গঙ্গারামপুর চলন্তিকা গোষ্ঠীর দুর্গোৎসবের বিশেষ আকর্ষন পুতুল নাচ

0
180
Durga Puja - Kolkata
Durga Puja - Kolkata

গঙ্গারামপুর চলন্তিকা গোষ্ঠীর দুর্গোৎসবের বিশেষ আকর্ষন পুতুল নাচ

পল মৈত্র,দক্ষিন দিনাজপুরঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেজিস্ট্রী অফিসের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে চলন্তিকা গোষ্ঠীর সার্বজনীন দুর্গোৎসব। এই দুর্গোউৎসবটি আর দশটা পুজোর থেকে একদম আলাদা বলে জানান গোষ্ঠীর সদস্যরা। এবারের পুজো ৫৪ বছরে পদার্পণ করবে। জানা গেছে সারাবছর তারা সাহায্য বা এক কথায় যাকে বলে মাধুগীরি করে পুজোটা করেন, সারাবছর মানুষের সেবা করার পাশাপাশি দুস্থদের অন্নদান ও বস্ত্র দানের মাধ্যমে চলন্তিকা গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যরা ঈশ্বর প্রাপ্তি লাভের আশায় দিনরাত এই মানুষগুলোর সেবা করে চলেছেন।

এবারের পুজোর আনুমানিক বাজেট ১.৫০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এবারে পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুতুল নাচ যা বাঁকুড়া জেলা থেকে এখানে নিয়ে এসে এলাকার মানুষ সহ দর্শনার্থীদের উপহার দেওয়া হবে। এই পুতুল নাচের অনুষ্ঠানটি সপ্তমী থেকে নবমী অবদি সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত্রি ১১ টা অবদি দেখানো হবে। পুজোর আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দিন আর তার আগেই চোখে পড়ল চলন্তিকা গোষ্ঠীর মন্ডপ তৈরী ও পুজোর যাবতীয় কাজের ব্যস্ততা এই বিষয়ে চলন্তিকা গোষ্ঠীর সম্পাদক প্রশান্ত সরকার বলেন, সারা বছরের ন্যায় এবারও আমরা সার্বজনীন দুর্গোপুজো করছি সারা বছর মাধুগীরি করে মানুষের সেবা করে আসছি এখানে আমাদের একটি রাধাগোবিন্দের মন্দির রয়েছে পাশে রয়েছে কালী মন্দির প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা করে এখানে ভগবত গীতা পাঠ হয় এবং সবাইকে প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবারও আমরা পুজোতে গরীব ও দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্রদান করব তাছাড়া প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণ তো থাকছেই এবারের আমাদের পুজো ৫৪বছরে পদার্পণ করল|

আমরা আগামী দিনে আরো ভালোভাবে আর নতুন করে পুজো করতে চাই পাশাপাশি দুঃস্থদের সাহায্যে তো আমরা রয়েছি অন্যদিকে চলন্তিকা গোষ্ঠীর সভাপতি সুবল চন্দ্র বসাক, সহ সভাপতি সমর পাল ও লক্ষন কুন্ডু, সম্পাদক পার্থ সরকার ও শান্ত কুমার প্রসাদ, হরিপাল দাস, কোষাধ্যক্ষ কাজল কুমার বসাক, সুধীর ঘোষ, গৌতম কুন্ডু, শ্যাম সুন্দর বসাক, শচীন্দ্র নাথ বসাক সহ অন্যান্য সদস্যরা প্রায় একই সুরে বলেন, এই মন্দিরে প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণ করা হয় হয়, শ্রীমৎ ভাগবত পাঠ হয় প্রতিদিন, ভোগ ও অন্যান্য সেবা ও আয়োজনের জন্য মাসিক পারিশ্রমিক হিসেবে হরি দাস বাবাজি বলে একজন আছেন পাশাপাশি মায়া সূত্রধর নামে একজন মাসি রয়েছেন যিনি সেবার কাজে সহযোগিতা করে|

এখানে আরেকটি বিষয় প্রশান্ত সরকার জানান যে এই মাসটি দামোদর মাস তাই এক মাস ধরে প্রতিদিন ভাগবত গীতা পাঠ হবে পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণ তো রয়েছেই এছাড়াও তারা জানান যে মাধুগীরি বা সাহায্য নিয়ে পুজো ভোগ ও বস্ত্র দানের কাজ সম্পন্ন করা হয়, এছাড়াও তারা জানান, সারা বছর ধরে একই কাজ করে আসছি মানুষের সাহায্যার্থে চলন্তিকা গোষ্ঠীর একনিষ্ঠ সকল সদস্যরা দুঃস্থ ও গরীব অসহায় মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাত এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে মাধুগীরি বা সাহায্য নিয়ে যাকে এক কথায় ভিক্ষে করে মানুষের সাহায্যে ও ঈশ্বরের নাম নিয়ে ঈশ্বরের কাজে নিজেকে সমার্পিত করে এই চলন্তিকা গোষ্ঠী অপারগ হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা আশাবাদী যে এবারের দুর্গোৎসবে চলন্তিকা গোষ্ঠীর বিশেষ আকর্ষণ পুতুল নাচ মানুষের নজর কাড়বে এবং তারা প্রচন্ড হারে ব্যস্ত হাতে মাত্র কয়েকটি দিন ঠিক তার আগেই তাদের ব্যস্ততা চোখে পড়বার মতন। পুজোর কয়েকটি দিন সারা বছরের ন্যায় সব মানুষদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ ও দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করে সেইসব মানুষের মধ্যে ঈশ্বর প্রাপ্তির আশায় নিঃস্বার্থ কাজ করে চলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here