
রেললাইনের ধারের জমিতে গাছের সমস্যায় প্রাক-বর্ষা সুরক্ষা অভিযান ব্যাঘাত মুক্ত করতে জনগণের সহযোগিতা চাইছে পূর্ব রেল
কলকাতা, ৩১ মে, ২০২৬:
২৯.০৫.২০২৬-এ শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক শাখায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর, রেললাইনের পাশে বসবাসকারী নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি সচেতনতামূলক বার্তা জারি করেছে পূর্ব রেল। রেললাইনের ওভারহেড তারে ডালপালা জড়িয়ে বড়সড় দুর্ঘটনা এবং হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তি এড়াতে রেল প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে বিপজ্জনক গাছের ডালপালা কেটে ফেলার অথবা রেলের কর্মীদের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে: গাছের ডালপালা এমনভাবে ছাঁটতে হবে যাতে কোনো গাছ যদি রেললাইনের দিকে ভেঙেও পড়ে, তবুও লাইনের সাথে তার ডালপালার দূরত্ব যেন অন্তত ৩ মিটার বজায় থাকে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এই বাফার জোন (নিরাপদ দূরত্ব) বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গতকালের আচমকা ঝড়ে দমদম, কল্যাণী, বারাসত এবং সোনারপুর সহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উপড়ে পড়া গাছ, বড় ডাল এবং ব্যক্তিগত ব্যানার-ফেস্টুন রেললাইন ও ওভারহেড ইক্যুইপমেন্টের (OHE) ওপর ভেঙে পড়ে। পূর্ব রেলের জরুরি বিপর্যয় মোকাবিলা দল অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও লাইনের বাধা সরিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সক্ষম হলেও, এই ঘটনাটি একটি বড় দুর্বলতাকে সামনে এনেছে: বিপজ্জনক গাছগুলির একটি বড় অংশই রেললাইনের সংলগ্ন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে রয়েছে।
বর্ষার মরশুমে এই ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে পূর্ব রেল জোন জুড়ে ২৬,৫০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার একটি বড়সড় প্রাক-বর্ষা অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে ২১,৩৮৪টি গাছ সাফল্যের সাথে কেটে ফেলা হয়েছে, তবে ব্যক্তিগত জমির আইনি ও অন্যান্য জটিলতার কারণে বাকি কাজ থমকে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিয়ালদহ ডিভিশনে আগামী ৭ই জুনের ডেডলাইনের মধ্যে যে ৭৩৫টি বিপজ্জনক গাছ কাটার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার মধ্যে ৩৫১টি গাছ ব্যক্তিগত জমিতে অবস্থিত। রেল প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই সমস্ত জমির মালিকদের আইনি নোটিশ পাঠাচ্ছে, তবে বর্ষা পুরোদমে নামার আগে জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আসানসোল, হাওড়া এবং মালদা ডিভিশনেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদ ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে।
যাত্রীদের সাময়িক হেনস্থার জন্য পূর্ব রেল আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে যাত্রী-সুরক্ষাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে রেল প্রশাসনের সাথে নাগরিকদের সহযোগিতা করা একান্ত আবশ্যক। রেলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে অনুধাবন করতে অনুরোধ করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির একটি মাত্র না-ছাটা ডালও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ওভারহেড তার ছিঁড়ে দিতে পারে, যা হাজার হাজার যাত্রীকে বিপদে ফেলতে পারে এবং বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
নাগরিকদের এই অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “গতকালের ঝড়ের পর আমাদের ফিল্ড টিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরিষেবা স্বাভাবিক করেছে, কিন্তু প্রকৃতির এই তাণ্ডব রুখতে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আমরা রেললাইনের ধারে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি যে, দয়া করে আপনারা আপনাদের সম্পত্তি পরিদর্শন করুন, ৩ মিটারের বাধ্যতামূলক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম আপনাদের কাছে পৌঁছালে তাদের সহযোগিতা করুন। বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষার্থে আমাদের ওভারহেড তারগুলিকে সুরক্ষিত রাখা একটি যৌথ দায়িত্ব।”











