দুর্গাপুজো ২০২৬: শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ছে স্পেশাল ট্রেন, ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে জোর রেলের
কলকাতা, ৭ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিপুল যাত্রীসমাগমের কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ ডিভিশন একাধিক বিশেষ ট্রেন ও উন্নত যাত্রী পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে। নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ এবং নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেন পরিষেবা বাড়ানোর পাশাপাশি স্টেশনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নজরদারি এবং জরুরি পরিষেবার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৬–২১ অক্টোবর ৫১টি স্পেশাল ট্রেন
পুজোর মূল ভিড়ের সময় ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫১টি স্পেশাল EMU ট্রেন চালানো হবে। গত বছর যেখানে ৩১টি স্পেশাল পরিষেবা ছিল, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এই পরিষেবার মধ্যে থাকবে—
- ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল EMU
- সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ১৩টি স্পেশাল ট্রেন
- মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে অতিরিক্ত পরিষেবা
প্যান্ডেল দর্শনার্থী এবং গভীর রাতে বাড়ি ফেরার যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই মূলত রাতের ট্রেনগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবাতেও বৃদ্ধি
১০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে মোট ৮০টি স্পেশাল দূরপাল্লার ট্রেন ট্রিপ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। ফলে উৎসবের মরশুমে দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্যও অতিরিক্ত পরিবহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
শহরতলির যাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে দুপুর ২টার পর নিজ নিজ উৎস স্টেশন থেকে ছাড়া গ্যালপিং EMU/MEMU ট্রেনগুলি সমস্ত ফ্ল্যাগ ও হল্ট স্টেশনে দাঁড়াবে।
১০–১৫ অক্টোবর লালগোলা রুটে প্রি-পুজো স্পেশাল
পুজোর মূল ভিড় শুরু হওয়ার আগেই অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামাল দিতে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর শিয়ালদহ–রানাঘাট–লালগোলা সেকশনে চারটি প্রি-পুজো স্পেশাল EMU ট্রেন চালানো হবে।
বিশেষ করে পুজোর কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধা দেওয়াই এই পরিষেবার অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই করিডরে যাত্রী পরিষেবা আরও সহজ করতে রানাঘাটে অস্থায়ী বুকিং ও এক্সিট কাউন্টার এবং ব্যারাকপুরে রানাঘাট-এন্ড FOB-এর কাছে নতুন টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের লাইনে অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি স্টেশনগুলিতে যাত্রী চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিয়ালদহ স্টেশনে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ
পুজোর সময় শিয়ালদহ স্টেশনে যাত্রী ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ, মেন, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধান স্টেশনগুলিতে রাখা হচ্ছে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন রেক, রিজার্ভ লোকো ক্রু, নিয়মিত জনসাধারণের ঘোষণা, মেডিক্যাল বুথ, হেল্প ডেস্ক এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম।
এছাড়া শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে অতিরিক্ত শৌচাগার ব্লক তৈরি করা হয়েছে। দমদম স্টেশনের সার্কুলেটিং এরিয়াতেও যানজট কমাতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। লেভেল ক্রসিংগুলির কাছাকাছি সড়ক ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২৪x৭ ওয়ার রুমে নজরদারি
উৎসবের সময় নিরাপত্তা ও দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি ২৪x৭ বিশেষ ওয়ার রুম চালু থাকবে। CCTV নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাত্রী ও ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রন্টলাইন কর্মীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।
DRM-এর বার্তা
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার অন্যতম বৃহত্তম উৎসব। উৎসবের সময় প্রত্যেক যাত্রী ও দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ যাত্রা নিশ্চিত করাই রেলের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, ওভারনাইট স্পেশাল ট্রেন, ২৪x৭ ওয়ার রুম এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে উন্নত যাত্রী পরিষেবার মাধ্যমে ডিভিশনের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে সমস্ত ফ্রন্টলাইন টিমকে সর্বক্ষণ সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হবে।
রেল পরিষেবা বাড়ানো থেকে শুরু করে স্টেশন পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং জরুরি সহায়তা—দুর্গাপুজো ২০২৬-এ শিয়ালদহ ডিভিশনের লক্ষ্য একটাই: উৎসবের ভিড়েও যাত্রা হোক নিরাপদ, দ্রুত ও সুশৃঙ্খল।
রিপোর্ট: অন্তরা ত্রিপাঠী | IBG NEWS BANGLA

















