এক দুই তিন বিজেপিকে বিদায় দিন – জয়ের দিনে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার দিদি নম্বর ১

0
314
Mamata Banerjee and Faruque Ahamed
Mamata Banerjee and Faruque Ahamed

এক দুই তিন বিজেপিকে বিদায় দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

ফারুক আহমেদ  

সম্প্রতি অমিত শাহ জানিয়েছেন দেশ জুড়ে এনআরসি হবে। সাধারণ মানুষ মনে মনে শপথ নিয়েছেন এবার দেশ জুড়ে মোদী ও শাহের জামানার অবসান করতে বিরোধী দলের জয় সুনিশ্চিত করতে ভোট দেবেন। সম্প্রতি রাজস্থান ও বাংলার উপনির্বাচনের ফলে বিজেপির পতন হয়ে।  শুভ সূচনা বলাই যায়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভূমিকায় বিরোধী জোট মোদী সরকারের পতন সুনিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগী হবেন। দেশ জুড়ে হাহাকার চলছে। চাকরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাস্তা বিপন্নতায় ভরপুর। বাংলা আলো দেখিয়ে ভারতের মাটি পবিত্র করবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে মোদী সরকার বাহাদুর ব্যর্থ হয়েছে।                                 

আমরা বাবরি মসজিদ তৈরীর ইতিহাস জানি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কালো ইতিহাস আজও ভুলতে পারিনি। বাবরি মসজিদ নিয়ে নোংরা মানসিকতার ছবি ফু্টে ওঠে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মুখে আজও যা আমাদের কাছে বড়ই পীড়াদায়ক। বাবরি মসজিদ নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা যুক্তির লেখা পড়লে মন খারাপ হয় আর আরও ভীতু হয়ে পড়ি। আমরা ভারতীয়। মন্দির এবং মসজিদ তৈরী করা নিয়ে এবার আশা রাখি রাজনীতির অবসান হবে। মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট যা রায় দিয়েছেন তা গোটা পৃথিবীর মানুষ জেনেছেন।      

আমাদেরকে আর কত দিন পর মানুষ ভাবা হবে? আমরা আর সংখ্যালঘু হয়ে বাঁচতে চাই না। আমরা ভারতীয়, তাই চতুর্থ নাগরিক হিসেবে না ভেবে ভারতীয় ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন দেশের সুনাগরিকের মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বাঁচতে দেওয়ার আয়োজন করতে হবে সরকারকেই।   

আমাদেরকেও ভারতের সংখ্যাগুরুদের মতোই সমান সুযোগ ও গুরুত্ব দিয়ে মানুষ করে গড়ে তুলতে সরকারের কাছে আবেদন।      আর কত বছর লাগবে মানসিকতার পরিবর্তন করতে? দেশ স্বাধীন করতে আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মার বলিদানকে কখনও বিশ্ব-ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না মোদীর ভারত। মনে হয়, তা কখনও সম্ভবও নয়। ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার যে আয়োজন দেখছি তা  সত্যি খুবই বিপজ্জনক। গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুরা সম্প্রতি যে ভাবে কোণঠাসা হচ্ছেন বা বঞ্চিত হচ্ছেন তাতে করে দেশের সংবিধানের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে, সংবিধানের অবমূল্যায়ন ঘটানো হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হলে সংখ্যালঘুরা ভারতে আরও নিরাপদ ও সম্মানিত হয়ে বাঁচতে পারতেন। গান্ধীর ভারত আজ বিপন্ন হচ্ছে, আর মোদীর ভারত দিন দিন প্রকটভাবে উঠে আসছে। সাচার রিপোর্টে দেশের মানুষ দেখেছেন, মুসলমানদের কি করুণ চিত্র। ভয়াবহ অবস্থা দেশ জুড়ে মুসলমানদের যা ভেসে উঠেছে। যাট আজও প্রতিকার তো হয়নি বরং আরও বঞ্চনার চিত্র চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, মুসলমানদের জন্য ভারতের মাটি সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য কত কঠিন। সংখ্যালঘু দু’চারজন মুসলমানকে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ধর্মান্ধ সংখ্যাগুরু সম্প্রাদায়ের কিছু দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকরা।   

ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য যে ভারত বিশ্বকে আলো দেখিয়েছে সেই ভারতের দিকে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সচেতন মানুষ আঙুল তুলছেন, সহিষ্ণু উদার ভারত সবাইকে অবাক করে দিয়ে মোদী সরকারের হাত ধরে অসহিষ্ণু ভারত রূপে দ্রুত চিহ্নিত হয়েছে।    

উদার ভারত বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভারতীয় আর্য, অনার্যরাই পারে সব অশুভ আয়োজন রুখে দিতে। সময় এসেছে ভারতকে রক্ষা করার, নইলে বিশাল একটা ভাঙনের শিকার হতে চলেছে সম্প্রীতির অটুট বন্ধন। আশাবাদী ভারত ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেবে মোদী সরকারের ভুল পদক্ষেপ গ্রহণে কত পিছিয়ে আছে।   

ক্ষমতা নয় দেশের সাধারণ মানুষ শেষ কথা বলে। চালাকি দিয়ে আর যাই হোক মানুষের নেতা হওয়া যায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশ পরিচালনা করতে মোদী সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।  এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই বলে মনে করি।                                                                                  

বাংলার বিগত চৌত্রিশ বছর বাম শাসনে দেখেছি ইতিহাস ঘেঁটে সংখ্যালঘুদের চাকরি, শিক্ষা, বাসস্থান ও সামাজিক সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের কোনও চেষ্টাই করেনি তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় সংখ্যালঘুদের সংকট বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। জ্যোতি বসুর শাসনকালে মুসলিমদের জন্য চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের দাবি তুলেছিলেন জনাব হাসানুজ্জামান। তাতে জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘জনাব হাসানুজ্জামান কি মুসলমানদের জন্য কারাগারেও সংরক্ষণ চাইছেন?’ 

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তার জমানায় বলেছিলেন, ‘মাদ্রাসা-মক্তব হল সন্ত্রাসবাদ-এর আখড়া।’ এই চরম অপমানের বদলা বাংলার মানুষ ও সংখ্যালঘু সমাজ ভোটবাক্সে দিয়েছেন। 

মনে রাখতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িকতা সংখ্যালঘিষ্ঠের সাম্প্রদায়িকতার চেয়ে বহুগুণে ধ্বংসাত্মক আর শক্তিশালী। সংখ্যাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িকতাবাদী রাজনীতি মুসলমানদের অস্তিত্বকেই ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, জহরলাল নেহেরু একথা স্পষ্ট করে লিখেছিলেন। এর সত্যতা বারবারই প্রমাণিত হয়েছে। গোটা দেশে এই মুহূর্তে সংখ্যালঘু সাংসদ সংখ্যা মাত্র ২৭-এ নেমে এসেছে। ২০১৯ নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম বিজেপির নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে একজনও মুসলিম সাংসদ নেই।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবাংলায়  সংখ্যালঘু প্রার্থীদের মধ্যে যারা লোকসভা ভোটে বা বিধানসভা ভোটে জিতেছেন, ভাল কাজ করলেও তাদের অনেককেই প্রার্থী করা হয় না বা আসন বদল করা হয়। ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। 

কখনও-বা ঠেলে দেওয়া হয় হেরে যাওয়া আসনগুলিতে। মুসলিম প্রার্থীদেরকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়াও হয় সুচতুরভাবে। 

সাধারণ মানুষ কিন্তু রাজনীতির এসব প্যাঁচপয়জার বোঝে না। তারা চায় প্রত্যেক এলাকায় আধুনিক মানের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠুক। যেমন মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন জেলার মানুষ, যা আজও বাস্তবায়িত হয়নি যদিও

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খানিকটা হলেও সে দিকে অগ্রসর হতে পেরেছেন। বিল পাশ করেছেন মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু আজও পঠন-পাঠন চালু হয়নি বা অর্থ বরাদ্দও করা হয়নি। এখনও উপাচার্য নিয়োগও হয়নি। তবে কৃষ্ণনাথ কলেজ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিল নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এর মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মহাসচিব ও উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষা প্রসারে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। অনেকগুলি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি নতুন কলেজ খুলেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তবুও বহু জেলাতেই

আরও অনেক সাধারণ স্কুল-কলেজ সহ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গড়ার প্রয়োজন প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। 

২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে সংখ্যালঘুদের বিপুল সমর্থন পেতে সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। এখন দেখার ২০২১ সালের নির্বাচনে কোন দল কীভাবে বাজিমাত করে।

সংখ্যালঘুদের বিপুল সমর্থন পেতে চাইবেন সব দলই। এখন থেকেই এই সংখ্যালঘুদের মন জয়ে সকল রাজনৈতিক দল নানা কৌশলে বাজিমাত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। 

বাম-কংগ্রেস ও বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস-এর দিকে থাকা মুসলিম ভোটে থাবা বসাতে চাইছেন। তবে সচেতন সংখ্যালঘু সমাজ সমস্ত অতীত অভিজ্ঞতাকে স্মরণে রেখে যথাযথ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলেই মনে হয়।

বিগত ৩৪ বছর বাংলার মানুষ দেখেছেন সংখ্যালঘুদের সামাজিক সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের কোন চেষ্টাই করেনি তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। রাজ্যের ২৩টা জেলায় বামফ্রন্টের পার্টি সম্পাদক আছেন, কিন্তু কোনও মুসলিমকে আজও সম্পাদক পদে বসাতে পারেননি বাম কর্তারা।

বামফ্রন্টের কর্তারা বলেন, তারা নাকি অন্যদের থেকে অসাম্প্রদায়িক। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে কখনও মুসলিম আধিকারিককে বসাতে পারেননি কেন, এই প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। এই কালো ইতিহাস বাংলার মানুষ এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবেন না, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

এরই পাশাপাশি আমরা দেখেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিগত বছরগুলোতে কয়েকজনকে জেলা পরিষদের সভাধিপতির আসনেও বসিয়েছেন। এমনকি কলকাতা মহানগরীর মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন জনাব ফিরহাদ হাকিম। তিনি ধর্মসম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের আস্থা অর্জন করে চলেছেন — বিগত বামফ্রন্ট সরকার যা কখনও ভাবতেই পারেনি। 

রাজনৈতিক দলের কর্তারা শুধু ভোটের সময় ভোট লুঠ করতে আর লেঠেল বাহিনী করে মুসলিমদের এবং দলিতদের এগিয়ে দিয়েছে সুচতুরভাবে। মারছে মুসলিম, মরছে মুসলিম। আর মরছে দলিতরা। দেশের ও বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ ভুলে যায়নি তাদের চালাকি ও অত্যাচারের কথা। 

অপ্রত্যাশিত দেশভাগের ফলে সাবেক বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সমাজ পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। মানসিক অস্বস্তিকাতরতায় আচ্ছন্ন মুসলমান জাতিসত্তা এই সাত দশকের মাঝে এসে কোন অবস্থানে?

স্বাধীনোত্তর পশ্চিমবাংলায় জীবন বিকাশের সবক্ষেত্রে বিশেষত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে নানা মতাদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ‘গণতান্ত্রিক সাম্যতাহীন’ নির্লজ্জ স্বার্থসিদ্ধি আর নানাবিধ ধান্ধাবাজির সওয়ালে দাবার বোড়ে হিসেবে অর্থাৎ ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে মুসলমানদের ব্যবহার করেছে। এই নিঃসহায় ধর্মীয় সম্প্রদায়কে মাদারি নাচের উপাদান করে তুলেছে। হরেক কিসিমের কারসাজির উৎসকেন্দ্রকে এক নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে যা স্পষ্ট তা খোলসা করে বলা দরকার। সত্য নির্মম, সেক্ষেত্রে কাউকে রেয়াত করার প্রশ্নই ওঠে না। সে সুযোগও নেই, কেননা কঠোরভাবে একেশ্বরবাদী এই ধর্মবিশ্বাসী সমাজ ‘সিউডো সেকউলার’, নরম ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের সমস্ত রকমের ফন্দি আর ফিকির অনুধাবনের পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করেছে। 

দেশবিভাগের পর তারা অন্তবিহীন সমস্যায় আক্রান্ত, জর্জরিত এবং তার রাজনৈতিক সমাধান কোন পদ্ধতিতে সম্ভব তার তত্ত্বগত, কৌশলগত আর পরিস্থিতি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরাপারঙ্গম হয়ে উঠেছেন।

তার প্রমাণ তাঁরা দিয়েছেন বিগত দুই বিধানসভা ও ২০১৪ ও ২০১৯ লোকসভা ভোটে।

কোনও ‘ললিপপ’ আজ তাদের তৃপ্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অতলান্তিক সমস্যা আর অস্তিত্বের সংকটগুলো অতিক্রম করে কিভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁরা থাকবেন  তার পূর্ণ একটি ছকও সংখ্যালঘু মনে ক্রিয়াশীল। বিজেপি এনআরসি নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা হারিয়েছে। হিন্দু মানুষজন তাদের পাশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন দ্রুত। 

 ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর। 

বিরোধীরা এই বাংলায় সুবিধাজনক অবস্থায় আসতে চাইলে সংখ্যালঘুদের উপেক্ষা করে তা সম্ভব হবে না বলেই মনে করি। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র নেত্রী এনআরসি নিয়ে তিনি কঠোর গলায় বলে দিয়েছেন বাংলাতে তিনি বেঁচে থাকতে এনআরসি হতে দেবেন না।  

বিগত বাম শাসনের অহমিকা, ঔদ্ধত্য, ভণ্ডামি আর দুর্নীতির গহ্বরে নিমজ্জিত তৎকালীন তস্কর শাসকগোষ্ঠীর বলির পাঁঠা হতে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন আর আগ্রহী নয়।

বাম জমানায় প্রশাসনিক বদমায়েশি সম্পর্কে নিরন্তর প্রতিবাদী হয়ে-ওঠা সমাজ এখনও সচেতন আছেন। তারা ভুলে যায়নি জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় সংখ্যালঘুদের সংকট চরমভাবে বেড়ে গিয়েছিল। সর্বদিক থেকে তাদের হাতে না মেরে ভাতে মারার সেই সুকৌশল আজও ভোলার নয়। এই চরম অপমানের বদলা বাংলার মানুষ ও সংখ্যালঘু সমাজ ভোটবাক্সে দিয়েছেন। যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিধান চন্দ্র রায়ের পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সকলকেই চমকে দিয়ে ২১১টা আসনে জয়ী হয়েছিল বিগত বিধানসভা নির্বাচনে। 

গোটা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মিটিং-মিছিল করে জোটের মুখে ঝামা ঘসে ও চুন-কালি মাখিয়ে তাদের পতন সুনিশ্চিত করেছিলেন বাংলার অবিসংবাদি যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষ। 

সামনের নির্বাচনে সব দলগুলো সংখ্যা অনুপাতে ৩০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিক এই দাবী উঠছে এখন থেকেই। 

যেসব ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতেও বর্তমান সরকারকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। 

উচ্চশিক্ষায় চাকরিতে মুসলমানদের অবস্থান নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখছি প্রতিনিয়ত অধ্যাপক, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমশ কমছেই, এর প্রতিকার হওয়া দরকার। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিলেই উঠে আসে করুণ চিত্র। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদের চাকরি ও অবস্থান নেই বললেই চলে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে রাজ্য সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নিতে হবে। 

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানায় হাতে-পায়ে ধরে কেউ কেউ সরকারি পদে বসেছেন। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও হয়েছেন কিন্তু তাদের সরকার বিরোধী কার্যক্রম দেখে তাজ্জব বনে যাই।

আশার কথা, মানবিক চিন্তাচর্চায় যথার্থ আগ্রহী সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মেধাজীবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সমাজ-রাষ্ট্রচিন্তক, সর্বোপরি আম-জনতার মধ্যে থেকে সচেতন অংশটি বাম শাসনের প্রশাসনিক বদমায়েশি সম্পর্কে নিরন্তর প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘিষ্ঠ সমাজ থেকে উদ্ভূত প্রতিনিধিস্থানীয় সমাজ-বেত্তা, প্রাবন্ধিকদের ভাবনাচিন্তাকেও তুলে ধরেছিলাম আমার  সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন ‘কংগ্রেস ও বাম শাসনে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক’ গ্রন্থে। 

সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের একটি অংশ, যারা আজও উটপাখির মতো মরুবালিতে মুখ গুঁজে উপেক্ষিত অংশের জাগরণকে স্বীকার করতে দ্বিধান্বিত, তাদের বোধোদয় হবে এমন প্রত্যাশা করা যায়। বাম শাসনের অবসান ঘটাতে আমরাও এগিয়ে এসেছিলাম। পরন্তু সীমাহীন রাজকীয় ক্ষমতানির্ভর সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে ঘাড়ে-গর্দানে এক-হয়ে-যাওয়া বামফ্রন্টের রাজাবাবুরা এতদিনে যে সংখ্যালঘিষ্ঠ সমাজাংশের উপস্থিতিকেই স্বীকার করতো না, আজ তারাই বেমক্কা নির্লজ্জভাবে ছুটে যাচ্ছেন সংখ্যালঘুদের কাছে।

সংখ্যালঘুরা চান সমদৃষ্টি সমাজবিকাশ। তারা সময়ের বিচার করে এবং বিপুলভাবে জয় দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন মমতা সরকারকে। আগামীতে বঞ্চনার অবসান ঘটাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সঠিক ভাবে কাজ না করলে তাদেরকেও সাধারণ মানুষ ভোটবাক্সে জবাব দিয়ে দেবেন। তাই সাধু সাবধান। 

তবে বহু ক্ষেত্রে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন বৈষম্য না করে উন্নয়ন করা যায়। তাই উন্নত, ঐক্যবদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল ভারত গড়ার লক্ষ্যে বাংলার ৪২টা লোকসভা কেন্দ্রে প্রকাশ্য জনসভা করেছেন বাংলার জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী ভোট প্রচারে তাঁর জনসভা গুলো জনসমুদ্রের আকার নিয়েছিল। কিন্তু মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে কী পাপ করেছিল তা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন। এনআরসি নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে বিজেপি বাংলায় দ্রুত মাটি হারিয়ে ফেলছে।

গণতন্ত্র ও সংবিধান আজ বহু রাজনৈতিক নেতাদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে। গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচাতে দেশের সাধারণ নাগরিকদের আরও সচেতন হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে হবে। ইভিএম কারচুপি রুখে স্বচ্ছ সরকার উপহার দিতে জনসাধারণকে আরও সচেতন হতেই হবে। 

দেশের সুনাগরিকগণ আগামীতে ভালবাসার দেশকে রক্ষা করতে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন এই আশায় আমরা। বাংলাতে এনআরসি নিয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার আতঙ্ক দূর করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই মহান কান্ডারী হতে পারবেন কিনা তা সময় বলবে। অবশ্য ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে বাংলায় এই নিয়ে জনতা বিভ্রান্ত।      

ইতি

বিনীত 

ফারুক আহমেদ ,সম্পাদক-প্রকাশক উদার আকাশ। ,অফিস কো-অর্ডিনেটর,

রসায়ন বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক ইতিহাস বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী, নদীয়া-৭৪১২৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here