ভারতের সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা সংযোগ পরিকাঠামোয় রূপান্তর ঘটাতে সাহায্য করছে
By PIB Kolkata
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়সমূহ
* অটল টানেলের মতো ঐতিহাসিক প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত দ্রুত তার সুড়ঙ্গ পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ করছে।
* বলা আবশ্যক, ১২.৭৭ কিমি দীর্ঘ রেল সুড়ঙ্গ T50-র মাধ্যমে ভারত তার সংযোগ ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
* জোজিলার মতো নির্মীয়মান বৃহৎ সুড়ঙ্গগুলি লাদাখে সারা বছরের যোগাযোগ সুনিশ্চি করবে এবং যাতায়াত, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে গতিশীল করবে।
ভারতের সুড়ঙ্গ যাত্রা
সুড়ঙ্গগুলি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে ভারতের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। পাহাড় ও দুর্গম ভূখণ্ড ভেদ করে এগুলি সারা বছর যোগাযোগ বজায় রাখে, দূরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছানো সহজ করে এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। এগুলি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কেন সুড়ঙ্গ পরিকাঠামো আজ আরও গুরুত্বপূর্ণ
সুড়ঙ্গ পরিবহন ব্যবস্থাকে করে তোলে আরও নিরাপদ, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব। প্রকৌশলের বাইরে এগুলি আঞ্চলিক উন্নয়নের অনুঘটক। এগুলি কৌশলগত প্রস্তুতি বাড়ায় এবং দূরত্ব, সময় ও ঝুঁকি কমিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে তোলে।
ভারতের সুড়ঙ্গ প্রযুক্তি
ড্রিল-অ্যান্ড-ব্লাস্ট পদ্ধতি থেকে ভারত এখন উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র ও রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক সুড়ঙ্গে রয়েছে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, এলইডি আলো, সিসিটিভি ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ—যা নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক।
ভারতের সুড়ঙ্গ বিপ্লবের প্রধান প্রযুক্তি
TBM (টানেল বোরিং মেশিন): দুর্গম বা বিপদ সংকুল অঞ্চলে কম কম্পনে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে খনন কার্য সম্পন্ন করে।
NATM: হিমালয় অঞ্চলের ধসপ্রবন ভূগঠনের জন্য নমনীয় পদ্ধতি।
ITCS: বায়ু চলাচল, অগ্নি নির্বাপন, সিসিটিভি ও জরুরি ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
ভারতের উল্লেখযোগ্য সুড়ঙ্গসমূহ
অটল টানেল:
পীরপাঞ্জাল পর্বতের নিচে ৯.০২ কিমি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, যা মানালি–লাহাউলকে সারা বছর সংযুক্ত রাখে। ২০২২ সালে এটি ১০,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এতে দূরত্ব ৪৬ কিমি হ্রাস পেয়েছে ও যাত্রাসময় ৪–৫ ঘণ্টা কমেছে।
জেড-মোর / সোনমার্গ টানেল:
জম্মু ও কাশ্মীরে ৮,৬৫০ ফুট উচ্চতায় ১২ কিমি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ যেটি নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হয়েছে ₹২,৭০০ কোটি টাকা। এটি শ্রীনগর–সোনমার্গ–লাদাখে সারা বছরব্যাপী যোগাযোগ সুনিশ্চিত করে। এতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,০০০ যানবাহন চলাচল করতে পারে।
সেলা টানেল:
অরুণাচলে ১৩,০০০ ফুট উচ্চতায় নির্মিত এই সুরঙ্গ তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে ₹৮২৫ কোটি টাকা। এটি তেজপুর–তাওয়াং সারা বছর সংযুক্ত রাখে এবং সীমান্ত অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
অন্যান্য প্রধান সড়ক সুড়ঙ্গ
বানিহাল–কাজিগুন্ড টানেল:
মোট ৮.৪৫ কিমি দীর্ঘ এই দ্বৈত সুড়ঙ্গ তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে ₹৩,১০০ কোটি টাকা। এর ফলে, দূরত্ব ১৬ কিমি হ্রাস পেয়েছে ও সময় ১.৫ ঘণ্টা কমেছে।
ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি টানেল:
প্রসঙ্গত, ৯ কিমি দীর্ঘ এই দ্বৈত সুড়ঙ্গ উদমপুর–রামবান অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে, যাত্রাসময় প্রায় দু ঘণ্টা কমেছে এবং ২,০০০-এরও বেশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
রেল ও শহরাঞ্চলের সুড়ঙ্গ
টানেল T50 (USBRL প্রকল্প):
১২.৭৭ কিমি দীর্ঘ এই রেল সুড়ঙ্গ কাশ্মীরের রেল সংযোগের মূল স্তম্ভ। প্রতি ৩৭৫ মিটার অন্তর জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা ও প্রতি ৫০ মিটারে সিসিটিভি নজরদারীর ব্যবস্থা রয়েছে।
কলকাতা আন্ডারওয়াটার মেট্রো টানেল:
২০২৪ সালে চালু হওয়া এই সুড়ঙ্গ হুগলি নদীর নিচে এসপ্লানেড ও হাওড়ার সংযোগ ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করেছে। এটি ভারতের প্রথম জলের তলায় নির্মিত মেট্রো সুড়ঙ্গ।
ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের সুড়ঙ্গ প্রকল্প
জোজিলা টানেল:
এই সুড়ঙ্গ লাদাখের সঙ্গে সারা বছরের যোগাযোগ সুনিশ্চিত করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে নির্মীয়মান এই সুরঙ্গ ভারতের দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গ ও এশিয়ার দীর্ঘতম দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ হতে চলেছে।
মুম্বাই–আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন সুড়ঙ্গ:
বস্তুত, ৪.৮ কিমি দীর্ঘ জলের তলায় নির্মিত এই সুড়ঙ্গ ভারতের প্রথম উচ্চগতির রেল সুড়ঙ্গ হতে চলেছে।
ঋষিকেশ–কর্ণপ্রয়াগ রেল সুড়ঙ্গ:
মোট ১২৫ কিমি দীর্ঘ রাস্তায় ১৬-টি প্রধান সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সুড়ঙ্গ নির্মাণে হিমালয় অঞ্চলে প্রথমবার TBM ব্যবহৃত হচ্ছে।
সুড়ঙ্গের শেষে আলো
ভারতের সুড়ঙ্গ প্রকল্পগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি, পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে চলেছে। এগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধা দূর করে, উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, যাতায়াতের নিরাপত্তা বাড়ায় এবং প্রমাণ করে ভৌগোলিক অন্তরায় আর জাতীয় অগ্রগতির পথে কোন প্রতিবন্ধকতা নয়।



















