গর্জে উঠলেন প্রসেনজিত আসিফার মৃত্যুর বিচার চাই ,দোষী দের শাস্তি চাই – এ কোন দেশ এ কোন সময় রাবণ এসেছে রামের বেশে

0
1029
Suman Munshi with Prosenjit Chatterjee
Suman Munshi with Prosenjit Chatterjee

“ঈশ্বর! আসিফা যেন বিচার পায়। আজ, এই সময় থেকে সমস্ত রাজনীতি, দলবাজি, ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ দূরে সরিয়ে রেখে আজ সকলেই প্রত্যেকের পাশে দাঁড়িয়ে অপরাধ এবং অপরাধীদের একই সাথে নির্মূল করুন।”

এটা কোনো সিনেমার সংলাপ নয়, নয় কোনো বিজ্ঞাপনের কথা বাংলা সিনেমার একছত্র নায়ক সকলের প্রিয় বুম্বাদার করুন আবেদন সৃষ্টি কর্তার উদ্দেশে |

কত নির্মম হলে কতটা বিবেক হীন হলে যে কাজ পশুরাও করেনা সেই নৃশংসতা কে ভোগ করতে হয় একটি শিশু কে | খারাপ হিন্দু , ভালো হিন্দু বা খরাপ মুসলমান, ভালো মুসলমান বলে কিছু হয়না, যে নিজের ধর্ম কে জানে ভালোবাসে সে কোনদিন অত্যাচারী হতে পারে না | এ কোন দেশ? এ কোন সময়? রাবণ এসেছে রামের বেশে, লাল নীল হলুদ সবুজ যে রঙেই আজ হলি খেলি সেটা রক্তে রাঙ্গা কেন? 

সমাজ কে আজ বেছে নিতে হবে কাদের আপনি নির্বাচন করবেন | দোল দেখে নয় পার্টির যোগ্যতা যেন মাপ কাঠী হয়| সমাজ থেকে এই নরপশু দের দিন শেষ বিদায় আর যেন কোনো শিশু এই বিভত্সতার শিকার না হয়|

আসুন প্রসেনজিত চট্টপাধ্যায়ের আবেদন কে বাস্তবের মাটিতে সক্রিয় করি|

সোশ্যাল মিডিয়া প্রাপ্ত একটি লেখা 

“যারা এখন আসিফার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বিবরণ পড়ে চমকে উঠছেন, তাদের কাছে অনুরোধ, একে নিছক খুন না ধর্ষণ হিসেবে দেখবেন না। একের পর এক ঘটনাবলী দেখুন।

আসিফা একটি ৮ বছরের শিশু। কাশ্মীরের বাখারওয়াল মুসলিম উপজাতির সদস্য। জম্মুর কাঠুয়া অঞ্চল থেকে এই উপজাতি দলটিকে বিতাড়ন করবার উদ্দ্যেশ্যে তাদের ভয় দেখাতে হবে। তাই আসিফাকে অপহরণ এবং ধর্ষণ। এখানে ধর্ষণ হলো রাজনৈতিক রণকৌশল। বা হয়তো শুধু কৌশল নয়, ধর্ষণই রণনীতি।

এক এক করে দেখি আসুন। আসিফাকে অপহরণ করে তাকে একটি মন্দিরের পুজোগৃহে হাত পা বেধে রাখা হলো প্রায় ৭ দিন ধরে। তাকে ওষুধ খাইয়ে আছন্ন রাখা হলো। বারংবার ধর্ষণ করা হলো। ধর্ষণের সময় অঞ্চল থেকে বাখরাওয়ালদের পলায়ন চেয়ে ধর্ষকরা পুজোআচ্চাও করলো। ধর্ষকরা ডেকে আনলো স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসারকে। সেও ধর্ষণ করলো। এরমধ্যে একজন মীরাট থেকে তার বন্ধুকে ডেকে পাঠালো। সে মীরাট থেকে ধর্ষণ করতে চলে এলো। রেপ ট্যুরিজম। এরপর আসিফাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হলো। তারপর তার দেহ ফেলে দেওয়ার আগে শেষবারের মতন আরেকজন ধর্ষণ করলো। এরপর তার মৃতদেহকে বনে ফেলে দিয়ে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে দেওয়া হলো।

পুলিশ প্রথমে মিসিং পার্সনস কমপ্লেন নেয়নি। নেওয়ার পর একে একে যখন গ্রেপ্তার করা শুরু করলো তখন অপরাধীদের সমর্থনে মিছিল মোর্চা মিটিং শুরু হয়ে গেলো। হিন্দু একতা মঞ্চ তৈরি হলো। বিজেপির এমএলএ, মন্ত্রী ধর্ষকদের সমর্থনে দাঁড়িয়ে গেলো। মহিলারা ধর্ষকদের সমর্থনে গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকি দিলো। হিন্দু একতা মঞ্চ জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করলো। হ্যা, আমাদের তেরঙ্গা পতাকা কে ওড়ানো হলো ধর্ষণের বিজয়োৎসব পালন করতে। এই গোটা সার্কাসটার পরে যখন কোর্টে চার্জশীট ফাইল করতে গেলো পুলিশ, তখন জম্মু বার এসোশিয়েশনের উকিলরা অবরোধ করে স্লোগান দিলো ‘জয় শ্রী রাম’। তারও পরে কোর্টের বিচারপতিরা পুলিশকে ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করালো। চার্জশিট তারা নেবে না। ৬ ঘন্টা অপেক্ষারত পুলিশের থেকে শেষমেষ চার্জশিট গ্রহণ করা হলো।

আপনারা ভাবছেন এরকম কেন? ধর্ষকের সমর্থনে কি করে এতগুলো মানুষ মিছিল করে, জাতীয় পতাকা ওড়ায়, জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়? এতক্ষনে তাহলে আপনি সঠিক প্রশ্নটি করেছেন।
পুলিশ, এসপিও, এমএলএ, মন্ত্রী, উকিল, জাজ – এটাই হলো ভারত রাষ্ট্র। আর ওই ৮বছরের শিশু আসিফা – ওটা হলো কাশ্মীর। এই প্রত্যেকটি লোক যারা মিছিল করছে, স্লোগান করছে – তাদের মাথায়, চেতনায়, তাই। তাই জন্যে ওদের কাছে এটা স্রেফ ধর্ষণ নয়, এখানে অপরাধীরা স্রেফ ধর্ষক নয়, আসিফা স্রেফ একটি বাচ্চা মেয়ে না। ওরাও জানে, একদম সবার চোখের সামনে ওরা প্রকাশ করে ফেলেছে ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্র আর কাশ্মীরের সম্পর্কটা ঠিক কি। সেই কাশ্মীর, যেখানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেক তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন ধর্ষিত। হ্যা ঠিক পড়েছেন, প্রত্যেক তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন।

ওরা আসলে ধর্ষকদের স্বপক্ষে মিছিল করছে না। করছে নিজেদের স্বপক্ষে। কারন ওরা জানে, ওরা প্রত্যেকে এই অপরাধে অংশ নিয়েছে। এবং ওরা চায় আপনিও অংশীদার হন। তাই আপনার ধর্মীয়বোধকে উস্কাতে জয় শ্রীরাম, আপনার জাতীয়তাবোধকে উস্কাতে তেরঙ্গা পতাকা।

একটি ৮ বছরের ধর্ষিতা শিশুর মৃতদেহ লড়ছে। লড়ছে শুধু ধর্ষকদের বিরুদ্ধে না, কাশ্মীরে ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে। ওদের তেরঙ্গা, ওদের ধর্ম পক্ষ বেছে নিয়েছে। ধর্ষকের পক্ষ। আপনার তেরঙ্গা, আপনার ধর্ম কোন পক্ষ বাছবে?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here