Wednesday, September 16, 2026
WA
Home Bangla যে রেললাইন দূরত্ব নয়, হৃদয় জোড়ে: এই যৌথ জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য...

যে রেললাইন দূরত্ব নয়, হৃদয় জোড়ে: এই যৌথ জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জনসাধারণের প্রতি পূর্ব রেলের আহ্বান

0
82
যে রেললাইন দূরত্ব নয়, হৃদয় জোড়ে: এই যৌথ জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জনসাধারণের প্রতি পূর্ব রেলের আহ্বান
যে রেললাইন দূরত্ব নয়, হৃদয় জোড়ে: এই যৌথ জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জনসাধারণের প্রতি পূর্ব রেলের আহ্বান

যে রেললাইন দূরত্ব নয়, হৃদয় জোড়ে: এই যৌথ জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জনসাধারণের প্রতি পূর্ব রেলের আহ্বান

কলকাতা, ১০ জুলাই, ২০২৬:

প্রতিটি দিন পূর্ব রেলের ট্রেনে চড়ে লক্ষ লক্ষ স্বপ্ন ডানা মেলে। নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে যাত্রা করা কোনো শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখতে ছুটে যাওয়া কোনো মেয়ে, কিংবা হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফেরা কোনো শ্রমিক—সবাই রেললাইনের এই ছন্দময় গুঞ্জনে একসূত্রে গাঁথা। পূর্ব রেলের কাছে যাত্রীরা কেবল যাত্রী নন, তাঁরা পূর্ব রেল পরিবারের সদস্য। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার প্রতি এই গভীর দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর জোর দিয়ে বলেছেন যে, রেলওয়ে সাধারণ মানুষেরই সম্পদ। তবে, এই সুন্দর ও যৌথ ভ্রমণকে সুরক্ষিত রাখতে পূর্ব রেল কঠোর অবস্থানে রয়েছে: যারা ‘রেল রোকো’ আন্দোলনের মাধ্যমে যাত্রীদের শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাবে, তাঁদের স্বপ্নে বাধা সৃষ্টি করবে বা রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করবে, তাদের চরমতম আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

ভারতীয় রেল কেবল লোহা, ইস্পাত আর পাথরের কাঠামো নয়—এটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা দেশের এক জীবন্ত জীবনরেখা। যখন একটি ট্রেনকে থামিয়ে দেওয়া হয় বা কোনো কোচের ক্ষতি করা হয়, তখন কেবল সরকারের ক্ষতি হয় না; চরম ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা সামগ্রীর অপেক্ষায় থাকা কোনো রোগী, জীবিকা হারান কোনো দিনমজুর, আর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় কোনো পরিবারকে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা থেকে যাত্রীদের সফরকে সুরক্ষিত রাখতে, সদ্য প্রণীত ‘জন বিশ্বাস আইন, ২০২৬’-এর অধীনে আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর এই ঐতিহাসিক আইনটি ইতিমধ্যেই ভারতের গেজেটে (Gazette of India) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই আইনের আওতায়, রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৯৮৯-এর বিভিন্ন ধারায় কঠোর সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো যারা যাত্রীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং রেলের শৃঙ্খলার সাথে আপস করে, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া।

যাত্রাপথে যাত্রীদের শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা পূর্ব রেলের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি বিষয়, আর সেই কারণেই ১৪৫ নম্বর ধারাটিকে আরও কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রেনের ভেতর বা রেল চত্বরে মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা, যাত্রীদের অসুবিধা সৃষ্টি করা, কোনো ধরনের উপদ্রব বা অশ্লীল আচরণ করা, গালিগালাজ বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা, কিংবা রেলের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবায় হস্তক্ষেপ করার অপরাধে অবিলম্বে ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। তা ছাড়া, স্পষ্ট সতর্কবার্তার পরেও যদি কেউ এই ধরনের উপদ্রব চালিয়ে যায়, তবে তার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডেরই কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, যাতে কোনো উপদ্রবকারী পার পেয়ে যেতে না পারে।

একইভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে, ১৪৬ নম্বর ধারাটি সংশোধন করে রেলকর্মীদের আইনি কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ও শাস্তির বিধান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্ব রেলের কর্মীরা কোনো রকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন। পাশাপাশি, ১৫৫ নম্বর ধারার অধীনে, রেল প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের জরিমানা সংশোধন করা হয়েছে। এখন উপ-ধারা (১)-এর অধীনে ২,০০০ টাকা এবং উপ-ধারা (২)-এর অধীনে ১,০০০ টাকা নির্দিষ্ট জরিমানা করা হয়েছে। কোনো অপরাধী এই জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট আদালতের ক্ষমতা রয়েছে তার ওপর আরও ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করার। এমনকি প্ল্যাটফর্মের বাইরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকেও সুরক্ষিত করা হয়েছে ১৫৯ নম্বর ধারার অধীনে। রেল চত্বরের ভেতরে কোনো যানবাহনের চালক বা কন্ডাক্টর যদি রেলকর্মী বা পুলিশ অফিসারের আইনি নির্দেশ অমান্য করেন বা যানজটের সৃষ্টি করেন, তবে এখন ৫০০ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। অপরাধী যদি জরিমানা দিতে অস্বীকার করে, তবে কারাদণ্ড বা আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত জরিমানার কঠোর বিধানও রয়েছে।

পূর্ব রেল দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে যে, রেল সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা দাবির বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত। কথা বলতে, শুনতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে রেল কর্তৃপক্ষ সবসময় সচেষ্ট। পূর্ব রেলের সাথে যোগাযোগ করার এবং আপনার সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর একাধিক অফিসিয়াল ও আইনি পথ রয়েছে। জনসাধারণের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দয়া করে এই উন্মুক্ত যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করুন। এমন কোনো বেআইনি কার্যকলাপ, আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলার পথ বেছে নেবেন না যা আপনার সহনাগরিকদের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “ট্রেন হলো দেশের ধমনী, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বহন করে। পূর্ব রেল হাত জোড় করে শ্রদ্ধেয় জনসাধারণের কাছে আবেদন জানাচ্ছে: দয়া করে ‘রেল রোকো’ করবেন না বা রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করবেন না। আপনার এক মুহূর্তের রাগ অন্য কারও অত্যন্ত জরুরি যাত্রাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। পূর্ব রেল যেমন যাত্রীদের পরম স্নেহে পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তেমনই এটিও স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে যে, যারা যাত্রীদের শান্তিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে বা এই জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে এই নতুন সংশোধিত আইনের অধীনে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে পূর্ব রেল বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights