Wednesday, September 16, 2026
WA
Home Bangla শতরূপা তোমাকে কিছু বলার ছিল সুমনের (পঞ্চদশ ভাগ) – গোপনও কথাটি, রবে...

শতরূপা তোমাকে কিছু বলার ছিল সুমনের (পঞ্চদশ ভাগ) – গোপনও কথাটি, রবে না গোপনে

0
942
Monk with Helicopter
Monk with Helicopter

শতরূপা তোমাকে কিছু বলার ছিল সুমনের (পঞ্চদশ ভাগ) – গোপনও কথাটি, রবে না গোপনে

সুমন মুন্সী,কলকাতা

(আগে যা হয়েছে জানতে ক্লিক করুন প্রথম ভাগ , দ্বিতীয় ভাগতৃতীয় ভাগচতুর্থ ভাগ,পঞ্চম ভাগ,ষষ্ঠ ভাগসপ্তম ভাগ, অষ্টম ভাগনবম ভাগ, দশম ভাগ , একাদশ ভাগ, দ্বাদশ ভাগত্রয়োদশ ভাগচতুর্দশ ভাগ)

শতরূপা তোমাকে কিছু বলার ছিল সুমনের (পঞ্চদশ ভাগ) – গোপন কথাটি, রবে না গোপনে
সুমন মুন্সী,কলকাতা

জীবন বৈচিত্র্য খোঁজে, একঘেয়েমী জীবন কে ক্লান্ত করে তোলে। আর সম্পর্কের আলগা হয়ে যাওয়াও, হলো আর এক একঘেয়েমীর কারণ । জীবন কে বৈচিত্রের উপাদানে ভরিয়ে না রাখলে, অতি প্রিয় নায়ক ও পানসে হয়ে যায় একসময় । যে নায়িকার অমোঘ আকর্ষণে দেয়াল জুড়ে অচেনা ওয়ালপেপার রাখে কিশোর মন, ঘড়ির কাঁটার সাথে সেই নায়িকাও হয়ে যায় অতিসাধারণ।

এটাই জীবন, আর এটাই বিধাতার নিয়ম। তাই আকর্ষণ বাঁচিয়ে রাখার দায়ও নিতে হয় উভয় পক্ষকে। কেউ যদি অপরজন কে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড করে বসে, তবে সংঘাত অনিবার্য। প্রথমে অবহেলিত পক্ষ একটা চেষ্টা করে, জোর করে অধিকার বজায় রাখতে, কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝে যত সে শিখল পরানোর চেষ্টা করে, ততই বন্ধন আলগা হতে থাকে।

এক সময় যে মানুষটার সামান্য অভিমানে বুক ফেটে যেত, আজ তাঁর সামান্য ব্যার্থতায় মন খুশি হতে থাকে। মানুষের মনস্তত্ব বিস্ময় বস্তু, যখন মন বলে “আমি বোধহয় তাঁকে বুঝি, জানি”, ঠিক তখনই বোঝা যায়, জানা আর বোঝার মাঝে বিস্তর ফারাক। মানুষ কি আসলে নিজের সাথে অভিনয় করে খুশি থাকার ভান করে?
আর যারা সেই পুতুল খেলার নিয়মের বাইরে গিয়ে শান্তি খোঁজে, তাদের দোষ কি দেয়া উচিত, যদি শান্তি খুঁজে পায়, সেই নেই সম্পর্কের সম্পর্কে। নাকি সমাজে ক্ষনিকের প্রেমের এই পরশ, নকল শান্তির মোড়কে নিয়ে আসে চিরনিঃসঙ্গতার আসঙ্গ। সঙ্গ আর আসঙ্গের লড়াইয়ে শুধুই শূন্যতা রয়ে যায় হাতে। শেষের কবিতার অমিত রে দুটোই চেয়েছিলো কিন্তু ছন্নছাড়া থেকে যাওয়াই হলো বিধি ।

জীবনে প্রতিটা সম্পর্কে বিশ্বাস ভাঙার যন্ত্রনা নিয়ে বড় হয়েছে যে মানুষ, সেই মানুষ দিনে দিনে খুশির আড়ালে,কান্না কে লুকিয়ে রাখতে শিখে গেছে । জীবন তাকে উদার করে দিয়েছে, করেছে বন্ধন মুক্ত আত্মা। তবু তাঁকেও অভিনয় করে যেতে হয় কেন? সমাজ , বিবেক না অপরের খুশি কে নিজের খুশি বলে মেনে নিতে নিতে, কিসে মন খুশি হয় তাই ভুলে গেছে সে। সুখে দুঃখ আর দুঃখে সুখ পাওয়াই একধরনের সন্যাস জীবনের উপাচার।

অন্তরা রোজ রাতে একা বারান্দায় বসে সেই কথাই ভাবে, সবার মতের বিরুদ্ধে কেন এই চালচুলোহীন বোহেমিয়ানের ঘরে বাঁধা পড়লো। লোকটা জোচোর, না সাধু, তাই বোঝা মুশকিল। সন্দেহ হলে লোকে সন্দেহ কমানোর চেষ্টা করে আর সুমন, মানুষের সেই কনফিউশনকেই ইচ্ছা করে আরো বাড়িয়ে তোলে। তার কিছুক্ষন পরেই ঠিক উল্টো কথা বলে, নিষ্পাপ প্রমান করে দেয়। তার যুক্তির আর কুযুক্তির জালে মানুষ অসহায় হয়ে যায়।

মাঝে মাঝে মনে হয় সুমনের লক্ষ্যই থাকত, মানুষকে কি করে ওর সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্থ্য করে তোলা যায় ।

অথচ মানুষটা এতো কিছু জানতো, কিন্তু নিজের খেয়ালে চলে সারা জীবনে শুধই এক কঠিন ধাঁধা হয়ে রয়ে গেলো। আজ মেয়েদের আর বাবা মার মাঝে ওই লোকটা একটা শুধুই হাইফেন হয়ে রয়ে গেলো কি অন্তরার জীবনে। অথচ অন্তরার সামান্য কষ্ট কি করে লাঘব করা যায়, সেই চেষ্টাই করতো সব সময়। আর ভাগ্যের পরিহাসে, সেই চেষ্টাই অন্তরার চরম উৎপাতের কারণ হতো সবসময়। ঘরের কাজে একেবারে মহাশূন্যের সমান ছিল মানুষটা। সামান্য চা করলেও রান্না ঘর বস্তির দশা করে ফেলতো। তাই কেউ ওকে কোনো ঘরের কাজ করতে দিতো না। অথচ সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান , ফোটোগ্রাফি থেকে পলিটিক্স কি জার্নালিজিম সবেতেই সিদ্ধহস্ত। প্যারাডক্স বোধহয় এদেরকেই বলে ।

আজ বসে বসে সেই স্মৃতি আওড়ে জীবনে প্রতিদিন এই অসহায়তার জন্য সুমনকেই দায়ী করে, আবার ক্ষমা করে নতুন করে শুরু করে প্রতীক্ষা । এও যেন জীবনের এক পাশা খেলা, যেখানে জিতে গিয়ে দুইজনই পরাজিত, এক অন্য অঙ্কে জীবন খাতায় শুধুই শূন্য।

Antara and Sneha
Antara and Sneha

“মা, বিল্টু আংকেল ফোন করেছে”, ছোট মেয়ে ডাক দেয় ।

অন্তরা আস্তে আস্তে উঠে যায়, ফোনের কাছে । আজকাল আর সুমনের বন্ধুদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। কেমন যেন শূন্যতা ঘিরে ধরে।

মানুষটার ভালোবাসার প্রকাশ একেবারে ভিন্নধারার ছিল, ধীরে ধীরে যখন সেই খামখেয়ালির খেয়ালেই জীবন বাঁধতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনিই সব সুর কেটে গিয়ে, শুধু শূন্যতা ঘিরে ধরেছে।

“হ্যাঁ , বিল্টুদা বলুন”, একটু পানসে ভাবেই বললো অন্তরা।

কিছুক্ষন কথার পর ফোনে ছেড়ে বড় মেয়ে স্মৃতিকে বললো,” এই মাসের শেষের দিকে পম আর বিল্টু আংকেল আসবে, কি গিফট লাগবে তোমাদের জিজ্ঞাসা করে রাখতে বলেছেন “।

“আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি সিমপ্যাথি”, বলে চলে গেলো স্মৃতি। ক্রমশ মেয়েটা নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, সবার আড়ালে কেমন যেন লুকিয়ে থাকে। অথচ ওর জীবন হতে পারতো ফুলের মতো অন্যদের মতো আনন্দের।

ছোট স্নেহা বললো, “পাপা কে এনে দিতে পারবে কাকুরা, তাহলে আর কিছু চাইনা”। স্নেহার চোখে জল, বাবার কথা উঠলেই কেঁদে ফেলে। আসলে সুমন কোনো দিনও বাবাই ছিলোনা ওদের, ছিল খেলার সাথী আর ছানা বাচ্ছা। মেয়েরা ওর মা আর ও ওদের ছেলে তাও আবার দুধের ছেলে। মেয়েরা কি আবদার করবে ওর কাছে ওই সবসময় বায়না করতো মেয়েদের কাছে। মেয়েরাও ওকে ছেলে মনে করতে শুরু করে দিলো অজান্তেই। এমনই উল্টোপূরাণের রাজা ছিল লোকটা ।

“পড়তে যাও স্নেহা ইউনিট টেস্ট আসছে”, কথা ঘুরিয়ে দেয় অন্তরা ।

(২)

গ্যাংটকের এয়ারপোর্টে একসাথে একদল পর্যটক নেমেছে । পোশাক বলছে সবাই উচ্চশিক্ষিত, আধুনিক এবং সমাজের ক্রিম বিশেষ।

একটা ১৬ সিটের বেবি বাস এসেছে ওদের নিতে ।

এদের সকলকেই আপনারা চেনেন।
বিল্টু ও শতরূপা, পম ও অঞ্জলি, অর্পিতা আর সনাতন, উত্তরা আর অঞ্জন, নীলাদ্রি আর মাধুরী এলো ভায়া বিলাশপুর। অনেক দিন পরে, মানে ঠিক ৩০ বছর পর দেখা সকলের। সেই কলেজের বেঞ্চের থেকে আজকের কাঁচা পাকা চুলের ফাঁকে, সেই সেদিনের বন্ধুদের খুঁজে নেয়ার চেষ্টা। সবার মুখেই হাসি ।

বাসেই নিতে এসেছে পার্থ আর মনি ছেত্রী দা । প্রাথমিক কুশল বিনিময়ের পর, এবার উল্টো পথে পেলিং মোনাস্ট্রির দিকে যাত্রা শুরু করলো বাস ড্রাইভার গুরুং।

Bus for Pelling
Bus for Pelling

পেলিং যেতে যেতে পার্থ আর ছেত্রীদা বললো এক বিচিত্র কথা। লামা একজন হাই প্রোফাইল ক্যারেক্টর ।

সেই লামা নাকি হাই সিকিউরিটি ক্লেয়ারেন্স পারসন আর নরমাল পুলিশ তাঁকে ধরতে পারবে না, ডিপ্লোমেটিক ইমিউনিটি লাইক প্রিভিলেজ। অনলি স্পেশাল ব্রাঞ্চ আন্ডার হোম মিনিস্ট্রি এন্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইসর ক্যান হোল্ড হিম রেস্পন্সিবল, নোট নরমাল পুলিশ।

“শালা আসলেই ধড়িবাজ বুঝলি পার্থ। শেষবার জন্মদিনে একটা আধখানা কবিতা লিখে বললো, কালি ফুরিয়ে গেছে, বাকিটা পরে দেবে। বুঝে দেখ কি বিটলে বামুন ছিল মালটা”, বেশ গম্ভীর ভাবেই বললো পম।

“একবার তো ডিমের ঝোল রেঁধেছিলো খিচুড়ির মতো করে। ওর গান আর রান্না বয়ে আনে কান্না। কথায় কথায় ছড়া কাটতো, কিছু বলেই বলতো আমার মতো ছড়াতে পারবি না, আমি সব বিষয়েই ছড়াই। নিজেকে নিয়ে কমেডি করা, ওর সেরা পাস্ টাইম ছিল। তা তোদের এই লামা কি হাসি খুশি মানুষ?”, প্রশ্ন করলো বিল্টু।

