আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল আয়োজিত নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড ২০২১

0
192
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল আয়োজিত নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড ২০২১
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল আয়োজিত নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড ২০২১

ভারত বর্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল সমাজ কল্যাণ মূলক কাজের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত। ভারত বর্ষের ৩৪ টি রাজ্য থেকে প্রায় ১০০০০০ জন কর্মী বর্তমানে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। কিছু মানুষ বিদেশ থেকেও এই সংস্থাকে নিজেদের কাজের জন্য বেছে নিয়েছেন। তারা সকলেই এইচ আই আর সি কে সংস্থা টির সংস্কৃতি, উদ্যম, খেলা, সাহিত্য ও চারুকলা ইভেন্ট গুলির জন্য নির্বাচন করেছেন। আমাদের বর্ণাঢ্য জীবন যাত্রার জন্য আমাদের সদস্যরাই আমাদের মেরুদন্ড।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল এর প্রতিষ্ঠাতা সানি শাহ, কাউন্সিলের সমস্ত সদস্য দের নিয়ে সাইন্স সিটি মিনি অডিটোরিয়ামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড ২০২১ এর অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল এই অনুষ্ঠানে করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ, ডাক্তার, নার্স এর মতোন সমস্ত সম্মুখ যোদ্ধাদের সম্মানিত করে।

যৌক্তিক ভাবে এই অনুষ্ঠান এমন ভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে করে সেরার সেরা প্রতিভা দের সম্মান জ্ঞাপন ও মিডিয়া কভারেজের পাশাপাশি একাধিক ক্রিয়াকর্মের সুযোগ দিতে পারে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মানবাধিকার বিষয়ে সকলের গুরুত্বপূর্ণ মতামত সংগ্রহ করা যা আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী শ্রী পূর্ণ দাস বাউল এবং মুম্বাই খ্যাত অভিনেত্রী, প্রযোজক ও পরিচালিকা সমু মিত্র।

উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব সমিধ মুখার্জী ও উর্বি, মুম্বাই খ্যাত গায়িকা পৌলমী ঘোষ, অভিনেতা রাহুল বর্মন, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, উদ্যোগ পতি সোহানী হোসেন, শিল্পী সুদর্শন চক্রবর্তী, প্রযোজক, সাংবাদিক, ডিজিটাল স্ট্র্যাটিজিস্ট, অয়নজিৎ সেন, এস টি এফ পুলিশ শরদিন্দু টিকাদের,শিশু সাহিত্য ঔপন্যাসিক ও সমাজ কর্মী মৃগাঙ্ক ব্যানার্জী, দেবশ্রী’জ ব্র্যান্ডের ফ্যাশন ডিজাইনার দেবশ্রী দাস। অভিনেত্রী সোনালী চৌধুরী, ডাক্তার রামাদিত্য রায়, অভিনেতা সুমিত গাঙ্গুলী, অভিনেতা কাঞ্চণা মৈত্র, অভিনেতা জয়ী দেব রায়, তবলা শিল্পী পণ্ডিত শুভংকর ব্যানার্জী, অভিনেতা পায়েল মুখার্জী, অভিনেতা রাজু বিশ্বাস, কোলকাতা কর্পোরেশন এর ১০৯ নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান অনন্যা ব্যানার্জী, সনাতন বসু, সুরকার ও সরোদ শিল্পী পণ্ডিত দেবজ্যোতি বসু, সুরকার দেব সেন, লেখক, পরিচালক প্রযোজক সৌম্যজিৎ গাঙ্গুলী, প্রখ্যাত সামাজিক ক্রুসেডার চন্দ্র কুমার বসু, ইস্ট বেঙ্গল ক্রিকেট ক্লাবের জুনিয়র টিমের কোচ পিনাকী ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারী দেবব্রত দাস, কত্থক শিল্পী সম্পিতা চ্যাটার্জী, পরিচালক গোপাল বসু, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার প্রাপ্ত অরুণ কান্তি নিয়োগী, সঙ্গীত পরিচালক কল্যাণ সেন বরাট, সিনেমটোগ্রাফার সৌভিক বসু, সঙ্গীত শিল্পী, অভিনেত্রী শীর্ষা রক্ষিত, মান সিং, সেশন কোর্ট আইনজীবী তমাল কান্তি মুখার্জী, উদ্যোগপতি উমেশ আগরবাল, মডেল ও চিত্রশিল্পী দিয়া দাস প্রমুখ।

সানি শাহ প্রদত্ত বার্তা:

আই এইচ আর সি মানুষকে সাহায্য করা ও, মানুষের পাশে থাকার জন্য তৈরী, মানুষ কে বিনষ্ট করা এর উদ্দেশ্য না। আপাত ভাবে অনেক মানুষ মানবাধিকারকে তাদের হিংসাত্মক কাজের মাধ্যমে অর্জন করে, কিন্তু সেটাই মানবাধিকার এর সর্বস্ব না। প্রত্যেকের আগে বোঝা উচিত যে মানবাধিকার জাতি, ধর্ম, সংষ্কৃতি, ইত্যাদির উর্ধ্বে উঠে নিয়তির কথা বলে। সকলে চিন্তাশীল ভাবে মানবাধিকার কে নিয়ে ভাবার চেষ্টা করে, কিন্তু তারা বোঝে না এটা খুবই সহজ একটা বিষয়। সকলে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা মানবাধিকারের মধ্যে দিয়ে পূর্ণ করতে চায়, কিন্তু কেউ গভীরে গিয়ে এর প্রক্রিয়া, পদ্ধতি সমূহ জানতে চায় না। কেউ একজন মানবাধিকার তৎপর কর্মী হলে বুঝতে হবে সে স্বয়ং মানবাধিকারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা গুলির প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে। তাই নিজের তৎপর কাজ করার আগে একবার ভাবা উচিত এই কাজের মধ্যে দিয়ে কোনো কমিউনিটির মানবাধিকার আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে কি না। যদি তা হয় তবে সেই কর্ম করলে যে কেউ জঘন্য কাজ করবে। কারণ সেই কাজের মধ্যে দিয়ে সে মানবাধিকারের নীতি গুলো যত্নে রাখার পরিবর্তে লঙ্ঘন করবে। তাই সুনিশ্চিত হোন এই পৃথিবীর কেউ আপনার কাজে আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে না, তবেই আপনি মানবাধিকার এর প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবেন।

আমাদের সংস্থা নির্মাণের পিছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রত্যেক জন মানুষকে এই পৃথিবীর সম্মুখে ক্ষমতাশীল একটা অবস্থান দেওয়া। আমরা বিবেচনা করেছি কেমন করে সেটা সম্ভব। এবং দেখেছি যে মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, দেশের প্রাথমিক আইন গুলি সম্পর্কে অবগত করে সেটা করা সম্ভব। কিন্তু আমরা কখনোই ভাবি নি যে দেশ আমাদের ছাড়া অচল। কারণ আমরা এখানে এসেছি মানুষের সাহায্যার্থে। মানুষকে অধিকার সম্পর্কে শিক্ষিত করার কারণ ছিল তাদের অধিকার সম্পর্কে অবগত করা। এবং এর পরিবর্তে আমরা চেয়েছি আমাদের শিক্ষা সেই সব শিক্ষিত মানুষরা অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে। এটা এমন একটা শুল্ক যা এই পৃথিবীতে আমাদের মানুষের অধিকার গুলো বিষয়ে অবগত হয়ে বাঁচতে শেখাবে।

“আমিই এক মাত্র। কিন্তু আমিও একজন। আমি সব কিছু করতে পারব না, কিন্তু তাও, আমি কিছু তো করতেই পারবো। এবং সেটা করার ক্ষেত্রে আমি প্রত্যাখ্যান করবো না।”