ডি এন সি কলেজের গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলেন শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত মোস্তাক হোসেন
ফারুক আহমেদ
মুর্শিদাবাদ জেলার ভূমিপুত্র সমাজসেবী, শিল্পপতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কান্ডারি হিসেবে মোস্তাক হোসেনকে সবাই চেনেন। মুর্শিদাবাদ জেলার দুঃখিলাল নিবারণ চন্দ্র কলেজের গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলেন শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত মোস্তাক হোসেন। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দুই সদস্য হলেন শিক্ষানুরাগী শিবম এডুকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং জাকির হোসেন মেডিকেল কলেজের প্রেসিডেন্ট দীপককুমার দাস ও আইনজীবী এস এম ইউসুফ আলী।
উনিশশো সাতচল্লিশ সালের দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের অবস্থা ছিল একেবারেই করুণ ও সংকটাপন্ন। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কালের ধারাবাহিকতায় নানা পর্যায়ের কায়িক শ্রম ও ছোট পরিসরে ব্যবসা করে কেউ কেউ স্বল্পবিস্তর আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে শুরু করেন। তবে কেউ কেউ আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে শুরু করলেও শিক্ষাদীক্ষায় তাদের অবস্থান ছিল একেবারে তলানিতে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটতে শুরু করে আশির দশকের শেষ দিক থেকে। আর এই পরিবর্তনের নিমিত্তে মহীরুহ হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন বাঙালির গর্ব মোস্তাক হোসেন। অনন্য সমাজসেবক ও শিল্পপতি মহৎপ্রাণ মোস্তাক হোসেন উদার হস্তে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে মানবতার দূত হিসেবে এগিয়ে আসেন। দৃঢ় প্রত্যয়ে তাই বলতে হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মোস্তাক হোসেন-এর আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া মিশন স্কুলগুলো। তাঁর একক কৃতিত্ব ও সোনালি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বাঙালি অনগ্রসর শ্রেণি অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে প্রবেশ করেছে। এমনকী তাঁর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার কারণে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়ত উপকৃত হচ্ছেন। সে কারণে আজ বলতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণির আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে বসন্ত এনে দিয়েছেন দানবীর মোস্তাক হোসেন। সমাজকর্মী ও দানবীর মোস্তাক হোসেনকে তাই অনুসরণ করে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে মানবকল্যাণের অগ্রযাত্রায়। সংগত কারণে কৃতজ্ঞতার দায়বোধ থেকে নয়া সমাজ নির্মাণের অগ্রনায়ক মোস্তাক হোসেনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুনরায়
ডি এন সি কলেজের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার জন্য রাজ্যের বহু মানুষ। তিনি দীর্ঘ কুড়ি বছর ওই কলেজের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। সূতি বিধানসভার বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন। রাজ্য সরকার ইমানী বিশ্বাসকে সরিয়ে দিয়ে কলেজের আজীবন সদস্য মোস্তাক হোসেনকে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে বসালেন।
শিক্ষার প্রসারে মোস্তাক হোসেনের অবদান অনস্বীকার্য। আজ একথা সকলেরই জানা, তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় একাধিক মিশন শিক্ষার জগতে আলোর জোয়ার আনতে সক্ষম হয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, মিশন কেন্দ্রিক পড়াশুনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোস্তাক হোসেন। তাঁরই উদ্যোগে মিশনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার সার্বিক প্রসার ঘটেছে। জিডি স্টাডি সার্কল ও জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির তত্ত্বাবধানে ৬৫টির বেশি মিশন পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার প্রসারে ব্রতী হয়েছে। তিনি এই মিশনগুলিতে বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন গৃহনির্মাণ প্রকল্পে এবং ছাত্রছাত্রীদের অনুদান প্রকল্পে। এই মিশনগুলি ছাড়াও তিনি অন্য বহু বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য অর্থ অনুদান দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসা, মক্তবেও তাঁর অনুদান অনস্বীকার্য। শিক্ষার জগতে এই প্রসারের কারণে আজ বহু ছাত্র-ছাত্রী জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মাধ্যমে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। গরিব দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচও তিনি বহন করেন। মেধাবী, গরিব ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে ছেলেমেয়েদের জন্য তিনি জিডি স্টাইপেন্ড প্রদান করেন। শিক্ষার জগতে তাঁর এই বহুমুখী আন্দোলন জোয়ার এনে দিয়েছে—যার মাধ্যমে এবং অবশ্যই মোস্তাক হোসেনের সাহচর্যে ও অর্থানুকূল্যে অনুন্নত গ্রাম বাংলার গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত ধাবমান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জেলা ও রাজ্যের বহু পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ৫ জানুয়ারি ২০২৬ উচ্চ শিক্ষা দফতর থেকে সরকারি অর্ডার দিয়ে পুনরায় ডি এন সি কলেজের প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়েছে মোস্তাক হোসেনকে।

















