অবশেষে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কুর্নিশ

0
2454
Hazarduari - Murshidabadjpg
Hazarduari - Murshidabadjpg
0 0
Azadi Ka Amrit Mahoutsav

InterServer Web Hosting and VPS
Read Time:20 Minute, 25 Second

অবশেষে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কুর্নিশ

ড. মধু মিত্র

মুর্শিদাবাদ জেলার স্থাপত্যশৈলী, উৎসব, লোকসংস্কৃতিতে সেই সমন্বয়ের সুর এখনও অমলিন। বস্তুত প্রাক ঔপনিবেশিক শাসনের যুগে এখানে বহুত্ববাদী ভারতীয় সংস্কৃতির অনুশীলন চোখে পড়ে। ঔপনিবেশিক পর্বেও মুর্শিদাবাদ তার গুরুত্ব বজায় রাখতে পেরেছে। উনিশ শতকের প্রারম্ভে বন্দর নগরী হিসেবে কাশিমবাজার পূর্ব ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ বানিজ্য কেন্দ্র রূপে গড়ে উঠেছিল। শিক্ষা – সংস্কৃতির দিক থেকেও মুর্শিদাবাদ ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার অন্যতম প্রাণকেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিল নিজেকে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার ৪ বছর আগেই ঐতিহ্যবাহী বহরমপুর কলেজের প্রতিষ্ঠা। সেই সময়ের শিক্ষানুরাগী মানুষেরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কাশিমবাজারের মহারাজারা উইল করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থাও করে গিয়েছিলেন। কিন্তু আইনগত জটিলতা ও অন্যান্য কারণে তাদের সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরকরণ ও রাজনৈতিক অন্যান্য কারণে কালক্রমে মুর্শিদাবাদ তার গৌরব হারাতে থাকে। অসীম সম্ভাবনা সত্ত্বেও এই জেলা ক্রমশ ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া জেলার তকমা পায়। স্বাধীনতা পরবর্তী কালে শাসকদের অবহেলা আর উপেক্ষা মুর্শিদাবাদকে অমাবস্যার জনপদে পরিণত করে। প্রায় ৮০ লক্ষ জনসংখ্যার জেলা মুর্শিদাবাদ। জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। বৃহৎ শিল্প এখানে প্রায় নেই। কৃষিজমি নির্ভর কর্মসংস্থান এখানে প্রধান। তাছাড়া জীবিকা অর্জনের জন্য কয়েক লক্ষ মানুষ প্রবাসে কর্মরত। বাম জমানায় এখানে উন্নয়নের তৎপরতা চোখে পড়ে নি। ২০১১ সালে পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এখানে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি মাল্টি স্পেশাল হাসপাতাল সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। পর্যটনের দিকেও অনেক নতুন নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে। মতিঝিল একসময় অপরাধীদের মুক্তাঞচল ছিল। আজ সেই মতিঝিল পার্ক এ জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল।
ভৌগোলিকভাবে মুর্শিদাবাদ জেলা পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্র স্থলে অবস্থিত। উত্তর বঙ্গ এবং দক্ষিণ বঙ্গের যোগাযোগ এই জেলার মাধ্যমেই। আর সীমান্ত বাস্তবতা মাথায় রেখে কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের সীমান্তের জেলা। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এখানকার সুস্থিতি জরুরী। যেহেতু শিক্ষার হার কম তাই অপরাধ প্রবণতার সম্ভাবনা বেশী। বিভিন্ন সমীক্ষা র রিপোর্ট অনুযায়ী এখানে নারী পাচার, বাল্যবিবাহের হার বেশি। সুতরাং এই জেলাতে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্য এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নানা স্কলারশিপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মেয়েদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ ব্যাপকভাবে সঞ্চারিত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলে দেয় এ জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েরা উল্লেখযোগ্যভাবে কলেজ স্তরে সফল হয়েছে। এমনও বলা যায় গ্রামের কলেজগুলিতে ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের এই কন্যাশ্রীদের জন্য দরকার উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। সেক্ষেত্রে এই জেলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
মুর্শিদাবাদ জেলার সম্ভাবনা অনেক। গৌরবময় অতীত আর সম্ভাবনাময় বর্তমানের মেলবন্ধনে যে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে সেখানে আধুনিক যুগের উপযোগী পাঠ্যক্রম এবং ঐতিহ্য আশ্রয়ী বিষয়ের মেলবন্ধন ঘটবে এমন প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বস্তুত মুর্শিদাবাদ জেলাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তৎপরতা বর্তমান সরকারের আমলেই শুরু হয়েছে। বিগত বাম আমলে এই ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেওয়া তো দূরের কথা বাধা দানের ইতিহাস আমরা সকলেই জানি। কলকাতা কেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে বর্তমান সরকার সরকারকে সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছেন জেলা এমনকি ব্লক স্তরে। এই মডেলটি একেবারে অভিনব। সেই কর্ম তৎপরতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন জেলাতে অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সংকোচনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ভূমিকা ব্যতিক্রমী।
মুর্শিদাবাদ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ। এ বিষয়ে তার নিরলস প্রয়াসের কথা সকলের কাছে উদাহরণযোগ্য। তিনিই প্রথম সদর্থকভাবে এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। মূলত তার উৎসাহে মুর্শিদাবাদের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে একটি ডিপিআর ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নিকট জমা পড়ে। এই ডিপিআর বেসরকারি স্তরে নেওয়া প্রথম প্রচেষ্টা। ডিপিআর টি তৈরীতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন অধ্যাপক ড. মধু মিত্র, অধ্যাপক ড. ইন্দ্রদীপ ঘোষ এবং উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ও তরুণ লেখক ফারুক আহমেদ। এই ডিপিআর টি তে বিস্তারিতভাবে মুর্শিদাবাদ বিশ্ব বিদ্যালয়ের জমি, ফ্যাকালটি, পাঠ্যক্রম নির্মাণ ও প্রারম্ভিক পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্থান বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিশা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন ও মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাস জুড়ে নিয়ে গবেষণা ও পঠনপাঠনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখানে। মুর্শিদাবাদের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও পাট-আমকে নিয়ে একটা উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনার কথা এই ডিপিআর এ বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে মুর্শিদাবাদ স্টাডিজ, ফার্সি স্টাডিজ এবং এখানকার স্থানীয় ইতিহাস ও সমন্বয়ী সংস্কৃতির চর্চা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে তার সুষ্ঠু দিশা নির্দেশে এই গবেষণামূলক প্রজেক্টটি এই জেলার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে হয়।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই জেলার বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকাকে মান্যতা দিয়েও অতএব বলে রাখা ভালো এর আগে কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায়োগিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেনি। মুর্শিদাবাদ জেলার ওয়েবকুপা অবশ্য তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন। মিডিয়া ও রাজনৈতিক স্তরে বিষয়টিকে সর্বপ্রথম সদর্থকভাবে ও সফল পেশাদারি ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক ফারুক আহমেদ। মনে রাখতে হবে তিনি ২৬ নভেম্বর ২০১৫ সালের শহীদ মিনারে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ডাকে বিশাল সমাবেশে এই বিষয়টিকে জোরালোভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছিলেন। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি ও বক্তা ছিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মুর্শিদাবাদ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি ঘোষণা বাস্তব। সরকারী স্তরে জমি খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনিই প্রথম এই জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ও আবেগের মর্যাদা দিলেন। আর, সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আড়ালে থেকে যারা অক্লান্তভাবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন তাদের কথা জানানোর অভিপ্রায় থেকে এই নিবন্ধটির অবতারণা।

মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কুর্নিশ। দীর্ঘদিন আন্দোলন করার ফলে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ।
দক্ষিন দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার, মুর্শিদাবাদ ও দার্জিলিং-এ আরো চারটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হবে – বিধানসভায় এই কথা জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বাজেট বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। শিক্ষা ও গবেষণার গূণগত মান ও উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ স্থাপনে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রায় এক দশকের দাবীকে স্বীকৃতি দেওয়া হল এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে। পিছিয়ে থাকা মানুষদের যোগ্য করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়– মহাত্মা গান্ধীও এই ধারণা পোষন করতেন। অনগ্রসর, অবহেলিত, প্রান্তিক, সংখ্যালঘু মানুষদের অগ্রগতিতে এই কারণে নিতে হয় কিছু প্রকল্প, পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। এবং তা রূপ দিতে হয় বাস্তবে। এই চারটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা উন্নয়নের বাতাবরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
মুর্শিদাবাদ রাজ্যের সর্বাধিক মুসলিম প্রধান এলাকা। শিক্ষায় বহু বছর ধরে এই অঞ্চল অবহেলিত। নতুন সরকার আসার পর উচ্চশিক্ষা প্রসারে নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচী হয়েছে এ পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা থাকলেও শিক্ষার প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই যথেষ্ট ছিল না। কিছু কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থাকলেও কোন স্বয়ং সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় মুর্শিদাবাদে নেই। সংখ্যালঘু উন্নয়নে সারা দেশ জুড়ে নানা রকম বাধা। মৌলবাদী নানা সংগঠন অনগ্রসর উন্নয়নে নানা বাধা দিলেও আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে বরাবর সরব। তিনি বরাবর অনগ্রসর উন্নয়নের পক্ষে।
নভেম্বর ২৬, ২০১৫ শহীদ মিনার কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি র‍্যালীতে সংখ্যালঘু উন্নয়ণকামী নেতা সিদ্দীকুল্লা চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিশিষ্ট গ্রন্থ প্রকাশক, সমাজ সেবক, সহ অধিকর্তা – দূরশিক্ষা, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় তথা রিসার্চ জার্নাল ‘উদার আকাশ’ এর সম্পাদক ফারুক আহমেদ তাঁর মৌখিক ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মুর্শিদাবাদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো আন্তরিক দাবী জানান। ওইদিন তাঁর সম্পাদিত ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা “উদার ভারত নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” সংখ্যাটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাতে তুলে দেন। সমসাময়িক দৈনিক বিভিন্ন সংবাদপত্রে তার উল্লেখ আছে।
এছাড়াও ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ড. মধু মিত্র, ড. ইন্দ্রদীপ ঘোষ এবং ফারুক আহমেদ তাঁদের স্বাক্ষর সমন্বিত দাবী পেশ করেন এই মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে।
কন্যাশ্রীর সাফল্য, পাশাপাশি অনুমোদিত ১১ টি স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ৯২ টি কলেজে ন্যাক মূল্যায়ন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ এর ফলেই বাংলাতে শিক্ষার প্রসার ঘটছে দ্রুত। তার সঙ্গে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য। ভবিষ্যত মহীরুহের অঙ্কুর, – এই ঘোষণা। অনেক শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে ফারুক আহমেদ এই উদ্যোগের যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান জানাচ্ছেন। তিনিও মুখ্যমন্ত্রীর এই উন্নয়ন যজ্ঞে নিজেকে সামিল করতে পেরে ধন্য ও ভবিষ্যত উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নিজে ও নিজের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকাকে সামিল করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ, সমীপেষু– মুর্শিদাবাদে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ : একটি প্রস্তাবনা নিয়ে আবেদনর কিছু অংশ তুলে দিলাম।

‘বর্তমান সরকারের আমলে যে দ্রুতগতিতে প্রায় প্রতিটি জেলাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা এযাবৎ আমাদের ভাবনাতেও ছিল না। ফলত, মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর মনে লালিত দীর্ঘদিনের পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বাসনা আজ আর স্বপ্ন মনে হচ্ছে না। তথাকথিত আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে এই জেলার মানুষের উচ্চশিক্ষার আকাঙ্খা পূরন হবে না। এখানে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী কলেজে পড়তে আসেন-তারা কেবলমাত্র জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার কারণে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অতএব, সেই পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রত্যাশা আকাঙ্খা পুরনের জন্যই এই জেলাতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।’

‘প্রসঙ্গত আপনাকে জানাই, ইতিমধ্যেই ওয়েবকুপার পক্ষ থেকে গত ৪ অক্টোবর ২০১৫ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সফলভাবে পথ সভা সংগঠিত করেছি। সেখানে জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গত ৯ নভেম্বর ২০১৫ বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মাননীয় মান্নান হোসেনের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমর্থনে সফল কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।’

‘অতএব পিছিয়ে পড়া জেলার তকমা ঝেড়ে ফেলে উন্নত মুর্শিদাবাদ ও উন্নত বাংলা গড়ার প্রয়োজনেই এই জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মাননীয়া জননেত্রীর নতুন বাংলা-সোনার বাংলা নির্মাণের অক্লান্ত প্রয়াসে আজ বাংলা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাকে বিশ্ব বাংলা গড়ার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে আপনার অভিভাবকত্বে ও সুযোগ্য নেতৃত্বে মুর্শিদাবাদ জেলাও তার শরিক হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক স্বপ্নপূরন মাননীয়া জননেত্রীর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে এমনই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। এবিষয়ে আপনার সনির্বন্ধ বিবেচনা ও উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশায় রইলাম।’

সূত্র: মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ, সমীপেষু– মুর্শিদাবাদে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ: একটি প্রস্তাবনা, প্রস্তাবক-ড. মধু মিত্র, সহকারী অধ্যাপক, ডোমকল কলেজ, মুর্শিদাবাদ, ড. ইন্দ্রদীপ ঘোষ, সহকারী অধ্যাপক, ইউ সি টি সি, মুর্শিদাবাদ, এবং ফারুক আহমেদ, সম্পাদক উদার আকাশ, স্থান: বহরমপুর, তারিখ: ১৭-১২-২০১৫

About Post Author

Suman Munshi

Founder Editor of IBG NEWS (15/Mar/2012- 09/Aug/2018). Recipient of Udar Akash Rokeya Shakhawat Hossain Award 2018. National Geographic & Canon Wild Clicks 2011 jury and public poll winner. Studied Post Graduate Advance Dip in Computer Sc., MBA IT,LIMS (USA & Australia), GxP(USA & UK),BA (Sociology) Dip in Journalism (Ireland), Diploma in Vedic Astrology, Numerology, Palmistry, Vastu Shastra & Feng Sui 25 years in the digital & IT industry with Global MNCs' worked & traveled in USA, UK, Europe, Singapore, Australia, Bangladesh & many other countries. Education and Training advance management and R&D Technology from India, USA, UK, Australia. Over 30 Certification from Global leaders in R&D and Education. Computer Science Teacher, IT & LIMS expert with a wide fan following in his community. General Secretary West Bengal State Committee of All Indian Reporter’s Association
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Advertisements

IBG NEWS Radio Services

Listen to IBG NEWS Radio Service today.


InterServer Web Hosting and VPS

Brilliantly

SAFE!

2022

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here