এইচআইভি/এডস্‌ প্রতিরোধে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভার ৭৫তম অধিবেশনে ডাঃ হর্ষবর্ধন ভাষণ দিয়েছেন

0
142
United Nations
United Nations
ShyamSundarCoJwellers

এইচআইভি/এডস্‌ প্রতিরোধে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভার ৭৫তম অধিবেশনে ডাঃ হর্ষবর্ধন ভাষণ দিয়েছেন
এইচআইভি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা একসঙ্গে রয়েছি – ডাঃ হর্ষবর্ধন
ভারতে প্রায় ১৪ লক্ষ রোগীকে নিখরচায় অ্যান্টি-রেট্রো-ভাইরাল চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে

By PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১১ জুন, ২০২১

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ হর্ষবর্ধন আজ নতুন দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভার ৭৫তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী এইচআইভি/এডস্‌ সংক্রান্ত ঘোষিত অঙ্গীকারের রূপায়ণ এবং এইচআইভি/এডস্‌ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ সম্পর্কে অধিবেশনে মতামত প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভায় ৭৫তম অধিবেশনে ডাঃ হর্ষবর্ধন বলেন, “মর্যাদাপূর্ণ এই ফোরামে ভাষণ দিতে পেরে আমি সম্মানিত ও আনন্দবোধ করছি। আমার সরকারের পক্ষ থেকে আমি সকলকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাই এবং আজকের এই অধিবেশন সুচারুরূপে আয়োজনের জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। এডস্‌ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের উচ্চস্তরীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে পেরে ভারত অত্যন্ত সম্মানিত।

এইচআইভি সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, মারণ এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একথা সত্যি হলেও এইচআইভি-র সংক্রমণ প্রতিরোধে নিরন্তর সতর্কতা অবলম্বন এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় এইচআইভি আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে যাতে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য স্বাস্থ্য কর্মী এবং করোনা-যোদ্ধারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে পরিষেবা দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। মহামারীর সময় যাঁরা এইচআইভি-এডস্ – এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাঁদেরকেও আমার শ্রদ্ধা।

মহামারী মোকাবিলায় অসমতা ও ঘাটতি দূর করতে দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভারতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃঢ় সংকল্পের বিষয়টি মহামারীর সময় বারবার প্রতিফলিত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ভারত সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ সহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে সামিল করেছে, যাতে এইচআইভি রোগের পরিষেবায় কোভিড-এর প্রভাব যথাসম্ভব কম করা যায়। ভারতে ২০১৭’র এইচআইভি ও এডস্‌ প্রতিরোধ তথা নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। ভারতে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই কাজে নাগরিক সমাজগুলিকেও সামিল করা হয়েছে। এই কৌশলের উদ্দেশ্য হ’ল এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের প্রতি সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা, আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, তাঁদের কাছে চিকিৎসা-পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মনস্তাত্বিক পরামর্শ দেওয়া।

ভারতে প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষকে নিখরচায় অ্যান্টি-রেট্রো-ভাইরাল চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। আফ্রিকায় এইচআইভি-তে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, ভারতের জাতীয় এডস্‌ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন করা হয়েছে, যাতে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন রোগীর কাছে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। ভারতে এইচআইভি-এডস্ এর নমুনা পরীক্ষার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এমনকি, আগাম রোগ-নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গর্ভাবস্থায় মায়ের থেকে যাতে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য ভারত সরকার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া শুরু করেছে। এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং চিকিৎসায় আরও সহায়তার জন্য সরকারি-বেসরকারি শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে জাতীয় এডস্‌ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমাঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। মারণ রোগের শিকার এইচআইভি আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে এডস্‌-কে চিরতরে নির্মূল করতে এইচআইভি সংক্রমণ হার শূন্যতে নামিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণের হার শূন্যতে নামিয়ে আনতে আমাদের কাছে আরও ১১৫ মাস সময় রয়েছে। তবে, এই সময়সীমার মধ্যে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের এখনও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। আমরা সবাই এইচআইভি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরস্পরের পাশে রয়েছি”।

Advertisements
IBGNewsCovidService
Bloodrush-2