
কবিতা – বেশ্যা
” বেশ্যা “
ড:বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী
লাল স্টিলেটো পড়া মেয়েটাকে তোমরা প্রায়ই দেখো।
গড়িয়াহাটের মোড়ে,শ্যামবাজারের ভীড়ে কিংবা ভবানীপুরে।
না, আমি কোন অফিসফেরতা তরুণী নই, কারোর স্ত্রী নই, প্রেমিকা ও নই।
আমার পরিচয় একটাই- আমি বেশ্যা।
আমি সেই, যার স্বপ্ন আছে, সাধ্য নেই;
বর আছে, কিন্তু সংসার নেই।
আমি সেই।
আমি সেই, প্রতি রাতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যাকে সাজিয়ে বসতে হয় শরীরের পসরা।
আমি সেই।
আমি সেই, কড়ি ফেলা মানে যার সবটুকু তোমার,
ভালোলাগা-ভালোবাসা যার তাকে তোলা থাকে, আমি সেই।
আমি সেই, যাকে ভোগ করতে মনের আগল লাগে না,
তবে আড়াল লাগে, আমি সেই।
আমি সেই, যাকে ছিঁড়ে খেতে তোমার লজ্জা করে না,
যাকে পেলে ভুলে যাও নিজের সুন্দরী স্ত্রীকেও।
আমি সেই।
আমি সেই, রাত বাড়লে যে অপ্সরা হয়,
আর রাত ফুরোলে যার ছায়া মাড়ানো পাপ, আমি সেই।
আমি সেই, খিদে পেলে যার কদর বাড়ে,
আর চাহিদা মিটলে যার ঠাঁই হয় ডাস্টবিনে- আমি সেই।
তখন আমার লাল লিপস্টিক,চোখের কাজল –
সব কেমন যেন বাসি হয়ে যায়- তাই না?
কিন্তু জানো,
ভোররাতে স্নান সেরে যখন দাঁড়াই আয়নার সামনে,
চোখে চোখ রেখে- আমার লজ্জা করে না।
কারণ আমি যা, তা অভাবে, আর তোমরা তা স্বভাবে।
আমি তো শুধু শরীর বেচি, আর তোমরা –
তোমরা বেচো মন,কারোর বিশ্বাস আর নিজেকে।
বিকিকিনির এই বাজারে তোমরাও কি তবে পসরা নও?
বেশ্যা নও? — ভেবো একবার।
তবে কেন আমার ঘরের মাটি না পেলে কারোর পূজা থাকে অপূর্ণ ? — ভেবো একবার।
আর তোমাদের দ্রৌপদী! — তারও তো শুনেছি পঞ্চস্বামী।
তাকেও কি তোমরা………..?
থাক সে কথা। – জানি আমার প্রশ্ন করা বারন।
তবু প্রতি রাতে তোমাদের বিছানায় শরীরের সাথে এই প্রশ্নগুলোকেও মেলে দি —
—- উত্তরের অপেক্ষায়।
কখনো যদি বলতে পারো,
তবে জানবো আমার বেশ্যা জন্ম সাথ’ক। আর
—- তোমারও।
















