Monday, October 26, 2026
WA
Home Bangla জেড এস আই : ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

জেড এস আই : ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

0
507

কলকাতা; ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫:

জেড এস আই : ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন
কলকাতা; ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫:

ডিপটেরা বর্গের টেফ্রিটিডি পরিবারের ফলের মাছি বিশ্বব্যাপী কৃষির জন্য একটি বড় হুমকি, যা ফসলের ফলন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ZSI), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণের একটি যুগান্তকারী কৌশল তৈরি করেছেন যা এই কীটপতঙ্গ দমনে বিশ্বব্যাপী দিগন্ত ঘটাতে পারে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জার্নাল বিএমসি জিনোমিক্সে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত টেফ্রিটিডি পরিবারের ফলের মাছির উপর মনোনিবেশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের যেসকল জেলা যেখানে কৃষি জীবিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, গবেষকদল সেখান থেকে কুমড়ো, শসা এবং লাউয়ের মতো ফসলের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন প্রজাতির ফলের মাছির নমুনা সংগ্রহ করে মাইটোকন্ড্রিয়াল COI (সাইটোক্রোম অক্সিডেজ সাবইউনিট 1) জিন থেকে ৩০টি অনন্য নিউক্লিওটাইড স্থান চিহ্নিত করেছেন, যা প্রজাতি-নির্দিষ্ট।

জেড এস আই -এর অধিকর্তা ডঃ ধৃতি ব্যানার্জী এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার উপর আলোকপাত করে বলেন, “ফলের মাছি কৃষিজমির সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পোকামাকড়গুলির মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে ৭০%-এরও বেশি গ্রামীণ পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল, দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গে হওয়া এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় পাওয়া ফলাফল শুধুমাত্র ফসল রক্ষা করতেই সহায়ক হবে না, বরং রাসায়নিক কীটনাশকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও কমাবে। এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ক্ষতিও কমাতে পারব এবং তার সাথে কৃষি পেশাদারদের সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম দিয়ে ক্ষমতায়নও করতে পারব।”

ফলের মাছি: খাদ্য নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের পক্ষে এক বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক

ফলের মাছির সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। সংক্রমণের ফলে ফল ও সবজি পচে যায় এবং প্রায় প্রতি বছর বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়। এই কীটপতঙ্গের কারণে অনেক দেশ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন ও হয়। যুগান্তকারী এই গবেষণা ডিপটেরা বর্গের টেফ্রিটিডি পরিবারের ফলের মাছির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি হাতিয়ার হয়ে উঠবে। এই নতুন পদ্ধতি দ্রুত, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য প্রজাতি সনাক্তকরণে সক্ষম হবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাবের সময় আগেভাগেই হস্তক্ষেপ করে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে, যা কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করবে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকগণ অঙ্কুশ মিত্র, পূবালী মিত্র, প্রদোষ মহাদানি এবং সুব্রত ত্রিবেদী বিশ্বাস করেন যে তাদের এই আবিষ্কার কৃষি উৎপাদনশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে। তারা এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োগ করা এবং কীটপতঙ্গের বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করেছেন, এটিকে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে একটি বহুমুখী এবং কার্যকরী পদ্ধতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মধুসূদন দাস বলেন, “ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী। তাই যথোপযুক্ত কৃষি অনুশীলন সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ফলের মাছি প্রজাতিকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের কৌশল কার্যকর হলে কৃষিজমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাসপ্রাপ্ত হবে, যা স্বাস্থ্যকর বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সাহায্য করবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights