Monday, October 26, 2026
WA
Home Bangla গুলজার-এর গুলিস্তান-এ গুলজারিশ ও দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ ও সন্দীপ...

গুলজার-এর গুলিস্তান-এ গুলজারিশ ও দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ ও সন্দীপ রায়

0
1108
Poet Faruque Ahamed and Poet Shankha Ghosh

গুলজার-এর গুলিস্তান-এ গুলজারিশ ও দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ ও সন্দীপ রায়

ফারুক আহমেদ

বছর চার আগে নন্দন ১ প্রেক্ষাগৃহে গুলজার-এর দুটি বই প্লুটো ও পান্তাভাতে প্রকাশ করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ ও সন্দীপ রায়। গুলজার-এর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তনু মৈত্র ও কবি শ্রীজাত। এর পাশাপাশি ছিলেন গুলজার-এর দুটি বই “পান্তাভাতে” ও “প্লুটো” এর লেখক সঞ্চারী মুখোপাধ্যায় ও শেখ সদর নইম। নন্দন ১ প্রেক্ষাগৃহে সেদিন ছিল শনিবার এই আয়োজন সকলকেই মুগ্ধ করেছিল। বই দুটির প্রকাশক দে-জ পাবলিশিং।

গুলজার-কে নিয়ে একটি প্রদর্শনী চলেছিল নন্দন ৪-এ চারটে থেকে আটটা পর্যন্ত। সুধাংশুশেখর দে দে’জ পাবলিশিং আর সৃঞ্জয় বোস সম্পাদক, সংবাদ প্রতিদিন এর নিবেদনে গুলজার ও কবি শঙ্খ ঘোষ-কে বাংলার মানুষ নতুন ভাবে কাছে পেয়েছিলেন সেদিন। কবি, লেখক, গীতকার, চলচ্চিত্র নির্মিতা এবং সংলাপ লেখক গুলজার বিরল ও বহুমুখী প্রতিভা। ভারতীয় চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের জগতে এক বিশাল উচ্চাসনে তিনি বিরাজ করেন। বহু ভাষায় রচিত তাঁর লেখা পাঠককে মুগ্ধ করে। পোখরাজ, ত্রিবেণী সহ কয়েকটি কাব্য সংকলন পাঠককে গভীর ভাবে ভাবায় ও দাগ কাটে।

গুলজার ২০ বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন, সাতবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারেও তাঁকে ভূষিত করা হয়। তিনি সম্মানিত হন পদ্মভূষণ পুরস্কারেও। ২০০৮ সালে তাঁর গান ‘জয় হো’র জন্য অস্কার পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১০ সালে তিনি পান গ্র্যামি সম্মান।

২০১৪ সালে ভারত সরকার গুলজার সাহেবকে চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে প্রদান করে।

দে’জ পাবলিশিং এর পক্ষ থেকে সম্মান দিয়ে গুলজার জিকে বিশেষ সম্মানিত করেন শুধাংশুশেখর দে ও অপু দে।
ওই সময়ের রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য তথ্য ও সংস্কৃত দফতর এর প্রধান সচিব বিবেক কুমার রাজ্য সরকার এর পক্ষ থেকে গুলজার-এর হাতে সম্মান তুলে দিয়েছিলেন। নন্দন এর পক্ষ থেকেও সম্মান প্রদান করা হয়। সংবাদ প্রতিদিন এর সম্পাদক সৃঞ্জয় বোসও গুলজার সাহেবকে বিশেষ সম্মান নিজে হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বাঙালির ভালবাসা কত গভীর গুলজার-এর প্রতি তাঁকে দেখার জন্য গোটা বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ এসেছিলেন। আর তাঁর প্রতি সম্মান প্রদানের আয়োজন ছিল চোখে দেখার মতো।

এই মহান মানুষকে কাছ থেকে ও ছুঁয়ে দেখার বহু শখ ছিল আমার, দির্ঘদিন ধরে। শেখ সদর নইম সাহেবকে বলেছিলাম একটা বই লিখুন গুলজার-কে নিয়ে আমি “উদার আকাশ” থেকে প্রকাশ করব। এই আশা এখনও রাখি কখনও কেউ গুলজার-জিকে নিয়ে বই লিখলে আমি প্রকাশ করব।

গুলজার-এর বই প্রকাশ ও কবিতা পাঠ শুনতে ও আলোচনার এই বিশাল আয়োজনে আমিও আমন্ত্রিত ছিলাম। বিশেষ করে আমি কৃতজ্ঞ দে’জ পাবলিশিং এর অপু দে এবং প্লুটো কবিতা বইয়ের বাংলাতে ভাষান্তর করেছেন যিনি সেই লেখক শেখ সদর নইম-এর কাছে। আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অশেষ ভাবে আমি মুগ্ধ ও কৃতার্থ হয়েছি। অতিথি আসনে প্রথম সারিতে গুলজার-জি যখন নন্দনের প্রেক্ষাগৃহে বসে ছিলেন, আমি তখন তাঁর কাছে গিয়ে (প্রথম ভাগ্যবান) তাঁর “প্লুটো” বইয়ে একটা অটোগ্রাফ নিতে পেরেছি। তাঁকে প্রনাম করে ছুঁয়েও দেখেছি। তখন গুলজার-জি পাশে বসেছিলেন সদ্য প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ। আমার মতো আগত বহু অতিথিরা খুব খুশি হয়েছিলেন।

আয়োজকদেরকে অফুরন্ত ধন্যবাদ জানাই বই প্রকাশ এর পাশাপাশি গুলজার-জির মুখে কবিতা পাঠ ও আলোচনার বিশেষ আয়োজন করার জন্য।

এদিন কবি শঙ্খ ঘোষ-এর আলোচনা সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।

কবি শঙ্খ ঘোষ কয়েকবার উদার আকাশ পত্রিকা ও উদার আকাশ প্রকাশনের গ্রন্থ উদ্বোধন করেছিলেন।

কবি শঙ্খ ঘোষ-এর প্রয়াণের আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

শঙ্খ ঘোষ জন্ম গ্রহন করেন ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ সালে। চলে গেলেন ২১ এপ্রিল, ২০২১ বুধবার। একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সাহিত্য সমালোচক। তিনি একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ। তিনি কাব্য সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাসের উত্তরসূরী ছিলেন।

তিনি পেশায় শিক্ষক ছিলেন, লেখক, গবেষক।

বাংলার সেরা কবি ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।

তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। যাদবপুর, দিল্লি ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপনাও করেছেন। “বাবরের প্রার্থনা” কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে লাভ করেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার তাঁর উল‍্যেখযোগ‍্য গদ‍্য রচনা “বটপাকুড়ের ফেনা”র জন্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে, উর্বশীর হাসি, ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি।

কবির পিতা মনীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মাতা অমলা ঘোষ। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুরে জেলায় ১৯৩২ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বংশানুক্রমিকভাবে পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বানারিপাড়া গ্রামে। শঙ্খ ঘোষ বড় হয়েছেন পাবনায়। পিতার কর্মস্থল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর পাবনায় অবস্থান করেন এবং সেখানকার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় কলা বিভাগে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি বঙ্গবাসী কলেজ, সিটি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে অবসর নেন। ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে আইওয়া রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, শিমলাতে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ আডভান্স স্টাডিজ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৭ সালে “মূর্খ বড়, সামাজিক নয়” নরসিংহ দাস পুরস্কার।
১৯৭৭ সালে “বাবরের প্রার্থনা” র জন্য সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার।
১৯৮৯ সালে “ধুম লেগেছে হৃদকমলে” রবীন্দ্র পুরস্কার
সরস্বতী পুরস্কার “গন্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ”
১৯৯৯ সালে “রক্তকল্যাণ” অনুবাদের জন্য সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার
১৯৯৯ সালে বিশ্বভারতীর দ্বারা দেশিকোত্তম পুরস্কার
২০১১ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ পুরস্কার।

বর্ষীয়ান কবি শঙ্খ ঘোষ ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল থেকে সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। পরে তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। কবি হাসপাতালে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তাই সেই থেকে তিনি হোম আইসোলেশনেই ছিলেন এবং চিকিৎসা চলছিল। ২১ এপ্রিল সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে প্রয়াত হন।

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights