইরাস বিস্তার রোধে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হয়।  

ভারতে এই রোগটি মূলত পরিযায়ী পাখিদের থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত শীতকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ভারতে আসে। তবে, তাই বলে মানব শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে না, এই বিষয়টি কখনই ছোট করে দেখা উচিত নয়। এআই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের পশুপালন ও ডেয়ারি দফতর ২০০৫ সালে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারগুলিকে গাউড করার জন্য একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করে, যা পরিবর্তীকালে ২০০৬, ২০১২, ২০১৫ এবং ২০২১ সালে পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে

https://dahd.nic.in/sites/default/filess/Action%20Plan%20-%20as%20on23.3.15.docx-final.pdf10.pdf) লিঙ্কে। 

গত বছর এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরে পোস্ট অপারেশন সার্ভিল্যান্স প্ল্যান অনুসরণ করে ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতকে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।  শীতের মরশুমে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই সম্পর্কিত অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে শীত শুরুর আগে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় নজরদারি, পর্যবেক্ষণ চালানোর জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। যেমন ভোপালের আইসিএআর-এনআইএইচএসএডি বা নাইসেড থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ক্ষতিপূরণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদি করা হচ্ছে।  

এই রোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সর্বশেষ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছিল গত বছর ২২ অক্টোবর।  বর্তমানে এই রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পরা রুখতে এবং এআই ভাইরাস সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য ১২টি মহামারী সনাক্তকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্থানের বারন, কোটা, ঝালোয়ার; মধ্যপ্রদেশের মান্দসুর, ইন্দোর, মালওয়া রয়েছে। মূলত এই দুই রাজ্যের মহামারী সনাক্তকরণ কেন্দ্রে কাক জাতীয় পাখি থেকে এআই ভাইরাস সংক্রমণ ছড়়িয়ে পড়ার পরীক্ষা করা হবে। হিমাচল প্রদেশের কাংড়ায় পরিযায়ী পাখি এবং কেরালার কোট্টায়াম, আল্লাপূজায় গড়ে ওঠা চারটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পোল্ট্রি হাঁস থেকে এআই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সনাক্তকরণ করা হবে।  এআই ভাইরাস বিস্তার রোধে চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য জাতীয় কার্যকরী পরিকল্পনা নির্দেশিকা অনুসারে এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেরল এবং হিমাচল প্রদেশে এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভারত সরকারের পশুপালন ও ডেয়ারি দপ্তর নতুন দিল্লিতে একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে এবং পরিস্থিতিরি ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কিত কার্যকরী পরিকল্পনা অনুসারে সংক্রমিত রাজ্যগুলিতে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সংক্রমিত পাখিদের থেকে হাঁস, মুরগি ও মানুষের মধ্যে এই রোগের বিস্তার যাতে না পায় তার জন্য নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। রাজ্যগুলিতে পাখির অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর জানতে পারলে তৎক্ষণাত বন বিভাগকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

Advertisements