‘স্বচ্ছতা হি সেবা-২০২৬’: বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে টেকসই রেল ব্যবস্থার পথে পূর্ব রেল
কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা আরও জোরদার করতে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় পূর্ব রেলের বিভিন্ন বিভাগ, স্টেশন, আবাসিক এলাকা ও ওয়ার্কশপে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ—স্বচ্ছ রেলওয়ে, টেকসই ভবিষ্যৎ’ ভাবনাকে সামনে রেখে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ থিমেটিক ড্রাইভ ‘স্বচ্ছতা সে সমৃদ্ধি’-তে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, স্ক্র্যাপের সৃজনশীল ব্যবহার, প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে-র নির্দেশনায় পরিচালিত এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ‘কবাড় সে জুগাড়’ এবং ‘কবাড় সে কলা’। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রেলের বিভিন্ন সামগ্রী—পুরনো সিগন্যালিং সরঞ্জাম, কোচের যন্ত্রাংশ, ধাতব স্ক্র্যাপসহ অন্যান্য পরিত্যক্ত উপকরণ—নতুন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী এবং শিল্পকর্মে রূপান্তর করা হচ্ছে।
মালদা টাউন কোচিং ডিপোর উদ্যোগে মালদা ইকোলজিক্যাল পার্কে স্ক্র্যাপ-টু-আর্ট ভাস্কর্য, বিক্রমশিলা অ্যাকাডেমিক ব্লকে কামানের আদলে তৈরি শিল্পকর্ম এবং এমডিডিটিআই মালদার আইজিওটি-কাম-সিবিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি হাতির ভাস্কর্য এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একইভাবে জামালপুর লোকো শেডে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং ভাগলপুর কোচিং ডিপোর মিলরাইট ব্যাচের তৈরি ভারতীয় রেলের জনপ্রিয় মাসকট ‘ভোলু—দ্য গার্ড’-এর প্রতিরূপও নজর কেড়েছে। শিয়ালদহ বিভাগেও পরিত্যক্ত রেল সামগ্রীকে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারে বিশেষ নজর
পরিবেশ সুরক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে পূর্ব রেল স্টেশন ও আবাসিক কলোনি থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য ‘প্লাস্টিক রিসাইক্লিং মেলা’ আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্টেশনের বিক্রেতা, ক্যান্টিনসহ বেশি পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুমোদিত রিসাইক্লারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
হাওড়া, শেওড়াফুলি, তারকেশ্বর এবং ব্যান্ডেল এলাকায় ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের কাজ হয়েছে। আজিমগঞ্জে চালু করা হয়েছে চার-স্তরীয় বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
যাত্রী ও পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি
পরিচ্ছন্ন রেল পরিবেশ গড়ে তুলতে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা নয়, যাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পূর্ব রেল।
এসএস/এনএফকে-র নেতৃত্বে জামালপুর ও নিউ ফরাক্কা স্টেশনে যাত্রীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আরপিএফ এবং এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হাউসকিপিং ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা ভাগলপুরের তাতারপুরের রাজকীয় উর্দু মধ্য বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
ট্র্যাক পরিষ্কার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
স্বচ্ছতা অভিযানের অংশ হিসেবে রেল ট্র্যাক এবং স্টেশন চত্বরের পরিচ্ছন্নতার ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ভাগলপুর স্টেশনের নাথনগর প্রান্তে বিশেষ ট্র্যাক পরিষ্কার অভিযান পরিচালিত হয়। রামপুরহাটের ক্লিনলিনেস টার্গেট ইউনিট এলাকায় পরিবেশের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও বর্ধমান স্টেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি রেলকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল বর্জ্যকে কেবল পরিত্যক্ত সামগ্রী হিসেবে না দেখে তার পুনর্ব্যবহারযোগ্য মূল্যকে কাজে লাগানো। একইসঙ্গে রেলকর্মী, যাত্রী, বিক্রেতা, পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, সৃজনশীল উপায়ে স্ক্র্যাপের ব্যবহার, প্লাস্টিকের যথাযথ পুনর্ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছে পূর্ব রেল।












