ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার ‘অটিজম ইন প্র্যাকটিস’-এর মাধ্যমে আজীবন অটিজম কেয়ার নিয়ে সংলাপের নেতৃত্ব দিল
কলকাতা, ১২ এপ্রিল ২০২৬: ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার (আইএসি), যা অটিজম এবং সংশ্লিষ্ট বিকাশজনিত অবস্থার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য নিবেদিত একটি প্রধান নন প্রফিট সংগঠন, “অটিজম ইন প্র্যাকটিস”-এর মাধ্যমে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা মাস উদযাপন করেছে, যা সোসাইটি অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বেঙ্গলের সহযোগিতায় আয়োজিত অভিভাবক-কেন্দ্রিক জ্ঞানমূলক সেশনগুলির একটি সুচিন্তিত ধারাবাহিক।
ভারতে নিউরোডাইভার্স ব্যক্তিদের জন্য আজীবন আবাসিক কেয়ার ইকোসিস্টেম “সমাবেশ” গড়ে তোলার লক্ষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি আইএসি-র একটি অন্তর্ভুক্তমূলক সচেতন এবং সহায়ক কমিউনিটি ইকোসিস্টেম তৈরির প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
এই সেশনগুলিতে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সুধীপ সাহা, ডাঃ অরিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ডাঃ যশোধরা চৌধুরী, ডাঃ মৌসুমি মুখার্জী, ডাঃ আবির মুখার্জী, ডাঃ নন্দিতা চট্টোপাধ্যায়, ডাঃ কৌশাম্বী বসু, ডাঃ প্রদীপ পারিয়া, ডাঃ এমডি শহিদুল আরেফিন এবং ডাঃ সিদ্ধার্থ নন্দী।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টারের ডিরেক্টর এবং সিইও শ্রী জয়শঙ্কর নটরাজনের কী-নোট অ্যাড্রেস-এর মাধ্যমে, যা অর্থপূর্ণ সংলাপ এবং সচেতনতার জন্য পরিবেশ তৈরি করে। এরপর অকুপেশনাল থেরাপি নিয়ে একটি ফোকাসড সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন ডাঃ মনীশ সমনানি, ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর, সোচ এবং প্রেসিডেন্ট, এআইওটিএ হরিয়ানা চ্যাপ্টার, যেখানে তিনি অটিজম স্পেকট্রামে থাকা ব্যক্তিদের কার্যকর স্বাধীনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহারযোগ্য কৌশল শেয়ার করেন।
অনুষ্ঠানে একাধিক এক্সপার্ট-লেড সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে “মেডিসিনস অ্যান্ড বিয়ন্ড” সেশনটি মডারেট করেন ডাঃ রুদ্রজিৎ সিনহা, যেখানে মাল্টি-স্পেশালিটি ক্লিনিশিয়ান, থেরাপিস্ট এবং ডোমেইন এক্সপার্টরা একত্রিত হন।
এই আলোচনায় অটিজম কেয়ারের ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেখানে মেডিক্যাল, বিহেভিয়োরাল এবং থেরাপিউটিক ইন্টারভেনশনের মধ্যে ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার মডেলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়।
এছাড়াও, অটিজম কেয়ারের বাইরে গিয়ে ইভলভিং ইন্টারভেনশন মেথড এবং পেডিয়াট্রিক নিউরোলজির গ্রোয়িং ল্যান্ডস্কেপ নিয়েও আলোচনা করা হয়, যেখানে আর্লি ডায়াগনোসিস, স্পেশালাইজড কেয়ার এবং ট্রিটমেন্ট অ্যাপ্রোচের ধারাবাহিক উন্নতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে আরও সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে স্পেকট্রামে থাকা শিশুদের নিউট্রিশন নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ডাঃ কল্পনা দত্ত, যেখানে ডায়েটারি কনসিডারেশন, ফিডিং চ্যালেঞ্জ এবং শিশুদের ওভারঅল ডেভেলপমেন্টে নিউট্রিশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এরপর প্যারেন্ট অ্যাডভোকেটদের সঙ্গে একটি ফায়ারসাইড চ্যাট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মিস নীলাঞ্জনা রামবোথু এবং মিস সুমিত্রা পাল বক্সি তাঁদের লিভড এক্সপেরিয়েন্স এবং প্যারেন্টিং জার্নির মাইলস্টোন শেয়ার করেন।
এরপর মিস রঞ্জনা চক্রবর্তী প্রি-টিন এবং টিনদের জন্য বিহেভিয়োরাল মডিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন, যেখানে ইমোশনাল রেগুলেশন, সোশ্যাল স্কিল এবং প্র্যাক্টিক্যাল ইন্টারভেনশন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ডাঃ যশোধরা চৌধুরী এবং সাখি সিংহির ক্লোজিং রিমার্কস-এর মাধ্যমে।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে, শ্রী জয়শঙ্কর নটরাজন, ডিরেক্টর এবং সিইও, ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার বলেন,
“‘অটিজম ইন প্র্যাকটিস’ আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলিকে সঠিক নলেজ, টুলস এবং ইনসাইট দিয়ে ইনফর্মড ডিসিশন নিতে সক্ষম করতে চাই। আইএসি-তে আমরা বিশ্বাস করি যে অ্যাওয়ারনেস-এর সঙ্গে প্র্যাক্টিক্যাল গাইডেন্স-ও জরুরি, এবং এই উদ্যোগটি সেই শূন্যস্থান পূরণের একটি পদক্ষেপ, যা প্যারেন্টরা জটিল কেয়ার জার্নিতে অনুভব করেন। একইভাবে, আমাদের ফোকাস অটিস্টিক ব্যক্তিদের লং-টার্ম নিডস-এর উপর, যা আর্লি ইন্টারভেনশন-এর বাইরে, বিশেষ করে রেসিডেনশিয়াল কেয়ারকে কেন্দ্র করে। আমাদের আপকামিং রেসিডেনশিয়াল ইকোসিস্টেম ‘সমাবেশ’-এর মাধ্যমে আমরা একটি সেফ, স্ট্রাকচারড এবং ইনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট তৈরি করতে চাই, যা ডিগনিটি, ইন্ডিপেনডেন্স এবং লাইফলং কেয়ার নিশ্চিত করবে, যাতে স্পেকট্রামে থাকা ব্যক্তিরা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও এগিয়ে যেতে পারে।”
ডাঃ মনীশ সমনানি, ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর, সোচ এবং প্রেসিডেন্ট, এআইওটিএ হরিয়ানা চ্যাপ্টার বলেন,
“ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টারের অংশ হতে পেরে এটি সত্যিই একটি মিনিংফুল এক্সপেরিয়েন্স ছিল। প্যারেন্ট, প্রফেশনাল এবং স্পেকট্রামে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে এনগেজমেন্ট একটি ভ্যালুয়েবল স্পেস তৈরি করেছে শেয়ারড লার্নিং এবং ডায়ালগের জন্য।যেখানে আমি হোম সেটিং-এ ডে-টু-ডে বিহেভিয়োরাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি, সেখানে সেশনে শেয়ার করা লিভড এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমিও গুরুত্বপূর্ণ ইনসাইট পেয়েছি। এই ধরনের কোলাবোরেটিভ ইনিশিয়েটিভ আমাদের কালেক্টিভ আন্ডারস্ট্যান্ডিং শক্তিশালী করতে এবং আরও রেসপন্সিভ, পারসন-সেন্ট্রিক অ্যাপ্রোচ এগিয়ে নিতে অপরিহার্য।”
ডাঃ রুদ্রজিৎ সিনহা, কনসালটেন্ট অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপি এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি – অ্যাপোলো ক্লিনিক, ডিরেক্টর – গুড গাট ক্লিনিক এবং সিসিসি সার্জারি, এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পেশাল অলিম্পিক্স ভারত বলেন,
“একজন ক্লিনিশিয়ান এবং ১৭ বছর বয়সী স্পেকট্রামে থাকা সন্তানের প্যারেন্ট হিসেবে, আমি বিশ্বাস করি অটিজম অ্যাওয়ারনেস শুধুমাত্র একটি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং প্রতিদিনের আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং ইনক্লুশনের অংশ হওয়া উচিত।‘অটিজম ইন প্র্যাকটিস’-এর মতো ইনিশিয়েটিভ বিভিন্ন মেডিক্যাল এক্সপার্টিজ এবং লিভড এক্সপেরিয়েন্সকে একত্রিত করে, যা কারেন্ট থেরাপি এবং ফিউচার ডিরেকশন নিয়ে মিনিংফুল ডায়ালগ সম্ভব করে। আর্লি ইন্টারভেনশন, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট সাপোর্ট এবং গ্রেটার সোশ্যাল অ্যাকসেপ্টেন্স-এর মাধ্যমে, স্পেকট্রামে থাকা ব্যক্তিরা একটি ফুলফিলিং জীবন যাপন করতে পারে এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।”
এই ইনিশিয়েটিভ আইএসি-র অব্যাহত প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যা এক্সপার্ট-লেড এনগেজমেন্টের মাধ্যমে অ্যাওয়ারনেস তৈরি করা এবং পরিবারগুলিকে সাপোর্ট করার জন্য করা হচ্ছে, যাতে ইনফর্মড, কম্প্যাশনেট এবং লং-টার্ম অ্যাপ্রোচ গড়ে তোলা যায়।
মেডিকেশন, এভিডেন্স-বেসড থেরাপি এবং অ্যাডোলেসেন্স থেকে অ্যাডাল্টহুডে ট্রানজিশন প্ল্যানিং নিয়ে প্র্যাক্টিক্যাল ইনসাইট প্রদান করে, এটি পরিবারগুলিকে লাইফলং কেয়ার জার্নি আত্মবিশ্বাস এবং স্পষ্টতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
About India Autism Center: IAC is a first-of-its-kind not-for-profit organization dedicated to creating a world-class ecosystem for individuals with autism and other neurodevelopmental conditions. With a cross-curricular approach, IAC operates through its five core pillars: Clinical Services, Residential Care, Research, Training Academy, and Community Inclusion.
Website: www.indiaautismcenter.org














