আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শক্তিকেন্দ্র হিসাবে ভারতের উত্থান
By PIB Kolkata
১ মার্চ, ২০২৬
মূল বিষয়সমূহ
* সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর আওতায় বর্তমানে ১,৮৪,০০০-এর বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৮.৬৩ কোটি ডিজিটাল হেলথ আইডি রয়েছে।
* বিশ্বের ওষুধ ভাণ্ডার: ভারত বিশ্বের ২০% জেনেরিক ওষুধ এবং ইউনিসেফ-এর প্রয়োজনীয় প্রতিষেধকের ৫৫-৬০% সরবরাহ করে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বায়োইকোনমি ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে এগোচ্ছে।
* প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: এআই ডায়াগনস্টিকস, ড্রোনের সাহায্যে ওষুধ সরবরাহ এবং দেশীয় প্রতিষেধকের ব্যবহার দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছেও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
ভূমিকা
দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে ভারত সাশ্রয়ী ওষুধ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এক কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা: আয়ুষ্মান ভারত
আয়ুষ্মান ভারত হল, ভারত সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প যার লক্ষ্য হল, সমাজের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY)
এটি সরকারি সাহায্যে পরিচালিত বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প, যা তালিকাভুক্ত পরিবারগুলিকে চিকিৎসার জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কভারেজ দেয়। বর্তমানে ৪৩৪ মিলিয়নেরও বেশি আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির
দেশের ১,৮৪,২৩৫টি আরোগ্য মন্দিরের সাহায্যে মানুষের বাড়ির কাছেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখানে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি, যোগব্যায়াম এবং অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং সংক্রান্ত সুবিধাও পাওয়া যায়।
পিএম-আয়ুষ্মান ভারত হেলথ ইনফ্রাস্ট্রাকচার মিশন (PM-ABHIM)
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ২০২১ সালে এই মিশনটি শুরু হয়। এর লক্ষ্য হল, জেলা স্তর থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত ল্যাবরেটরি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আইটি-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
ডিজিটাল উদ্যোগ
আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (ABDM)-এর মাধ্যমে রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্য পরিচিতি নম্বর (ABHA) তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া, ‘টেলি মানস’ (Tele MANAS)-এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ড্রোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা
আইসিএমআর (ICMR)-এর ‘i-DRONE’ প্রকল্পের মাধ্যমে মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং হিমাচল প্রদেশের মতো দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ভ্যাকসিন এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)
কয়েক দশক ধরে এনএইচএম ভারতের জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে চলেছে।
এইচপিভি (HPV) টিকাদান কর্মসূচি
জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
মিশন ইন্দ্রধনুষ
নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের সুরক্ষিত করতে ২০১৪ সালে এটি চালু হয়। এর ফলে, দেশে ‘জিরো-ডোজ’ বা একটিও টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসাবে স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের কৌশল (SAHI) গ্রহণ করেছে। যক্ষ্মা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে চোখের যত্ন এবং প্রেসক্রিপশন তৈরির কাজে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাশ্রয়ী ওষুধ সরবরাহ
‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি পরিযোজনা’র (PMBJP) মাধ্যমে ১৭,৯৯০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে ৫০-৯০% কম দামে উন্নতমানের জেনেরিক ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োফার্মা ক্ষেত্রে সাফল্য
ভারত বিশ্বের ৭০% অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ওষুধ সরবরাহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করছে। ভারতের বায়ো-ইকোনমি গত এক দশকে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিকিৎসা শিক্ষার সম্প্রসারণ
গত ১১ বছরে ভারতে এমবিবিএস সিট ১৩০% এবং স্নাতকোত্তর সিট ১৩৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে বর্তমানে ২,০৪৫টি মেডিকেল কলেজ এবং ২৩টি এইমস (AIIMS) প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
উপসংহার
অতিমারী মোকাবিলা থেকে শুরু করে মেডিকেল ট্যুরিজম হাব হয়ে ওঠা পর্যন্ত ভারতের এই রূপান্তর এক অভাবনীয় সাফল্য। শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ভারত আজ সমগ্র বিশ্বের কাছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক অনন্য মডেল।













