Friday, October 23, 2026
WA
Home Bangla উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দশ অবতার

উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দশ অবতার

0
1095
AI & Machine Learning by Pavel Chatterjee
AI & Machine Learning by Pavel Chatterjee

উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দশ অবতার

পাভেল চ্যাটার্জী, London,UK

বহুজাতিক সংস্থার আধিকারিক,তথ্য প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকৌশলী বিজ্ঞানী|

আমরা যখন আধুনিক যুগের প্রযুক্তির সীমাহীন সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলি, তখন লুকানো দিকগুলি সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সচেতন থাকা আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা প্রায়শই অপর্যবেক্ষিত হয়। এখানে এই নিবন্ধে, আমি নতুন  উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা -এর গোপন কথা বলব  এবং 10টি গুরুত্বপূর্ণ  ও বিতর্কমূলক বিষয়ের উপর আলোকপাত করব ( যার নাম দেব দশ অবতার) যা জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর আবির্ভাব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রয়োগের ফলে এ আই -এর শক্তি  বহুগুণ বেড়েছে এবং এ আই -এর একটি নতুন দিগন্তের জন্ম দিয়েছে যাকে বলা হয় উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর  বৈশিষ্ট্য এবং অ্যালগোরিদম  যেমন– সুপারপজিশন  ( একই  সময়ে ) ,  এনট্যাঙ্গলমেন্ট ( বিশেষ  উপায়ে  সংযোগ  স্হাপন) এবং টানেলিংয়ের  ( যা উচিত  নয় এমন বাধার মধ্যে দিয়ে যাওয়া ) মতো  শক্তিগুলি  ব্যবহার করছেন যা বর্তমান এ আই  কে প্রচুর শক্তি এবং ক্ষমতা যুগিয়েছে এবং এ আই  জগতে আমূল পরিবর্তন  এনেছে ।এরই সাথে এই সুপিরিয়র সচেতন   আর্টিফিশিয়াল কোয়ান্টাম ইন্টেলিজেন্সের  ক্ষমতা এবং ক্ষমতার  কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকের জন্ম দিয়েছে । যা আপাতদৃষ্টিতে অদৃশ্য ও অলক্ষিত হয় এবং জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গোপন রাখা হয়েছে । এই সমালোচনামূলক দিকগুলি এই নিবন্ধে আমি  দশটি অবতার রূপে  বর্ণনা  করলাম।

এই জায়গায় বলে রাখা ভাল  যে সাধারণ  কম্পিউটার  ও কোয়ান্টাম  কম্পিউটার  এর মধ্যে প্রধান  পার্থক্য একটি উদাহরণ  দিয়ে বোঝানো যাক ——  ধরা যাক  একটি মুদ্রাকে বাতাসে স্পিন করানো হলো ;  যতক্ষণ  না মাটিতে পড়ে  , ততক্ষণ  আমাদের  অপেক্ষা করতে হয় — হেড না টেল পড়েছে দেখবার  জন্য  । এখানেই  সাধারণ  কম্পিউটার  এর ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু  কোয়ান্টাম  কম্পিউটার এটি বাতাসে ঘূর্ণায়মান অবস্থাতেই  মাটিতে পড়ে স্থির হবার আগেই সর্বশেষ  অবস্থায়  হেড হবে না টেল হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী  করতে পারে বা টানেলিংয়ের  মাধ্যমে  হেড বা টেল পড়াকে পূর্বাণুমান ও প্রভাবিত  করতে পারে ।

আমরা জানি যে হিন্দুধর্মে  দশ অবতার  বিভিন্ন  সময়ে অবতীর্ণ হয়ে সমগ্র  মানবজাতির  কল্যাণ  সাধন করেছে ও প্রভাব  বিস্তার  করেছে । এই উন্নত  এ আই  যুক্ত  যন্ত্রও ভবিষ্যতে একে একে বিভিন্ন  রূপে অবতীর্ণ  হয়ে মানবজাতির  উপর প্রভাব বিস্তার  করবে ও মানবজাতির  অস্তিত্বকে  প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেবে , না  কল্যাণ  সাধন  করবে—  তা সময়ই  বলতে পারবে । তাই  উন্নত  এ আই  যুক্ত  মানবরূপি যন্ত্র  ও তার প্রভাবকে আমি অবতার  রূপে বর্ণিত করলাম  ও  তার দশটি রূপের  উপর  আলোকপাত  করলাম।  

