ড.পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা ,২৫.০৬.২০২০
কেউ শরীরে বা মনে কেমন আছে, এ খোঁজ রাখার অভ্যাসটা একটা পারস্পরিক তাগিদ।একতরফা ব্যাপারটা কিছুদিন হয়তো হয়,কিন্তু তারপরেই এ একমুখীতাতে অনীহা জন্মায়।বিতৃষ্ণা জন্মায়।প্রতিটি স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মানুষে সব কলকব্জাই আছে,সব ইন্দ্রিয়ই আছে।সুতরাং কারো প্রতি অনুভূতি অথবা তার ভালো মন্দের খোঁজ খবর নেওয়ার ইচ্ছে কারো মধ্যে কম ও কারো মধ্যে বেশি থাকলেও একেবারেই থাকবে না,এ বিষয় অস্বাভাবিক এবং ইচ্ছাকৃত।
আসলে এও হলো একধরনের উদাসীনতা। ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের আদর বা মাত্রাতিরিক্ত আহ্লাদ এরকমটি ঘটাতে পারে।এমন বাড়ি বিরল যেখানে দেখা যায় না বাড়ির এক সন্তান ভীষণ আদরের,আর এক সন্তান দৃষ্টিকটু ভাবে উপেক্ষিত নয়।আদুরে যারা তাদের সব ব্যাপারে ছাড়।উপেক্ষিত যারা তাদের সব ব্যাপারে দোষ।প্রথম জন ‘ও তো পারে না’! আর দ্বিতীয় জন ‘বাঁদর’! এই ‘ও তো পারে না ‘! ঘরানার সন্তানেরা বোধহীন স্বার্থপর হয়।সমাজের ও অন্য মানুষের কাছে বিরক্তির কারণ হয়।আবার অনেক সময় খুব কম সংখ্যক ক্ষেত্রে প্রকৃতিগত ভাবেই কিছু মানুষ এমন হয়।এক্ষেত্রে জিন বা পরিবেশ কোনো তত্ত্বই খাটে না।
মোদ্দা কথা হলো নতুন সম্পর্কের প্রাথমিক মোহ কেটে যাবার পর ‘তুমি যতটুকু আমার,আমি ঠিক ততটুকু তোমার’।
এ দেশের সব রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এরকম কিছু মানুষ থাকলেও গড়পড়তা বাঙালির মধ্যে এই মানসিকতা অনেক বেশি।একই সংসারে আচার আচরণে কেউ জমিদারের বাচ্চা,কেউ ভিখারির বাচ্চা।কেউ কলু কেউ কলুর বলদ। সম্পর্কের শক্তিশালী বন্ধন আস্তে আস্তে আলগা হয়ে যাওয়ার এ একটা মস্ত কারণ।আমরা খেয়াল করলেও গুরুত্ব দি না।
বড় বড় কথা বলা,রাজা উজির মারা, নিজের খ্যাতি, ‘এই যে আমাকে দ্যাখো’! এই বস্তুগুলো থাকা দোষের নয় কিন্তু যা দোষের তা হলো এর সাথে সাথে অন্যের দিকে ন্যূনতম নজর না দেওয়ার হীনতা। কোনো গোষ্ঠী গড়পড়তা বা উদার ভাবনার এমনি এমনিই হয় না।তার মধ্যে নিজস্ব কিছু দায় ও দায়িত্ববোধও থাকে।
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
#পলাশ_বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫.০৬.২০২০



















