যার সম্পর্কে লিখতে বসেছি নতুন করে তার সম্পর্কে কিছু বলার বা লেখার প্রয়জন আছে বলে আমি অন্তত মনে করিনা। এ শুধু সেই মহান সন্ন্যাসী, ইসলামিক আগ্রাসন থেকে সনাতন হিন্দু ধর্মের রক্ষক এক অত্যন্দ্র প্রহরী শ্রী দয়ানন্দ সরস্বতীকে স্মরণ করার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। আর দয়ানন্দ সরস্বতীকে নিয়ে লিখব আর্য সমাজ নিয়ে লিখব কিন্তু শ্রদ্ধানন্দ নিয়ে লিখব না তাই কখনও হয়! ওনার আবির্ভাব দিবসও এই মাসেই ২২শে ফেব্রুয়ারি।
সত্যি বলতে কি সনাতন হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতিকে বারংবার রক্ষা ও অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ত্রতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া বহু পথিকৃৎ আছেন। আজকের এই বর্তমান সময়ে এই লেখার মূল তাৎপর্য কিন্তু অন্য জায়গায়। সনাতন ধর্ম, সংস্কৃতি বা বিজ্ঞানকে ধ্বংস করার জন্য বছরের পর বছর ধরে বৈদেশিক হানাদাররা চেষ্টা করে গেছে, আর সেই ধ্বংসের মূখ্য সহায়ক হয়ে উঠেছে একদল হীনমন্য ভারতীয় হিন্দুই। আপনারাই বলুন না তুর্কি, আফগান, আরব, ব্রিটেন থেকে কত হাজার বা লক্ষ আগত বৈদেশিক হানাদার এসেছিল?
আর দয়ানন্দ সরস্বতী থেকে শ্রদ্ধানন্দজি ,বিবেকানন্দ শ্রী রামকৃষ্ণের মত একেক জন এইসব তস্কর হানাদারদের ওপর ভারি পড়েছিলেন। যখন ইসলামিক আগ্রাসনে হিন্দু সভ্যতা সংস্কৃতি বিপদের মুখে পতিত তখন সেই সংস্কৃতিকে পুনঃরুদ্ধারে ব্রতি হন দয়ানন্দ সরস্বতী তার গুরুর কথায়। আর সেখান থেকেই আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠা। পরবর্তীকালে তার সেই মহান কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান স্বামী শ্রদ্ধানন্দ।
বিধর্মী বা বিপথগামী বহু হিন্দুকে পুনরায় স্বধর্মে ফিরিয়ে তাদের সঠিক পথ দেখান।
আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন না আবদুল্লাহ গান্ধীর পরিচয়, জানেন না তিনি গান্ধীজির জ্যৈষ্ঠ পুত্র হরিলাল মোহনদাস গান্ধী। অল্প কিছুদিনের জন্যে হলেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয় সেই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যেসব কুকীর্তি করেছিলেন অনুরোধ করবো আপনারা নিজেরা সেগুলো পড়ে নেবেন। কারন কাউকে ছোট করা বা হেয় করা আমার উদ্দেশ্য নয়। Wikipidia, quoro ছাড়াও আরও অনেক সাইট আছে যেখানে গেলে আপনারা নিজেরাই সত্য জানতে পারবেন। নিচে কয়েকটা লিংক দিয়ে দেবো, তবে তার বাইরেও আরও অনেক জায়গা আছে সত্যানুসন্ধানের।




আর সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে তার পিতা কিন্তু তাকে স্বীয় ধর্মে প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনভাবেই চেষ্টা করেননি। যখন তার মা কস্তুরী বাঈ তার পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে বলেছিলেন ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে গান্ধীজি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এর দুটো কারণ এক ওনার আদর্শ একটু অন্যরকম বলা ভালো দ্বিচারিতা, অন্যধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বা ভয় বলাই ভালো। কারন ওনাকে অনেকবারই হেনস্থার স্বীকার হতে হয়েছিল মুসলিমদের কাছে। ওনার সমস্ত ভুলের মাশুল ওনাকে জীবন দিয়ে দিতে হয়েছিল।
অবশেষে মাতা কস্তুরী বাঈ এর প্রার্থনা শ্রদ্ধানন্দা ফিরিয়ে দেননি। তার ফলস্বরূপ আবদুল্লা পুনরায় স্বীয় ধর্মে ফিরে আসেন।
এরম আরও বহু ঘটনা আছে যার কিছু আমরা জানি আর অনেকটাই অজ্ঞাত। এক্ষেত্রে নাথুরাম গডসের কথাও উল্লেখ করতে হয়, কারণ ওনার জবানিতে উনি নিজেই বলে গেছেন উনি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে হত্যা করেননি, তিনি তার জন্মভুমি তথা সংস্কৃতিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন শুধু। ওনার ভয় ছিল , নাহলে তার মাতৃভূমি পুনরায় পরাধীন হয়ে যেতে পারে যবনদের হাতে। ওনার কাছে ওনার দেশ মাতৃকার স্থান সবার ওপরে ছিল।
তাই আমার এই লেখা সেই সকল দেশ মাতৃকার উদ্দেশ্যে নিবেদিত শ্রদ্ধার্ঘ। যারা তাদের দেশ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।
দয়ানন্দ সরস্বতী (গুজরাত ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮২৪, মৌরভী, টঙ্কর, সৌরাষ্ট্র, গুজরাত– ৩০ অক্টোবর ১৮৮৩, আজমীর একজন গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মগুরু, সমাজ সংস্কারক এবং আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পশ্চিম ভারতের কাথিয়াওয়াড়ের মোরভি শহরে এক ধনাঢ্য নিষ্ঠাবান সামবেদী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার গার্হস্থ্যাশ্রমের নাম মূলশংকর। বাল্যশিক্ষা পিতার কাছেই লাভ করেন। ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ না হওয়ায় প্রথম থেকেই তিনি সংস্কৃতশাস্ত্র উত্তমরূপে আয়ত্ত্ব করেন এবং ধীরে ধীরে সমগ্র যজুর্বেদ ও আংশিকভাবে অপর তিন বেদ, ব্যাকরণ, তর্ক ও দর্শনশাস্ত্র, কাব্য, অলংকার, স্মৃতি প্রভৃতিতে যথেষ্ট বুৎপত্তি অর্জন করেন। ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত কাশী শাস্ত্রার্থে তিনি তৎকালীন পন্ডিতবর্গকে পরাজিত করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। হিন্দু সমাজ হতে কুসংস্কার দুর করতে এবং বেদ প্রতিষ্ঠা করতে বেদভাষ্য প্রণয়ন করেন এবং গড়ে তুলেন আর্য সমাজ। তার বিখ্যাত একটি গ্রন্থ সত্যার্থ প্রকাশ যা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রভাব রেখেছিল।
স্বামী শ্রদ্ধানন্দ (২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬ – ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৬), যিনি মহাত্মা মুন্সী রাম বিজ নামেও পরিচিত। তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং একজন আর্য সমাজ সন্ন্যাসী যিনি দয়ানন্দ সরস্বতীর শিক্ষা প্রচার করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে গুরুকুল কাংরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, এবং ১৯২০ -এর দশকে হিন্দু সংস্কার আন্দোলন, সংগঠন এবং শুদ্ধি আন্দোলন -এ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্বামী শ্রদ্ধানন্দ হিন্দু ধর্মের শুদ্ধিকরণ করতে গিয়ে কিন্তু ইসলামিক জেহাদীদের হাতে মৃত্যু বরণ করেছিলেন, সেই বিষয়েও কিন্তু father of nation বিবৃতি দিলেও তা না দেওয়ারই সামিল ছিল। কিন্তু ঐযে বলেছি, আমি হিন্দু আমাদের একটা সংস্কৃতি আছে সভ্যতা আছে, পায়ে কাঁটা ফুটলে উপড়ে ফেলে দিই কিন্তু কাঁটাকেও অসম্মান করিনা। বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলেনো পরিচয়তে।
তাই পুনরায় সেই সকল আত্মার প্রতি আমার তথা সমগ্র IBG news এর তরফে প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করলাম এই লেখার মাধ্যমে যারা আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতি সভ্যতাকে রক্ষা করার ব্রতী হয়েছেন।
লেখক :

সুনন্দ মিত্র, সমাজ সেবক, ভারতীয় দর্শন ও সমাজব্যবস্থা গবেষক, এবং সাংবাদিক
রেফারেন্স:
https://www.britannica.com/topic/Arya-Samaj



















