বিষাক্ত শ্বাপদের পদধ্বনি আর নতুন সকাল
সুমন মুন্সী
শুনতে কি পাও ? বিষাক্ত শ্বাপদের পদধ্বনি,
আর দুয়ারে নতুন সকালের হাতছানি ?
আসছে দূর হতে ভেসে কালের যাত্রার ধ্বনি,
শুনিতেছে জাতি, উৎকর্ণ সকল শংকিত প্রাণ,
আশা নিরাশার দোলায়, দোলে মধু যামিনী।
চৈত্রের ঝরা পাতা কহে বসন্ত কে,
” হে বন্ধু বিদায়,মোর লাগি করিওনা শোক,
কালবৈশাখী শেষে আবার আসিবে,
নব পল্লবের দল ছাইবে চারি ধার,
নব বরষার প্রেমের মতো, অবিরত।
যে শ্রমের রক্তের রং লাল থেকে করে ছিলে “নীল”,
বোঝেনি নীল রক্ত হয়না সকলের জন্য,
নয়, কোনো গৌরবময় আভিজাত্যের প্রতীক।
সম্মানের অর্জিত ভাতে মেহনতের ঘামের গন্ধ থাকে মাখা,
মলিন কয়লার কালিতে কেন খোঁজে জাতি, সেই সুবাসের ধারা,
অচেনা গৌরব আর সৌভাগ্যের চাবি কি পাবে, তাঞ্চকের দ্বারে?
কলম ছেড়েছো জনতা চলার পথের সাইকেলে চেপে,
কতদূর পারবে যেতে, ছাঁদা সেই সাইকেলে চেপে?
কলমের কালি জেনো , লেখে বিধির বিধান,
কালির আঁচড় না থাকিলে পেটে,
হে জাতি, খেতে হয় হাত পেতে।
অধিকার নয়কো কোনো ক্ষমতাসীনের দেন,
আমাদেরই পুঞ্জিত রক্তে সিঞ্চিত,
শাসকের কুটিল হাসি পিছেকার,
নির্মম শোষণের লেনদেন ।
শান দাও, ধার দাও , তুলে নাও কলম তরবারি,
হও আবার বলীয়ান নতুন চেনা সে পথে।
ছিনিয়ে নিতে জনতার অধিকার,
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, লাল রক্তের বিজয় টীকায়।
ভুলে যেতে দিয়োনা, সে অমোঘ বাণী,
মানুষই শেষ কথা বলে,
শোষণের কাল রাতের শেষে।
আবার জাগুক তেভাগা, জাগুক বর্গার অধিকার,
আসুক ফিরে কলের ভেঁপু ঘন্টার কাঁটা মিলিয়ে,
আবার বাংলার মাটি সিঞ্চিত হোক,
শ্রমের ঘামের জলে নতুন নবান্নের ডাকে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা অন্য কোনো “করবো জয়ের” গান,
ফিরিয়ে দিক মানুষের মর্যাদার সোনালী সকাল ।
কালের যাত্রায় হবে কি সামিল,
ঘুচাতে মায়ের মলিন দিন ?
Photo Suman Munshi

