“একেবারেই নয়, বরং যা জানলাম হার্ড টাস্ক মাস্টার, কেমন যেন আর্মি টাইপ ডিসিপ্লিনড যা জানা গেলো”, বললো পার্থ আর ছেত্রী দা ।

“এটাও ওর একটা ডিসগাইসের পার্ট। হি ইজ এ ন্যাচারাল এক্টার”, বললো উত্তরা ।

অর্পিতা বললো,”কিন্তু যে লোকটা সারাক্ষন হাসতে আর হাসতে থাকে, সে কি করে এমন গম্ভীর থাকে? এক আধ ঘন্টা হতে পারে, তাই বলে ২৪ আওয়ার্স । ও ওর মেয়েদের ভীষণ ভালোবসে, কি ভাবে ছেড়ে থাকবে?”। সনাতন মাথা নাড়ে সম্মতিতে।

Suman Sanyal and his Gold Pen
Suman Sanyal and his Gold Pen

অঞ্জন বললো, “যাই বলুন এমন কালারফুল ক্যারেক্টর খুব কম দেখা যায়। পুরোটাই মিস্ট্রি। পুরো প্রাইম টাইম ব্রেকিং নিউজ। “

শুধু নীলাদ্রি কোনো কথা বললো না । চুপচাপ ভাবতে বসেছে । রুমির বলা কথাটা খোঁচা দিচ্ছে নীলাদ্রিকে “ও কিন্তু ফাউন্টেন পেন ইউজ করে পার্কার গোল্ড। ওটা ও কিছুতেই হাত ছাড়া করবে না, আর কাউকে লিখতেও দেবে না। ওটা ওর ঠাকুরদার পেন। নেতাজিও বোধহয় ইউজ করেছিলেন ওই পেন।”

নীলাদ্রি বললো,”পার্থ পুলিশ ফাইলে, লামা ফর্ম ফিলআপ করেছে বললি? কোন পেন এ করেছে খেয়াল আছে, মানে ডট না কালি পেন”।

উত্তর দিলো ছেত্রী দা, “দাদা ও তো ফাউন্টেন পেন থ্যা, আই আয়েম সিওর, পানি গিরকে এড্রেস একজাগা ব্লট হুয়া হায়। ওর উস্কে ফটোপে পকেট পে জো পেন হায় ও গোল্ড কা হায়”।

“কেন নীলাদ্রি এই প্রশ্ন করলি”, অর্পিতা প্রশ্ন করলো|

“সুমন পার্কার গোল্ড ফাউন্টেন পেন ইউজ করতো”, কেটে কেটে বললো নীলাদ্রি।

সবাই চুপ করে গেলো ।

বাইরে মেঘ আর কুয়াশার মাঝে হালকা রোদ দেখা দিচ্ছে, প্রতি বাঁকেই প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। ঠিক যেন সুমন সান্যালের জীবনের চিত্রনাট্য।

(৩)

ঠিক সকাল ৮:০০, সিমলা থেকে হেলিকপ্টার এলো কুলু আর্মি ক্যাম্পে। এই ক্যাম্পটা মাপে নেই ব্যাট গুগল আর্থ পয়েন্ট করতে পারে। রিনচেন সকাল ৭:০০টার সময় চেকআউট করে চলে এসেছে। আজ সে খুব উত্তেজিত আর দিন দুয়েক মাত্র ২৮০০০ বছরের সভ্যতার ইতিহাস বদলে যাবে। কল্পবিগ্রহের আদি মূর্তি আর শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের সেই পাণ্ডুলিপি খুলে দেবে, অমরত্বের আর দিব্য অস্ত্রের সম্ভার। দেশ মাতৃকা আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসল লবে।

একজন কর্নেল এসে বললো, “স্যার এন আর্জেন্ট হাই প্রোফাইল আর্মি মুভমেন্ট কেম উই আর সেন্ডিং ইওর কপ্টার টু সাউথ, ইউ ওয়েট ফর ১ আওয়ার মোর রিপ্লেসমেন্ট ওন দি ওয়ে”।

বিরক্ত হলো মনে মনে রিনচেন, এক লাহমার দেরী তার সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু কি করা যাবে। আর্মি ছাড়া ওই লোকেশন সিভিলিয়ান এক্সেস এর বাইরে। তাছাড়া ধর্মশালা বা অজিত মিশ্র পারমিশন না দিলে মুভমেন্ট অল্টার করা যায় না।

চোখের সামনে দেখলো ১০-১৫ জনের মতো হাই প্রোফাইল অফিসার নিয়ে হেলিকপ্টার উড়ে গেলো ডাউন সাউথ।

“হ্যাভ সম কফি স্যার”, বললেন কর্নেল লোকেশ বিস্ত। ফৌজি সৌজন্য সাথে মানবিক ব্যাবহারে রিনচেন একটু নরম হলেন ।

গরম কাপুচিনো এই ঠান্ডায় ভালোই লাগতে লাগলো । সামনে বরফে ঢাকা হিমালয় , মেঘের পরে মেঘ ভেসে যাচ্ছে, যেন জীবনের চালচিত্রে অনুভূতিদের মেলা ।

ঠিক এক ঘন্টা পরে এলো ছোট হেলিকোপটার, কিন্তু স্নো ল্যান্ডিংয়ের ফেসিলিটি আছে । যাক ভালোই হয়েছে ভাবলো রিনচেন ।

ঠিক ৯:১৫ কপ্টার উড়ে গেলো পেলিং এর দিকে ।

ঠিক যখন এক ঘন্টার উড়ান হয়েছে , পাইলটের রেডিও তে মে ডে, মে ডে, দুইবার ভেসে এলো । বাকি মেসেজ কোডেড রিনচেন বুঝলো কোনো মেজর এক্সিডেন্ট হয়েছে।

মিনিট কয়েক পর ক্যাপ্টেন বললো, “আমাদের গ্যাংটক নামতে হবে স্যার, নট পেলিং, ডেস্টিনেশন চেঞ্জড। “

“ব্যাট হোয়াই”, বিরক্ত রিনচেন ।

“আই ক্যান্ট সে,ডিফেন্স সেক্রেটারি ইন্সট্রাকশন “, বললো পাইলট ।

যখন গ্যাংটক নামলো তখন দুপুর ১:১৫।

এসে শুনলো আগের হেলিকপ্টার নীলগিরিতে এক্সিডেন্ট করেছে। ১২ জন সিনিয়র অফিসার ডেড ২ জন নিখোঁজ। তল্লাশি চলছে ।

অজিত মিশ্র, সিকিউর লাইনে কল করলেন। অজিত মিশ্র বললেন “ইওর কপ্টার হাজ্ বিন কম্প্রোমাইজেড উই লস্ট ১৪ মেন্ অফ প্রাইড এন্ড অনার দিস কুড হ্যাভ বিন ইউ ম্যান। গড সেভড ইউ উইথ দি কস্ট অফ ১৪ মেন্। দে লস্ট লাইফ। গো বাই কার সিলেক্ট দি কার রান্ডমলি অফ ইওর চয়েস । টেক ৪ কমান্ডো উইথ ইউ । সিলেক্ট দেম এস পার ইওর চয়েস। গো গেট ইট ম্যান, ওভার এন্ড আউট “, লাইন কেটে দিলেন অজিত মিশ্র।

এতক্ষনে সবাই টিভি দেখছে,” নীলগিরিতে ভেঙে পড়েছে আর্মি হেলিকপ্টার, মৃত ১২ অফিসার ও নিখোঁজ দুই”। বিরক্তি লাগে খবরের চ্যানেল গুলির নাটুকে অতিঅভিনয় আর কৃত্রিম শোক প্রকাশের ন্যাকামো। কোথায় গেলো সংবাদ মাধ্যমের সেই সোনালী দিন। নেতার বুড়ো বয়সের প্রেম, ছেলে কার, পায়ের ব্যান্ডেজ না প্লাস্টার কোনটায় ব্যাথা কম লাগে, এগুলো নাকি খবর আজকাল জনতা এটাই খায়!

একবার কে যেন বলেছিলো, “আজকাল দেখা যাচ্ছে, বর্তমান প্রজন্মের অনেক সাংবাদিক, আনন্দের সাথে কলমের কালি হলুদ করে নিয়ে বাজারে ঘুরছেন, তাই সাধু সাবধান”।

Accident of IAF Helicopter
Accident of IAF Helicopter

এতক্ষনে রিনচেন বুঝে গেছেন, এটা এক্সিডেন্ট নয়, তাঁর জন্য পাতা ফাঁদে মারা গেলেন, ১৪ জন বীর জওয়ান। ভারত মায়ের সেরা সন্তান। কিন্তু অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট চিরকাল বলবে, টেকনিক্যাল ফল্টের জন্য এক্সিডেন্ট।

এই নিয়ে তৃতীয়বার গুরুকৃপায় বেঁচে গেলেন রিনচেন।

টিভিতে ভাঙা হেলিকপ্টার এর ছবি দেখে, একবার হলেও মন কেঁপে গেলো। এই সেই যান, যা তার জন্য নির্দিষ্ট ছিল। আজ চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে জঙ্গলে পরে আছে। কিছুই আস্ত নেই ।

কথায় বলে, রাখে হরি, মারে কে।

এদিকে পার্থ আর টীম হোটেলে পৌঁছে টিভির পর্দায় সবাই, আর্মি হেলিকপ্টার এক্সিডেন্ট হয়েছে, এটাই আজ মেন্ খবর ।

বিল্টু আর পোম উত্তেজিত , অপদার্থ প্রশাসন , কোনো কাজের নয়, ইত্যাদি বলতে লাগলো।

উত্তরা চুপ করে প্রশাসনের বদনাম শুনছিলো। কিন্তু পুলিশ মাত্রই চোর শুনে একে বারে রেগে অগ্নিশর্মা।
বললো, “শোন মুম্বাইয়ের তুকারাম বা কলকাতার ডিসি বিনোদ মেহতা, কিন্তু পুলিশ ছিল, তাই সবাই এক নয়”।

সংযুক্তা বললো, “উত্তরাদি রাগ করোনা, এদের এখন মাথার ঠিক নেই”।

উত্তরা কলকাতায় ফোনে করে জানতে পারলো, হোম মিনিস্ট্রি আর ডিফেন্স জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন করছে। কোনো এক লামার আসার কথা ছিল ওই কপ্টারে পেলিং, তার বদলে গেলো নীলগিরি উটি আর সেখানেই এই বিপত্তি। এদিকে অন্য কপ্টার পেলিং না গিয়ে গ্যাংটকে নেমে ব্রেক ডাউন। লামা ওয়েন্ট উইথ ৪ আর্মি কমান্ডো এন্ড ডিসিপি গ্যাংটক ইন এ হিডেন প্লেস।

“কোথায় গেলেন রিনচেন”, বললো উত্তরা ।

সমস্বরে সবাই বললো, “মানে, কি বললো অফিস” ।

উত্তরা গম্ভীর মুখে যা শুনেছে বলতে লাগলো।

সবাই স্বস্তির নিঃস্বাস ফেললো, যাক বেটা ওই কপ্টারে ছিল না। কি বিচিত্র এই মানুষ যেই নিজের মানুষ বেঁচে গেছে, শুনলো অমনি একসিডেন্টের দুঃখ কমে গেলো, কিন্তু যার গেলো, তার তো গেলো, কে আর সে কথা মনে রাখে । যদিও নিশ্চিত নয়, তবু সবাই ভাবতে শুরু করেছে রিনচেন লামাই আসলে তাদের বন্ধু।

উত্তরা যতক্ষণ না ফাইনাল খোঁজ পাচ্ছে, ততক্ষন কোনো কাজ নেই ।

সুতরাং আজ আর কাল শুধু ছুটি , গেট টুগেদার।

(ক্রমশ)

কাল্পনিক কাহিনী বাস্তবের চরিত্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights