কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে দুই দিনের নৃত্যোৎসব
ওডিশি থেকে রবীন্দ্রনৃত্য, কথক, ভরতনাট্যম ও মণিপুরী—বহু নৃত্যধারার শিল্পীদের অংশগ্রহণ
By অন্তরা ত্রিপাঠী, IBG NEWS BANGLA
কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কিংবদন্তি ওডিশি নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত হল দুই দিনের বিশেষ নৃত্য-শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ‘দীক্ষা মঞ্জরী’-র উদ্যোগে ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন নৃত্যধারার শিল্পী ও নৃত্যপ্রতিষ্ঠান অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
কেলুচরণ মহাপাত্র ছিলেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের অন্যতম গুরু। তাঁর ভাবনা ও ইচ্ছার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ‘দীক্ষা মঞ্জরী’-র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। কলকাতায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা ছিল তাঁর, যেখানে নিয়মিত নৃত্যচর্চা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই পরবর্তীকালে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। যদিও শুরুতে ‘দীক্ষা মঞ্জরী’ নামটি স্থির হয়নি, পরবর্তীতে এই নামেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচিতি পায়। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র নিজেও নিয়মিত সেখানে এসে কর্মশালা পরিচালনা করতেন।
এই দুই দিনের অনুষ্ঠান অবশ্য শুধুমাত্র ওডিশি নৃত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কেলুচরণ মহাপাত্রের শিল্পভাবনা ও নৃত্যের প্রতি তাঁর সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ভারতীয় নৃত্যশৈলীর শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানকে একই মঞ্চে নিয়ে আসা হয়।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ওডিশি নৃত্যে অংশ নেন দীক্ষা মঞ্জরী, মাধবী মুদগল, শর্মিলা বিশ্বাস, সুজাতা মহাপাত্র এবং অরুণা মহান্তি। রবীন্দ্রনৃত্যে ছিলেন পূর্ণিমা ঘোষ, পলি গুহ এবং অলকানন্দা রায়। এছাড়া কথকে অসীমবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্রিয়েটিভ ডান্সে কোহিনূর সেন বরাট তাঁদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
দ্বিতীয় দিনেও ছিল বৈচিত্র্যে ভরা নৃত্য পরিবেশনা। ওডিশিতে অংশ নেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, সানা গঙ্গোপাধ্যায়, রঘুনাথ দাস, দীক্ষা মঞ্জরীর নৃত্যদল, রতিকান্ত মহাপাত্র, অলোকা কানুনগো, রাজীব ভট্টাচার্য এবং প্রণতি মহান্তি। ভরতনাট্যমে পরিবেশন করেন সুজাতা রামালিঙ্গম ও মালবিকা সেন। কথকে ছিলেন অমিতা দত্ত, ক্রিয়েটিভ ডান্সে তনুশ্রী শঙ্কর এবং মণিপুরী নৃত্যে বিম্বাবতী দেবী। এছাড়াও বিভিন্ন নৃত্যশিল্পী ও প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর নৃত্যশিক্ষার শুরু। দীর্ঘ সময় ধরে গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগকে তিনি নিজের জীবনের বিশেষ সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, গুরুজি ‘দীক্ষা মঞ্জরী’-তেও নিয়মিত নৃত্য কর্মশালা পরিচালনা করতেন।
ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতায় একটি নৃত্যচর্চার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা ছিল গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের। সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দীক্ষা মঞ্জরীর পথচলা শুরু হয়। দেখতে দেখতে প্রতিষ্ঠানটি তার ২৫তম বর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নৃত্যধারার গুরু, শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর শিল্পী ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান এই উৎসবে অংশ নেওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। কিংবদন্তি নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষে এই অনুষ্ঠান তাঁদের সকলের পক্ষ থেকে এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কেলুচরণ মহাপাত্রের শিল্পীসত্তা, শিক্ষা ও নৃত্যচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যকে স্মরণ করে আয়োজিত এই দুই দিনের অনুষ্ঠান তাই শুধু একটি স্মরণসভা হয়ে থাকেনি; বরং বিভিন্ন ভারতীয় নৃত্যধারাকে একই মঞ্চে এনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছে।
— অন্তরা ত্রিপাঠী
IBG NEWS













