কলকাতার রানি রাসমণিতে ৬ ডিসেম্বর দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভা

0
593
Mass Leader Faruque Ahamed
Mass Leader Faruque Ahamed

কলকাতার রানি রাসমণিতে ৬ ডিসেম্বর দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভা

বিশেষ প্রতিবেদন

কলকাতার রানি রাসমণিতে ৬ ডিসেম্বর দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভা সফল করতে ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের পিছনের হলে ৪ টের সময়ে এক প্রেস কনফারেন্স করার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান বাঁচাও সমিতির পক্ষে সমীর কুমার দাস।

৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবসে কলকাতার রাজপথে দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভার ডাক দিয়েছেন বাংলার বহু নেতাকর্মী। এই মেঘা সমাবেশ সফল করতে উপস্থিত হবেন পশ্চিমবঙ্গের বহু আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সমর্থনকারীরা। প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন এবং ৬ ডিসেম্বর কলকাতার রাজপথে মহা মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন রেল কর্মচারি ও বাংলার দলিত কল্যাণের নেতা ও আহম্মেদকর মিশনের সম্পাদক সমীর কুমার দাস, সর্বভারতীয় নবচেতনার সাধারণ সম্পাদক ও উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আদিবাসী ও দলিত নেতা কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, সুচেতা গোলদার, বীরেন মাহাতো সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

Mass leader Faruque Ahamed
Mass leader Faruque Ahamed

লাখো মানুষের ঢল নামবে ৬ ডিসেম্বর।

দলিত মুসলিমদেরই যৌথ উদ্যোগেই ঐতিহ্যময় ভারত গড়তে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। আদি ভারতবাসীদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দিয়ে কারা ক্ষমতায় আছেন এতো বছর? ভাবুন একবার আর জেগে উঠুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ভাবুন একবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাবরী মসজিদ ভেগেছে বিভেদকামী শক্তি কি কারণে? স্রেফ বিভাজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ফায়দা তুলবে বলে। বহুজন সমাজের মানুষ ও মুসলিমদের সজাগ থাকতে হবে ধর্মীয় আবেগের জন্য কোনো ভুল পথে পরিচালিত হলে বিভেদকামী শক্তির উত্থান রোখা যাবে না। কোথায় কখনও উস্কানিমূলক বক্তব্য শুনে প্রভাবিত হলে চলবে না বরং বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ ভারতকে বিপদে চালিত করাদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মনে রাখতে হবে দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ওপর যে চরম বৈষম্য ও বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে তার প্রতিকার করতে হলে জোটবদ্ধ হাতে হবে।

৭২ বছর পেরিয়ে গেছে দেশ স্বাধীন হয়েছে তবুও আদি ভারতবাসীর প্রকৃত কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তেমন ভালো কাজ করতে পারেননি। নিজেদের মধ্যে আর মারামারি নয় কোনো বিবাদ থাকলে তা এড়িয়ে চলুন একটুখানি বিশ্লেষণ করুন কে বা কারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই বিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতির উত্থান ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ফায়দা লুটতে চাইছে কোন কৌশল অবলম্বন করে তা বুঝতে হবে। প্রতি নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাতে কাদের নাম উঠে আসে? দেখা যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুসলিম ও বহুজন সমাজের দলিত মানুষদের নাম। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছে কে কতটা বেশি দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ব্যবহার করতে পারবে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সক্ষম হবে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় ভোট এলে কে কতটুকু সংখ্যালঘু ও দলিত দরদী তার প্রমাণ করতে।

আর কবে বহুজন সমাজের মানুষদের এবং দলিত, এসসি, এসটি, ওবিসি মুসলিমদের নবচেতনার  উন্মেষ ও উত্তরণ ঘটবে। উন্নত ভারত গড়তে হলে পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিভেদকামী দলের লোকজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভাজন ঘটাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের অতি সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।

ভারতীয় ঐতিহ্যময় ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে।

সকলেই অবগত আছেন বিভেদকামী শক্তি ভারতকে বিপদে চালিত করছে তাই এখন আর কোনো বিভাজনের রাজনীতির উত্থানের পেছনে থাকলে চলবে না।