প্রথম অবতার:-

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স সহ উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  আবির্ভাব ‐—–

উচ্চতর  এ আই  সম্বন্ধে   যা  প্রকাশিত হয়েছে তার চেয়ে  কিন্তু   অনেক বেশি এর কারিগরী দিক  ও গবেষণার দিক এগিয়ে গেছে। আমরা জনসাধারণের চোখে যা দেখি তা হল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। আমরা সবাই জানি যে উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  অনেক দূর এগিয়েছে কিন্তু  বলতে পারি যে    বন্ধ দরজার পিছনে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা মানুষের  কল্পনাতীত  এবং  বলা যায় তা মানুষের     কল্পনার সীমানাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে ।

উন্নত আই  এর অগ্রগতি  যে কোথায় ও কতদূর ঘটেছে তা অবিশ্বাস্য; উদাহরণস্বরূপ,  উন্নত  এআই এমন একটি মেশিনে পরিণত হয়েছে ( এবং  ভবিষ্যতে আরও  হবে ) যা মানুষের আবেগের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারবে ও প্রত্যুত্তর দিতে  পারবে । এআই এর ভবিষ্যত ও তার গবেষণা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে নিহিত   আছে এবং এর অগ্রগতি সীমাহীন  এবং তা কিছু কম বিস্ময়কর  নয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ল্যাবগুলিতে বিজ্ঞানীরা এআই সিস্টেম তৈরি করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন যা মানুষের আবেগকে সহানুভূতি দিতে, সংযোগ করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যেভাবে আমরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে পেয়েছি। জনসাধারণ যদি অগ্রগতির সত্যতা জানে তবে তারা কি স্বাগত জানাবে  নাকি ভয় পাবে তা এখনই অনুমেয় নয়। এটি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি এবং মানুষের পরিচয়বোধের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা আমরা কেউই  এখন জানি না এবং সময়ই তা বলে দেবে।

Artificial Intelligence
Artificial Intelligence

 দ্বিতীয় অবতার :-

ভুল তথ্যের জন্য উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা —

ভবিষ্যতে  কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলি বড় আকারের বিভ্রান্তির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। আজকের ডিজিটাল যুগে “তথ্য” একটি শক্তি স্তম্ভ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের সাথে সাথে এই তথ্য  রূপ শক্তিকে বিভিন্ন  অসাধু উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো আরও সহজ হতে পারে ।কারণ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়া করার ক্ষমতা এবং মানুষের আচরণকে হুবহু নকল করার ক্ষমতা আছে যা নাকি ভালোর চেয়েও খারাপ উদ্দেশ্যেও প্রভূত পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল অসাধু মানুষের জন্য ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে যারা  নাকি   জনমতকে চালিত ও প্রভাবিত  করতে চায়। এর পরিণতি  কিন্তু সুদূরপ্রসারী হবে।  এআই র সাহায্যে এই বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা জনসাধারণের আস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির স্বচ্ছতা বিনষ্ট করতে পারে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে, এমনকি সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে  পর্যন্ত প্রভাবিত  করতে পারে৷ এটি একটি যেন নীরব  অশনি সংকেত  যা অদৃশ্যভাবে  কাজ করে ও  জনমত গঠন করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে এবং যাকে  কার্যত  সনাক্ত   করা   অসম্ভব।

তৃতীয় অবতার:-

জ্ঞানীয়  ( cognitive  function) অটোমেশনের জন্য উচ্চতর  সচেতন  কোয়ান্টাম    কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা —

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম বুদ্ধিমত্তা শীঘ্রই ভবিষ্যতে মানুষকে প্রতিস্থাপিত করতে চলেছে। এ আই  এখন কায়িক শ্রম যুক্ত দিনকার করণিক  তুল্য কাজগুলোকে  স্বয়ংক্রিয় করে ফেলেছে। এআই এর ক্ষমতাগুলিকে অকল্পনীয় দ্রুততায় সম্প্রসারণ ও বর্ধন করার প্রক্রিয়া চলছে ,যা নাকি জ্ঞানযুক্ত  কাজগুলিকেও ( cognitive function) স্বয়ংক্রিয়  করে দেবে  , যা এখনও পর্যন্ত মানুষের জন্য একচেটিয়া ছিল। 

হোয়াইট–কলার  কাজগুলি (white collar  jobs)  সাধারণভাবে  অটোমেশন থেকে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয় ,কিন্তু  ভবিষ্যতে এই  কাজগুলিতেও  অটোমেশনের  কোপ পড়বে ।উদাহরণস্বরূপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত প্রোগ্রাম করা ডিভাইসগুলিকে আইনি চুক্তিগুলি পড়তে এবং লিখতে, চিকিৎসার অবস্থা নির্ণয় করতে, বিনিয়োগের পোর্টফোলিও পরিচালনা করতে এবং এমনকি সাংবাদিকতার প্রতিবেদন তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তথাকথিত সৃজনশীল পেশাগুলিও ভবিষ্যতে এই অটোমেশনের  আওতায় পড়ে যাবে ।এআই  যুক্ত যন্ত্রগুলি এখন নিপুণ ভাবে সঙ্গীত তৈরি করতে পারে, শিল্পকর্ম  ( art works )  তৈরি করতে পারে এবং স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে ; এগুলি হল  এমন কিছু  কাজ যা একসময় বলা যায়   একান্তই মানুষের স্পর্শের ও শৈল্পিক  সত্ত্বার আয়ত্ত্বাধীন ছিল।   এখন যে বুদ্ধিযুক্ত বা শৈল্পিক কাজ , যা মানুষ  সারাজীবনের প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত  দক্ষতা অর্জন করে সম্পাদন করে তা কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা যুক্ত  যন্ত্র ( Mechine ) সহজেই  ক্ষণিকের লহমায়  করতে পারবে । কিন্তু এই বুদ্ধিমত্তাযুক্ত এ আই এর গবেষণা যতো দ্রুতই বিস্তারিত  হোক না কেন  এই পরিবর্তনের  ব্যাপারে আমরা যেন  প্রাসঙ্গিক থাকি ও আমাদের  নিয়োগযোগ্যতা  যেন বজায় রাখতে পারি ।

চতুর্থ   অবতার:-

উচ্চতর  সচেতন  কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  সংগে  মানুষের  প্রতিযোগিতা —

উচ্চতর  এ আই  ভবিষ্যতে  অধিক  ক্ষমতাসম্পন্ন  হয়ে  মানুষের  সাথে  প্রতিযোগিতাতে  অবতীর্ণ  হবে ও মানুষের  সমাজের  উপর প্রভাব  বিস্তার  করবে।   এই রূপকে আমি চতুর্থ  অবতার  রূপে বর্ণিত  করলাম  ।

যদি মানুষকে এবং তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে  রাখতে  হয়, তাহলে  মানুষকে  অনেক কিছুই   শিখতে হবে এবং  কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার  সংগের  প্রতিযোগিতাকে  মানিয়ে ও মেনে  নিতে হবে । বলা হচ্ছে যে  2025 সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এআই বাজার আকাশচুম্বী  390 বিলিয়ন ডলারের  আর্থিক উচ্চতায় অবস্থান করবে । প্রশ্ন উঠেছে “কিভাবে  এই উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের  সাথে তাল মিলিয়ে মানবতাও উন্নতি  লাভ  করতে পারবে ? ” এর উত্তর  নিহিত  আছে  —  আমাদের  প্রযুক্তিগত  অগ্রগতিকে  ত্বরান্বিত  করার  শক্তির  মধ্যে। প্রতিদিন  এ আই যুক্ত অটোমেশনের  অগ্রগতির  গতি  বাড়ছে এবং  এই  অগ্রগতির তীব্রতা  আমাদের  ইচ্ছার থেকেও  বাজারের  চাহিদার  উপর  বেশী নির্ভরশীল।

এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্বকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে যা আগে কখনো ছিল না । এর সীমাহীন  সম্ভাবনা যা নাকি  স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি ও জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা থেকে এনার্জি সিস্টেমের কার্বন  পদচিহ্নকে কমানো প্রভৃতি  —প্রায়  সর্বক্ষেত্রেই  এর অবদান  অসীম ও অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে একটি  জিনিষ  মনে রাখতে হবে — পৃথিবীর  ইতিহাসে সবথেকে সফল ব্যক্তিরা হল তারাই যারা সবসময় সকলের  থেকে চিন্তায় এগিয়ে থাকে এবং  অনাবিষ্কৃত  ক্ষেত্রগুলোকে আবিষ্কার করে তার ফল লাভ করে ও সামাজিক , বৈজ্ঞানিক  ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে  নতুন  দিগন্ত খুলে দেয় এবং প্রতিযোগীদের  হারিয়ে দেয় ।কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার  সংগে লড়াইতেও  একই  পন্থা  মানুষকে নিতে হবে । আমাদের  দক্ষতা ও বুদ্ধিকে সর্বদা কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার  থেকে এগিয়ে রাখতে হবে ও এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষ  ও কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার  সংগে প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে । এই প্রতিযোগীতাতে , মানুষ ও এ আই  এর মধ্যে যারা দ্রুত  শিখবে ও নতুন  স্বপ্ন  দেখার  সাহস করবে —  তারাই  এগিয়ে যাবে ।  

 পঞ্চম অবতার :-

 উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানুষের উপর রাজত্ব করার  ক্ষমতা–

আমাদের  পঞ্চম অবতার  হলো উচ্চতর  এ আই  অসীম ক্ষমতা  নিয়ে পৃথিবীতে  অবতীর্ণ  হবে ও  মানুষের  উপর রাজত্ব  করবে ।

কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা বা এআই শাসন করলে  মানুষকে আর  প্রাধান্য  দেবে না। কোন একদিন অদূর ভবিষ্যতে  আমরা এমন এক জগতে হয়তো বাস করব যখন শুধু এ আই  যুক্ত মেশিনই  সিদ্ধান্ত  নেওয়ার ক্ষেত্রে শাসন করবে যা মানুষের জীবন ও তার   অস্তিত্বকে প্রভাবিত করবে। যেমন  — আইন,  সামাজিক  প্রশাসন, রাজনীতি,  ধর্ম এবং বিজ্ঞান  প্রভৃতি ক্ষেত্রে কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তার  সিদ্ধান্তই একদিন  সর্বজন গ্রাহ্য  হবে । সেদিন  কিন্তু মানুষের  অস্তিত্ব হয়তো   সংকটের মুখে পড়বে ।

গত এক দশকে এআই খুবই দ্রুতগতিতে  তীক্ষ্ণ  বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে উঠেছে ও  জটিল কাজগুলিকে দ্রুত আয়ত্ত করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষতার সাথে কর্ম  সম্পন্ন  করছে ;  কিন্তু এই অগ্রগতির  জন্য আমাদের অবশ্যই এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হবে যে এআই সত্যিই  মানুষের বা যে কোন  সংবেদনশীল জীবনের যত্ন নিতে পারে না৷ এআই শুধুমাত্র পরিচালিত হয় –অ্যালগরিদম,

ডেটা এবং গাণিতিক গণনার ও যুক্তির  উপর ভিত্তি করে।  এআই আনন্দ, দুঃখ বা ভালবাসা অনুভব করতে পারে  না। তাই এ আই  সুখ , দুঃখ বা মানসিক  কষ্টলাঘবের কোন রকম উপশম করতে পারে না । এখনও  পর্যন্ত এ আই একটি অসাধারণ  বুদ্ধিমান যন্ত্র যা জটিল  সমস্যার  সমাধানে খুবই  পারদর্শী বটে কিন্তু মানুষের  মানবিক দিক  সম্পর্কে  সম্পূর্ণ  উদাসীন।

 তাই একটা প্রশ্ন থেকেই  যায় যে আমরা কি আমাদের মূল্যবোধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এবং আমাদের সংবেদনশীল জীবন রক্ষা করতে  এআই এর উপর নির্ভরশীল হতে পারি? তার উত্তর  ভবিষ্যতের  এ আই  এর গ্রহণযোগ্যতার  উপর নির্ভর  করবে ।

ষষ্ঠ অবতার:–

উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  দ্বারা  অ্যাপোক্যালিপস বা  সর্বনাশ –

