এক টুকরো স্বপ্ন আর আমার আকাশ
সুমন মুন্সী
আমার একটা আকাশ ছিল,একেবারে আপনার নিজের,
কেউ ভাগিদার ছিলোনা তার।
গোপনে আমার অভিসার ছিল তার সাথে মনে মনে,
সে ছিল কালবৈশাখীর মতো উন্মত্ত এক খোলা আহ্বান ,
কখনো বা শ্রাবনের ধারার মতো ঝরে পরত দুগাল বেয়ে,
আবার কখনো শরতের পেঁজা তুলোর মতো,
একান্তে নির্জনে ঘুমিয়ে যেত আমার বুকের মাঝে,
এক ঝরাপাতার পড়ন্ত বিকেলে বসেছিলাম,
সেই পাতাকুড়ানীর মাঠের ধারে, বটগাছের নিচে,
পাতাকুড়ানির মাঠ নামটা আমার দেয়া,
সবাই আসে পাতা কুড়াতে,তাই ওই নাম,
গাছের পাতা, না জীবন থেকে ঝরে যাওয়া দিন,
কি কুড়ায় ওরা? ওরাও কি জানে?
তবু পাতা কুড়াতে হয় সকলকেই,
সারা জীবন জুড়ে।
দূরে গরু চোরছে, রাখাল আপন মনে বাঁশি বাজাচ্ছে,
কিন্তু সুরটা আজকাল বড় করুণ, কেমন যেন কান্না মেশানো,
সেই বাঁশি শুনে, আমার আকাশের মুখ এলো ভার হয়ে,
ডেকে বললাম, “এই ছেলে একটা মিঠে সুর বাজাতো, তোর বাঁশি শুধু কাঁদায় কেন “।
কালোপানা সেই মিষ্টি ছেলে বিরস বদনে বললো,
“মিঠে সুর মিথ্যা দিয়ে বাজে না, বাঁশি কথা কয় না,
জীবন জুড়ে শুধু মিথ্যের বেসাতী, জীবন সুরে চলে কোই,
কে আর মনের কথা বোঝে বলো”।
মনের গোপন ভাব, এই আকাশ বোঝে বাতাস বোঝে,
মানুষ বোঝে না, বোঝাতে হয় গো দিদি,
না হলে মনের মানুষ না বুঝেই চলে যাবে,
শুধু আকাশের কোলের মেঘ থেকে যাবে।
চমকে উঠে চেয়ে দেখি,
তাঁর মুখে মুচকী হাসি আর চোখের কোলে চিকচিক,
এ যেন কত আপনার, কত দিনের চেনা,
আরে এতো আমার আকাশ, রাখাল ছেলে হয়ে ধরা দিলো সে।
তবে কেন আমার প্রেমিক হয়ে এলেনা,
কেন এলে বাৎসল্যের মায়া জড়িয়ে,
দীনমাধব কত জন্মের আশা নিয়ে বসে ছিলাম,
আমার পূজা, আমার প্রেম, আমার বিশ্বাস, সব নিয়ে।
একটুকরো মেঘের মতো ভেসে বেরালে,
শুধু আমার জীবন জুড়ে,
ছুটে গিয়েও ছুঁতে পারিনা, কিন্তু কেন?
কিসের দ্বিধা আমার সারা আকাশ জুড়ে।
আমার এখন শুধু একটুকরো মেঘ আছে,
এক আকাশ অভিমান বুকে চেপে নিয়ে সে, ছুটে চলেছে ,
এক বুক আকাশ কে ছুঁতে ।


















