ব্যবসার পরিবেশে নীতিগত সংস্কার
ভারতের ব্যবসা করার ব্যবস্থার রূপান্তর
By PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ, ২০২৬
মূল বিষয়বস্তু
ভারতে ব্যবসা নিবন্ধন ২০২০-২১ সালে ১.৫৫ লক্ষ থেকে ২০২৫–২৬ সালে ১.৯৮ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। বৃদ্ধি প্রায় ২৭ শতাংশ। এবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই নিরূপন।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ডিজিটাল বাণিজ্য সহায়তা, কর নিশ্চিততা, কম বিধিনিষেধ ও মামলা, আস্থা-ভিত্তিক শুল্ক ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো এতে অন্তর্ভুক্ত।
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প এবং ডিজিটাল ঋণ মূল্যায়ন মডেল স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে।
জন বিশ্বাস আইন, দেউলিয়া ও দায়মুক্তি বিধি এবং ন্যূনতম বিকল্প কর-সহ একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্কার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং আস্থা-ভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসা ক্ষেত্র হিসেবে ভারতের উত্থান
গত কয়েক বছরে ভারত বিনিয়োগ ও ব্যবসার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এক দশকের বেশি সময় আগে সরকার ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার লক্ষ্যে বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক সংস্কার কর্মসূচি শুরু করে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ব্যবসা প্রত্যাশা সূচক ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে এবং ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জুলাই–সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকেও ১০০-র নিরপেক্ষ মানের উপরে রয়েছে। উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে আস্থা ও চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকারি অগ্রাধিকার
উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও সম্পদ সৃষ্টির জন্য ব্যবসা পরিবেশ উন্নত করা অপরিহার্য। বিনিয়োগ আকর্ষণ, উদ্যোগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন কাঠামো সংস্কার করেছে। প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ অপসারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ ডিজিটাল বাণিজ্য সহায়তা, কর নিশ্চিততা, কম বিধিনিষেধ, আস্থা-ভিত্তিক শুল্ক ব্যবস্থা ও বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামোর মাধ্যমে এই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
ভারতের প্রবৃদ্ধি কৌশলের ভিত্তি উদ্যোক্তা শক্তিশালীকরণ, অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্য সহায়তা।
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া
শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার বিভাগের স্বীকৃত স্টার্টআপ সংস্থাগুলি কর ছাড়, সহজ বিধি অনুসরণ, দ্রুত মেধাস্বত্ব প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রক সহায়তা পায়। উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি লক্ষ্য।
ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প
ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প জামানতবিহীন ঋণ প্রদান সহজ করেছে। উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ হয়েছে। উদ্ভাবন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা মিলেছে।
লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্প
ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা।
স্টার্টআপ ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্পে সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি থেকে ২০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের জন্য ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্পে ২০,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা।
ঋণ মূল্যায়ন মডেল
সরকারি ব্যাঙ্ক ২০২৫ সালে ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন মডেল চালু করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ মূল্যায়ন দ্রুত হয়েছে।
বিমা আইন সংশোধন
‘সবকা বিমা সবকি রক্ষা’ আইন ২০২৫ বিমা আইন ১৯৩৮, জীবন বিমা নিগম আইন ১৯৫৬ এবং বিমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ১৯৯৯ সংশোধন করেছে। বিমাগ্রাহকের সুরক্ষা, বিমা বিস্তার এবং ক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা
কার্গো নিষ্পত্তি দ্রুত করা, শুল্ক প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণ ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল সমন্বয়, দ্রুত অনুমোদন ও প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।
নিয়ন্ত্রক সংস্কার
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্দেশিকা
মোট ৯,০০০-র বেশি নির্দেশিকা সংহত করে ২৩৮টি কার্যভিত্তিক নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও সমবায় ব্যাঙ্কের নির্দেশিকাও সহজ করা হয়েছে।
সেবি উদ্যোগ
পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে নিয়ম সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জরিমানা ও মামলা সরলীকরণ
ক্ষুদ্র ত্রুটিতে অপরাধমূলক ব্যবস্থা কমানো হয়েছে। কর ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় হয়েছে।
আস্থা-ভিত্তিক শুল্ক ব্যবস্থা
২০২৬–২৭ বাজেটে অনুমোদিত অর্থনৈতিক অপারেটরদের জন্য শুল্ক পরিশোধ বিলম্বের সময় ১৫ দিন থেকে ৩০ দিনে উন্নীত করার প্রস্তাব হয়েছে। উৎপাদন শৃঙ্খল সহজ হয়েছে।
জন বিশ্বাস আইন
২০২৩ সালে ৪২টি আইনের ১৮৩টি ধারায় অপরাধমূলক বিধান বাতিল করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ত্রুটিতে ফৌজদারি দায় কমেছে।
দায়মুক্তি বিধি
আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হয়েছে। ঋণদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিকিউরিটিজ বাজার বিধি
২০২৫ সালের সিকিউরিটিজ বাজার বিধি পুঁজিবাজার সম্পর্কিত একাধিক আইন একত্র করেছে।
গুণমান নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ
বিভিন্ন মন্ত্রকের গুণমান নির্দেশ বিশ্বমান বজায় রাখতে সহায়তা করছে। নিম্নমানের পণ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক বিধি চাপ হ্রাস উদ্যোগ
২০২০ সালে শুরু হওয়া উদ্যোগে ৪৭,০০০-র বেশি বিধিনিষেধ কমানো হয়েছে।
ন্যূনতম বিকল্প কর
২০২৬–২৭ বাজেটে কর কাঠামো যুক্তিসংগত করার প্রস্তাব হয়েছে। লাভজনক সংস্থার ন্যূনতম কর প্রদান নিশ্চিত হয়েছে।
শ্রম সংস্কার
মোট ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইন চারটি শ্রম বিধিতে সংহত হয়েছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।
জিএসটি ২.০
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সংস্কারে করহার সরলীকরণ হয়েছে। প্রধান ক্ষেত্রে করহার কমেছে। দুটি করহারের কাঠামো বিধি অনুসরণ ব্যয় কমিয়েছে।
নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ২০১৭ সালে ৬০ লাখ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১.৬ কোটির বেশি হয়েছে। কর কাঠামোর অসামঞ্জস্য সংশোধিত হয়েছে। বস্ত্র ও সার ক্ষেত্রের খরচ কমেছে।
উপসংহার
কর, নিয়ন্ত্রণ, অর্থায়ন, শ্রম ও বাণিজ্যে ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক ব্যবসা ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করেছে। বিধি সরলীকরণ, আস্থা-ভিত্তিক প্রশাসন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও প্রবৃদ্ধিমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসা নিবন্ধন বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রত্যাশা, অর্থায়নের সহজ প্রবেশাধিকার এবং আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সম্প্রসারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রতিফলিত করে। আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযুক্তি জোরদার হয়েছে। ভারত প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যৎপ্রস্তুত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Finance

















