Monday, September 21, 2026
WA
Home Bangla বেতারে মহিষাসুর মর্দিনী ও তার বিশ্বায়ন আধুনিক কালে সুপ্রিয় সেনগুপ্তের কণ্ঠে

বেতারে মহিষাসুর মর্দিনী ও তার বিশ্বায়ন আধুনিক কালে সুপ্রিয় সেনগুপ্তের কণ্ঠে

0
39
Mahalaya in English
Mahalaya in English

বেতারে মহিষাসুর মর্দিনী ও তার বিশ্বায়ন আধুনিক কালে সুপ্রিয় সেনগুপ্তের কণ্ঠে

কলম কারিগর – সুমন মুন্সী

১৯৩০ সালের ১ এপ্রিল ভারতীয় বেতারের সরকারিকরণের পর নাম হয় “ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিস”।
তখন সকলেই নব নব অনুষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত। এরই ফলে জন্ম নিল ‘বেতার-বিচিত্রা’। রচনা থেকে পরিচালনার সম্পূর্ণ ভার বাণীকুমারের উপরেই ন্যস্ত হল। এই সৃজনশীল মানুষটি বিভিন্ন স্বাদের ডালি সাজিয়ে ফেললেন, তার প্রথম ডালিটি হচ্ছে “বসন্তেশ্বরী”। সঙ্গীত পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র বালীর সুর-মূর্ছনায় “রাগ বসন্ত” এবং দেশী, দেবগিরি, বরাটী, তোড়ী, ললিত ও হিন্দোলী— এই ছয় রাগিনী বাণী-সংযোগে এক অপূর্ব রসের সঞ্চার হয়। পঙ্কজকুমার মল্লিক অন্যান্য গানের সুর দেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কয়েকটি নাট্য-কথা সূত্র ও গীতাংশ পাঠ করেন এবং বাণীকুমার শ্রীশ্রীচণ্ডীর কতিপয় শ্লোক আবৃত্তি করেন।
রাইচাঁদ বড়ালের সঙ্গীত পরিচালনায় ও বাণীকুমারের প্রবর্তনায় অনুষ্ঠানটি রসোর্ত্তীর্ণ হয়। এই অনুষ্ঠানটিই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পরিকল্পনার উৎস।

এই “বসন্তেশ্বরী” অনুষ্ঠানটি রসোত্তীর্ণের কিছু দিন বাদে বাণীকুমার তৎকালীন বেতার অধিকর্তা শ্রীনৃপেন্দ্রনাথ মজুমদারের কাছে গিয়ে ১৯৩২-এর মহাষষ্ঠীর (আশ্বিন ১৩৩৯) শারদীয়া বন্দনা করার বাসনা রাখেন। কিন্তু , পর পর এই অনুষ্ঠান শ্রোতারা গ্রহণ করবে না বলে এই অনুষ্ঠানটি করতে আগ্রহী ছিলেন না নৃপেন্দ্রনাথ বাবু ।
এই রকম আলোচনা যখন চলছে তখন বেতার জগতের সম্পাদক প্রেমাঙ্কশু আতর্থী এসে বাণীকুমারের এই প্রস্তাব সমর্থন করেন এবং নৃপেন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলে এই অনুষ্ঠান ওই নির্দিষ্ট দিনেই সম্প্রচার করবার ব্যবস্থা করেন, অর্থাৎ মহাষষ্ঠীর নবপ্রভাতে বাণীকুমারের রচিত ‘শারদীয়া বন্দনা’ তাঁরই প্রবর্তনা। শ্রী পঙ্কজকুমার মল্লিকের সঙ্গীত পরিচালনা এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গ্রন্থনা ও স্তোত্র পাঠে এটি প্রচারিত হল এবং শ্রোতাদের মন জয় করল।
১৯৩৩, ১৯৩৪, ১৯৩৫ — এই তিন বছর পরিমার্জিত হতে থাকে স্ক্রিপ্ট , কিন্তু ওই একই নামে প্রচারিতও হতে হতে থাকে। তার পর ১৯৩৬ সালে “মহিষাসুর বধ” এবং ঠিক পরের বছর ১৯৩৭ সাল থেকে “মহিষাসুরমর্দিনী” নামকরণ হয়।

এইবার বাণীকুমারের কথা শোনা যাক—
“মহিষাসুরমর্দিনী সম্পর্কে সহৃদয় গ্রাহকগণের অবগতির জন্য উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বৎসরে বৎসরে না হোক্— এই মহিষাসুরমর্দিনী আলোখ্যটিকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করবার আগ্রহে আমি বিবিধ বিষয়, স্তব-স্তুতি, দেবীসুক্ত, নব-রচিত গান সন্নিবেশ করেছি। অন্ততঃ ছয়-সাত বার এই রচনার পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। মহাদেবীর চণ্ডিকার প্রায় সমূহ তত্ত্ব ও তথ্য সমাহারে এবং দেবীর নানাবিধ ভাব-রূপ-প্রকাশক গীতাবলী-সজ্জায় এই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সুসম্পন্না হয়ে উঠেছে।“
মহিষাসুরমর্দিনীর সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজকুমার মল্লিক হলেও ‘অখিল বিমানে’, ‘আলোকের গানে’- এই গানগুলির সুর দেন হরিশ্চন্দ্র বালী। ‘শান্তি দিলে ভরি’র সুর দেন সাগির খাঁ।
বর্তমান রেকর্ডে আমরা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের যে ধরনের চণ্ডীপাঠ শুনি, প্রথম দিকে কিন্তু উনি ওই ভাবে উচ্চারণ করতেন না। পুরো দলটিকে যথাযথ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন অধ্যাপক অশোকনাথ শাস্ত্রী বেদান্ততীর্থ মহাশয়।
ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে এই অনুষ্ঠান। আর হবে নাই বা কেন, প্রচুর গুণী মানুষের সমাবেশ, তাঁদের আলোচনা, নতুন কিছু করার অদম্য চেষ্টা এবং বিষয়ের প্রতি নিষ্ঠা তাঁদের এই অনুষ্ঠানকে শ্রোতাসাধারণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এই অনুষ্ঠানের শুরুর দিকের গায়কেরা ছিলেন পঙ্কজ মল্লিক, কৃষ্ণ ঘোষ, আভাবতী, মানিকমালা, প্রফুল্লবালা, বীণাপাণি প্রমূখ।

Supriyo Sengupta
Supriyo Sengupta

অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় যেমন হয়েছিল তেমনি এটিকে ঘিরে একটি বিতর্ক তুলেছিলেন তৎকালীন গোঁড়া ব্রাহ্মণসমাজ। তাঁরা বলেছিলেন, পুণ্য মহালয়ার ভোরে অব্রাহ্মণের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। এই ঘটনার পর অনুষ্ঠানটিকে সরিয়ে ষষ্ঠীর ভোরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শ্রোতাদের বিপুল চাপে ১৯৩৬ সাল থেকে পুনরায় অনুষ্ঠানটিকে মহালয়া তিথিতেই বাজানো শুরু হয়।
এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক শিল্পীর অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাত্মতা ছিল দেখবার মতো। লাইভ সম্প্রচারের সময় সমস্ত কলাকুশলী ভোররাতে স্নান সেরে শুদ্ধ আচারে উপস্থিত হয়ে যেতেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ পরতেন গরদের জোড়, কপালে চন্দনের ফোঁটা।
এই ভাবে যখন অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, সেইসময় ১৯৭৬ সালে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করে একটি অন্য অনুষ্ঠান বাজানো হবে মহালয়া তিথিতে। এই অনুষ্ঠানটির নাম ‘দেবীদুর্গতিহারিণীম্’। এটি লিখেছিলেন ধ্যানেশনারায়ণ চক্রবর্তী। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গান লিখেছিলেন শ্যামল গুপ্ত। নির্বাচিত কিছু ভাষ্যপাঠ করেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার।

কিন্তু এ অনুষ্ঠান দর্শকেরা একেবারেই গ্রহণ করেননি। ‘মহিষাসুরমর্দিনী’কে বাদ দেওয়ার জন্য ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সাধারণ মানুষ। তৎকালীন আকাশবাণীর জনপ্রিয় উপস্থাপক মিহির বন্দ্যোপাধ্যায় এক জায়গায় লিখেছেন, ‘দেবীদুর্গতিহারিণীম্’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের মধ্যপথেই টেলিফোনে শ্রোতাদের অবর্ণনীয় গালিগালাজ আসতে শুরু করে অকথ্য ভাষায়। অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই আকাশবাণী ভবনের সামনে সমবেত হয় বিশাল জনতা। ফটকে নিয়োজিত প্রহরীরা সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে যান। ফটকের গেট ভেঙে ঢুকে পড়তে চায় উত্তাল মানুষের দল’। শোনা যায়, পরবর্তী কালে উত্তমকুমারও তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন।

এই ভাবে মহিষাসুরমর্দিনীকে সরিয়ে দেওয়ায় মর্মাহত হয়েছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং পঙ্কজকুমার মল্লিক।
একটা অনুষ্ঠানের প্রতি মানুষের কী রকম ভালবাসা থাকলে এ রকম প্রতিক্রিয়া সম্ভব, তা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। সে বছর ষষ্ঠীর দিন এ অনুষ্ঠান আবার বাজানো হয় এবং ১৯৭৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মহালয়ার ভোরেই বাজানো হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানটি।

কিন্তু যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের উদাত্ত কণ্ঠের জাদুতে এই অনুষ্ঠান এখনও পর্যন্ত স্বমহিমায় জীবিত সেই মানুষ টিকে শেষজীবনে অনেক দুঃখ সহ্য করতে হয়েছে। আকাশবাণীকে নিজের সন্তানের মতো করে গড়ে তুলেছিলেন উনি। নাটক প্রযোজনা, অভিনয়, গানের অনুষ্ঠান, চাষবাসের অনুষ্ঠান— সবরকম অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন সমান সাবলীল। এমনকি, বেতার পাক্ষিক পত্রিকা ‘বেতার জগত’ এর কপি তিনি জিপিও’র সামনে দাঁড়িয়ে নিজে হাতে বিক্রি করেছেন। শ্রীবীরুপাক্ষ ছদ্মনামে লিখেছেন অনেক লেখা। এহেন প্রবাদপ্রতিম মানুষটি অবসরের পরও ‘সাপ্তাহিক মহাভারত পাঠ’ এবং ‘মজদুর মণ্ডলীর আসর’ এ আসতেন। এসময় এক দিন আকাশবাণীর জনৈক দ্বাররক্ষী তাঁর কাছে পাস চেয়ে বসেন। সে দিন প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করে ক্রোধে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘‘এই রেডিও’কে জন্ম দিয়েছি আমি, আমার কাছে অনুমতিপত্র চাইছ!’’
সত্যিই তো, আকাশবাণী কর্মীরা তো এখনও এই নামটিকে (বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র) পুজো করেন। অথচ অন্যত্র কত অনালোচিত তিনি! তাঁর এই অনুষ্ঠানটির শর্ত অবলীলায় বিক্রি হয়ে যায় কোনও এক রেকর্ড কোম্পানির কাছে। আকাশবাণীর নিজের সম্পদ আজ যেখানে ইচ্ছে যেমন ভাবে ইচ্ছে বাজানো হচ্ছে। দুপুরে রাস্তার ট্র্যাফিক সিগন্যালের মোড়ে কিংবা বিজ্ঞাপনের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক’-এ। কিছুতেই রেয়াত করা হচ্ছে না।

কিন্তু প্রতি বছর শিশিরে পা ভিজিয়ে বঙ্গে মহালয়ার যে পুণ্যপ্রভাত উপস্থিত হয়, সেখানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এখনও অমর হয়ে রয়েছেন। প্রতি বছর উনি কাঁদেন। আমাদের কাঁদান। বাঙালির জন্য দুর্গোৎসবের দরজাটাকে উনি হাট করে খুলে দেন। অপমানের আওয়াজগুলোকে ঢাক আর কাঁসরের আওয়াজ দিয়ে ঢেকে রাখেন।
বাঙালির মননে ও সত্তায় মহালয়ার সকালে অনুরণিত হয় ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’। এই দিনেই শুরু হয় পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা। একই দিনে বাঙালি তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করেন। পুরাণ মতে, এই দিনেই দেবী দুর্গা স্বর্গলোকের উদ্ধারে মহিষাসুর বধের গুরুদায়িত্ব নেন। আসলে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠায় এই দিনেই মা দুর্গার যাত্রা শুরু। ফলাফল প্রত্যাশিত হলেও দিনটি শোকের বলেছেন অনেকেই। তারপরও বাঙালির হৃদয়ে শোক নয়, বরং পুজো প্রস্তুতির দিগনির্দেশক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে এই মহালয়া। তাই মহালয়া বাঙালির কাছে আবেগের, অনুভূতির, পুরাতন স্মৃতি রোমন্থনের দিনযাপন।

এই মহালয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘আকাশবাণী’, জড়িয়ে আছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। মহালয়ার সকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে…’ শুনলেই পুজোর অনুভূতি জাগ্রত হয়। মনে হয় পুজো …এসেই গেল ।
এই অমর সৃষ্টি ছাড়া বাংলার আর বাঙালীর জীবন,বাঙালীর মনন বাঙালীর শারদ উৎসব অসম্পূর্ন থেকে যাবে চিরকাল। একেই বলে কালজয়ী সৃষ্টি । এই গাঁথা দেবী দুর্গার জন্ম, অস্ত্রলাভ, মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ ও বিজয় বর্ণনা করে — এক অপূর্ব বর্ণময় কল্পচিত্রের মতো।
এই অনুষ্ঠান অতি পরিচিত হয়েও বৎসরান্তে মহালয়ার শারদ ঊষার প্রাক্কালে এই অনুষ্ঠানটি লক্ষ লক্ষ শ্রোতার মনকে আজও ভরিয়ে তোলে। এই মহাশক্তি-বন্দনার শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য, আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে গেছে।
তাই,বেতারে মহিষাসুর মর্দিনীই আসলে বাঙ্গালি মননে প্রকৃত অর্থে “মায়ের আগমনী” ।
এর বহু বছর পর , আমরা যখন রেডিও থেকে অনেক পথ পেড়িয়ে ইউটিইবে পৌঁছে গিয়েছি , ২০১৭ সালের মহালয়ার ভোরে জন্ম নিল আরও এক সুরভরা ইতিহাস।
মহিষাসুরমর্দিনী” থেকে “International Mahisasuramardini” – বাঙালির ভোরবেলার জাগরণ থেকে বিশ্বজোড়া ঐতিহ্য।

২০১৭ সালে সৃষ্টি: আন্তর্জাতিক রূপে এক যুগান্তকারী প্রয়াস কারিগরি কবিয়ালের প্রযোজনায় — এই ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক রূপায়ণ ঘটিয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন শ্রী সুপ্রিয় সেনগুপ্ত ।

✅ “First International Version of Mahisasuramardini” — কীভাবে অভিনব?
১) মূল গানের সুর ও স্তোত্র বজায় রেখে একটি ডুয়াল-ল্যাঙ্গুয়েজ ফর্ম তৈরি হয়েছে (বাংলা+ইংরেজি)
২) প্রতিটি স্তোত্রের অর্থ ও তাৎপর্য ইংরেজি ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক শ্রোতারাও বুঝতে পারেন।
৩) এই সংস্করণ রেডিও গীতিনাট্যকে গ্লোবাল অডিও আর্ট-এর রূপ দেয়।
৪) এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে পেয়েছে India Book of Records-এর স্বীকৃতি।

📻 এই সৃষ্টি কাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
১) প্রবাসী বাঙালিদের জন্য যাঁরা সন্তানদের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান।
২) আন্তর্জাতিক সংস্কৃতিমঞ্চে ইন্ডিয়ান মিথোলজি-কে পরিচিত করতে চান যারা।
৩) রেডিও, অডিও আর্ট, ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে যারা আগ্রহী।

🏆 গর্বের মুহূর্ত — ইতিহাসের সংযোগে কারিগরি কবিয়াল ।
১) এই কাজ একাধারে গবেষণা, পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ — যা অনেকাংশে একজন সাংস্কৃতিক কিউরেটরের ভূমিকায় উঠে এসেছে।
২) মা যাঁর স্মৃতিতে ,সেই মানুষ টি অর্থাৎ শ্রী সুপ্রিয় সেনগুপ্ত , এই প্রয়াস নিয়েছেন, সেই মা, নিঃসন্দেহে গর্বিত হতেন এই আন্তর্জাতিক রূপান্তরের জন্য — কারণ এটি কেবল বাংলার গর্ব নয়, এটি এক বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা।

🔚 উপসংহার: এক ঐতিহ্যের জয়যাত্রা
“মহিষাসুরমর্দিনী” শুরু হয়েছিল বাঙালির প্রভাতী রেডিও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে। আজ, শ্রী সুপ্রিয় সেনগুপ্তের হাত ধরে সেই আবেগ পেরিয়ে গেল ভাষার, ভূগোলের, প্রজন্মের সীমানা — রয়ে গেল এক অদ্বিতীয় শ্রবণ অভিজ্ঞতা হিসেবে।
“ভাষা বদলেছে, হৃদয়ের স্পন্দন নয়। সুর, স্তোত্র, ও শ্রদ্ধা — সব একাকার আজও।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights