ড:পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় চাইল্ড স্পেশালিস্ট ও সাহিত্যিক
১৫.০৪.২০২০,কলকাতা,ভারত
#কোভিড_১৯
#লকডাউন_লকডাউন_লকডাউন
প্রথম পর্যায়ের লকডাউন গতকাল শেষ হলো।আমার আন্দাজ করেছিলাম এর একটা দ্বিতীয় পর্যায় আসবে,এবং তা এসেছে।লকডাউন বন্ধ যদি না হয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ,পঞ্চম,ষষ্ঠ এইভাবে যদি পর্যায়ক্রমে চলতেই থাকে তাহলে তাতে সরকারের দায় থাকবে কেবলমাত্র নাগরিকদের বিশ্বাস করায়। সিংহভাগ দায় থাকবে আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন নাগরিকদের।আমরা সরকারি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংগঠনগুলোর কথা শুনি না।গরীব মানুষের রুটি রাজি মারতে না চেয়ে ছোট দোকানিদের দোকান, ফুলের বাজার, সব্জি ও মাছের বাজার খোলা রাখলেও তার ভিড় সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন নি নাগরিকদের প্ৰতি আস্থায়,যার ফলশ্রুতি ভুগছে সরকার,শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।….আমরা সব জানি।(পড়ুন নির্বোধ,দায়িত্বজ্ঞানহীন)।আমাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আরো সব কারণগুলো পরপর সাজিয়ে দিচ্ছি।
■অকারণ প্রাতভ্রমণ চলছে।কখনো কুকুর নিয়ে।কখনো জগিং এর আছিলায়। স্বাস্থ্য এই কয়দিনে ভালো না করলেই নয়। স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালি।বাংলাবাসী।
■ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজার যাওয়া চলছেই। একমাস মাছ মাংসে দই রসগোল্লায় না থাকলে নাগরিকের যে অপুষ্টি হবে,তা মৃত্যুর থেকে অনেক ডেঞ্জারাস।আমরা ধন্য!
■পাড়ার চায়ের দোকানের সামনে আমাদের মতো আধ বুড়োদেরও হাফ প্যান্ট পরে গুলতানি।সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে।বাহা বাহা।সরকার তুই কচু করবি।
■হিন্দু,মুসলিম,ক্রিশ্চান,শিখ,বুদ্ধিস্ট,সবাই ভয়ানক ধার্মিক হয়ে উঠেছে ইদানীং।ভিড় করে ধর্মাচার না করলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।খুব। খুব।…সবকিছু থেকে রক্ষা করবেন ঈশ্বর।বিজ্ঞান নয়।
■প্রতিটা শুভ বিরুদ্ধেও আমাদের বিরুদ্ধাচরণের আত্মঘাতী প্রবণতা।আমরা ভাবতেই পারিনা কেউ আমাদের জন্যেও ভাবতে পারে।আমাদের ভালো করতে পারে।আমরা সবসময় সব ব্যাপারে চক্রান্তের গন্ধ পাই।ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে সবার মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করি।আমরা ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন।
■আমাদের কোনোরকম সহমর্মিতা নেই।শুধু নিজের টুকু বুঝি।নিজের ভালো চেয়ে সমষ্টির দিকে তাকাই না।তাদের ক্ষতি করি।আমার অধস্তন আমার হয়ে ঝুঁকির কাজগুলো করে দিক,এটা আমাদের মানসিকতা।এক বেলার জন্যও ভোগ বিলাস ব্যাসন হারাতে চাই না আমরা।
■অন্যকে অকারণ দোষারোপ করার প্রবণতা।অন্যের কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সর্বনাশা স্বভাব আমাদের আরো বেশি বিপদে ফেলে।আমরা কিছুতেই নাগরিক কর্তব্য কি তা বুঝতে শিখলাম না।
■আমাদের অনুশাসনের অভাব।আইন ভেঙে লুকিয়ে সবকিছু করে ফেলার প্রবণতা।দুর্নীতির প্ৰতি মোহ।
■পরিষেবা প্রদানকারীদের প্রতি আমাদের ক্ষোভ,ক্রোধ, ঘৃণা ও অশ্রদ্ধা।ভাবখানা এমন যে তাঁরা আমাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।যা ইচ্ছে তাই করা,নিজের ও সমাজের পায়ে কুড়ুল মারা আমাদের মৌলিক।অধিকার।
■আমাদের কিচ্ছু হবে না,আমরা সর্বশক্তিমান আমাদের এই নির্বোধ বোধ চিরকালই আমাদের বিপদে ফেলেছে।আমরা বুঝিনি।যখন বুঝেছি তখন বিপদের অতল গহবরে তলিয়ে গেছি।আমরা কাউকে বিশ্বাস করি না।ভরসা করি না।
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
রকের রসিক বন্ধু বিরক্তিতে কি যেন বললেন “আমাদের দ্বারা হবে না।লকডাউন চলবে।চিরকাল।লাথখোরের জাত আমরা।লাঠি চাই।লাঠি।সরকারি লাঠি….”
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
#পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়












