নবরাত্রির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

0
687
Jodhpur Park Durga Puja 2019
Jodhpur Park Durga Puja 2019
0 0
Azadi Ka Amrit Mahoutsav

InterServer Web Hosting and VPS
Read Time:23 Minute, 40 Second

নবরাত্রির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সুনন্দ মিত্র

প্রথমেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হয় অগ্রজ শ্রদ্ধেয় শ্রী বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুীর মহাশয়ের কাছে কারণ এই লেখা ওনার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায়।

নবরাত্রি কি এবং বছরে কতবার নবরাত্রি হয়? দুর্গাপুজোর নবরাত্রি কবে শুরু ও শেষ? নবরাত্রি শব্দের অর্থ হল নয়টি রাত। সনাতন ধর্মে নবরাত্রির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, নবরাত্রি মানে মহাদেবীর এক একটি রূপের আরাধনা। বিশেষ করে যাঁরা সাধক, তাঁদের কাছে এই নবরাত্রি হল আরাধনার বিশেষ সময়। আর, যাঁরা ভাগ্য সন্ধানী, তাঁদের কাছেও এই নবরাত্রি তন্ত্রমতে ভাগ্য ফেরানোর সুযোগ্য সময়।

হিন্দুমতে বছরে চারটি নবরাত্রি রয়েছে। এপ্রিলে আসে চৈত্র নবরাত্রি। বছরের প্রথম নবরাত্রি উদযাপন হয় চৈত্র মাসে, এই নবরাত্রির ঠিক তিন মাস পর জুলাইয়ে হয় আষাঢ় নবরাত্রি। এর তিন মাস পর মহালয়ার পরদিন থেকে যা শুরু হয়। চলে টানা নয় দিন। একে বলে শারদীয়া নবরাত্রি। এই নবরাত্রি প্রতিবছর সাধারণত হয় অক্টোবর মাসে। এর পরের নবরাত্রি মাঘ নবরাত্রি। যা আসে শারদীয়া নবরাত্রির ঠিক তিন মাস পর জানুয়ারিতে।

তবে, এই চার নবরাত্রির মধ্যে শারদীয়া এবং চৈত্র নবরাত্রির প্রচার বেশি। বাকি দুটি নবরাত্রি মাঘ এবং আষাড়ের প্রচার কম। তাই তাদের বলে গুপ্ত নবরাত্রি। এর মধ্যে গুপ্ত নবরাত্রি পালন বেশিরভাগই তান্ত্রিকরাই করে থাকেন। শারদীয়া নবরাত্রির প্রথম দিনে বা প্রতিপদে শৈলপুত্রী, দ্বিতীয় দিন বা দ্বিতীয়ায় ব্রহ্মচারিণী, তৃতীয় দিনে বা তৃতীয়ায় চন্দ্রঘণ্টা, চতুর্থ দিনে বা চতুর্থীতে কুষ্মাণ্ডা, পঞ্চম দিন বা পঞ্চমীতে স্কন্দমাতা, ষষ্ঠ দিনে বা ষষ্ঠীতে কাত্যায়নী, সপ্তম দিন বা সপ্তমীতে কালরাত্রি, অষ্টম দিন বা অষ্টমীতে মহাগৌরী, নবম দিন বা নবমীতে সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়।

চৈত্র অমাবস্যায় আবার প্রতিপদে ভদ্রকালী, দ্বিতীয়ায় জগদম্বা, তৃতীয়ায় অন্নপূর্ণা, চতুর্থীতে সর্বমঙ্গলা, পঞ্চমীতে ভৈরবী, ষষ্ঠীতে চণ্ডিকা, সপ্তমীতে ললিতা, অষ্টমীতে ভবানী এবং নবমীতে মুকাম্বিকার আরাধনা করা হয়। গুপ্ত নবরাত্রিগুলোয় আবার মহাবিদ্যার আরাধনা করা হয়। অর্থাৎ প্রতিপদে কালী, দ্বিতীয়ায় তারা, তৃতীয়ায় ভৈরবী, চতুর্থীতে ভুবনেশ্বরী, পঞ্চমীতে বগলামুখী, ষষ্ঠীতে ষোড়শী ত্রিপুরাসুন্দরী, সপ্তমীতে ছিন্নমস্তা, অষ্টমীতে ধূমাবতী, নবমীতে দেবী মাতঙ্গীর আরাধনা করা হয়।

শারদীয়া নবরাত্রিতে 9টি দুর্গা অবতারের তাৎপর্য, সারা ভারতে নবরাত্রি পূজা উদযাপন করা হয়।

দেবী দুর্গার 9টি অবতার

শৈলপুত্রী দেবী
দেবী ব্রহ্মচারিণী
দেবী চন্দ্রঘন্টা
কুষ্মাণ্ডা দেবী
দেবী স্কন্দমাতা
কাত্যায়নী দেবী
কালরাত্রি দেবী
দেবী মহাগৌরী
দেবী সিদ্ধিদাত্রী
এছাড়াও দশমীর দিন দুটো পুজো হয় দেবী অপরাজিতা এবং শাস্ত্র পুজো। অর্থাৎ ন রাত্রি দশ দিন শারদীয়া নবরাত্রির সময়কাল।

শারদীয়া নবরাত্রিতে ঘট’স্থাপনা মুহুর্ত, কেন ঘটস্থাপনে বার্লি (জাওয়ার) বপন করতে হয়? ঘটস্থাপনা মন্ত্র কি?
সপ্তধন বপন করার সময় কোন মন্ত্রটি জপ করতে হয়?
কলাশে নারকেল রাখার মন্ত্র কী?

নবরাত্রি হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসব। এটি বছরে চারবার পালিত হয়। বছরের প্রথম নবরাত্রি উদযাপিত হয় মার্চ-এপ্রিল মাসে। এটি চৈত্র নবরাত্রি বা বসন্ত নবরাত্রি নামে পরিচিত। দ্বিতীয় নবরাত্রি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পড়ে এবং এটিকে শারদ নবরাত্রি বলা হয়। নয় দিনব্যাপী উৎসব এই সময়ে দেবী দুর্গার নয়টি অবতারকে উৎসর্গ করা হয়। এটি দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে অত্যন্ত উত্সাহ এবং ভক্তির সাথে পালিত হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই শরৎ কালীন দুর্গোৎসবকে দেবীর অকাল বোধন বলে। তার কারণ সনাতন শাস্ত্রমতে বা হিন্দু ধর্মের পুরান গ্রন্থে বর্ণিত আছে এটা দেবতাদের নিদ্রার সময়। কাহিনী অনুযায়ী জানা যায় যে, পূর্বে রামচন্দ্রের উপর অনুগ্রহ করে রাবণ বধ করার জন্য তাকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে ব্রম্ভা রাত্রিকালে এই মহাদেবির বোধন করেছিলেন।

এই বোধনের পর দেবী গেলেন রাবণের বাসভূমি লঙ্কা তে। সেখানে তিনি রাম ও রাবনকে দিয়ে টানা সাতদিন ধরে যুদ্ধ করালেন। নবমীর দিন জগনময়ী মহামায়া রামচন্দ্রের দ্বারা রাবণ বধ করেন।

যে ৭ দিন দেবী রামচন্দ্র ও রাবণের মধ্যে যুদ্ধ দেখে আনন্দ উপভোগ করলেন, সেই ৭ দিন দেবতারা এই দেবীর পুজো করেন। রাবণ নিহত হলে নবমীর দিন ব্রহ্মা সকল দেবতা কে সঙ্গে নিয়ে দেবীর বিশেষ পূজা করলেন। তারপর দশমীর দিন শবর উৎসব উদযাপিত হলো। তারপর দেবীর বিসর্জন হলো।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, শরৎকালের রাম চন্দ্র কেন দুর্গাপূজার পক্ষকে অকাল বলেছেন?

সূর্যের দক্ষিণায়ন হলো দেবতাদের রাত। এইসময় দেবতারা ঘুমান। শরৎ কালের পরে দক্ষিণায়নের সময়। এই সময় দেবতাকে পূজা করতে হলে সেই দেবতাকে জাগ্রত করতে হবে। আর এই জাগরিত করার প্রক্রিয়া টা কেই বলা হয় বোধন।

এই পুরাণের মতে কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গের পর রামচন্দ্রের অমঙ্গল আশঙ্কা করে দেবতারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তে ব্রহ্মা বলেন যে, “দুর্গাপূজা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।”

সেই কারণে রামচন্দ্রের মঙ্গলের জন্য স্বয়ং ব্রহ্মা যজমানি করতে রাজি হলেন। আর সেই সময় কাল টা ছিল শরৎকাল অর্থাৎ দক্ষিণায়ন, এককথায় দেবতাদের ঘুমাবার সময়।

অতএব ব্রম্ভা স্তব করে দেবি কে জাগরিত করলেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মা ক বললেন, “বিল্ববৃক্ষমূলে দেবীর বোধন হবে।” তখন দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, একটি অত্যন্ত দুর্গম স্থানে একটি বেল গাছের শাখায় সবুজ পাতার রাশির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি পরমা সুন্দরী বালিকা।

এই পরমাসুন্দরী বালিকাকে দেখে ব্রহ্মা বুঝতে পারলেন যে, এই বালিকাই জগজ্জননী দূর্গা। তারপর তিনি তাঁকে স্তব করে জাগরিত করলেন। তারপর দেবী জাগরিত হয়ে বালিকা মূর্তি ত্যাগ করে চন্ডিকা মূর্তি ধারণ করেন। তখন ব্রহ্মা বললেন, “রাবণ বধে রামচন্দ্র কে অনুগ্রহ করার জন্য তোমাকে অকালে জাগরিত করেছি।

যতদিন না রাবণ বধ হচ্ছে ততদিন আমরা তোমাকে পুজো করবো। যেমন আজ আমরা তোমাকে বোধন করে পুজো করলাম, তেমনভাবেই মর্তবাসী তোমাকে যুগ যুগ ধরে পুজো করবে। যতকাল সৃষ্টি থাকবে ততকাল তুমি পূজা পাবে এইভাবে।”

একথা শুনে চন্ডিকা (দেবী দুর্গা) বলেন, “সপ্তমী তিথিতে আমি প্রবেশ করব রামের ধনুর্বাণ এ। অষ্টমীতে রাম ও রাবনের মধ্যে মহাযুদ্ধ হবে। অষ্টমী নবমী সন্ধিক্ষণে রাবণের দশমুন্ডু বিচ্ছিন্ন হবে।

সেই দশমুন্ডু আবার জোড়া লাগবে। কিন্তু নবমীতে রাবণ নিহত হবে। তারপর দশমীতে রামচন্দ্র করবে বিজয় উৎসব।”

দেবের কথা অনুযায়ী সেইমতো সবকিছুই হল। মহা বিপদ কেটে গেল অষ্টমীতে। আর সেই কারণেই অষ্টমী হল মহাঅষ্টমী। রাবণকে বধ করে মহাসম্পদ সীতাকে উদ্ধার করে নবমীতে সীতাকে লাভ করলেন রামচন্দ্র সেই কারণে নবমী হল মহানবমী। নবরাত্রির উৎসবকে বলা হয় শারদ নবরাত্রি (Sharad Navratri)।

নবরাত্রির তাৎপর্য:
ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র শারদীয়া দূর্গোৎসবের প্রচলন করেন। রাবণ বধ ও সীতা উদ্ধারের জন্য রামচন্দ্র দুর্গতিনাশিনী দুর্গার অকাল বোধন (Akaal Bodhon) করে নবরাত্র ব্রত পালন করেছিলেন।

এই নবরাত্রি ব্রত আশ্বিনের শুক্লা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত। মা দূর্গা এই সময় অর্থাৎ এই ৯ টি রূপ ধারণ করেন। পিতামহ ব্রহ্মা দেবির এই ৯ টি রূপের নামকরণ করেছিলেন। এই নয়টি রূপ ছিল দেবির নয়টি কায়া মূর্তি।
যেহেতু অকালে দেবীর নিদ্রা ভঙ্গ করা হয়েছিল সেইজন্যই শারতকালিন দুর্গোৎসবকে অকাল বোধনও বলা হয়।

বাড়িতেও নবরাত্রি পূজা ভারত জুড়ে বিভিন্ন উপায়ে করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নবরাত্রি নানাভাবে পালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গুজরাটে, লোকেরা ডান্ডিয়া পরিবেশন করে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করে। বাংলায়, সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চারদিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, এই সময়কালে পূজার অনুষ্ঠান করা হয় এবং দেবী দুর্গার প্রতিমার বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

তামিলনাড়ুতে, ভক্তরা এই সময়ে দেবী দুর্গা, দেবী সরস্বতী এবং দেবী লক্ষ্মীর পূজা করেন। পাঞ্জাবে, ভক্তরা প্রথম সাত দিন উপবাস করে এবং অষ্টম দিনে কন্যাপুজা করে উপবাস ভাঙে, যার মধ্যে 9টি ছোট মেয়েকে খাবার পরিবেশন করা, তাদের পা স্পর্শ করা এবং তাদের আশীর্বাদ চাওয়া জড়িত। একইভাবে, অন্যান্য রাজ্যগুলি আনন্দ করার জন্য তাদের নিজস্ব অনন্য আচার অনুসরণ করে।

বাড়িতে কীভাবে নবরাত্রি পূজা উদযাপন করা হয় তা রাজ্য থেকে রাজ্যে আলাদা হতে পারে। যাইহোক, এই সময়ে বিভিন্ন আচার পালনের পিছনে কারণ হল দেবীকে খুশি করা এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনযাপনের জন্য তার আশীর্বাদ প্রার্থনা করা।

শারদীয় নবরাত্রি শরৎ ঋতুতে পড়ে। এটি শুরু হয় আশ্বিন শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে।

নিম্নে দেবী দুর্গার নয়টি অবতারের বিভিন্ন রূপের বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। যা নবরাত্রির বিভিন্ন দিনে পূজা করা হয়

শৈলপুত্রী দেবী

নবরাত্রি উৎসবের প্রথম দিনে (প্রতিপদ) মা শৈলপুত্রীর পূজা করা হয়। শৈলপুত্রী আক্ষরিক অর্থে পাহাড়ের কন্যা। তার ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবের সম্মিলিত শক্তি আছে বলে কথিত আছে। কথিত আছে যে নবরাত্রির প্রথম দিনে দেবী শৈলপুত্রীকে খাঁটি ঘি নিবেদন করে ভক্তরা একটি সুস্থ জীবন অর্জন করতে পারেন।

দেবী ব্রহ্মচারিণী

দ্বিতীয় দিনে মা ব্রহ্মচারিণীর পূজা করা হয়। তাকে এক হাতে রুদ্রাক্ষ মালা ও অন্য হাতে কমণ্ডলু ধারণ করতে দেখা যায়। দেবী ব্রহ্মচারিণীকে খুশি করার জন্য চিনি নিবেদন করা হয়। সুন্দরী দেবী তার ভক্তদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

দেবী চন্দ্রঘন্টা

তৃতীয় দিনটি মা চন্দ্রঘন্টাকে উৎসর্গ করা হয়। তার 10টি বাহু এবং তার কপালে একটি অর্ধচন্দ্র রয়েছে। তার মুখে একটি উগ্র চেহারা রয়েছে এবং তাকে বাঘে চড়তে দেখা যায়। তিনি সমস্ত মন্দকে ধ্বংস করতে এবং ব্যথা উপশম করতে পরিচিত। ভক্তদের মা চন্দ্রঘন্টাকে খির দেওয়া উচিত।

কুষ্মাণ্ডা দেবী

চতুর্থ দিনটি মা কুষ্মাণ্ডাকে উৎসর্গ করা হয়। তার নাম বোঝায় যে তিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনি তার ভক্তদের জ্ঞান দিয়ে আশীর্বাদ করেন। নবরাত্রির সময় তার পূজা করা একজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে উন্নত করতেও সাহায্য করে। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে এবং তার আশীর্বাদ পেতে তাকে মালপুয়া দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দেবী স্কন্দমাতা

পঞ্চমী তিথিতে মা স্কন্দমাতার পূজা করা হয়। পদ্মফুলের উপর উপবিষ্ট দেবীর চারটি বাহু রয়েছে। তাকে তার দুই হাতে একটি পদ্ম ধারণ করতে দেখা যায়। ভগবান কার্তিকেয়কে তার কোলে বসে থাকতে দেখা যায়। দেবীর আশীর্বাদ পেতে ভক্তদের কলা নিবেদন করা উচিত।

কাত্যায়নী দেবী

নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর পূজা করা হয়। তিনি ঋষি কাত্যায়নের কন্যা এবং শক্তির রূপ। তাকে এক হাতে তলোয়ার ধারণ করতে দেখা যায় এবং তাকে যোদ্ধা দেবী বলা হয়। মা কাত্যায়নীকে খুশি করার জন্য মধু নিবেদন করা হয়।

কালরাত্রি দেবী

নবরাত্রির সপ্তম দিন (সপ্তমী) মা কালরাত্রিকে উৎসর্গ করা হয়। তার এক হাতে তলোয়ার আর অন্য হাতে ত্রিশূল। তার গাঢ় বর্ণ এবং উগ্র চেহারা তাকে দেবী দুর্গার অন্যান্য অবতার থেকে আলাদা করেছে। ভুলে যাবেন না, তার কপালে তৃতীয় চোখ, যার মধ্যে পুরো মহাবিশ্ব আছে বলে কথিত আছে। তিনি জীবনে সুখ আনতে ব্যথা এবং বাধা উপশম করতে সাহায্য করে। ভক্তরা দেবীকে খুশি করতে গুড় নিবেদন করেন।

দেবী মহাগৌরী

নবরাত্রির অষ্টম দিন (দুর্গা অষ্টমী) দেবী মহাগৌরীকে উৎসর্গ করা হয়। তার এক হাতে ত্রিশূল আর অন্য হাতে ডমরু । মহাগৌরী তার উজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং উদারতার জন্য পরিচিত। নারকেল তার জন্য আদর্শ নৈবেদ্য হিসাবে পরিচিত।

দেবী সিদ্ধিদাত্রী

নবরাত্রি উৎসবের নবম দিনে মা সিদ্ধিদাত্রীর পূজা করা হয়। তাকে একটি পদ্ম ফুলের উপর বসে থাকতে দেখা যায়। দেবী পূর্ণতার প্রতীক এবং বলা হয় যে তিনি তার ভক্তদের অপ্রাকৃতিক ঘটনা থেকে রক্ষা করেন। তাকে তিল নিবেদন করা হয়।

দশমীতে দেবী অপরাজিতার ও শাস্ত্র পুজো হয়। যাতে সকল অশুভ শক্তির হাত থেকে অপরাজিত থাকা যায় সেই বর প্রদান করেন দেবী দুর্গা আর শাস্ত্রের পুজো করা হয় কারণ যে শাস্ত্র দিয়ে অশুভ শক্তির নাশ করেছিলেন দেবী সেই শাস্ত্র যেন সদা শাণিত থাকে অশুভ শক্তি ও দুষ্টের দমনে।

নবরাত্রি পূজার সময় ঘটস্থাপনা একটি অপরিহার্য আচার। নবরাত্রির প্রথম দিনে ঘটস্থাপনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গাজলে ভরা একটি কলশ স্থাপন করা যেখানে দেবী দুর্গার মূর্তি/ছবি রাখা থাকে। নবরাত্রির প্রথম দিন, যা প্রতিপদ নামেও পরিচিত।

কেন ঘটস্থাপনে বার্লি (জাওয়ার) বপন করতে হয়?

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, যব বা জাওয়ার দেবী অন্নপূর্ণা এবং ভগবান ব্রহ্মার প্রতীক। কথিত আছে যে জাওয়ার বা বার্লি প্রথম ফসল তৈরি হয়েছিল। ঘটস্থাপনের সময়, যব বপন করা হয় এবং প্রথমে পূজা করা হয়। যবকেও ভগবান ব্রহ্মার রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অতএব, প্রথমে বার্লিকে সম্মান দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটস্থাপনা মন্ত্র কি?

ওম আ জিঘ্রা কলশম মহ্য ত্বা বিশ্বন্তবিন্দঃ। পুনরুর্জা নি বর্তস্ব সা ন সহস্রাণ ধুক্ষ্ভরুধরা পয়স্বতী পুনর্মা বিশতাদায়িহ।

সপ্তধন বপন করার মন্ত্র

এর অর্থ সাত ধরনের শস্য।

ওম ধন্যমাসি ধিনুহি দেবান প্রণায়া তিয়ো দানয়া ত্বা ব্যানয় ত্বা। ধর্মামানু প্রসিতিমায়ুষে ধা দেবো বাহ সবিতা হিরণ্যপাণিঃ প্রতি গর্ভবতী নারী, পাণিনা চক্ষুষে ত্বা মাসাম পায়োসি।

কলাশে নারকেল রাখার মন্ত্র

নারকেলটিকে লাল রঙের কাপড়ে মুড়িয়ে কলাশের উপর রাখার সময় এই মন্ত্রটি জপ করতে হয়।

ওম ইয়াহ ফলিনির্যা আফলা অপুস্প যশ্চ পুষ্পনিঃ। বৃহস্পতিপ্রসূতস্ত ন মুঞ্চন্ত্বা হাসঃ।

মা দুর্গার ছবি বা মূর্তি, দুর্গা সপ্তশতী গ্রন্থ, আমের পাতা, লাল চুনরি, কালাভা, লাল কাপড়, গঙ্গাজল, কালাশ, চন্দন, নারকেল, কর্পূর, মাটির পাত্র, ঘি বা তিলের তেল, বার্লি বীজ

অখন্ড জ্যোতি (প্রদীপ) জ্বালাতে হলে অবশ্যই এতে সর্বদা আলোকিত/প্রজ্জ্বলিত রাখতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে সময়ে সময়ে এতে ঘি দিতে হবে। এছাড়াও, অখন্ড জ্যোতিকে কখনই একা রাখা উচিত নয়।

সব শেষে যে তথ্যটা না জানালে খুবই অন্যায় হবে নবরাত্রির অনুষ্ঠান শুধু ভারতবর্ষে উদযাপিত হয় তা নয় ভারতবর্ষের বাইরেও এই উৎসব পালিত হয়। আর শুধু হিন্দুরাই নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই উৎসব পালন করে। Wikipedia তে গিয়ে খোঁজ করলে এই কথার সত্যতা আপনারা পেয়ে যাবেন। নিম্নে তার সম্পর্কে অল্প কোথায় তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

যেসব হিন্দু প্রবাসীরা ঔপনিবেশিক যুগে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ ও খনিতে চুক্তিবদ্ধ সেবক হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং সেইসাথে যারা নিজেরাই স্থানান্তরিত হয়েছিল, তারা নবরাত্রির এই মহান ঐতিহ্যকে চিহ্নিত করে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের হিন্দুরা 19 শতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে হিন্দু মন্দির তৈরি করেছিল এবং নবরাত্রি তাদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উত্সবগুলির মধ্যে একটি। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, গিয়ানা, সুরিনাম, ফিজি, মরিশাস, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য, নবরাত্রি মহা সমারোহে উদযাপিত হয় 20 শতকের মাঝামাঝি থেকে।

অন্যান্য ধর্ম সম্পাদনা

নবরাত্রি এবং দেবী পূজার উল্লেখ রয়েছে ঐতিহাসিক শিখধর্মের সাহিত্যে, বিশেষ করে দশম গ্রন্থে যা ঐতিহ্যগতভাবে গুরু গোবিন্দ সিংকে দেওয়া হয়েছে। লুই ফেনেচের মতে, শিখরা ঐতিহাসিকভাবে দেবী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং অস্ত্রের পূজাকে শাক্ত হিন্দুদের মতোই প্রতিফলিত করেছে। শিখ ধর্মের দ্বিতীয় গুরু, গুরু অঙ্গদ ছিলেন দেবী দুর্গার একজন প্রবল ভক্ত।

জৈনরা হিন্দুদের সাথে নবরাত্রির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদযাপন যেমন লোকনৃত্য পালন ইত্যাদি করেছে। জৈন ধর্ম সম্পর্কে স্ট্যাভান তার কবিতায়, এম. হুইটনি কেল্টিং বলেছেন, হিন্দুধর্মের “গরবা কবিতা থেকে তাদের অনেক চিত্র আঁকেন”।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: আনপ্লাস, pixahive, Wikimedia, Wikipedia, media.banglabhumi.in এবং শ্রী বিস্বপ্রিয় রায়চৌুরী (বালু দা) এনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

About Post Author

Editor Desk

Antara Tripathy M.Sc., B.Ed. by qualification and bring 15 years of media reporting experience.. Coverred many illustarted events like, G20, ICC,MCCI,British High Commission, Bangladesh etc. She took over from the founder Editor of IBG NEWS Suman Munshi (15/Mar/2012- 09/Aug/2018 and October 2020 to 13 June 2023).
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Advertisements

USD





LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here