ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত দক্ষিণ দিনাজপুরে – শাসক বিরোধী সকলেই অভিযুক্ত

0
827
Panchyat 15
Panchyat 15
ShyamSundarCoJwellers

পল মিত্র, দক্ষিন দিনাজপুর: ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত দক্ষিণ দিনাজপুরে। বালুরঘাট ব্লকের খিদিরপুর এলাকায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপড় হামলার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের বিরুদ্ধে। ভয়ে এখনও ঘর ছাড়া অন্তত ৩০টি পরিবার। আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। ভোটে শাসক বিরোধী প্রচার, ছাপ্পার প্রতিবাদ এবং বিরোধী প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়ার কারণে এই রোষ চলছে বলে দাবি আক্রান্ত ও তাদের পরিবারের। বারবার জানানোর পরও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খিদিরপুর চরপাড়া এবং হরিরামপুর থানার সৈয়দপুর অঞ্চলের চারটি মৌজা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ এখনও। ভাটপাড়ার ১৭টি আসনের পশ্চিম খিদিরপুর চরপাড়া সংসদের ৩ নম্বর বুথের ভোটার ৭৮১ জন। সেখানেই দুষ্কৃতীদের দ্বারা চলা ছাপ্পা ভোটের প্রতিবাদ হয়েছিল। ভোট সমাপ্ত হতেই, একদল দুষ্কৃতী বাইকে চেপে ওই এলাকায় ঢোকে গভীর রাতে।

তারা প্রথমেই বিজেপি প্রার্থী পম্পা শীলের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। সেখান থেকে স্বামী ও তিন নাবালক নাবালিকা সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে পালিয়ে যান ওই প্রার্থী। এরপরেই প্রার্থীর প্রতিবেশী অর্থাৎ বিজেপির বুথ সভাপতি উৎপল মণ্ডল এবং সমর্থক রিনা সেন সহ অন্যান্যদের বাড়িতে একইভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এখনও নিয়মিত ওই এলাকায় হামলা চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। প্রাণ ভয়ে আজ অবধি গ্রাম ছাড়া অন্তত ৩০ টি পরিবার। তাদের কেউ কেউ বালুরঘাট শহরের বিজেপি জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যত্র ঘরছাড়া, ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি বুথ সভাপতি উৎপল মণ্ডল জানান, তৃণমূল দুষ্কৃতীদের ভয়ে তারা আজও ঘরে ফিরতে পারছেন না। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি। পুলিশের সামনে চলছে হামলা। বাড়ি ঘর বলে কিছুই রাখেনি হামলাকারীরা। সংসার পরিজন নিয়ে বাইরে বাইরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়ট খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি অস্বীকার হয়েছে।

অন্যদিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা দক্ষিণ দিনাজপুরে। উত্তপ্ত হয়ে উঠল বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙি কালাইবাড়ি এলাকা। বিদায়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী তথা তৃণমূল কর্মী সঞ্জয় দাসের(৩৮) উপর হামলা চালানোর অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সুজয় দাস। তার সঙ্গে ছিল রণেন মণ্ডল, দীপক সরকার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গতরাতে বালুরঘাটের ভাতসালা ফতেপুর এলাকা থেকে মেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন সঞ্জয়। অভিযোগ, সেসময় সঞ্জয়ের উপর রামদা দিয়ে হামলা চালায় সুজয়। মাথায় কোপ দেয়। আরও একটি কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। দীপক, রণেনরা ধরে নেয়। পালিয়ে যায় তিনজন। গুরুতর আহত অবস্থায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সঞ্জয়কে। তাঁর মাথায় ১৩টি সেলাই পড়েছে। 

কী কারণে এই হামলা ? হাসপাতালের বেডে শুয়ে সঞ্জয় বলেন, “আমার স্ত্রী জ্যোৎস্না দাস ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কালাইবাড়ি সংসদের সদস্যা ছিলেন। এই সংসদে এবার বিজেপি প্রার্থী মীরা মণ্ডল জয়ী হয়েছেন। এরপর থেকে ওরা হুমকি দিচ্ছিল। আমরা হেরেছি, বিজেপি জিতেছে। তাই মারছে।”

ঘটনায় গতরাতেই বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সঞ্জয়ের পরিবার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ঘটনায় তাদের কেউ যুক্ত নয়।

Advertisements
IBGNewsCovidService
Bloodrush-2