ইলিশের মরসুমেও শিরোনামে চিংড়িপ্রেমীরা –কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগানের জয়, সাহাল আব্দুল সামাদের গোলে হার ইস্টবেঙ্গলের
১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় সবুজ-মেরুনের
অন্তরা ত্রিপাঠী | আইবিজি নিউজ
কলকাতা, ২৫ জুলাই: বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা ডার্বি দিয়েই শুরু হলো ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপ। শনিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে ১-০ গোলে হারিয়ে মরসুমের শুভ সূচনা করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন সাহাল আব্দুল সামাদ, যা শেষ পর্যন্ত দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মোহনবাগান
নতুন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এবং পানাগিওটিস দিলিম্পেরিস তাঁদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সম্পূর্ণ ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়েই প্রথম একাদশ সাজান। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মোহনবাগান।
ডান প্রান্ত দিয়ে টেকচাম অভিষেক সিং বারবার আক্রমণ গড়ে তোলেন। তাঁর ক্রস থেকে মনবীর সিং ও কিয়ান নাসিরি সুযোগ পেলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি। মাঝমাঠে সাহাল আব্দুল সামাদ ছিলেন সবুজ-মেরুন আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি।
প্রথমার্ধে মোহনবাগান ১০টি শট নিলেও ইস্টবেঙ্গলের শক্ত রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল-এর দৃঢ়তায় গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ম্যাচের ৫২ মিনিটে কিয়ান নাসিরি প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নিয়ে নিচু ক্রস বাড়ান। বক্সের ফাঁকা জায়গায় থাকা সাহাল আব্দুল সামাদ সহজেই বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা ইস্টবেঙ্গলের
গোল হজমের পর ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কোচ পানাগিওটিস দিলিম্পেরিস মাঠে নামান মোহাম্মদ রশিদ, পি. ভি. বিষ্ণু, দেজান দ্রাজিচ এবং দানি রামিরেজ-কে। পরিবর্তনের পর লাল-হলুদ শিবিরের আক্রমণে গতি আসে।
বিষ্ণুর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। এরপর লালচুংনুঙ্গা-র দুর্দান্ত দৌড় এবং আক্রমণ থেকেও গোল আসেনি। শেষদিকে দানি রামিরেজ-এর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর মোহাম্মদ রশিদ-এর অ্যাক্রোবেটিক ভলি অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বিশাল কাইথ।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ চালালেও মোহনবাগানের রক্ষণভাগ দৃঢ়তার সঙ্গে সেই চাপ সামলে নেয়।
আইবিজি নিউজ বিশ্লেষণ: দুই দলের খেলায় স্পষ্ট দুর্বলতা
কলকাতা ডার্বির উত্তেজনা থাকলেও মাঠের খেলায় দুই দলই এখনও সেরা ছন্দে পৌঁছতে পারেনি—এমনটাই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
মোহনবাগান বলের দখল ধরে রাখতে সফল হলেও আক্রমণে ধারাবাহিকতা ছিল না। গোল করার পর দলটি অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং অকারণে পিছিয়ে এসে খেলে, যার ফলে শেষ দিকে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ফিরে আসার একাধিক সুযোগ পায়।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল প্রথমার্ধে অত্যন্ত ধীরগতির ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। খেলোয়াড়দের অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট ছিল মন্থর এবং অনেক ক্ষেত্রেই সতীর্থদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি চোখে পড়ে।
দুই দলেই বেশ কয়েকজন ফুটবলারের অলস দৌড়, দেরিতে প্রেসিং, সমন্বয়হীন পাসিং এবং আক্রমণে সাপোর্টিং রান-এর অভাব স্পষ্টভাবে নজরে আসে। ফলে অনেক সম্ভাবনাময় আক্রমণ মাঝপথেই থেমে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত ফুটবলারদের নামানোর পর বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় গতি এলেও, সামগ্রিকভাবে বলা যায় ফিটনেস, দলগত সমন্বয় এবং দ্রুত গতির আক্রমণাত্মক ফুটবলের ক্ষেত্রে এখনও দুই দলকেই অনেক উন্নতি করতে হবে। ডুরান্ড কাপে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আগামী ম্যাচগুলিতে আরও সংগঠিত, দ্রুত এবং কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামীকালের ম্যাচ
২৬ জুলাই (রবিবার) অনুষ্ঠিত হবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—
- জামশেদপুর এফসি বনাম ডিফেন্ডার্স এফসি (শ্রীলঙ্কা) — বিকেল ৫টা, বিরসা মুন্ডা ফুটবল স্টেডিয়াম, রাঁচি।
- ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি বনাম সমলেশ্বরী স্পোর্টিং — সন্ধ্যা ৭:৩০, কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কলকাতা।
১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের সব ৪৩টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে Sony Sports Network-এ এবং লাইভ স্ট্রিমিং করা হচ্ছে Sony LIV-এ।