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ ভারত গড়তে দাঙ্গাবাজ ও বিভেদকামী শক্তিকে প্রতিহত করতে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন।

আগামী দিনে ও নির্বাচনের আগে “সর্বভারতীয় নবচেতনা” মানুষদের সচেতন করবে এবং উদার ও সহিষ্ণু ভারত গড়তে আগ্রহীদের মর্যাদার অধিকারী করে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর থাকবে। বলছিলেন, “সর্বভারতীয় নবচেতনা”র সাধারণ সম্পাদক ও দলিত ও সংখ্যালঘু কল্যাণে লড়াকু তরুণ তুর্কী সৈনিক ফারুক আহমেদ।

বেজেপির রথ যাত্রার আগেই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে সফল হয়েছে “সংবিধান বাঁচাও সমিতি” বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সংহতি যাত্রা পালন করে মানুষদেরকে সচেতন করতে সক্ষম হয়েছে।

সম্প্রতি আসামে পাঁচ জন বাঙালিকে গণহত্যা করেছে বিভেদকামী শক্তি।

এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে “সংবিধান বাঁচাও সমিতি”র নেতাকর্মীরা।

কলকাতার ধর্মতলায় এক প্রতিবাদ মিছিলে পথ হাঁটলেন ৪ নভেম্বর বিকালে সর্বভারতীয় নবচেতনার সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ ছাড়াও “সংবিধান বাঁচাও সমিতি”র অনেক নেতৃত্ব। উপস্থিত হয়েছিলেন দলিত নেতা সমীর কুমার দাস, কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, জীতেন্দ্র কুমার বাল্মিকী, সুচেতা গোলদার, বীরেন মাহাতো, এল কে হেমব্রম, অনন্ত আচার্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

সংহতি দিবস উপলক্ষে কয়েক লাখ মানুষের ঢল নামবে ৬ ডিসেম্বর কলকাতার রাজপথে দলিত ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ উদ্যোগেই।

বঞ্চনা হটাও দেশ বাঁচাও এই স্লোগানকে সামনে রেখে আওয়াজ তুলবেন সমীর কুমার দাস ও ফারুক আহমেদরা।

এদিকে দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গে ৮২ টির মতো স্বশাসিত সংস্থার কমান্ডিং পোস্টে কোনও মুসলিম নেই মমতা সরকারের আমলে চরম বঞ্চনার ছবি উঠে এসেছে সর্বত্র।

দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির এসটি, এসসি এবং বিশেষ করে ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি মুসলিমদের চরম বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকদের চাকরি ক্ষেত্রে দেখা গেছে সর্বত্র সংরক্ষণনীতি না মেনে চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি মুসলিমরাই সব থেকে বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন।

এর প্রতিকার চাইতে দলিত ও এসটি, এসসি ও মুসলিমরা এবার পথে নামছেন ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় কলকাতার রাজপথের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল মিশবে ধর্মতলার রানি রাসমণিতে।

“সংবিধান বাঁচাও সমিতি”র ডাকে সমীর কুমার দাস ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানালেন, ৬ ডিসেম্বর হাজারে হাজারে লাখো মানুষ পথে নামবেন।
সংহতি দিবস পালন করবেন। এবং নিজেদের প্রাপ্য অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য আওয়াজ তুলবেন।

ইতিপূর্বে কলকাতার রাজপথে মুসলিমদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিশাল সমাবেশের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও দল সামনে নির্বাচনে তার ফল কতটা ভুগবে সেটা দেখার বিষয়।

৩ অক্টোবর, ২৮ এপ্রিল ও ২৭ নভেম্বর বিশাল সমাবেশ দেখেও মমতা সরকার এই বঞ্চনার প্রতিকার করতে এক চুলও সচেতন হয়নি। তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে এবং মূল সমস্যার প্রতিকার করতে এগিয়ে আসতে হবে।

কলকাতার রাজপথে মুসলিমদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিশাল সমাবেশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অবশ্য মুখ খুলেছিন রাজ্যসরকারের অন্যতম মুসলিম মুখ তথা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা নয়া মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বুঝতেই চাইছেন না মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেসের উদাসীন কার্যকালাপে দিন দিন হতাশ হয়েছেন। বিশাল সমাবেশে মূল দাবি গুলোকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে এবং বিজেপির ভয় দেখানো হচ্ছে। চারিদিকে মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। কেউই বিভেদকামী শক্তির হাত শক্ত করছে না। মূল দাবি পূরণ ও সমস্যার সমাধান করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুক।

আন্দোলনকারিরা কেউ বিজেপি করেন না বরং তাঁরা রাজ্যসরকারকেই ভোট দিয়ে দুই দুবার মমতা সরকারকে  ক্ষমতায় এনেছে। এই সত্য ভুললে পাপ হবে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশিদিন মানুষের মন জয় করা যাবে না। এটা মনে রাখতে হবে। মুসলিম-দলিত-আদিবাসী- সংখ্যালঘুরা মমতা ও মোদী সরকার থেকে মুখ ফেরালে নতুন সরকার রাজ্যে ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে।

৩ অক্টোবর ইমামদের বিশাল সমাবেশ শুধু ইমাম ভাতা নয় পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছিলেন ওই সমাবেশ থেকে, সমাজকর্মী ও উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

চলতি বছরের ৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিভিন্ন ইমাম ও মুসলিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এই সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরর সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি জানানো ছিল মূল উদ্দেশ্য।

‘ইমাম-মোয়াজ্জেমনদের ভাতা যথাক্রমে আড়াই হাজার এবং দেড় হাজার টাকা। এই ভাতা বাড়ানোর দরকার আছে। ইমাম-মোয়াজ্জেমনদের বাসস্থান তৈরী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি’, বলেছিলেন, ফারুক আহমেদ “সর্বভারতীয় নবচেতনা”র আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই সমাবেশের একজন অন্যতম আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

হায়দরাবাদে ইমাম সাহেবদের মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। ইদের আগে ৫০ হাজার করে বোনাসও দেওয়া হয়।

ওই দিন মাদ্রাসাগুলোতে সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা, আরো সাহায্য প্রদান করা এবং আন এডেড মাদ্রাসা গুলোর অনুমোদন দেওয়ার আবেদনসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য তাঁরা তৈরী ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমাবেশের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ ভারতের লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে। মমতা ব্যানার্জির কাছে মুসলমান ভোট খুব জরুরী। কারণ পশ্চিমবঙ্গের ৩০ শতাংশেরর বেশি ভোটার মুসলমান। বিজেপি বিরোধিতা করার কারণে মমতা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অর্জন করেছেন এবং ২০১১ সালের পর থেকে একের পর এক নির্বাচনে তার সাফল্যের বড় কারণ মুসলমান ভোট।

‘গ্রামের দিকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কথার অনেক গুরুত্ব। মমতা নিশ্চয়ই এই সমাবেশ থেকে ওঠা দাবিগুলো পূরণের চেষ্টা করবেন’ বলে জানান ফারুক আহমেদ। বাস্তবিক অর্থে মানব কল্যাণে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সরকার চরম ভাবেই ব্যর্থ হয়েছে।

এক রাজনৈতিক পর্যবক্ষেক তিনি আরো বলেন, যেহেতু মুসলমান ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই হয়ত নির্বাচনের আগে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।

ফারুক আহমেদ তাঁর মূল্যবান  বক্তব্যে আরও বললেন, সামনে ২০১৯ লোকসভা ভোট বাংলা থেকে যোগ্য ১৪ জন মুসলিমকে লোকসভার প্রার্থী করতে হবে। তাঁদের জিতিয়ে সাংসদ করার দায়িত্ব নিতে হবে মমতা সরকারকে। আর ২০২১ বিধানসভাতেও যোগ্য ৯৫ জন মুসলিমকে প্রার্থী করতে হবে। যোগ্য মুসলিম বিধায়কদেরকে জিতিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মন্ত্রীও করতে হবে। মুসলিমদের বঞ্চিত করার চক্রান্ত প্রতিহত করতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

রাজ্যসভায় ৫ জন মুসলিমকে পাঠাতে হবে। শতাংশের হিসেবে এই দবী ফারুক আহমেদ রাখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।

এছাড়াও মহা সমাবেশে ফারুক আহমেদ ইমামদের সঙ্গে রাজ্যের পুরোহিতদেরও ভাতা দেওয়ার দাবী জানালেন।

বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও “নবচেতনা”র আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ আরও বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সহ সমস্ত রাজনৈতিক দল অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসে সঠিক পদক্ষেপ নিক।

বাংলার জনপ্রতিনিধি হিসেবে মুসলিমদের সর্বক্ষেত্রে সম পলিসির বাস্তব রূপ দিয়ে সম সুযোগ দিক। রাজ্যের সরকার পরিচালিত মন্ত্রীসভায়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত দফতরেই মুসলিম প্রতিনিধিদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে না দিয়ে চরম বঞ্চিত করছে মমতা সরকার। এর অবসান চাইছে বাংলার মুসলমান ও অগ্রসর সমাজ।

আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম অধ্যাপককে কেন উপাচার্য করা হল না? ব্যতিক্রম আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া।

ডিজি বা পুলিশ কমিশনারও করা হয়নি।

ডিজি ও পুলিশ কমিশনার করা হোক মুসলিমদের মধ্য থেকে যোগ্য পুলিশ আধিকারিকদেরকে।

গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে বা অন্য রাজ্যে যদি হতে পারে তবে বাংলাতে নয় কেন? এই সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে।

মমতা সরকারের রাজত্বকালে রাজ্যের ২৩ জেলাতে কোনও মুসলিম আধিকারিক এসপি বা ডিএম নেই। শুধমাত্র ঝাড়গ্রামের ডিএম আয়শা রানি।

রাজ্যের প্রশাসনে এবং সরকারের কমান্ডিং পোস্টে কোনও মুসলিম আধিকারিক নেই। এই বৈশম্য দূর করতে মমতা সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

মমতা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে মুসলিমদের অবদান সব থেকে বেশি তবু তাদের কেন গুরুত্ব নেই। এই চরম বঞ্চনার অবসান চাইছেন বাংলার মানুষ।

কলকাতা শহরে আরও ১৯ টি মুসলিম গার্লস ও বয়েজ হোস্টেল গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। সংখ্যালঘু দফতর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে রেখেছেন।

চারিদিকে আওয়াজ উঠেছে সংখ্যালঘু কল্যাণে বাংলার মমতা সরকার চরম ভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে আগামী লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে। এখনও সময় আছে মমতা সরকার সজাগ না হলে আগামীতে বামাদের মতো হাল হবে এই সরকারের। তাই এখনও সমায় আছে সকলের জন্য সম পলিসি নিয়ে উন্নয়ন করার। সম সুযোগ ও সম পলিসির বস্তব রূপান করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিক।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন রাজ্যে ৮২ টির মতো স্বশাসিত সংস্থার কমান্ডিং পোস্টে কোনও মুসলিম নেই এই সরকারের আমলে, আমরা তা ভাবতেও পারি না।

রাজ্যের ৭ টি পুলিশ কমিশনারেট আছে কোথাও মুসলিম পুলিশ আধিকারিককে পুলিশ কমিশনার করা হয়নি।

মমতা সরাকারের আমলে সব থেকে মুসলিমরাই বঞ্চিত হচ্ছে সর্বত্র। চাকরি পাওয়া থেকে সরকার পরিচালিত সমস্ত দফতর ও প্রশাসনে এখন দেখছি মুসলিমরা পরিত্যক্ত। কেন এমন চিত্র বারবার উঠে আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল পদক্ষেপের কারণে এই রাজ্যে বিজেপি বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।

সবাই জানেন এখন বেসরকারি উদ্যোগে কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভাল ফল করে এবং সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে মূল স্রোতে উঠে আসছেন।

মিশন স্কুল গড়ে এই সফলতা অর্জনের মুখ দেখিয়েছেন বাংলার প্রখ্যাত সমাজসেবী মোস্তাক হোসেন। তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া উচিত বলে মনে করি।

এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার মোস্তাক হোসেনকে কোনও সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করতে পারে নি এটা আমাদের বড় লজ্জিত করে। বলছিলেন, ফারুক আহমেদ। অথচ রাজ্যের বহু মানুষ প্রতি মুহূর্তেই সরকারি পুরস্কার পাচ্ছেন।

অবশ্য আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, মুসলিমদের জন্য তিনি সব কাজ করে দিয়েছেন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সবার প্রিয় দিদিকে বলছি, একটু সজাগ হয়ে প্রকৃত কল্যাণকর কাজ করে মানুষের মন জয় করুন। নইলে ভোটব্যাঙ্ক ঘুরে যেতে বেশি সময় লাগবে না।

২১ জুলাই ২০১৮ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিপু সুলতান মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজান শুনে তিনি ফিরহাদ হাকিমকে বলেছেন এসব বন্ধ করতে হবে তিনি টলারেট করবেন না সংবাদে খবর টি প্রকাশ পেয়েছে এবং মুসলিম সমাজ বেজায় চটেছেন। তাঁর মুখ ও মুখোশ দেখে বাংলার মানুষ চরম ভাবেই আঘাত পেয়েছেন।

ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি সকল চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চিত না করে প্রকৃত যোগ্যদের চাকরি দিন। ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি সকল চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চিত করার চক্রান্ত বন্ধ করতে উদ্যোগ নিন।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সচেতন মুসলমানদের আর বোকা ও লেঠেল বাহিনি বানানো যাবে না এটা মনে রাখতে হবে।

আমরা বাংলাতে শান্তিতে থাকতে চাই তাই কাকে ভোট দেব তা আমরা ঠিক করব।

বিভেদকামী শক্তিকে রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ফারুক আহমেদ বললেন, রাজনৈতিক হিংসাতে বহু মুসলিম খুন হচ্ছেন এই রাজনৈতিক খুন বন্ধ করুন। পঞ্চাশেত নির্বচনে জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের বোর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হচ্ছেt না। সর্বত্র এই অভিযোগ উঠে আসছে। এর প্রতিকার করুন নইলে আগামী দিনে মুসলিম ভোট সরে যাবে আপনার পাশ থেকে। আমরা মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলী থেকে বাঁকুড়া সর্বত্র এক চিত্র দেখছি। এটা অশুভ প্রয়াস।

দলিত ও সংখ্যালঘু কল্যাণে তরুণ তুর্কী নেতা ফারুক আহমেদ মহা সমাবেশ ও ধিক্কার মিছিলে এই জোরাল বক্তব্য রাখেন।

দলিত নেতা সমীর কুমার দাস, কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, বীরেন মাহাতো, সুচেতা গোলদার, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, ড. পীযুজ গায়েন সহ বহু নেতাকর্মীরা ৬ ডিসেম্বর কলকাতার রাজপথে হাজার হাজার দলিত ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে আবা‌র পথে নামবেন এই চরম বঞ্চনার অবসান ঘটাতে।

ফারুক আহমেদ সংবাদিকদের বলছিলেন, আপনারা জানেন চল্লিশ লক্ষ মানুষ রাতারাতি রাষ্ট্রহীন, নিজের পাড়ায় নিজের বাড়িতে শরণার্থী। তাদের নাম নেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে। তাঁরা কোথায় যাবেন, কোন দেশে যাবেন কেউ জানে না। এই ভয়ঙ্কর অমানবিক ঘটনার জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের জবাব দিতে হবে। এবার সময় হয়েছে পথে নামার। রাস্তাতেই একমাত্র রাস্তা। তাই রাস্তাতে নেমেই প্রতিবাদ জানাতে কলকাতার মেয়ো রোডে হাজার হাজার মুসলিম জোটবদ্ধ হয়ে এর প্রতিকার চেয়ে সোচ্চার হলেন মহা সমাবেশ থেকে ৩ অক্টোবর।

মহান ভারতকে পবিত্র রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ওরা কারা মানুষ নয় মানুষের মতো দেখতে অন্য কিছু। বিভেদকামী শক্তিকে রুখতে হবে। আমাদের দেশকে রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

সম্প্রীতির পক্ষে, বিভাজনের বিরুদ্ধে এবং অস্তিত্ব রক্ষায় বিশিষ্টজনের সভা ও আলোচনার আয়োজন করতে হবে সর্বত্র। দলমত নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে রুখে দিতে হবে বিভেদকামী শক্তিকে।

ভারতের আসমের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তারা অবশ্য হিন্দু শরণার্থীদের বিতাড়নের কোনও প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পক্ষে সাফাই দিয়েছে।

সম্প্রতি সংগঠনটির রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এনআরসি ছাড়াও ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘লাভ জিহাদ’ ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ইত্যাদি বিতর্কিত ইস্যুতে মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, এভাবে তারা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি জম্মু-কাশ্মীরেও তারা পৌঁছে গেছে। রাজ্য সরকার আগুন নিয়ে খেলা করছে। ‘ঘর ওয়াপসি’ (বিভিন্ন কারণে যারা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা) বা ‘ঘরে ফেরানো কর্মসূচি’ রূপায়ণের জন্য দুর্গাবাহিনী ও বজরং দলের সদস্যদের নিয়ে একটি মঞ্চ গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি কাজে লাগানো হবে মঠ-মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে। তাদের অভিযোগ, এখানে হিন্দুদের দেবত্তর সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি জোর করে দখল করে নেয়া হচ্ছে এবং কম দামে কিনে নেয়ার মধ্য দিয়ে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ চলছে। অন্যদিকে, তারা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ভালবাসার ছলে ধর্মান্তরকরণ) রুখে দিতে মানুষজনকে বোঝাতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাবে। এইসব বিভাজন করে ভারতের ও বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারবে না বিজেপি ও আরএএস।

পশ্চিমবঙ্গে ওরা কখনও সফল হবে না, এসব প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের সহ অধিকর্তা, সর্বভারতীয় নবচেতনার আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ সংবসদ মাধ্যমকে বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ওরা একবিন্দুও সফল হতে পারবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য ছোটখাট দাঙ্গার মধ্য দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করার চক্রান্ত করেও ওরা চরমভাবেই বাংলায় ব্যর্থ হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি করে সম্প্রীতির বাংলায় কখনও সফল হবে না বিজেপি। বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। দেশের বৈধ নাগরিকদের অন্যায়ভাবে বিদেশি বানিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসী সোচ্চার হচ্ছেন, এটাই আশার আলো। আমরা আগে দেখেছি বিজেপি সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে বিভাজন করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে।

আসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে লাখ লাখ বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র কোন উদ্দেশ্যে তা আমরা বুঝতে পারছি। এভাবে আসম থেকে বাঙালি মুসলিম ও হিন্দুদের খেদিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না কেন্দ্র ও অসম সরকার।’

তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ভারতকে ওরা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানাতে পারবে না। ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। সংবিধানকে কলঙ্কিত করার উদ্যোগ সুস্থ নাগরিকরা মেনে নেবেন না। মিশ্র সংস্কৃতির দেশ ভারত। ভারতীয় সংবিধানের অমর্যাদা প্রকৃত ভারতবাসীরা মেনে নিচ্ছে না। ভারতকে যারা অপবিত্র করছে তারা মানুষ নয়, মানুষ নামের অন্য কিছু। ভারত আমাদের মাতৃভূমি। যেভাবে ওরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে ভারত গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে অন্য দেশের থেকে।’

ফারুক আহমেদ বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে কোনোরকমভাবে ওরা দাঁত ফোটাতে না পেরে এখন একেকটা ইস্যু তোলার চেষ্টা করছে। এখানে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা সব ধর্ম, সব বর্ণের মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। যেজন্য গোটা ভারতের বিরোধীশক্তি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছেন। সেই ভয়ে  বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গে আশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। মহান ভারতকে ওরা আর কত নীচে নামাবে!  আশা করি ভারতবাসী আগামী লোকসভা নির্বাচনে যোগ্য জবাব দেবেন।”

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে দেশের সুনাগরিকরা বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করবেন আশা রাখি বলেও মন্তব্য করেন ফারুক আহমেদ।

বাংলার প্রতি প্রান্তে “নবচেতনা” ফিরিয়ে সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে দলিত ও সংখ্যালঘুদের কল্যাণে ফারুক আহমেদরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছেন।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন, “বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করতে পারবেন বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ও অন্য সব বিরোধী শক্তি।

ভারতের সংবিধানে যে মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরার প্রয়াসে অনেক কিছু জানা যাবে। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা যাবে।

মৌলিক অধিকার

[Fundamental Rights of Indian Constitution]:

ভারতের সংবিধানের তৃতীয় অংশে ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারায় ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কোনো আইন ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি ক্ষুন্ন করতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্য বিশ্বের খুব কম সংবিধানেই পরিলক্ষিত হয়। ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলি লিখিত ভাবে স্বীকৃতিদানের ফলে নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করেছে। এই অধিকারগুলির মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। মূল ভারতীয় সংবিধানে সাত প্রকারের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ থাকলেও ১৯৭৮ সালে ৪৪ তম সংশোধনীর দ্বারা সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার অধিকার ভাঙলে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে তার প্রতিকার করা যায়।

বর্তমানে মৌলিক অধিকার ৬টি, নিম্নরূপ :

(১) সাম্যের অধিকার [Right to Equality] : জাতি, ধর্ম, বর্ণ, স্ত্রী, পুরুষ নির্বিশেষে প্রতি নাগরিকের সমান অধিকার।

(২) স্বাধীনতার অধিকার [Right to Freedom]: বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, ইউনিয়ন গঠন, দেশের সর্বত্র স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার।

(৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার [Right against Exploitation]: বিনা বেতনে বেগার খাটানো, মানুষ ক্রয় বিক্রয়, ১৪ বছরের কম বয়সের শিশুদের কারখানা বা খনির কাজে লাগানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার [Right to Freedom of Religion]: কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হতে পারেন এবং কোনো নাগরিককে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা যাবে না। ব্যক্তির ইচ্ছে অনুযায়ী ধর্ম পালন করার অধিকার আছে।

(৫) সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার [Cultural and Educational Rights]: নাগরিকদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের ভিতর ধরা হয়েছে।

(৬) সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার [Right to constitutional remedies]:- কোনো নাগরিক উপরিউক্ত অধিকারগুলি বা কোনো একটি অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্রতিকারের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সংবিধানে নাগরিকদের কর্তব্যের কথাও বলা হয়েছে। যথা— সমাজের মঙ্গলের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থত্যাগ, আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রভৃতি। সংবিধানের নির্দেশক নীতি দ্বারা জনকল্যাণমূলক নির্দেশক নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। অধুনা এই নির্দেশক নীতিকে বাধ্যতামূলক করার প্রবণতা সংবিধানে দেখা যায়। ভারতের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলি অবাধ নয়। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অধিকারগুলির ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেমন:

(১) রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো।

(২) আদালত অবমাননা।

(৩) অশালীনতা প্রভৃতি ঘটনা ঘটলে ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়।

(৪) বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতরাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলিকে সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রিত বা খর্ব করতে পার।

(৫) দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলিকে খর্ব করা যায়।

বাংলার মানুষের কল্যাণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। বাংলার সকল ধর্মের ও বর্ণের সচেতন মানুষ শান্তিময় জীবন অতিবাহিত করতে চান তাই বাংলাকে পবিত্র রাখতে তাঁরা বিভেদকামী শক্তিকে প্রতিহত করবেই। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। পুলিশ ও প্রশাসনকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিতে হবে তোলাবাজি বন্ধ করতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ সর্বত্র তোলা তোলার সংস্কৃতি দূর করতে তিনি বদ্ধপরিকর হয়ে উঠুন।

সকল সচেতন মানুষ কেন সর্বভারতীয় নবচেতনাতে যুক্ত হবেন। নবচেতনার সভাপতি
ড. হুমায়ুন কবীর আইপিএস “সর্বভারতীয় নবচেতনা” প্লাটফর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্যগুলি তুলে ধরেছেন।

১. মুসলিম ও অনগ্রসর যুব সম্প্রদায়ের সার্বিকভাবে মুসলিম ও অনগ্রসর সমাজের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানো। আমরা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, বরং যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এর অপরিহার্যতা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু মুসলিমদের সামাজিক ক্ষেত্রে ও ব্যক্তিজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এই প্লাটফর্মের উদ্দেশ্য হল মুসলিম ও অনগ্রসর ছাত্র/যুব সম্প্রদায়কে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা।

২. লক্ষ্য করা গেছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের একাংশ ও অনগ্রসরদের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক অপরাধ, বিভিন্ন বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের এই সব মন্দ ক্ষেত্র থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করা।

৩. আরো দেখা যাচ্ছে যে, মুসলিমরা ও অনগ্রসরা ভবিষ্যত বিষময় ফলাফলের কথা চিন্তা না করেই ব্যাপকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, রাজনৈতিক হানাহানি এবং অন্য অনেক অবৈধ কাজে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। মুসলিম সমাজে এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। অনেক মুসলিম ও অনগ্রসরা এতে প্রাণ হারাচ্ছে, অনেকে আহত হচ্ছে, আবার অনেকেই মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ কুফল সেই মুসলিম ও অনগ্রসর পরিবারগুলিকে এবং সার্বিকভাবে মুসলিম সমাজকে ভুগতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করবো তাদের এই খারাপ পথ ও পন্থাগুলির কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনতে।

৪. আমরা আন্তরিকভাবে মুসলিম যুবসমাজের জীবনের মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাবো।

৫.আমরা কঠোরভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে এবং অন্য সমস্ত জাতি,ধর্ম, বর্ণের সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে সহনশীলতার মহান আদর্শ বজায় রাখবো।

৬. আমরা কখনো কারো প্রতি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক একদেশদর্শীতা দেখাবো না।

৭. এককথায়, আমরা কখনোই সমাজের কারো প্রতি খারাপ মনোভাব পোষণ করবো না।

৮. আমাদের লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় সমাজে টিকে থাকার পথ অনুসন্ধান,অনুসরণ এবং সরকারি ক্ষেত্রে যে সব সুযোগ সুবিধা আছে সেগুলি সম্বন্ধে কওমের সকলকে সচেতন করা।

৯. আমরা চেষ্টা করবো ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার।

১০. আমাদের এই প্লাটফর্ম আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষকে সময় সময় দেশের উন্নয়নের ও অগ্রগতির হালহকিকত সম্পর্কে অবগত করে এবং এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের এগিয়ে যাবার পন্থা অনুসন্ধান করবে।

১১. সমস্ত ধরণের মুসলিম সংগঠন, সে শিক্ষা, সমাজ, ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ যে কোনো ধরণেরই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে যোগসুত্র গড়ে তোলা।

আমাদের লক্ষ্য হবে বেশি সংখ্যক মুসলিম ও অনগ্রসর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।

যদি আমরা সকলে ঐক্যমত হই এবং কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজের এই দুর্বল শ্রেণীর কাছে পৌঁছে তাদের তুলে আনতে পারবো।

মুসলিমদের ও অনগ্রসরদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য আমরা এমন একটি প্লাটফর্মের প্রয়োজনীতা অনুভব করেছি যাতে আমরা এই সমাজের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবী-দাওয়া সমন্বিত জোরালো আওয়াজ তুলতে পারি।

কিন্তু আমাদের সদস্যদের সদা সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে যে আমরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি যেন কোনোরূপ ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ না করে ফেলি।

সকলের প্রতি আমাদের বিনম্র ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর অন্য যে বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে তা হল, আমরা দেশের আইন কে মর্যাদা ও সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলবো। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে আমরা বিনীত ও বিনম্রভাবে এগিয়ে যাবো। এই বিনীত-বিনম্র কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপই আমাদের সাফল্য লাভের পথ হয়ে উঠবে।

“সর্বভারতীয় নবচেতনা”র আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ সংযোজন করে বললেন এই মুহূর্তে বাংলার ২৩ টি জেলায় “সর্বভারতীয় নবচেতনা” মানুষের কল্যাণে যে সব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

১. ল সেল (আইনি সহায়তা দান)।

২. মেডিক্যাল সেল (চিকিৎসা সহায়তা দান)।

৩. শিক্ষা সেল (আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সহায়তা)।

৪. কেরিয়ার কাউনসেলিং সেল (চাকরি পাওয়ার জন্য বা জীবিকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সুপরামর্শ দিয়ে সহায়তা)।

৫. সোশাল জাস্টিস সেল (সামাজিক ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা)।

৬. মিডিয়া সেল (মত ও নীতি প্রচার সেল) ইত্যাদি।

আল ইন্ডিয়া নবচেতনাতে যুক্ত হতে নাম লেখাতে পারেন এই নম্বরে +৯১ ৭০০৩৮২১২৯৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here