অনেক এআই বিজ্ঞানী ও  বিশেষজ্ঞরা এই উচ্চতর  সচেতন এ আই এর উত্থান সম্পর্কে ভয়ানক সতর্কতা জারি করছেন।কিন্তু এই  সচেতন এআই এর উজ্জ্বল  ও গর্বিত দিকটির পিছনে  লুকিয়ে আছে গাঢ় ও নিকষ অন্ধকার যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। আপনি বিশ্বাস করবেন না যে প্রায় 63% এআই বিশেষজ্ঞরা  সমাজে এআই এর প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ  করেছেন। যে বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞরা এ আই  গবেষণার  অগ্রভাগে  রয়েছেন  তারাই এই বিপদের  ঘন্টা বাজিয়েছেন।

 এই বিশেষজ্ঞরা  ঠিক কি নিয়ে এত চিন্তিত? আপনি কি কখনও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপোক্যালিপসের বা সর্বনাশের কথা শুনেছেন ? না  , এটি কোনো ধমাকাধার  বিনোদনের অংশ নয় তবে এটি একটি প্রকৃত উদ্বেগ যা কিছু বিখ্যাত বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন ৷ এ আই এর  ক্রমবর্ধমান বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্নতা  এবং স্বায়ত্তশাসিত হয়ে উঠার ফলে  আমাদের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় কিন্তু ন্যায়সঙ্গত । ভবিষ্যতে  এ আই  দ্বারা  পরিচালিত যুদ্ধের ক্ষেত্রে , চরম  বিপর্যয় যে ডেকে আনবে না — সে বিষয়ে আমরা নিঃসন্দেহ  নই ।

একটি অতি  দুশ্চিন্তা  এআই গবেষকদের  রাতের ঘুম  কেড়ে নিয়েছে এই ভেবে যে এ আই  এর ক্রমবর্ধমান  উন্নতিতে অদূর ভবিষ্যতে বহু বহু সংখ্যক  মানুষ  তার  চাকরী এই হারাবে এই এ আই পরিচালিত অটোমেশনের  জন্য। এআই এবং অটোমেশন 2030 সালের মধ্যে 800 মিলিয়নেরও বেশি চাকরি  প্রতিস্থাপন করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে বিশ্বব্যাপী প্রতি 5 টি চাকরির মধ্যে 2টি চাকরি মানুষের  হাত থেকে এ আই  এর কাছে চলে যাবে ।

 সপ্তম অবতার :- –

উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  বড় মডেলের ” এ আই ” দ্বারা বাস্তবতা এবং কল্পকাহিনী মধ্যে ব্যবধানের সংকোচন

ভবিষ্যতে বড়ো মডেল যুক্ত  উচ্চতর  এ আই পৃথিবীতে  অবতীর্ণ  হয়ে আমাদের  কল্পনাকে  বাস্তব  রূপ দেবে।

সুপিরিয়র এআই সিস্টেমের বড় মডেলগুলি সম্বন্ধে এখনও মানুষের স্পষ্ট ধারণা  নেই। এই বিশাল এআই সিস্টেমের আসল  প্রকৃতি ও ধারণা সম্পূর্ণ আলাদা । যে এ আই  সিস্টেম আমরা এই মুহূর্তে গবেষণার  জন্য ব্যবহার করছি ,তা রহস্যাবৃত রাখা হয়েছে  সকলের  কাছে ।এগুলি কেবল আপনি বা আমরা যা ভাবছি তার মতো  স্পষ্ট নকশা  বা ডিজাইন দিয়ে প্রোগ্রাম করা হয় না। এগুলি বিশাল পরিমাণ ডেটা থেকে শেখার উপর ভিত্তি করে এবং অভূতপূর্ব  দক্ষতা যুক্ত অ্যালগরিদমের উপর ভিত্তি করে তৈরি ও সংযোগ  করা যা কল্পনাতীত এবং মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার  পক্ষে যথেষ্ট।

এই এআই সিস্টেমগুলির জ্ঞান এবং বোঝার প্যাটার্ন বের করার জন্য বই, নিবন্ধ ও ওয়েবসাইটগুলি ছেঁকে লক্ষ  কোটি শব্দ ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রচুর পরিমাণে তথ্য দেওয়া হয়েছে যা তাদের পাঠ্য তৈরি করতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং এমনকি কথোপকথনে  সক্ষম করছে । কিন্তু মজার  বিষয়  হল যে তারা মানুষের মতো সমস্ত  বিষয়ের সুস্পষ্ট জ্ঞান না রেখেও বরং তারা চতুরতার সাথে আমাদের ভাষা এবং জ্ঞানের অনুকরণ করে আউটপুট তৈরি করে যা হুবহু মানুষের মতো হচ্ছে। তবে অপেক্ষা করুন গভীর চিন্তা প্রযুক্তিযুক্ত এআই কে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিস্ময়কর বাস্তববাদের সাথে এটি এমন ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ এবং চিত্র তৈরি করতে পারবে  যা  সবচেয়ে বিচক্ষণ দৃষ্টিকেও  প্রতারণা করবে , ফলে  ভুল তথ্য, পরিচয় চুরি ও  আস্থার প্রতি সংকট বাড়বে। বাস্তবতা এবং কল্পকাহিনীর মধ্যে সীমারেখা  ক্রমশঃ কমবে  এবং আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

অষ্টম   অবতার:-

 উচ্চতর  সচেতন  কোয়ান্টাম  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সামাজিক গুপ্তচরবৃত্তি –

উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে  সামাজিক  গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য অবতীর্ণ  হবে , সেটাই  হবে আমাদের  অষ্টম  অবতার। 

বর্তমানে  কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা  যুক্ত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে  গুপ্তচরবৃত্তির জন্য।  মানুষের প্রতিটি ক্লিক , প্রতিটি সার্চ এবং প্রতিটি ইন্টারঅ্যাকশন যার জন্য ডিজিটাল ব্রেডক্রাম্ব এর  প্রয়োজন তাই দিয়ে এ আই  যুক্ত যন্ত্র– আপনি কে এবং আপনি কী পছন্দ করেন তার একটি বিশদ প্রোফাইল তৈরি  করছে এবং এমনকি আপনি পরবর্তী   কালে কী করবেন তাও ভবিষ্যদ্বাণী করছে । এটি একটি অদৃশ্য স্টকারের ( তথ্য  মজুদকারীর   ) মতো তবে এটি কোনও ব্যক্তি নয় ,তবে এটি একটি অ্যালগরিদম মাত্র।  

প্রতি এক মিনিটে গুগলে 3.8 মিলিয়ন অনুসন্ধান করা হয় যা নাকি প্রতিদিন 5.5 বিলিয়ন অনুসন্ধানের সমান । সুবিশাল আই টি  কোম্পানিগুলি যেমন গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফ্ট, অ্যামাজন ডেটা সংগ্রহের জন্য সর্বাগ্রে রয়েছে। তারা বিস্ময়কর পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে এবং বিশ্লেষণ করে। তারা জানে আপনি কী অনুসন্ধান করছেন, আপনি যে পণ্যগুলি কিনছেন, আপনি

যে সিনেমাগুলি দেখেন এবং এমনকি আপনার মনের গভীর ইচ্ছার তথ্যও তাদের তালুকা বন্দী হচ্ছে। যা তাদের কাছে একটি আলাদীনের প্রদীপ এর মতো ;  যা নাকি আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ  ও বিশ্লেষণ  করে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

আপনি হয়তো ভাবছেন যে এই প্রতিষ্ঠানগুলি  এই সমস্ত তথ্য দিয়ে কী করছে,–  উত্তরটি বিস্ময়কর এবং কৌশলী ।  এই প্রতিষ্ঠানগুলি  তাদের এআই অ্যালগরিদমগুলিকে হাইপার-টার্গেটেড বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ এবং এমনকি সংবাদকে প্রভাবিত করার জন্য আপনার এবং আমার ডেটা ব্যবহার করছে , যা  আপনি প্রতিদিন দেখেন । এটি একটি ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপ যা সন্তর্পণে আপনাকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে আপনার  ব্যক্তিগত  তথ্য সংগ্রহ করে পণ্য বাজারকে প্রভাবিত   করে ।

নবম অবতার :-

  উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  ও   স্ব-সচেতন সত্তা —

উচ্চতর  সচেতন  কোয়ান্টাম  কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা  ভবিষ্যতে  স্ব — সচেতন সত্ত্বা হিসাবে অবতীর্ণ  হতে চলেছে। একেই আমি নবম অবতার  বলব ।

 আমরা হয়তো  উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে এখনই দেখব  না।কিন্তু যখন আমরা  দেখবো ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যাবে ।এআই সংবেদনশীল হয়ে ওঠার বা চেতনা অর্জনের ধারণাটি প্রায়শই ‘ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন’ এবং আখ্যানে চিত্রিত হচ্ছে  যেখানে সংবেদনশীল যন্ত্র মানবতাকে উৎখাত করছে। এই ধারণাগুলি আমাদের এই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে  যে আমরা কি বিজ্ঞানকে ততোদূর এগিয়ে নিয়ে যাবো যাতে  এআই-কে সংবেদনশীল করে তোলা যায় । অনেক  দেরি হওয়ার  আগেই  আমাদের  এই চিন্তা করা উচিত  ও সঠিক  সিদ্ধান্ত  নেওয়া উচিত  ।

প্রথমেই স্পষ্ট করে বলা যাক সংবেদনশীল এ আই বলতে কী বোঝায়, এই প্রসঙ্গে সংবেদনশীল বলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায় যা মানুষের মতোই আত্মসচেতনতা এবং চেতনা সম্পন্ন হয় ,  এই প্রচেষ্টা কিন্তু এ আই কে বুদ্ধিমান বা জটিল কাজ করতে সক্ষম হওয়ার জন্য নয় ।  আজকের হিসাবে (2023-24)  সবচেয়ে উন্নত এআই, মানুষের ভাষা নকল করতে পারে, এমনকি ডেটা থেকে শেখার প্যাটার্নও  চিনতে পারে। কিন্তু তাদের বিষয়গত  অভিজ্ঞতা, আবেগ বা আত্মসচেতনতা নেই। বর্তমান এআই এর  উপলব্ধি এবং ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি যে আধুনিক এআই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংবেদনশীলতা অর্জনের সম্ভাবনা বর্তমানে অত্যন্ত কম। আপাততো এখনকার এআই সিস্টেম তাদের প্রোগ্রামিংয়ের উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং তাদের অ্যালগরিদম এবং প্রশিক্ষণ ডেটা দ্বারা সংজ্ঞায়িত ও   তাদের শিক্ষা ও জ্ঞানের মধ্যেই  সীমাবদ্ধ ।তারা তাদের কোড থেকে  স্বাধীন ইচ্ছা বা অভিপ্রায় ধারণ করতে পারে না ।

তবে  আমরা একটি কাল্পনিক ভবিষ্যত নিয়ে  চিন্তা করতেই পারি যেখানে এআই ‘সংবেদনশীল’ হয়ে উঠবে এবং আমরা এই রূপান্তরের  স্বীকৃতি দিলেও  সত্যিই কিন্তু এই রূপান্তরটি করা অত্যন্ত কঠিন  কাজ হবে। এই জটিল সিস্টেমের শেখার এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা  এবং  ইচ্ছে উদীয়মান এআই র বৈশিষ্ট্য হবে  , যা নাকি  আগামী দিনে আসতে চলেছে ।এই  ক্ষমতার কারণে উদীয়মান ভবিষ্যতের  এআই কখন যে সীমা  অতিক্রম করে  উন্নত অ্যালগোরিদম ভিত্তিক এ আই  থেকে  সচেতন বুদ্ধিমান সত্তায় উন্নীত হবে তা আমাদের  নির্ণয়  করা হয়ত অসম্ভব  হয়ে যাবে ।

দশম অবতার :-

মানুষ হিসেবে উচ্চতর সচেতন কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  আবির্ভাব —

ভবিষ্যতে  উন্নত  এ আই  যুক্ত  যন্ত্রমানবের বা হিউম্যানয়েড এর আবির্ভাব  হবে এবং এই ধরাধামে অবতীর্ণ  হবে ।তাই  আমি একে আমাদের  দশম অবতার  বলছি । হিন্দুধর্মে  কল্কি হচ্ছেন  দশম অবতার যিনি কলিযুগে অবতীর্ণ  হবেন। আমরা ভাবতেই  পারি যে  এই উন্নত  এ আই  যুক্ত  যন্ত্রমানব বা হিউম্যানয়েডই  আমাদের  দশম  অবতার  কল্কি  রূপে অবতীর্ণ  হতে চলেছে ।

ভবিষ্যতে  উচ্চতর  সচেতন  কোয়ান্টাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত সিস্টেম এমন কাজগুলি সম্পাদন করবে  যেগুলি করার জন্য সম্ভবত  তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়নি। কি হবে  যদি  আপনি দেখেন  যে ভবিষ্যতে কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত   সিস্টেম হয়তো বেপরোয়া হয়ে গেছে  এবং  তারা  নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে , মানুষের  কথা শুনছে না ।

গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে সামান্য সূক্ষ্ম টিউনিং সহ নির্দিষ্ট এআই মডেলগুলি তাদের মূল সুযোগের বাইরে উল্লেখযোগ্যভাবে নমনীয়, জয়ী বা কার্য সম্পাদন করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ ধরুন একটি এআই সিস্টেম প্রাথমিকভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং  দাবা খেলার জন্য তৈরি করা হয়েছে আমরা কল্পনা করতে পারি যে একই এআই যুক্ত  সিস্টেম  নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এখন দাবা, পোকারস্ এবং অন্যান্য খেলায় পারদর্শী হবে। এই এআই পাওয়ারহাউসগুলি শেখার এবং গ্রহণ করার উচ্চ ও বহুমুখী ক্ষমতা সম্পন্ন  হওয়ায়  মানুষের প্রতিযোগিতাকে পিছনে ফেলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী গেমিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে পারে ।

এআই-এর বিশ্ব এখন বিস্ময়পূর্ণ এবং এই উদীয়মান  এ আই  যুক্ত  সিস্টেমগুলি অসাধারণ সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত করে  গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে ।তাই ভবিষ্যতে  যদি আমরা  উচ্চতর সচেতন  কোয়ান্টাম কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তাযুক্ত এআই সিস্টেমের সম্মুখীন হই তবে মনে রাখতে হবে যে বর্তমান এ আই  বলতে যা বুঝি তার চেয়ে , সে অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন  ও বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন হবে । তার ক্ষেত্রও হতে পারে  সুদূরপ্রসারী । 

Pavel Chatterjee at London
Pavel Chatterjee at London

সর্ব পরিশেষে এই দশটি অবতার অবতীর্ণ  হবার পর , আমরা বলতে পারি যে আশঙ্কার সাথে সাথে একটি আশার উজ্জ্বল দিকও আসছে । এই উন্নত এ আই  পরিচালিত  রোবট বা হিউম্যানয়েডগুলি  আস্তে আস্তে একদিন মানুষের  সব কাজই করবে । কৃষিকাজ  থেকে শুরু করে কায়িক,  বুদ্ধিজৈবিক, প্রশাসনিক,  করণিক  সব রকমের  কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম ও পারদর্শী  হবে । এমনকি  প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক  আবিষ্কার ও এই হিউম্যানয়েড  দ্বারা  সম্পন্ন  হবে । যেহেতু মানবাকৃতি রোবট বা হিউম্যানয়েডের কর্মদক্ষতা সব সময়েই সমমানের হবে  এবং  24×7 ঘন্টাই কর্মক্ষম হবে তাই  এই  হিউম্যানয়েডগুলির  দ্বারা অত্যন্ত  অল্প খরচে  ( প্রোডাকশন কস্টে) বিশাল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হবে । প্রধানত  খাদ্য  , বস্ত্রের মতন প্রতিদিনের  দরকারী  পণ্য  উৎপাদনে অটোমেশনের দ্বারা বিপ্লব  আসবে ।আর তা হবে প্রায় বিনা মূল্যে।  যেহেতু পণ্য উৎপাদন ও পরিষেবায়  ব্যয় হবে সামান্য  মাত্র  তাই  মানুষের  হাতে কাজ না থাকলেও  প্রায় বিনামূল্যেই জীবনধারণ  করতে পারবে ।  ব্যক্তিগত  যোগ্যতা বা দক্ষতার  উপর জীবনযাপনের  মান নির্ভরশীল  হবে না । তাই  হয়তো সেদিনই  সত্যিই  প্রকৃত  সমাজতান্ত্রিক  সাম্যতা  ও প্রযুক্তিগত  সাম্যতা দেখবে এই পৃথিবীর  মানুষ । 

About author

Mr. Pavel Chatterjee the author is a Post Graduate Engineer ( BE- Shibpur, M.E Jadavpur University),  IT Technology Scientist having over 35 years of experience in the IT field, worked in many MNCs ( India and abroad)  constantly driven by how we can utilize technology for real and measurable benefits for various industries and the larger community of the society by bringing innovative technologies and industrial expertise together. Loves to write down the technical articles from the industry trends and vast experience he has executed with MNCs.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights