
ট্রানজিস্টর থেকে ইয়ারফোন – পরিবর্তন এলেও অভ্যেসটা একই আছে। জীবন ‘বেটার’ বানাতে যে বেতারের জুড়ি মেলা ভার, সেই বেতারকে ভালোবেসে বিশ্ব বেতার দিবসে আকাশবাণী কলকাতার এফএম বাংলা বিভাগ সারাদিন জুড়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে এই বেতার দিবসের আনন্দ ভাগ করে নিল। ১৩ই ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব বেতার দিবস। দিনটিকে বিশেষভাবে উদ্ যাপন করতে সকালে কলকাতার শোভাবাজার-সুতানুটি মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকার পথ শিশুদের মধ্যে রেডিও সেট বিতরণ করল আকাশবাণী কলকাতার এফএম বাংলা বিভাগ। আর.জে. এবং আধিকারিকদের উপস্থিতিতে গান-গল্প-কথায় বেশ কিছুটা ভালো সময় উপহার পেল সমাজের পিছিয়ে পড়া এইসব শিশুরা। এরপর বেশ কয়েকজন আর.জে. মিলে পৌঁছে গেলেন দেবাঙ্গন বৃদ্ধাশ্রমে। তাঁদের সঙ্গে রেডিও নিয়ে কথা হলো, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা হলো। দীর্ঘদিনের রেডিওর শ্রোতা হিসেবে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের শ্রবণ অভিজ্ঞতা। দিনের পরিসমাপ্তি ঘটলো নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমিতে। সেখানকার ছাত্রদের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এল রেডিওর প্রতি তাদের ভালোবাসার কথা। আকাশবাণীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শ্রোতা হিসেবে তারা আরজেদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আপ্লুত হয়। তাদের মধ্যে কেউ গাইল গান, কেউ বললো কবিতা। শিশু থেকে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক হয়ে ব্লাইন্ড স্কুলের ছাত্ররা, বিশ্ব বেতার দিবসে তাদের প্রত্যেকের কথা সরাসরি সম্প্রচারিত হলো ১০০.১ এফএম গোল্ডে। রেডিও ছাড়াও আকাশবাণী কলকাতার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে সরাসরি দেখা গেল এদিনের সমস্ত অনুষ্ঠান। আকাশবাণী কলকাতার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান আধিকারিক শ্রী শুভায়ন বালা এই কর্মকাণ্ডটি রূপায়ণের দায়িত্বে ছিলেন। রেডিওর বিশেষ দিনে এমন এক উদ্যোগ আবারো মনে করিয়ে দিল যে রেডিও মানেই তথ্য, সংস্কৃতি ও আবেগের এক তারহীন মেলবন্ধন।















