Wednesday, September 16, 2026
WA
Home Bangla “বিভেদকামী শক্তির পতন সুনিশ্চিত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিদির যোগ্য উত্তরসূরি” – ফারুক...

“বিভেদকামী শক্তির পতন সুনিশ্চিত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিদির যোগ্য উত্তরসূরি” – ফারুক আহমেদ

0
929
Abhishek Banerjee,Babun Banerjee & Madan Mitra
Abhishek Banerjee,Babun Banerjee & Madan Mitra

বিভেদকামী শক্তির পতন সুনিশ্চিত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিদির যোগ্য উত্তরসূরি – ফারুক আহমেদ

ফারুক আহমেদ

তৃণমূল কংগ্রেসের জয়জয়কার সুনিশ্চিত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবাংলার প্রতিটি জেলায় প্রতিনিয়ত জনসভায় প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনিই আশার আলো দেখাচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষকে। মানুষের কাছে দলের মূলমন্ত্র, বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে দলের নিরন্তর লড়াই ও দলের মহান আদর্শ পৌঁছে দিতে সারা রাজ্যজুড়ে জনসভা করে চলেছেন তরুদের প্রিয়তম নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা বাড়তে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাই প্রধান ভরসা। শুধু রাজ্যরাজনীতিতেই নন, ভিন রাজ্যে সংগঠনের কাজের দায়িত্ব তার কাধে তুলে দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতীয় রাজনীতিতে যে কোনও পরিস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে সেরা মুখ, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। ২০১৬-তে রাজ্যের ক্ষমতায় মমতার প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন তিনি। বাংলার কল্যাণে প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০২১ বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল যুব দলের সেই অধিনায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যুব সম্প্রদায় শপথ নিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার কুর্সিতে ফের অধিষ্ঠিত করার। তা করেও দেখালেন। বিপুল জয় সুনিশ্চিত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিলেন তাঁর দেখানো পথেই এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়-জয়কার। তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পিছনে অনেকেই দারুণ ‘খেলছেন’। কিন্তু ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। নির্বাচনের প্রাক্কালে, এলাকায় চষে বেড়িয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন। বাংলার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে দাপিয়ে বেড়িয়ে তুলে ধরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুশাসনের কথা। তুলে ধরেছিলেন বিগত দশ বছরে রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার বয়ে বয়ে গেছে তার কথাও।
বামফ্রন্টের আমলের চৌত্রিশ বছরের অপশাসনে পিছনের সারিতে চলে যাওয়া এই বাংলাকে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী আবার সামনের সারিতে অধিষ্ঠিত করেছেন, সেই লড়াইয়ের কথা বাংলার ঘরে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠেছেন তরুণ এই জনপ্রিয় নেতা ও সুবক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । মমতার সাফল্য, মমতার আগামী দিনের কর্মসূচী ঠিক করা, প্রচারের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়াসহ কার্যত দলের হাল ধরে আছেন তিনি। সেইমতো তাঁর যুববাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিছেন, মানুষের কাছে যেতে, মানুষকে বোঝাতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে যে উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে, সেই উন্নয়নের বার্তা রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জনপ্রিয়তাকে বাবহার করে দলের জয় সুনিশ্চিত করে তোলার পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অবদান কারও থেকে কম নয়। তাঁর দূর্বার ডাকেই তৃণমূলের হাত শক্ত করতে সমর্থনের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। তাইতো, যতই জোট গড়ুক সিপিএম-কংগ্রেস, মানুষ বুঝতে সমর্থ হয়েছিল, অত্যাচারী সিপিএম এবং বিজেপি আর নয়, বাংলার বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে যার হাত ধরে সেই মহান নেত্রীকেই বাংলার কুর্সিতে দরকার। নেত্রী সবসময়ই বলেন, যুব সংগঠনই দলের ভবিষ্যৎ। যুব সংগঠনের বৃদ্ধি না হলে, নতুন মুখ উঠে না এলে, যে-কোনও দলেই পচন ধরে। আর মানুষের পাশে, মানুষের কাছে গেলে, দলে নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি হতে বাধ্য। দলীয় সদস্যপদ নবীকরণ হওয়া মানেই দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে ওঠা। সেই সরল সাধারণ মন্ত্রই যুব নেতা ও দেশের নেতা হিসাবে রাজ্যের প্রতিটি যুব শাখার অন্দরে এবং সাধারণ মানুষের মনে প্রবেশ করিয়ে দিতে পেরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বয়সে নবীন হলেও, রাজনৈতিক বিচক্ষণতার সার্থক বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সমর্থ হয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর দেখানো পথই তাঁর এগিয়ে চলার সোপান। তাই তো যুব সংগঠনের দায়িত্ব এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, শৃঙ্খলা আর অনুশাসনই দলের মূলমন্ত্র। বলেছিলেন দলের অন্দরে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত নয়। চূড়ান্ত করে দিয়েছিলেন যুবনেতা থেকে সাধারণ কর্মীদের চলার পথ। তাঁর নির্দেশনামার প্রথমেই ছিল, মানুষের জন্য কাজ। বলেছিলেন, মানুষের জন্য জীবনপাত করুন, স্বার্থসিদ্ধি মানব না। রাজ্য সরকারের কর্মসূচি ও সাফল্যের কথা বুথে বুথে পৌঁছে দিতে হবে। যুব সংগঠনের পাশাপাশি দলের সাধারণ সদস্যদের মাধ্যমেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সাফল্যের কথা গ্রামেগঞ্জে, শহর-শহরতলির অলি-গলি, তস্য গলিতে ছড়িয়ে পড়বে। রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের মধ্য দিয়ে যদি এই বার্তা মানুষের মনে প্রবেশ করানো যায়, তাঁর প্রভাব পড়বে বহুগুণ। দলের প্রতি, দলনেত্রীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস দ্রুত বাড়তে থাকবে। দল বাড়বে। সরকারের উন্নয়নমুখী কাজের প্রচারে যোগ দিতে ভিন্ন ভিন্ন দল থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষও ভিড় জমাতে শুরু করবেন। তাঁদের দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য ছাঁকনির কাজ করার গুরুদায়িত্ব নিতে হবে যুবকর্মীদের সঙ্গে দলের পুরাতন কর্মীদের। আরও একটা বড় কাজ, ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলা। কেননা ছাত্র সংগঠনের পরের ধাপই যুব সংগঠন। ছাত্র নেতা-কর্মীদের যুবস্তরে নিয়ে আসার ও তৈরি করার দায়িত্ব তো যুবনেতা-কর্মীদেরই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, মূল সংগঠনের সঙ্গে নীতিগত ফারাক বা কোনও সংঘাত তিনি চান না। এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সর্বস্তরে। মনে রাখতে হবে যুব সংগঠন দলের ডানহাত। এ হাত যত শক্ত হবে, দল ততটাই মজবুত হবে। কিন্তু মূল সংগঠনের সঙ্গে স্বার্থ-সংঘাত থাকা মানে দল নড়বড়ে হয়ে পড়া। যুব শাখার একটা বিশেষ দায়িত্ব থাকে। দলীয় নীতি মেনে সেইসব কাজের মাধ্যমেই দলকে শক্তিশালী করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজ্যের উন্নয়নের প্রচারে মুখ একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসে এক, দুই বা তিন বলে কিছু নেই। দলের শীর্ষে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর নীচে আছেন কর্মীরা। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেত্রীর কর্মযজ্ঞকে সফল রূপায়ণে সহায়তা করব। সেই ব্রত নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন। যে মন্ত্রে বিধানসভায়, পৌরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে বিপুল জয় এসেছে, সেই একই মন্ত্রে এবার লক্ষ্য পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০২৩ এবং লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ সচেতন নাগরিকগণের কাছে একাটাই দাবি নিয়ে জয় সুনিশ্চিত করতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের। জয় সুনিশ্চিত শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই তো এখন লক্ষ্য গ্রাম।
গ্রামের উন্নয়নে তাঁকে দলনেত্রী যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন, সেই মতোই তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বিপুল কাজ করছেন। গ্রামে বিগত দিনে যে উন্নয়নের ঝড় বয়ে গিয়েছে, তা তিনি তুলে ধরছেন তাঁর দলের সদস্য ও কর্মীদের মাধ্যমে। বলছেন ভবিষ্যৎ কর্ম যজ্ঞের কথাও। ২০১৬ বিধানসভা ভোটে মাথাচাড়া দিয়েছিল অনৈতিক জোট। ২০২১ মাথাচাড়া দিয়েছিল অশুভ শক্তি হিসেবে বিজেপি। বাম কংগ্রেস শেষ হয়েছে। এবার বিজেপিকে সমূলে উৎখাত করতে হবে। এখন বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করতে তিনি বাংলার সমস্ত নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের হয়ে জোরালো প্রচার চালিয়ে যাবেন। এবার ভোটেও কর্মীদের যে-কোনোও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তিনি। বলেছেন, অসন্তোষ থাকলে দলের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে তিনি আদর্শ নেতার পরিচয় বহন করতেই আগ্রহী। তিনি চান দুর্যোগ বা ঝড়ে প্রকৃত কাণ্ডারীর মতোই শক্ত হাতে হাল ধরতে। স্বচ্ছ প্রশাসন রাজ্যবাসীকে উপহার দিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলার যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বদ্ধপরিকর। যুবাদের অনুপ্রেরণার তিনিই উৎস। রাজনীতিতেও সক্রিয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শক্ত হাতে হাল ধরেছেন।
২০২১ বিধানসভা ভোটেও তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ভাবে জিতিয়ে আনতে তিনি প্রধান সেনাপতি ছিলেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাংলায় পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে তিনি সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। হ্যাট্রিক করতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। বাস্তবিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় পর্বে হ্যাট্রিক করিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়জয়কার সুনিশ্চিত করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তীকালে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বাংলার প্রতি প্রান্তে সংগঠন ও সদস্য সংখ্যা বাড়াতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। বাংলার কল্যাণে ও দেশের কল্যাণে যুব সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে আদর্শ ভারত গড়তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিদির যোগ্য উত্তরসূরি। তিনিই আলোর দিশা হয়ে উঠছেন।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক উদার আকাশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights