Friday, October 23, 2026
WA
Home Jeebak Third Eye Investigation সত্য ঘটনা অবলম্বনে – Jeebak Third Eye Investigation Case Study 1

সত্য ঘটনা অবলম্বনে – Jeebak Third Eye Investigation Case Study 1

0
673
Law
Law

সত্য ঘটনা অবলম্বনে –

(গোপনীয়তা র কারনে স্থান, কাল পাত্রের নাম কাল্পনিক রাখা হলো।)

শীতের রাত,১১ টা বাজতে না বাজতে সমস্ত দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। বড়োবাজারের পেছনে এক অন্ধকার গলিতে যখন ঢুকলাম তখন রাত ১ টা। ভয় যে করছে না তা নয়। লালবাজারের ইনস্পেকটর ভবানী বাবুকে ব্যক্তিগত ভাবে জানানো আছে তবুও অপারেশন টা তো আমি একাই করতে এসেছি। নামকরা এক ক্রিম কোম্পানির কিছু প্রোডাক্টসের ডুপ্লিকেট বানানো হচ্ছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে আমাকে তারা ডেকে পাঠিয়েছিলো এবং ঘটনার তদন্তের ভার দেয়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই জায়গার সন্ধান পেয়েছি। আপনারা যারা দিনের আলোয় বা রাতের ঝলমলে আলোতে বড়োবাজার গেছেন তারা ভাবতেই পারবেন না এই গভীর শীতের রাতে ঝলমলে বাজারের পেছনের অন্ধকার গলি কতোটা ভয়ংকর হতে পারে। আপাদমস্তক আমার কালো পোশাকে ঢাকা, পায়ে কাপরের কালো জুতো। কম শব্দ এবং অন্ধকারে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়ার জন্যে এই ব্যবস্থা।

স্পাই ক্যামেরা টা নিজের জামার মিডল বোতামে আটকে মোবাইলের সাথে কানেক্ট করে নিলাম তারপর ধীরে এগোলাম গলির রাস্তা ধরে। গলিটা একটি বস্তির মতো। চারিদিকে আবর্জনার স্তুপ, এদিক ওদিক কিছু দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সা, মাল নিয়ে যাওয়ার ভ্যান, কয়েকটি ঠেলা গাড়ি এইসব।কিছুটা যাওয়ার পরেই একটা কালভার্ট পেলাম তার নিচ দিয়ে গেছে পচা জলের খাল।এখনো অবধি জনমানবহীন রাস্তায় একটি কুকুরের দেখাও পাইনি।
হটাৎ কিছুটা দূরে একটা বন্ধ গোডাউনের দরজা দেখতে পেলাম। তার নিচ দিয়ে বেরিয়ে আসছে আলো। অর্থাৎ সাটার নামানো কিন্তু ভেতরে লোক আছে।আমার ইনফরমেশন তারমানে নির্ভুল। ধীর পায়ে শব্দ না করে এগোলাম। একদম কাছে না গিয়ে কিছুটা তফাতে একটা গাছের আড়ালে নিজেকে অন্ধকারে মিশিয়ে রাখলাম। এই মুহূর্তে আমার কিছুই করার নেই কারন বন্ধ সাটারের ওদিকে কতজন আছে, কি করছে, তাদের কাছে অস্ত্র আছে কিনা এসব কিছুই জানিনা। না তো আমি পর্দার সালমন খান আর না তো ফেলুদা যে একাই তাদের সাথে লড়ে যাবো। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া আমার কিছুই করার নেই।

হটাৎ চোখে পরলো আমি যে গাছের পেছনে দাঁড়িয়ে আছি তার থেকে একটু দূরে গোডাউনের দেওয়াল ঘেঁষে রাখা আছে চকচকে সাদা টিনের মোটা করে গোটানো পাত। সেই পাতের ওপরে পা দিয়ে একটু চেষ্টা করলে জানালার কার্নিশ আর তারপরই গোডাউনের টিনের ছাদ। ছাদ এ ওঠা ঠিক হবেনা কারন টিন কোথায় দূর্বল আছে বা টিনে ওঠার পর আওয়াজ হবে কিনা সে বিষয় ভাবার। কিন্তু যেটা করা যাবে তা হলো টিনের ঢেউখেলানো জয়েন্টের মাঝে মাঝে যে ফাঁক রয়েছে সেখান দিয়ে আমার স্পাই ক্যামেরাকে যদি কোনভাবে নামানো যায় তাহলে মোবাইলে ঘরের ভেতরের সবকিছু রেকর্ড করা সম্ভব।

টিনের পাতগুলো হাত দিয়ে দেখে নিলাম আমার আশি কেজি ওজন নিয়ে পারবে কিনা। সন্দেহ মুক্ত হওয়ার পর আমি আশেপাশে একটা দাড়ির খোঁজ করলাম।এক হাতের কম হলেও আমার চলে যাবে। সাদা প্লাস্টিকের একগোছা ছেড়া খোরা দড়ি জলকাদায় মাখামাখি। সেই সময় ওটিই আমার কাছে অনেক। তুলে নিয়ে এক হাত মতো ছিড়ে নিলাম। তারপর সেটিকে আরও পাতলা করে আমার স্পাই ক্যামেরার সাথে শক্ত করে বেধে দিলাম। এবারে দেওয়ালে একটা হাত দিয়ে টিনের পাতে একটা পা তুলে যেই ভর দিতে যাবো হাতের তালুতে একটা প্রচন্ড জ্বালা অনুভব করলাম। খেয়াল করিনি দেওয়ালের যেখানে হাত রেখেছি সেখান দিয়ে মিছিল চলছে লাল পিপড়েদের। মিছিল ভংগ করতে চাইলে কেউ ছাড়বে না,সে মানুষের পার্টির হোক অথবা পিপড়ে ইউনিয়নের। যাইহোক হাতের থেকে গুটিকয়েক পিপড়াদের সরিয়ে কিছুক্ষণ চুলকে নিয়ে আবার ওঠার চেষ্টা করলাম।এবারে সফল হলাম। স্পাইডার ম্যানের মতো না হলেও গাছে ওঠার অভ্যেস ছিলো। চড়ে পরলাম জানালার কার্নিশে। টিনের ফাঁক দিয়ে সোজাসুজি দেখা যাচ্ছে কিন্তু নিচে কি হচ্ছে তার কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা।

অতএব পকেট থেকে দড়ি বাধা স্পাই ক্যামেরা বের করলাম এবং আস্তে আস্তে সেই ফাঁক দিয়ে নিচে নামাতে থাকলাম। কিছুটা নামানোর পর আমি মোবাইলটা বের করলাম এবং স্ক্রিনে ভেসে উঠলো এক দৃশ্য। ১২ থেকে ১৫ বছরের চারটি বাচ্চা, তিন জন মহিলা আর দুটো লোক। মেঝেতে গোল করে বসে। সামনে বেশ কয়েকটি বড়ো গামলা তার থেকে মগে করে কোনো এক তরল নিয়ে গোল গোল কাচের শিশিতে ঢালছে সেই মহিলারা। সেই শিশি গুলো তারপর বাচ্চাগুলোর কাছে যাচ্ছে তারা একটা লম্বা কাগজ থেকে স্টিকার খুলে সেটে দিচ্ছে শিশি গুলোর গায়ে। একটা লোক সেই শিশি কাগজের কার্টুনে ভরে এগিয়ে দিচ্ছে অপর একটি লোককে সে সেলোটেপ দিয়ে সিল করে কার্টুনগুলোকে পরপর সাজিয়ে রাখছে। মিনিট দশেক ভিডি করার পর আমি আস্তে আস্তে ক্যামেরা টেনে আনলাম। আমার কাজ মোটামুটি শেষ।

খুব ধীরে টিনের পাতে ভর দিয়ে নামলাম মাটিতে। কাজ শেষ, এবারে এই ভিডিও জমা দেবো আমাকে নিয়োগকারী কোম্পানিকে আর বুঝে নেবো আমার প্রাপ্য। তারপর কি হবে শুধু আমার না সবারই জানা। শুধু যেটা জানা যাবেনা তা হলো ঐ শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ আর ওই মহিলাদের বাকি জীবন কাহিনি। চোখগুলো দেখেছিলাম শিশুগুলোর, কি অসহায় কি নিস্পাপ। ছেড়া গেঞ্জি আর নোংরা হাফ প্যান্টগুলো চিৎকার করে বলছিলো তাদের অসহায় পরিস্থিতির গল্প। পরনের আধ ময়লা শাড়ি গুলো জানিয়ে দিচ্ছিলো ঘরে শুয়ে আছে অভুক্ত শিশুসন্তান। ধীরে ধীরে ক্যামেরা পকেটে ঢুকিয়ে চুপি চুপি বেড়িয়ে এলাম রাস্তায়। জানিনা কার কাছ থেকে পালাচ্ছি চোরের মতো, লুকিয়ে থাকা বিপদ থেকে নাকি ঐ মা আর শিশুদের অবাক বিস্ময় ভরা চোখগুলো থেকে।

*** Jeebak Third Eye Investigation is an investigative information collection service and does not hold any constitutional rights to prosecute or hold anyone accountable by law. All the evidence collected will be fact and as it is identified on ethical findings basis. Please do not share any documents or pictures/video /voice collected in any form other than court of Law or law enforcement agencies of the land. Any unauthorised usage or sharing of the evidence leading to the lawsuit will be entirely on the person doing so and not on IBG NEWS or it’s members ***

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights