Sunday, October 25, 2026
WA
Home Bangla কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর সারসংক্ষেপ

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর সারসংক্ষেপ

0
55
The Union Minister for Finance and Corporate Affairs, Smt. Nirmala Sitharaman along with the Ministers of State for Finance, Shri Pankaj Chaudhary as well as her Budget Team/senior officials of the Ministry of Finance arrived for the presentation of the Union Budget-2026 at Parliament House, in New Delhi on February 01, 2026.
The Union Minister for Finance and Corporate Affairs, Smt. Nirmala Sitharaman along with the Ministers of State for Finance, Shri Pankaj Chaudhary as well as her Budget Team/senior officials of the Ministry of Finance arrived for the presentation of the Union Budget-2026 at Parliament House, in New Delhi on February 01, 2026.

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর সারসংক্ষেপ

By PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমণ আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশ করেছেন। 

বিভাগ-ক

মাঘ পূর্ণিমা এবং গুরু রবিদাসের জন্মজয়ন্তীর পূণ্য তিথিতে বাজেট পেশ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্তব্য ভবনে তৈরি এই প্রথম বাজেট ৩টি কর্তব্যের দ্বারা প্রাণিত:

১. প্রথম কর্তব্য হল উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুস্থিত অর্থনৈতিক বিকাশের গতি বাড়ানো এবং অনিশ্চিত বিশ্ব পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন। 

২. দ্বিতীয় কর্তব্য হল সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রগতির পথে ভারতের যাত্রায় তাঁদের মজবুত অংশীদার করে নেওয়া। 

৩. তৃতীয় কর্তব্য হল, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রতিটি পরিবার, গোষ্ঠী, অঞ্চল এবং ক্ষেত্র যাতে সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনার নাগাল পায় এবং তাতে অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারে, তা সুনিশ্চিত করা। 

যুব শক্তি চালিত এই বাজেটে দরিদ্র, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগের উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিকরণের ভারসাম্য বজায় রেখে বিকশিত ভারতের দিকে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। বিকাশশীল অর্থনীতি হিসেবে একদিকে যেমন ভারতকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মূলধনগত চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে, তেমনি তাকে বিশ্ব বাজারের সঙ্গেও গভীরভাবে সংযুক্ত থাকতে হচ্ছে, রপ্তানি বাড়ানোর এবং সুস্থিত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আকর্ষণের পন্থা-পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সাড়ে ৩০০-রও বেশি সংস্কার করা হয়েছে। এরমধ্যে জিএসটি সরলীকরণ, নতুন শ্রমবিধি, বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণ নির্দেশের যৌক্তিকীকরণ প্রভৃতি রয়েছে। 

প্রথম কর্তব্যের আওতায় ৬টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেগুলি হল

১. ৭টি কৌশলগত ও প্রথম সারির ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি
২.  ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবন
৩. ‘চ্যাম্পিয়ন এসএমই’ গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহায়তা
৪. পরিকাঠামোয় জোর
৫. দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সুরক্ষা ও সুস্থিতি সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য
৬. শহরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা

ভারতকে বিশ্বজনীন বায়োফার্মা ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে বায়োফার্মা SHAKTI (Strategy for Healthcare Advancement through Knowledge, Technology and Innovation)-এর ঘোষণা, আগামী ৫ বছরের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ৩টি নতুন National Institutes of Pharmaceutical Education and Research (NIPER)-কে নিয়ে বায়োফার্মা ভিত্তিক নেটওয়ার্ক গঠন এবং ৭টি বর্তমান NIPER –এর উন্নয়ন। ১০০০-এরও বেশি অনুমোদিত ইন্ডিয়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গঠন।

রেশম, পশম, পাট, মানুষের তৈরি ফাইবার এবং নতুন যুগের ফাইবারের মতো প্রাকৃতিক ফাইবারে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় ফাইবার প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ঐতিহ্যবাহী ক্লাস্টারগুলির আধুনিকীকরণের জন্য মেশিনপত্র ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মূলধনী সহায়তা এবং সাধারণ পরীক্ষা ও শংসা কেন্দ্র গড়ে তুলতে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। মেগা টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি খাদি, তাঁত ও হস্তশিল্পের উন্নয়নে মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগের প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে, ব্র্যান্ডিং, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জন, প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা করা হবে।

এমএসএমইগুলিকে বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী এগুলির উন্নয়নে ১০,০০০ কোটি টাকার এসএমই বিকাশ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রেখেছেন। 

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি মূলধনী ব্যয় ২০১৪-১৫ সালের ২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বহুগুণ বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে আনুমানিক ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। তিনি এই ব্যয় ২০২৬-২৭ সালে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। 

পণ্য পরিবহণের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পূর্বের ডানকুনি থেকে পশ্চিমের সুরাট পর্যন্ত নতুন সুনির্দিষ্ট পণ্য করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

শহরগুলির অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে শহর ভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী ৫ বছরে অর্থনৈতিক অঞ্চল পিছু ৫০০০ কোটি টাকার সংস্থান রয়েছে।

পরিবেশ বান্ধব, সুস্থিত যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে শহরগুলির মধ্যে  ৭টি উচ্চগতি সম্পন্ন রেল করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। যে শহরগুলির মধ্যে এইসব করিডর গড়ে উঠবে সেগুলি হল- 

১. মুম্বাই-পুণে 
২. পুণে-হায়দ্রাবাদ
৩. হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু
৪. হায়দ্রাবাদ-চেন্নাই
৫. চেন্নাই-বেঙ্গালুরু
৬. দিল্লি-বারাণসী
৭. বারাণসী-শিলিগুড়ি

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় কর্তব্য হল, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। গত এক দশকে সরকারের ধারাবাহিক প্রয়াসে প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দারিদ্রের করাল গ্রাস থেকে বের করে আনা গেছে। 

ভারতকে মেডিক্যাল পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব গড়ে তুলতে রাজ্যগুলিকে সহায়তার জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব বাজেটে করেছেন। এই হাবগুলি চিকিৎসা, শিক্ষা এবং গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। সেগুলিতে আয়ুষ কেন্দ্রও থাকবে। 

পশু চিকিৎসকদের সংখ্যা আরও ২০,০০০-এরও বেশি বাড়াতে পশু চিকিৎসা কলেজ, হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বেসরকারি ক্ষেত্রকে ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ ভিত্তিক মূলধনী ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। 

অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স- AVGC ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ১৫,০০০ মাধ্যমিক স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস মুম্বাইয়ের সহায়তায় AVGC কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। 

ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কেটারিং টেকনোলজিকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হসপিটালিটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতায় ১০,০০০ গাইডকে দক্ষ করে তুলতে ১২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।

ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী খেলো ইন্ডিয়া মিশন চালু করার প্রস্তাব রেখেছেন। 

তৃতীয় কর্তব্য সবকা সাথ, সবকা বিকাশ-এর লক্ষ্য নিয়ে বিকশিত ভারতের পথে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, দিবাঙ্গজনদের ক্ষমতায়ন, মানসিক স্বাস্থ্য ও উদ্বেগের চিকিৎসা এবং পূর্বোদয় রাজ্য ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। 

ভারত-বিস্তার প্রকল্পের আওতায় অর্থমন্ত্রী এমন এক বহুভাষিক এআই সরঞ্জাম তৈরির প্রস্তাব রেখেছেন, যা কৃষি সংক্রান্ত পোর্টাল এবং আইসিএআর-এর প্যাকেজকে এআই সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করে। 

মানসিক স্বাস্থ্য ও উদ্বেগ নিরসনের অঙ্গীকারের অঙ্গ হিসেবে রাঁচি ও তেজপুরের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে আঞ্চলিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার এবং নিমহান্স ২ স্থাপনের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। 

অর্থমন্ত্রী দুর্গাপুরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সুসমন্বিত পূর্ব উপকূলীয় শিল্প করিডর স্থাপন, ৫টি পূর্বোদয় রাজ্যে ৫টি পর্যটন গন্তব্য স্থাপন এবং ৪০০০ ই-বাস চালানোর প্রস্তাব করেছেন। অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম, অসম, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় একটি বুদ্ধ পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। 

আর্থিক সংহতি সাধন 

২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত অনুমানে রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণ ২০২৫-২৬ সালের বাজেট অনুমানের সমান, জিডিপি-র ৪.৪ শতাংশ। 

২০২৬-২৭ সালের বাজেট অনুমান অনুসারে ঋণ-জিডিপি অনুপাত জিডিপি-র ৫৫.৬%, ২০২৫-২৬-এর সংশোধিত অনুমানে এই হার ছিল ৫৬.১%। 

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে আনুমানিক রাজকোষ ঘাটতি জিডিপি-র ৪.৩ শতাংশ। 

২০২৫-২৬-এর সংশোধিত অনুমান

ঋণ বহির্ভূত জমার সংশোধিত অনুমান ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা, এর মধ্যে কেন্দ্রের কর বাবদ নেট আয় ২৬.৭ লক্ষ কোটি টাকা। 

মোট আনুমানিক সংশোধিত ব্যয় ৪৯.৬ লক্ষ কোটি টাকা, এর মধ্যে মূলধনী ব্যয় প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা।  

বাজেট অনুমান ২০২৬-২৭
ঋণ বহির্ভূত জমা এবং মোট খরচের অনুমান যথাক্রমে ৩৬.৫ লক্ষ কোটি এবং ৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্রের কর বাবদ মোট আয় আনুমানিক ২৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা। 

মোট আনুমানিক সংশোধিত ব্যয় ৪৯.৬ লক্ষ কোটি টাকা, এর মধ্যে মূলধনী ব্যয় প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা।  

বিভাগ-খ

প্রত্যক্ষ কর:

২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে অনেক নতুন সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এছাড়াও সরলীকৃত আয়কর নিয়ম এবং ফর্মগুলি শীঘ্রই জানানো হবে। সাধারণ নাগরিকরা যাতে সহজে পূরণ করতে পারেন সেজন্য ফর্মগুলি পুনরায় ডিজাইন করা হয়েছে।

টিসিএস হার হ্রাসেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশী ভ্রমণ প্রোগ্রাম প্যাকেজ বর্তমান ৫ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এলআরএস প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য টিসিএস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

জরিমানা ও শাস্তির যৌক্তিকীকরণ

জরিমানা এবং মামলা-মোকদ্দমা যুক্তিসঙ্গত করার লক্ষ্যে, ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াকে একমুখী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি অভিন্ন আদেশের মাধ্যমে মূল্যায়ন এবং জরিমানা কার্যক্রম একত্রিত করা হবে। অধিকন্তু, প্রাক-পরিশোধের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে, যা কেবলমাত্র মূল কর চাহিদার উপর গণনা করা হবে। মামলা-মোকদ্দমা কমাতে, রি-অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেও করদাতারা অতিরিক্ত ১০% কর দিয়ে তাঁদের রিটার্ন আপডেট করতে পারবেন।  

হিসাবপত্রের খাতা ও নথি জমা না দেওয়া, টিডিএস পেমেন্টের ক্ষেত্রে অনিয়মের মতো ছোটখাটো ত্রুটিকে অপরাধমুক্ত করা হয়েছে। ২০ লক্ষ টাকার কম স্থাবর বিদেশী সম্পত্তির বিবরণ না জানানো হলে, তা ১.১০.২০২৪ তারিখ থেকে অপরাধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। 

সমবায়

অর্থমন্ত্রী বলেন যে, দুধ, তৈলবীজ, ফল বা শাকসবজি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়োজিত প্রাথমিক সমবায় সমিতির জন্য ইতিমধ্যেই যে ছাড় পাওয়া যায়, তার সঙ্গে গবাদি পশুর খাদ্য এবং তুলা বীজের সরবরাহকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে আন্তঃ-সমবায় সমিতির লভ্যাংশের জন্য ছাড় পাওয়া যাবে।  

ভারতের বিকাশের চালিকাশক্তি হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রকে সহায়তা

বাজেটে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পরিষেবা, তথ্যপ্রযুক্তি সক্ষম পরিষেবা, জ্ঞান  আউটসোর্সিং পরিষেবা এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়ন পরিষেবাগুলিকে তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবার অধীনে একত্রিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার জন্য  ১৫.৫ শতাংশ মার্জিন রাখা হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। টানা ৫ বছর এই সুবিধা পাওয়া যাবে। 

বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন,  ভারতের ডেটা সেন্টার পরিষেবা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী যেকোনো বিদেশী কোম্পানিকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত করের আওতার বাইরে রাখা হবে। 

কোনও অনাবাসী যদি মূলধনী দ্রব্য, সরঞ্জাম বা উপাদান সরবরাহ করেন, তাহলে ৫ বছরের জন্য তাঁকে আয়কর থেকে ছাড় দেওয়া হবে। যেসব অনাবাসী পূর্বানুমানের ভিত্তিতে কর প্রদান করছেন, তাঁদের ন্যূনতম বিকল্প করের আওতা থেকে বাদ রাখা হবে। 

কর প্রশাসন

কর প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাজেটে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই কমিটি ইন্ডিয়ান অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের বিভিন্ন খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবে। 

অন্যান্য কর প্রস্তাব

সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে, ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে যে সকল ধরণের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বাইব্যাককে মূলধনী লাভ হিসাবে ধরে কর ধার্য করা হবে। এর ফলে প্রোমোটারদের অতিরিক্ত বাইব্যাক কর দিতে হবে, যার ফলে কর্পোরেট প্রোমোটারদের জন্য কার্যকর কর ২২ শতাংশ এবং নন-কর্পোরেট প্রোমোটারদের জন্য ৩০ শতাংশ হবে।

শ্রীমতি নির্মলা সীতারমন বলেন যে অ্যালকোহলযুক্ত মদ, স্ক্র্যাপ এবং খনিজ পদার্থের বিক্রেতাদের জন্য টিসিএস হার যুক্তিসঙ্গত করে ২ শতাংশ করা হবে এবং বিড়ির পাতার উপর কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হবে। ফিউচারের উপর এসটিটি বর্তমান ০.০২ শতাংশ থেকে ০.০৫ শতাংশ করা হয়েছে। অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজ এর উপর এসটিটি বর্তমান ০.১ শতাংশ এবং ০.১২৫ শতাংশ থেকে যথাক্রমে ০.১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

পরোক্ষ কর

অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমাশুল্ক ও কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্কের প্রস্তাবগুলির লক্ষ্য হল শুল্ক কাঠামো আরও সরল করা, দেশীয় উৎপাদনকে সমর্থন করা, রপ্তানি ক্ষেত্রে ভারতকে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তোলা এবং শুল্কের কাঠামো সংশোধন করা।

সীমা শুল্কের যৌক্তিকীকরণ

সামুদ্রিক, চর্মজাত এবং বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে, রপ্তানির জন্য সামুদ্রিক খাবার প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত নির্দিষ্ট উপকরণের শুল্কমুক্ত আমদানির সীমা বর্তমান ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হবে। চামড়া বা সিন্থেটিক জুতো রপ্তানির জন্য যেসব উপাদান আমদানি করতে হয়, তার ওপর কোনও শুল্ক দিতে হবে না। 

জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাটারির জন্য লিথিয়াম-আয়ন সেল তৈরিতে ব্যবহৃত মূলধনী পণ্যের উপর শুল্ক ছাড়ের যে সুযোগ পাওয়া যায়, তা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। সোলার গ্লাস উৎপাদনে ব্যবহৃত সোডিয়াম অ্যান্টিমোনেটের  আমদানির উপর কোনও শুল্ক দিতে হবে না।

বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য আমদানি করা মূলধনী দ্রব্যের ওপর শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 

অসামরিক পরিবহণ, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত বিমানের যন্ত্রাংশ আমদানির ওপরও শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। 

জীবনযাপন আরও সহজ করার জন্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। ১৭টি ওষুধের উপর সীমাশুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিরল রোগের তালিকায় আরও ৭টি রোগকে যুক্ত করা হয়েছে। এগুলি আমদানির ওপরও কোনও শুল্ক লাগবে না।

সহজে ব্যবসা করা

সহজে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র দেওয়ার পদ্ধতিকে আরও সহজ করা হয়েছে। এই আর্থিক বছরের শেষ থেকে যাবতীয় ছাড়পত্র একটিমাত্র ডিজিটাল উইন্ডোতে পাওয়া যাবে। যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও বিধিগত বাধ্যবাধকতা নেই, সেগুলি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হওয়া মাত্রই ছাড়পত্র পাবে। 

কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে অথবা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরাকে শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যেসব মাছ ধরা হবে সেগুলি বিদেশের কোনও বন্দরে খালাস হলে তাকে রপ্তানি হিসবে গণ্য করা হবে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights