
মায়াপুরে শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের ৮৪তম আবির্ভাব তিথি পালিত, উদ্বোধন হল আধুনিক গেস্ট হাউস ও ‘গোপাল’স প্রসাদম হল’
আইবিজি নিউজ | মায়াপুর, নদিয়া | ১ জুলাই
গৌড়ীয় বৈষ্ণব এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের ৮৪তম আবির্ভাব তিথি ও ব্যাসপূজা উপলক্ষে বুধবার নদিয়ার মায়াপুরে নবনির্মিত শ্রীশ্রী গৌর-নিতাই মন্দিরে ভক্তিমূলক পরিবেশে পালিত হল এক বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই শুভ উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য শিষ্য, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি নতুন গেস্ট হাউস এবং ‘গোপাল’স প্রসাদম হল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।
সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তি, কীর্তন ও আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে। গুরুপূজা, বিশেষ আরতি, শাস্ত্রপাঠ, হরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের আবির্ভাব তিথি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের জীবনদর্শন, ভক্তিসেবা এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে তাঁর অনন্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এর আগে, গত ২৯ জুন মন্দিরে আয়োজিত হয়েছিল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা মহোৎসব। একই দিনে প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের পরম গুরুদেব, পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য ১০৮ শ্রীশ্রীমদ্ ভক্তিশ্রীরূপ ভাগবত গোস্বামী ঠাকুরের ১২০তম আবির্ভাব তিথিও ভক্তিভরে উদযাপিত হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারা বছরই দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও ভক্ত মায়াপুরে আসেন। তাঁদের আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করেই নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এই নতুন গেস্ট হাউস। পাশাপাশি উদ্বোধন হওয়া ‘গোপাল’স প্রসাদম হল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক বৈষ্ণব প্রসাদ এবং নিরামিষ আহারের সুযোগ পাবেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন পরিকাঠামো ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা প্রদান করবে এবং মায়াপুরে ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের আবির্ভাব তিথিতে এই উদ্যোগের সূচনা তাঁর ভক্তিসেবা, অতিথিসেবা এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতি প্রসারের আদর্শকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ভক্ত ও আয়োজকরা।
মায়াপুরে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ভক্তদের কাছে শুধু একটি আধ্যাত্মিক উৎসবই নয়, বরং গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্য, সেবাধর্ম এবং অতিথি-পরায়ণতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
















