
নৈহাটি জংশনে আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার কাজ, ৪ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লকে একাধিক ট্রেন বাতিল ও সময়সূচিতে পরিবর্তন
অন্তরা ত্রিপাঠী | IBG NEWS
কলকাতা, ১৬ জুলাই: শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন নৈহাটি জংশনে আধুনিক ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং (EI) ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রযুক্তিগত কাজ হাতে নিয়েছে পূর্ব রেল। এই কাজের জন্য ১৮ জুলাই (শনিবার) গভীর রাত ১২টা থেকে ১৯ জুলাই (রবিবার) ভোর ৪টা পর্যন্ত মোট চার ঘণ্টার নন-ইন্টারলকিং ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, নৈহাটি জংশন শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম ব্যস্ততম স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ রেল ইয়ার্ড। এখান দিয়ে প্রতিদিন বহু দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক লোকাল ট্রেন চলাচল করে। বর্তমান সিগন্যালিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও বাড়াতে এবং অত্যাধুনিক লজিক সার্কিট সংযোজনের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করে তুলতেই এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে।
কোন ট্রেনগুলি বাতিল থাকবে
১৮ জুলাই নিম্নলিখিত ট্রেনগুলি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে—
- ৬৩১১১ আপ শিয়ালদহ–রানাঘাট লোকাল
- ৩১৪৪৭ আপ ও ৩১৪৫০ ডাউন নৈহাটি–শিয়ালদহ লোকাল
আংশিক গন্তব্য পরিবর্তন ও বিলম্বিত পরিষেবা
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত যাবে না অথবা বিলম্বিত সময়ে যাত্রা শুরু করবে।
- ৬৩১০৬ ডাউন লালগোলা–শিয়ালদহ ট্রেনটি ১৮ জুলাই রানাঘাট পর্যন্ত চলবে।
- ৩১১৯২ ডাউন নৈহাটি–কল্যাণী সীমান্ত ট্রেনটি কল্যাণী পর্যন্ত চলবে এবং ৩১১৯১ আপ ট্রেনটি ১৯ জুলাই কল্যাণী থেকে যাত্রা শুরু করবে।
- ১৩১০৬ বালিয়া–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ১৮০ মিনিট বিলম্বে ছাড়বে।
- ১৩১৬০ জোগবনী–কলকাতা এক্সপ্রেস ১৫০ মিনিট বিলম্বে যাত্রা শুরু করবে।
- ১৩১৪২ নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ১০০ মিনিট বিলম্বে ছাড়বে।
- ৫৩১৭২ লালগোলা–শিয়ালদহ ট্রেনটি ৭৫ মিনিট দেরিতে যাত্রা করবে।
নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চলাচল
১৯ জুলাই কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন ব্যান্ডেল জংশন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলবে।
- ১৫০৫০ গোরখপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস প্রায় ৪৫ মিনিট নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
- ১৩১৯০ বালুরঘাট–শিয়ালদহ এক্সপ্রেসও প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হতে পারে।
- ১৩১৫৪ মালদহ–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ব্যান্ডেল পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিনিট নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে।
যাত্রীদের জন্য রেলের পরামর্শ
পূর্ব রেল জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিষেবা নিশ্চিত করা। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে রেল প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সপ্তাহান্তে কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়।
রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের যাত্রার আগে পূর্ব রেলের সরকারি ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সর্বশেষ ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।


















